বুধবার, ০৮ ডিসেম্বর ,২০২১

Bangla Version
  
SHARE

বৃহস্পতিবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২১, ০৫:০৮:৪২

কী রেখে যাবে হুদা কমিশন

কী রেখে যাবে হুদা কমিশন

ডেস্ক রির্পোট:- দেশে স্থানীয় সরকার কিংবা জাতীয় সংসদ নির্বাচন কোনোটি নিয়েই অভিযোগের অন্ত নেই। প্রতিটি ভোটে লঘু-গুরু নানা অনিয়মের খবর প্রকাশ পায় আর অভিযোগের আঙুল ওঠে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) দিকে। সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনে ব্যর্থতা, ভোট নিয়ে নাগরিকদের অনাগ্রহ বৃদ্ধি- মোটা দাগে সবকিছুর দায়ভার বর্তায় সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটির ওপর। প্রতি জাতীয় নির্বাচনের আগে এ নিয়ে বিস্তর আলোচনা, মিছিল-মিটিং হয়, কিন্তু শেষ দৃশ্য একই। কেএম নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন বর্তমান কমিশনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ফেব্রুয়ারিতে। এখন নিরপেক্ষ গ্রহণযোগ্য ইসি গঠনের দাবির মধ্যে হুদা কমিশন কী রেখে যাচ্ছে তা নিয়েও বিশ্লেষণ চলছে। এই কমিশন একাদশ সংসদ নির্বাচন আয়োজন করে। হুদা কমিশন তাদের ঘোষিত রোডম্যাপে আইন সংস্কারসহ নির্বাচন ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণে বেশকিছু পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছিল। কিন্তু সব কাজ সম্পন্ন করতে পারেনি। বর্তমান কমিশনের বড় সাফল্য ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ। যদিও এটি নিয়ে অনেক রাজনৈতিক দলের আপত্তি রয়েছে। রয়েছে আরও কিছু অভিযোগ। সব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম বলেন, এই কমিশনের অনেক অর্জন রয়েছে। ৫০ বছরের ইতিহাসে প্রথম গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) বাংলায় রূপান্তর করেছে, সীমানা নির্ধারণ আইন করেছে। সংসদ নির্বাচনে ইভিএমে ভোটগ্রহণ করা হয়েছে। আমাদের পক্ষ থেকে আইনানুগভাবে যতটুকু করার সবটুকু করেছি। তিনি আরও বলেন, আমরা নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করে থাকি। এটি গণতন্ত্রের একটি ছোট অংশ। আমাদের এই কাজের বড় ফ্যাক্টর সরকার, রাজনৈতিক দল ও রাজনৈতিক শিক্ষা-সংস্কৃতি। আমার শতভাগ দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করার পরও যদি অন্যরা সহযোগিতা না করে, তা হলে হবে না। আমাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব শতভাগ অন্তরের কাছে বিশুদ্ধ থেকে পালন করার চেষ্ট করেছি। যদিও ইসির অনেক বিষয়ে বিরোধিতাকারী আরেক কমিশনার মাহবুব তালুকদার সম্প্রতি বলেছেন, ‘নির্বাচন এখন কতিপয় জটিল অসুখে আক্রান্ত’। একে বাঁচাতে ‘মেডিক্যাল বোর্ড’ গঠনের কথাও বলেছেন তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, হুদা কমিশন অর্জনের চেয়ে সমালোচিত হয়েছে বেশি। এই কমিশনে নিজেদের মধ্যেও অনেক মতভেদ দেখা গেছে। যা আগে কোনো কমিশনে দেখা যায়নি। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, এই কমিশন নির্বাচনী ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা ওয়াদা ভঙ্গ করেছেন। তিনি বলেছিলেন, সব দলের সম্মতি ছাড়া ইভিএম ব্যবহার হবে না। পরে নিকৃষ্টতম ইভিএম ব্যবহারের মাধ্যমে ভোটে কারচুপি করা হয়েছে। তারা নির্বাচন কমিশনকে চরমভাবে বিতর্কিত করেছে। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, হুদা কমিশন সফল হয়েছে না ব্যর্থ হয়েছে- এ নিয়ে বিশ্লেষণের সময় এখনো আসেনি। সময় হলে জনগণ এর সঠিক বিশ্লেষণ করবে, জবাব দেবে। আমি মনে করি, এই কমিশন সবকিছুতে শতভাগ সফল হয়েছে তা নয়। তবে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে সবকিছুতেই এই কমিশনকে ব্যর্থ বলতে হবে এমনটাও নয়। আমরা মানুষ কাজের মধ্যে সফলতা থাকে, ত্রুটি থাকে। ইসির সাবেক আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক বলেন, অতীতে অনেক কমিশন তাদের দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করেনি। কিন্তু এত বেশি দায়িত্বহীনতা এবং দেশের আপামর জনগণকে সম্পূর্ণ নির্বাচনবিমুখ করা, প্রার্থী হওয়া থেকে বিরত থাকা এবং ভোটদানে বিরত রাখতে তারা আশ্চর্যজনকভাবে সফল হয়েছে। এমনটি আমরা আশা করিনি। ৪২ জন বিশিষ্ট নাগরিক বর্তমান কমিশনের বিরুদ্ধে ‘গুরুতর অসদাচরণের’ অভিযোগ এনেছেন। পাশাপাশি অনিয়ম, দুর্নীতি এবং নিয়োগবাণিজ্যেরও অভিযোগ আনেন। তবে গত ২৪ ডিসেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করেন সিইসি। ২০১৭ সালের মধ্য ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণ করে ৫ সদস্যের বর্তমান কমিশন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ওই বছরের জুলাইয়ে ইসি ঘোষিত রোডম্যাপে আরপিও, সীমানা পুনর্নির্ধারণসহ আইনি সংস্কারের কথা জানানো হয়েছিল। এ লক্ষ্যে রাজনৈতিক দলসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সঙ্গে সংলাপ করা হয়। বিশেষ করে নির্বাচনী আইন, ১৯৭২ সালের আরপিও এবং ১৯৭৬ সালের সীমানা পুনর্নির্ধারণ অধ্যাদেশের যুগোপযোগী সংস্কারের কথা বলে ইসি। এ দুটি বিষয়ে আইন পরামর্শকও নিয়োগ করা হয়। শেষ পর্যন্ত আরপিও সংশোধনে সফল হয়নি। শুধু সংসদ নির্বাচনে ইভিএমে ভোটগ্রহণ সংক্রান্ত রাষ্ট্রপতির জারি করা অধ্যাদেশপরবর্তী সংসদের শুরুতে আরপিওতে সংযোজন করা হয়। গত ১ জুলাই ইংরেজির পাশাপাশি আরপিওর বাংলা পাঠ গেজেট প্রকাশ করে ইসি সচিবালয়। ২০১৯ সালের ১১ ডিসেম্বরে নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ আইনের খসড়া চূড়ান্ত করে সরকারের কাছে পাঠায় ইসি। জনসংখ্যার ভিত্তিতে আসন বণ্টনের সঙ্গে ভোটার সংখ্যা?যুক্ত করার প্রস্তাব করেছিল ইসি। সিটি করপোরেশন, বড় বড় শহর ও পল্লী এলাকার ভারসাম্য রক্ষার কথাও বলা হয়েছিল প্রস্তাবে। কিন্তু গত ৪ সেপ্টেম্বর সংসদে যে ‘জাতীয় সংসদের নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ বিল-২০২১’ পাস হয়, তাতে এসব প্রস্তাব গুরুত্ব পায়নি। দেশে ইভিএম প্রকল্প শুরু হয় ২০০৯ সালে। এরপর স্থানীয় পর্যায়ে বেশ কয়েকটি নির্বাচনে পরীক্ষামূলকভাবে ইভিএমে ভোট নেওয়া হয়। চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে ইভিএমে ভোটগ্রহণে ত্রুটি দেখা দেওয়ার পর থমকে ছিল ডিজিটাল এই পদ্ধতি। বর্তমান কমিশন আসার পর পুনরায় ইভিএম পদ্ধতি চালু করা হয়। কয়েকটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ব্যবহারের পরে প্রথমবারের মতো একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৬টি আসনে ইভিএমে ভোটগ্রহণ করা হয়। যদিও এ নিয়ে বিএনপির আপত্তি করছে। এরপর স্থানীয় সরকারের প্রায় সব নির্বাচনে স্বল্প পরিসরে ইভিএমে ভোটগ্রহণ চলছে। সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৮ সালে আরপিও সংশোধন করে শর্তসাপেক্ষে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের বিধান আনা হয়েছিল। সেখান থেকে দলগুলোর নিবন্ধনের এই বিধান আলাদা করে স্বতন্ত্র আইন করার উদ্যোগ নেয় হুদা কমিশন। গত বছরের ১ জুন আইনের খসড়া কমিশনের বৈঠকে অনুমোদন দেওয়া হয়। যদিও একজন কমিশনার তাতে আপত্তি জানান। এখনো সেই আইন বাস্তবায়ন হয়নি। ২০১৯ সালের ৫ নভেম্বর মালয়েশিয়ায় থাকা বাংলাদেশিদের অনলাইনে নিবন্ধনের মাধ্যমে প্রবাসীদের ভোটার করার কার্যক্রম উদ্বোধন করেন সিইসি হুদা। এরপর আরব আমিরাত ও যুক্তরাজ্যসহ বেশ কয়েকটি দেশের প্রবাসী বাংলাদেশিদের অনলাইনে তথ্য প্রদানের জন্য বলা হয়। প্রবাসীরা তথ্য দিলেও বিদেশে বসে ভোটার হতে পারছেন না। দেশে এসে ভোটার তালিকায় নাম উঠাতে হচ্ছে। দায়িত্বগ্রহণের পর থেকে ইসির সিদ্ধান্তের বিপরীতে দাঁড়িয়ে বেশ কয়েকবার আলোচনায় আসেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। দ্বিমত পোষণ করে বেশ কয়েকবার আনঅফিসিয়াল নোট দিয়ে কমিশন সভাও বর্জন করেন। একাদশ সংসদ নির্বাচনে সিইসি ও ইসি সচিব ছাড়া অন্য কমিশনারদের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে না জানানোর অভিযোগ ওঠে। আইনবিধি যথাযথ অনুসরণ করা হচ্ছে না দাবি করে সিইসিকে চিঠি দেন চার কমিশনার। ২০১৯ সালের নভেম্বরে শূন্যপদে কর্মচারী নিয়োগকে কেন্দ্র করে ইসি সচিবালয়ে ‘কর্তৃত্ব’ নিয়ে ফের অসন্তোষ দেখা দেয়। তখনো চার কমিশনার যৌথভাবে সিইসির কাছে আনঅফিসিয়াল নোটিশ দেন। বর্তমান কমিশের সময়ে জাতীয় পরিচয়পত্র জালিয়াতির ঘটনা বেশ আলোচনায় ছিল। ২০১৯ সালের ২২ আগস্ট এক রোহিঙ্গা নারী ভুয়া এনআইডি নিয়ে চট্টগ্রামে পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে গিয়ে ধরা পড়ার পর জালিয়াতচক্রের খোঁজে নামে ইসি। এরপর এনআইডি জালিয়াতি ও দুর্নীতি বন্ধে শুদ্ধি অভিযান শুরুর ঘোষণা দিলেও দৃশ্যমান তৎপরতা নেই। নির্বাচন কমিশন ২০০৭-০৮ সালে ছবিসহ ভোটার তালিকার কাজ শুরু করে। এই কাজটিও হয় ইসির মাধ্যমে। ২০১০ সালে ইসির অধীনে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ একটি আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি পায়। তবে এনআইডি কার্যক্রম স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্থানান্তরে গত ১৮ মে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের একটি চিঠি ইসিতে পাঠায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।আমাদের সময়

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

আজকের প্রশ্ন

বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেছেন, পুলিশের ওপর নির্বাচন কমিশনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?