বুধবার, ০১ ডিসেম্বর ,২০২১

Bangla Version
  
SHARE

বৃহস্পতিবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২১, ০৪:৫৫:০৭

বান্দরবানের রহস্যঘেরা আলীর গুহা

বান্দরবানের রহস্যঘেরা আলীর গুহা

বান্দরবান:- প্রকৃতির এমন কিছু রহস্য থাকে, যা কখনো ভেদ করা যায় না। তেমনি রহস্যঘেরা ঐতিহাসিক ‘আলীর গুহা’। বিশাল একটি পাহাড় মাঝখানে দুই ভাগ হয়ে গেছে। সে পাহাড়ের তিনটি গুহা কীভাবে সৃষ্টি হলো, সেই রহস্যের জাল এখনো কেউ ভেদ করতে পারেনি। রহস্যময় এবং দৃষ্টিনন্দন স্থানটি বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় অবস্থিত। প্রকৃতির সুধা পান করতে প্রতিদিন দেশের নানা প্রান্ত থেকে হাজারো পর্যটক এ গুহা দেখতে আসেন। আলীকদম সদর থেকে ৪ কিলোমিটার পূর্বে আলীর গুহাকে স্থানীয়রা ‘আলীর সুড়ঙ্গ’ নামে চেনে। ঐতিহাসিক বিবেচনায় আলীর গুহাকে পুরাকীর্তির মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। নামকরণের সঠিক কোনো তথ্য কারও জানা নেই। দুই পাশে আলীর পাহাড়, মাঝে ঝিরিপথে গুহায় যেতে হয়। পথটি পিচ্ছিল। আর এর ঠান্ডা আবহাওয়া বেশ উপভোগ্য। গ্রীষ্মের ৪০ ডিগ্রির সেলসিয়াস তাপমাত্রা হলেও ঝিরিতে থাকবে মাত্র ১৮ ডিগ্রির আশপাশে। ঝিরিপথে ১৫ মিনিট হাঁটার পর আলীর গুহার ১ নম্বর সুড়ঙ্গটির দেখা মিলবে। গুহার পাহাড়ে ওঠা বেশ কষ্টকর। পাথরবেষ্টিত গুহায় কিছুদিন আগেও উঠতে হলে দড়ি বা পাহাড়ের লতা ধরে ধীরে ধীরে উঠতে হতো। পর্যটকদের সমস্যার সমাধানে আলীকদম সেনা জোনের উদ্যোগে তিনটি সিঁড়ি স্থাপন করা হয়েছে। ফলে বড় কোনো সমস্যা হয় না। অনায়াসেই যাওয়া যায়। দেখতে অনেকটা ভয়ংকর পাহাড়ের মাঝখানের গুহাটি প্রায় ১০০ ফুট লম্বা। পাশেই আরও দুটি গুহা রয়েছে। ২ নম্বর সুড়ঙ্গটি পাহাড়ের একপাশ থেকে ভেদ করে অপর পাশে বের হয়েছে। ভেতরে অন্ধকার, টর্চলাইট বা আগুনের মশাল নিয়ে প্রবেশ করতে হয়। প্রথম দিকে গুহামুখ খুবই ছোট। একজনের বেশি একসঙ্গে প্রবেশ করা যায় না। কিন্তু ২০ ফুট যেতেই দেখা মিলবে বিশাল গুহাপথ। ছোটবড় চাপা বাদুড় থেকে সতর্ক থাকতে হবে। এরা এদিক থেকে ওদিক উড়ে যাওয়ার সময় ভয় হতে পারে। তবে কারও ক্ষতি করে না। গুহাটির দেয়াল ঘেমে ভেতরে পথ পিচ্ছিল হয়ে থাকে। অন্ধকারে দেখে পা ফেলতে হয়। না হলে বিপদ। আলীকদম নামের সঙ্গে আলীর গুহার নামটির বেশ মিল। আলীর গুহার রহস্য নিয়ে নানা উপকথা প্রচলিত আছে। রাতে এই গুহায় কেউ থেকেছে—এমন নজির নেই। স্থানীয়দের মধ্যে একটি কথা প্রচলিত আছে, রাত হলেই নাকি গুহার দৃশ্যপট পাল্টে যায়। অজানা মেয়েদের কণ্ঠ ভেসে আসে গুহার ভেতর থেকে। রহস্যময় সাদা আলো বের হতে দেখেছে বলেও প্রচলিত আছে লোকমুখে। পার্বত্য আলীকদম উপজেলার ইতিহাস-ঐতিহ্য নিয়ে আলীকদম প্রেসক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক মমতাজ উদ্দিন আহমদ তাঁর ‘গিরিনন্দিনী আলীকদম’ বইয়ে আলীর সুড়ঙ্গ নিয়ে একটি চমৎকার রূপকথা উল্লেখ করেছেন। যেখানে রয়েছে এক কাঠুরিয়া আর এক ডাইনির ভয়ানক গল্প। তবে আলীর গুহার ভেতর এমন কোনো অলৌকিক ঘটনার সম্মুখীন হয়নি কেউ। এ উপজেলায় আলীর গুহার মতো আরও অনেক দর্শনীয় স্থান রয়েছে। এসব দর্শনীয় স্থানে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে তেমন পর্যটন স্থাপনা গড়ে ওঠেনি। আলীকদম উপজেলাকে পর্যটনবান্ধব করে গড়ে তুললে এখানকার আর্থসামাজিক দৃশ্য পাল্টে যাবে।

এই বিভাগের আরও খবর

  বান্দরবানের রুমা ও আলীকদমে আজ রাত ১২টা থেকে ২৮ নভেম্বর রাত ১২টা পর্যন্ত পর্যটকদের ভ্রমণ নিষিদ্ধ

  খাগড়াছড়িতে আলুটিলাকে ঘিরে মহাপরিকল্পনা

  তিন পার্বত্যাঞ্চলে পর্যটক কমেছে

  রাঙ্গামাটি,খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পাহাড়ে শীতের ছোঁয়া

  রাঙ্গামাটির বিলাইছড়ির স্বর্গপুর ঝরনা,সুরধ্বনি শুনিয়ে যাচ্ছেন মেঘমল্লার সুরে

  গুরুসতাং পাহাড়: এক অদেখা সৌন্দর্যের হাতছানি

  আমরা আটজন ও খাগড়াছড়ি

  কক্সবাজারের সেন্টমার্টিনে আটকে পড়েছেন ৩০০ পর্যটক

  বান্দরবানের রহস্যঘেরা আলীর গুহা

  বান্দরবানে ভ্রমণের ক্লান্তি ভোলায় মুরুং ঝর্ণা

  সম্ভাবনাময় ঝরনা কেন্দ্রিক পর্যটন গড়ে তোলার জন্য প্রাকৃতিক ঝরনা রক্ষা করতে হবে

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

আজকের প্রশ্ন

বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেছেন, পুলিশের ওপর নির্বাচন কমিশনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?