বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ,২০২১

Bangla Version
  
SHARE

শনিবার, ২৯ মে, ২০২১, ১১:০৯:৪৭

বাংলাদেশকে তাবেদার রাষ্ট্র বানানোর ষড়যন্ত্র চলছে: ফখরুল

বাংলাদেশকে তাবেদার রাষ্ট্র বানানোর ষড়যন্ত্র চলছে: ফখরুল

ঢাকা: বাংলাদেশকে ‘তাবেদার রাষ্ট্র’ বানানোর ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শনিবার (২৯ মে) সন্ধ্যায় এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় বিএনপি মহাসচিব এই অভিযোগ করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ১৯৮১ সালের ৩০ মে যারা তাকে (জিয়াউর রহমান) হত্যা করেছিলো তারা ছিলো বাংলাদেশের স্বাধীনতার শত্রু, বাংলাদেশের মানুষের শত্রু, বাংলাদেশের যে উত্থান হয়েছিলো, সেই উত্থানের শত্রু।

“তারাই আজকে ২০০৭ সালে ১/১১ এর থেকে সক্রিয় হয়ে উঠে আবার বাংলাদেশকে ওই একই জায়গায় নিয়ে যেতে চায়। তারা বাংলাদেশের যে আইডেনটিটি, সেই আইডেনটিটিকে ধ্বংস করতে চায়। যে কথা আমাদের নেতাও বলেছেন যে, এই দেশটাকে তারা তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়। সেটারই এখানে ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত চলছে।”

মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগের লোকেরা, বাংলাদেশের শত্রুরা মনে করেছিলো যে, বিএনপি শেষ। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পর থেকে এই বিএনপি থাকবে না। বিএনপির রাজনীতি তো হচ্ছে এই দেশের মানুষের বুকের ভেতরের রাজনীতি, মাটির রাজনীতি। এটা বিএনপি ধারণ করে এবং সব সময় বিএনপি সেই ফিনিক্স পাখির মতো জেগে উঠেছে এবং চতুর্দিকে আবার বিস্তার লাভ করেছে।

“আমার আবেদন আজকে তরুনদের কাছে, যুবকদের কাছে যে, ১৯৭১ সালে আমরা যুদ্ধ করেছিলাম তখন আমরা তরুন ছিলাম, যুবক ছিলাম। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান তখন একেবারেই যুবক ছিলেন। তার ডাকে সাড়া দিয়ে আমরা সেই যুবকরাই যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম অস্ত্র হাতে। আবারো ১৯৭৫ সালে শহীদ জিয়ার ডাকেই কিন্তু আমরা রাষ্ট্রকে নির্মাণ করার কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম।”

“আজকে দীর্ঘ ১২ বছর হতে চললো- আমরা লড়াই করছি, সংগ্রাম করছি। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তার আপোষহীন নেতৃত্ব দিয়ে কারাবরণ করে আছেন, অসুস্থ হয়ে আছেন। আজকে আমাদের সেই লড়াইকে ঠিক জায়গায়, কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌছাতে হবে। আসুন আমরা সবাই ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে সংগঠিত হই এবং আজকে এই দিনে এই শপথ গ্রহণ করি দেশমাতাকে মুক্ত করব, দেশকে মুক্ত করব এবং সত্যিকার অর্থে একটি গণতান্ত্রিক উদার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করব।”
দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কেনো আটকিয়ে রেখেছে তার কারণ তুলে ধরে তিনি বলেন, একটি মাত্র কারণ যে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া শহীদ জিয়ার যে পতাকা, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব-গণতন্ত্রের যে পতাকা, সেই পতাকাকে নিয়ে তিনি সেই গ্রামে-গঞ্জে নিয়ে সেটাকে প্রতিষ্ঠিত করে তোলেছেন।

“সেজন্যেই দেশনেত্রীকে গ্রেফতার করে আটক করে রাখা হয়েছে। আজকে অসুস্থ হওয়ার পরেও তাকে বিদেশে চিকিৎসা করাতে যেতে না দেয়ার সেটাই কারণ। যেন তিনি কোনো মতেই সুস্থ হয়ে আবার জনগণের সামনে আসতে দেয়া যাবে না। কারণ তিনি ধারণ করেন সেই রাজনীতি সেই পতাকা যা শহীদ জিয়াউর রহমান ধারণ করতেন যা এদেশের কোটি কোটি মানুষ ধারণ করে।”

প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে একজন ‘ক্ষনজন্মা দেশপ্রেমিক রাষ্ট্রনায়ক’ হিসেবে অবহিত করে তার নেতৃত্বে ‘বিপ্লব’ সৃষ্টির নানা ঘটনা প্রবাহও তুলে ধরেন বিএনপি মহাসচিব।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪০ তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির উদ্যোগে এই ভার্চুয়াল আলোচনা সভা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সারাদেশের ৮১টি সাংগঠনিক জেলার নেতৃবন্দ ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সৌদি আরব, মালয়েশিয়াসহ প্রবাসী শাখার নেতারাও এই ভার্চুয়াল আলোচনায় যুক্ত হন।

মির্জা ফখরুলের সভাপতিত্বে এবং প্রচার সম্পাদক শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানীর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানে জীবন-কর্মের ওপরে স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বক্তব্য রাখেন।

ঢাকা মহানগরের হাবিব উন নবী খান সোহেল, এম এ কাইয়ুম, ঢাকা জেলার ডা. দেওয়ান মো. সালাহউদ্দিন, চট্টগ্রাম মহানগরের ডা. শাহাদাত হোসেন, দক্ষিনের মোস্তাক আহমেদ খান, বরিশাল দক্ষিনের এবায়দুল হক চাঁন, রাজশাহী মহানগরের মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, খুলনা জেলার শফিকুল আলম মনা, রংপুর মহানগরের সাইফুল ইসলাম, ময়মনসিংহ উত্তরের অধ্যাপক একেএম শফিকুল ইসলাম, দক্ষিনের ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন, যশোরের অধ্যাপক নার্গিস বেগম, কুমিল্লা দক্ষিনের হাজী আমিনুর রশীদ ইয়াছিন, উত্তরের আখতারুজ্জামান সরকার, ফেনীর শেখ ফরিদ বাহার, হবিগঞ্জের জি কে গউস, সুনামগঞ্জের কলিমউদ্দিন আহমেদ মিলন, কক্সবাজারের শাহজাহান চৌধুরী, ফরিদপুরের সৈয়দ মোদারেস আলী ইছা, নওগাঁয়ের হাফিজুর রহমান, ঠাকুরগাঁওয়ের তৈমুর রহমান বক্তব্য রাখেন।

এছাড়া এই আলোচনা সভায় দলের অঙ্গসংগঠন যুব দলের সাইফুল আলম নিরব, মহিলা দলের আফরোজা আব্বাস, স্বেচ্ছাসেবক দলের মোস্তাফিজুর রহমান, শ্রমিক দলের আনোয়ার হোসেইন ও ছাত্র দলের ইকবাল হোসেন শ্যামলও বক্তব্য দেন।

এই বিভাগের আরও খবর

  আড়াই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ১০ প্রকল্প একনেকে অনুমোদন,প্রতি জেলায় হবে মহিলা কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র

  অনিয়ম করলে ক্ষমা নেই, কঠোর শাস্তি-- প্রধানমন্ত্রী

  জবাবদিহিতা না থাকায় যা খুশি তাই করছে সরকার-- মির্জা ফখরুল

  ইউনিয়ন-ওয়ার্ড পর্যায়ে টিকা কার্যক্রম শুরুর নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর

  শয্যা আর চিকিৎসক বাড়িয়ে করোনা নিয়ন্ত্রণ করা যায় না: মন্ত্রিপরিষদ সচিব

  আগে জীবন, পরে অর্থনীতি-- প্রধানমন্ত্রী

  অপরিকল্পিত লকডাউনে নিম্ন আয়ের মানুষের জীবন বিপন্ন: ফখরুল

  হেলেনা জাহাঙ্গীরকে আওয়ামী লীগের উপকমিটি থেকে অব্যাহতি দিয়ে বিজ্ঞপ্তি

  ‘লীগ শব্দ জুড়ে দিয়েই আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্তের সুযোগ নেই’

  করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জিততেই হবে: প্রধানমন্ত্রী

  করোনার টিকা নিলেন খালেদা জিয়া

 

 

 

 

 

 

আজকের প্রশ্ন

বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেছেন, পুলিশের ওপর নির্বাচন কমিশনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?