বুধবার, ০১ ডিসেম্বর ,২০২১

Bangla Version
  
SHARE

শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ১২:২৭:৩১

৬৬ শতাংশ শিক্ষিত বেকার, প্রশ্নের মুখে সরকার!

৬৬ শতাংশ শিক্ষিত বেকার, প্রশ্নের মুখে সরকার!

ডেস্ক রির্পোট:- বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাম্প্রতিক এক জরিপ বলছে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলো থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের ৬৬ শতাংশ অর্থাৎ দুই-তৃতীয়াংশই বেকার। বাকি শিক্ষার্থীদের মধ্যে ২১ শতাংশ স্নাতক কিংবা স্নাতকোত্তর শেষ করে চাকরি পান, ৭ শতাংশ স্নাতকোত্তর বা কারিগরি শিক্ষা গ্রহণ করেন এবং ৩ শতাংশ স্ব-উদ্যোগে কিছু করেন। দেশে শিক্ষিত বেকার বৃদ্ধির এমন চিত্রে উদ্বেগ জানিয়েছেন সচেতন মহল। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মানসম্পন্ন শিক্ষা এবং অবকাঠামোর অভাবে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বাড়ছে। ফলে প্রশ্নের মুখে পড়েছে সরকারের শিক্ষা ও কর্মসংস্থান নীতি। তারা বলছেন, সরকার মুখে কর্মসংস্থানে বিপ্লব ঘটানোর কথা বললেও শিক্ষাকে কীভাবে যুগোপযোগী করা যায়, সে ব্যাপারে কার্যকর কোনো ভূমিকা নিতে দেখা যায়নি। সবকিছু চলছে গতানুগতিকভাবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এমন সব বিষয় যুক্ত করছে, যার সঙ্গে চাকরির বাজারের বিন্দুমাত্র সংযোগ নেই। বিআইডিএস ছাড়াও ব্রিটিশ সাময়িকী ইকোনমিস্ট-এর ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (ইআইইউ) আরেকটি প্রতিবেদন বলছে, বাংলাদেশে শিক্ষিত বেকারের হার পার্শ্ববর্তী ভারত, পাকিস্তান এবং শ্রীলঙ্কার তুলনায় অনেক বেশি। ইআইইউ’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতিবছরই উচ্চশিক্ষা নিয়ে শ্রমবাজারে আসা চাকরিপ্রার্থীদের প্রায় অর্ধেক বেকার থাকছেন অথবা তাদের চাহিদামতো কাজ পাচ্ছেন না। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বর্তমানে বাংলাদেশের ৪৭ শতাংশ স্নাতকই বেকার, যেখানে ভারতে ৩৩ শতাংশ, পাকিস্তানে ২৮ শতাংশ, নেপালে ২০ শতাংশ এবং শ্রীলঙ্কায় ৭ দশমিক ৮ শতাংশ বেকার রয়েছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই বিপুল পরিমাণ কর্মহীন শিক্ষিত জনগোষ্ঠিকে কাজে লাগাতে না পারলে তার নেতিবাচক প্রভাব দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে পড়বে। অন্যদিকে, যারা শিক্ষা অর্জন করেও যোগ্যতানুযায়ী চাকরি পাচ্ছেন না, তাদের হতাশা বেড়ে যাচ্ছে। এছাড়া, চাকরির বাজার তীব্র প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠায় শ্রমের দাম কমে যাচ্ছে। পাশাপাশি কর্মজীবীদের মাঝেও চাকরি হারানোর শঙ্কাও বাড়ছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমানের মতে, কাগজে কলমে দেশের আনাচে-কানাচে বিপুল পরিমাণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিনিয়ত গড়ে উঠছে। কিন্তু এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো এবং শিক্ষার মান নিয়ে কারো কোন মাথাব্যথা নেই। আর্থিক স্বার্থোদ্ধারই এগুলো গড়ে তোলার মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন, ‘আমাদের অর্থনীতি বলেই যাচ্ছেন দেশে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। যদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়তেই থাকে তাহলে এই ৬৬ শতাংশ বেকারত্ব কিভাবে তৈরি হচ্ছে? যারা বেকার থাকছে তাদের সেই ধরনের শিক্ষার মানের ঘাটতি রয়েছে। ফলে কর্মক্ষেত্রে তারা গুরুত্ব পাচ্ছে না।’ চাকরির বাজার নিয়ে কাজ করছেন এমন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের চাকরির বাজারের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে সমন্বয়হীনতা রয়েছে। বাজারের চাহিদা অনুযায়ী লোক তৈরি হচ্ছে না। আবার আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে বেশির ভাগ শিক্ষিত চাকরিপ্রার্থীরা শহর ও শোভন কাজ করতে চান। এছাড়া, দেশে বর্তমানে উৎপাদনশীল ও কৃষি খাতে চাকরির সুযোগ বাড়ছে। অথচ এ দুটি খাতে শিক্ষিত তরুণদের কাজের সুযোগ কম। অন্যদিকে, করোনার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় যেসব শিক্ষিত যুবকেরা নিজেরা ছোটখাটো ব্যবসা-বাণিজ্যের মাধ্যমে স্বকর্মসংস্থানে যুক্ত ছিলেন, তারাও বেকার হয়ে পড়েছেন। এসব ছোট ছোট উদ্যোক্তাদের হাতে সরকারের প্রণোদনার অর্থও খুব একটা পৌঁছায়নি। ফলে বাধ্য হয়ে অনেকে ব্যবসা বন্ধ করে দিয়েছেন। এতেও শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বেড়ে গেছে।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

আজকের প্রশ্ন

বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেছেন, পুলিশের ওপর নির্বাচন কমিশনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?