রবিবার, ২৮ নভেম্বর ,২০২১

Bangla Version
  
SHARE

রবিবার, ২১ নভেম্বর, ২০২১, ০২:৩৫:২৭

অলিগলিতে স্বর্ণের দোকান, আড়ালে বন্ধকী ব্যবসা

অলিগলিতে স্বর্ণের দোকান, আড়ালে বন্ধকী ব্যবসা

ডেস্ক রির্পোট:- প্রাচীন যুগ থেকে স্বর্ণের প্রতি মানুষের যে দুর্বলতা তা বর্তমা অব্দি কোনো অংশে কমেনি। বেশিরভাগ মানুষ চায় সাধ ও সাধ্য অনুযায়ী কিছু স্বর্ণ নিজের মালিকানায় রাখতে। তবে বর্তমানে স্বর্ণের যে আকাশচুম্বি দাম, তাতে করে স্বর্ণ এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। তারপরও গত কয়েকবছরে নগরীর অলিগলিতে ‘ব্যাঙের ছাতা ‘ মতো গড়ে উঠেছে অসংখ্য স্বর্ণের দোকান। মূলত স্বর্ণ বেচাকেনার নামে এসব দোকানে চলে চড়া সুদে স্বর্ণ বন্ধকীর কারবার। অতি মুনাফার লোভে নগরীর আনাচে কানাচে গড়ে উঠা এসব ব্যবসায়ীদের খপ্পরে পড়ে প্রতারিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন প্রকৃত স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা। একসময় স্বর্ণ বেচাকেনার জন্য মানুষ ছুটতেন নগরীর হাজারী লেনে। বেশিরভাগ কারিগর এখনও সেখানে থাকলেও স্বর্ণের দোকান ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েছে পুরো নগরীতে। চট্টগ্রাম জুয়েলারি সমিতির হিসাব অনুযায়ী ১৮’শর অধিক স্বর্ণের দোকান রয়েছে নগরীতে। বাস্তবে তা আরও কয়েকগুণ বেশি। শুরুতে এরা চোখ ধাঁধানো ডেকোরেশন, আলোকসজ্জা ও কিছু স্বর্ণালংকার সাজিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। এরপর স্বর্ণের বেচাকেনার আড়ালে শুরু করেন বন্ধকীর ব্যবসা। বন্ধকী ব্যবসায় ১০০ টাকায় মাসে দুই থেকে পাঁচ টাকা পর্যন্ত সুদ নেওয়া হয়। বছরের সুদের হার দাঁড়ায় ২৪ থেকে ৬০ শতাংশ। মূলত প্রচুর লাভের কারণে এসব স্বর্ণের দোকান বেড়ে গেছে। জানা গেছে, গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রতি মাসে ২ থেকে ৫ টাকা হারে স্বর্ণ বন্ধক নিলেও মহাজনের কাছে তারা বন্ধক রাখেন ১.৫ থেকে ২ টাকা হারে। মাঝের বিশাল এ মুনাফা চলে যায় তাদের পকেটে। এসব দোকানে স্বর্ণ বন্ধক রাখা গ্রাহকদের কাছে প্রমাণ হিসেবে দেওয়া হয় একটি মাত্র ভিজিটিং কার্ড। কোনো রকমে ঋণের পরিমাণ, সুদের হার এবং লেখা থাকে কী পরিমাণ স্বর্ণ জমা দেওয়া হয়েছে তার তথ্য। অলিখিত শর্তানুযায়ী, সুদের টাকা সময়মত পরিশোধ করতে না পারলে অথবা সুদ ও ঋণের টাকার পরিমাণ বন্ধকী স্বর্ণের দামের সমান বা বেশি হয়ে গেলে স্বর্ণ গলিয়ে ফেলার অদৃশ্য শর্ত দেন তারা। নগরীর আকবরশাহ এলাকার গৃহিনী তানিয়া আক্তার। বলেন, পরিবারের প্রয়োজনে এলাকার এক দোকান থেকে দুইবছর আগে স্বর্ণ বন্ধক দিয়ে টাকা নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সময়মত পরিশোধ করতে পারেননি। সম্প্রতি ওই স্বর্ণের দোকানে গিয়ে হিসাব করে দেখতে পান সমপরিমাণ টাকায় দ্বিগুণ পরিমাণ স্বর্ণালংকার কেনা যাবে। পরে তিনি সেটা আর ফেরত নেননি। এর মধ্যে বেশকিছু | দোকানদার বন্ধকী ব্যবসার পাশাপাশি দোকান চালু রাখতে বাজারের চেয়ে কম দামে স্বর্ণ বিক্রি করে থাকেন। এতে স্বর্ণের গুণগত মানও ঠিক থাকে না। ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম নিয়ে ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণ বানিয়ে দেন তারা। এ স্বর্ণ বিক্রি করতে গেলে বিপাকে পড়েন ক্রেতারা। ফলে স্বর্ণ ক্রয়ে আকর্ষণ হারিয়ে ফেলছেন ক্রেতারা। যাতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন প্রকৃত ব্যবসায়ীরা। নগরীর আখতারুজ্জামান সেন্টারের স্বর্ণ ব্যবসায়ী শ্যামল দাশ বলেন, একভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের বর্তমান বাজার মূল্য ৭৪,২৯৯ টাকা। এ স্বর্ণ কিনতে। গেলে আমাদের ৫% ভ্যাট দিতে হয়। পাশাপাশি আছে সরকার নির্ধারিত বিভিন্ন কর । এরপর এ স্বর্ণ বিক্রি করে লাভ থাকে সামান্য। অথচ অলিগলির কিছু দোকানে একই স্বর্ণ বাজার নির্ধারিত দামের চেয়ে চার-পাঁচ হাজার টাকা কম মূল্যে বিক্রি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এ দামে স্বর্ণ বিক্রি করতে গেলে আমাদের পথে বসতে হবে। হয় তারা চোরাই স্বর্ণ কিনে, নতুবা এসব স্বর্ণের গুণগত মান নেই। লাভের আশায় ক্রেতারা এসব অলংকার কিনে প্রতারিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম জুয়েলারি সমিতির ভোটার এখন প্রায় ছ’শ জন। মূলত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এসব প্রকৃত ব্যবসায়ীরা। ট্রেড লাইসেন্স, ডিলিং লাইসেন্স, ভ্যাট, আয়করসহ সব ব্যবসায়িক দলিল আপডেট থাকলেই ভোটাধিকার পান একজন ব্যবসায়ী। অথচ এসব প্রয়োজনীয় দলিলের তোয়াক্কা না করেই নগরীতে স্বর্ণের কারবার করছেন প্রায় চার হাজারেরও বেশি দোকানদার। চট্টগ্রাম জুয়েলারি সমিতির সভাপতি মৃণাল ধর বলেন, করোনার প্রকোপ ও দাম বেড়ে যাওয়ায় স্বর্ণ এখন নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তদের নাগালের বাইরে। একসময় অলিগলিতে থাকা এসব স্বর্ণের দোকানদারদের প্রধান ক্রেতা ছিল এরা। এছাড়া গার্মেন্টস কর্মীরা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সঞ্চয়ে ভবিষ্যতের জন্য স্বর্ণালংকার বানিয়ে রাখত। কিন্তু আগের মত এসব দোকানে। স্বর্ণ বেচাকেনা নেই। তিনি আরও বলেন, অলিগলিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কিছু দোকানদার লাইসেন্সধারী মহাজনের মাধ্যমে বন্ধকী ব্যবসা করে থাকেন। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চড়া সুদের জন্য এখন মহাজনদের কাছে যান না অলিগলির এসববন্ধকী ব্যবসায়ীরা। বিভিন্ন এলাকায় প্রতিষ্ঠিত কিছু দোকানদার ক্ষুদ্র দোকানিদের কাছে গোপনে কম সুদে গ্রাহকদের এসব স্বর্ণ বন্ধক নিয়ে থাকেন।

আজকের প্রশ্ন

বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেছেন, পুলিশের ওপর নির্বাচন কমিশনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?