সোমবার, ০৬ ডিসেম্বর ,২০২১

Bangla Version
  
SHARE

শনিবার, ১৩ নভেম্বর, ২০২১, ০৩:৪২:০৭

অর্থাভাবে ঝরল মরিয়ম ফুল!

অর্থাভাবে ঝরল মরিয়ম ফুল!

ডেস্ক রির্পোট:- রাজধানীর প্রগতি সরণিতে চলন্ত বাস থেকে কন্যাশিশুকে ধাক্কা দিয়ে মেরে ফেলার চাঞ্চল্যকর ও আলোচিত ঘটনার ঘাতক বাসের ‘চালক ও হেলপার’কে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। তথ্য মতে জানা যায়, গত (৯ নভেম্বর) সকাল ৭টা ৩০ মিনিটের দিকে রাজধানীর ভাটারা থানাধীন যমুনা ফিউচার পার্ক এর বিপরীত পাশে ফুটপাতের উপর ১০-১২ বছরের অজ্ঞাত মেয়ে শিশু আহত হয়ে পরে থাকতে দেখা যায়। উপস্থিত পথচারীরা মেয়ে শিশুটিকে ঘটনাস্থল থেতে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার পরিচয় নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে পথচারীরা মেয়েটির মৃতদেহ পুনরায় ঘটনাস্থলে নিয়ে আসে। পরবর্তীতে ভাটারা থানা পুলিশ সংবাদ পেয়ে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে নিয়ে যায়। অজ্ঞাত একটি কন্যাশিশুর মর্মান্তিক এই মৃত্যুর ঘটনাটি প্রথম থেকেই বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রচারের পর সারাদেশে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। এক পর্যায়ে শিশুটির পিতা মো. রনি মিয়া (৩৭) মেয়েকে খোঁজাখোঁজির এক পর্যায়ে জানতে পারে যে, ভাটারা থানায় একটি মেয়ে শিশুর মৃতদেহ পাওয়া গেছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ঘটনার দিন বিকেলে মেয়েটির বাবা থানায় হাজির হয়ে তার মেয়ে মরিয়ম আক্তার (১০) এর মৃতদেহ সনাক্ত করে। কন্যার মৃত্যুর ঘটনায় পিতা রাতেই অজ্ঞাতনামা গাড়ী চালক’কে আসামি করে ভাটারা থানায় সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ এর ৯৮/১০৫ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। র‌্যাবের একটি সূত্র মতে জানা যায়, শিশু মরিয়ম যাত্রীদের নিকট সাহায্য চাইতে বাসে উঠতে গেলে সিটিং সার্ভিস হওয়ায় তাকে বাস থেকে ফেলে দেওয়া হয়! র‌্যাব এ ঘটনার সংবাদ প্রাপ্তির সাথে সাথে ছায়া তদন্ত শুরু করে ও জড়িতদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার লক্ষ্যে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। কন্যাশিশুর মৃত্যুর রহস্য উন্মোচনে ভিকটিমের পরিবার, প্রতিবেশী এবং মৃতদেহ পড়ে থাকার ঘটনাস্থলে অবস্থানরত ব্যক্তিবর্গকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। আজ শনিবার (১৩ নভেম্বর) কারওয়ান বাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) এর লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন। কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, এই ঘটনার তদন্তে জানা যায় যে, অকাল মৃত্যুর শিকার মেয়ে শিশুটি তার পরিবারের সাথে খিলক্ষেত থানার কুড়াতলী এলাকায় বসবাস করত। তার পিতা মোঃ রনি একজন প্রাইভেটকার চালক। ২০১৯ সালে ভিকটিম মেয়ে শিশুটি স্থানীয় একটি স্কুলে প্রথম শ্রেনীতে ভর্তি হলেও অর্থের অভাবে তার পড়াশোনা বন্ধ ছিল। সে নিয়মিতভাবেই অর্থ সহায়তা পাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে কুড়িল এবং এর আশপাশের এলাকায় যাতায়াত করতো। ঘটনার দিনেও ভিকটিম সকাল ৬টা ৩০ মিনিটের দিকে মরিয়ম বাসা থেকে বের হয়ে রাস্তায় পথচারী এবং বাস যাত্রীদের নিকট ঘুরে ঘুরে সাহায্য চাচ্ছিলো। মিডিয়া উইংয়ের এ পরিচালক আরো বলেন, এই অকাল মৃত্যুর কারণ উদ্ঘাটনে আশেপাশের অর্ধশতাধিক সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হয়। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জানা যায় যে, গত ৯ নভেম্বর মরিয়ম তার বাসা থেকে বের হয়ে পায়ে হেঁটে গ্রগতি সরণি মেইন রোডে আসে। সেখান থেকে পরিবহনের একটি বাসে করে যমুনা ফিউচার পার্কের সামনে নামে। তারপর ফুট ওভারব্রিজ দিয়ে রাস্তা অতিক্রম করে যমুনা ফিউচার পার্ক এর বিপরীত পাশে আসে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা যায় যে, ভিকটিম মরিয়ম ফুট ওভারব্রিজ এর দক্ষিণ পাশের সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় রাইদা সিটিং সার্ভিস নামক পরিবহনের একটি বাস উত্তর দিক থেকে তার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। তার একটু পরেই অন্য একটি সিসিটিভি ফুটেজে সেই বাসটিকে থামার জন্য একজন পথচারীকে হাত দিয়ে ইশারা করতে দেখা যায়। সিসিটিভি ক্যামেরার এই ফ্রেমের ঠিক পিছনে ভিকটিম মরিয়মকে আহত অবস্থায় পাওয়া যায়। সিসিটিভি ক্যামেরার অবস্থান এবং সময় বিবেচনা করে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, এখানেই অকালে মৃত্যু বরণকারী মরিয়ম অর্থ সহায়তা চাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসটিতে উঠেছিল। কিন্তু ভিকটিমের বাসে উঠা এবং পড়ে যাওয়ার কোন সিসিটিভি ফুটেজ না পাওয়া যাওয়ায়, ঘাতক বাসের ড্রাইভার এবং হেলপারকে শনাক্ত করতে গোয়েন্দা কার্যক্রম এবং নজরদারি আরো বৃদ্ধি করা হয়। র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব সদর দপ্তর গোয়েন্দা শাখা ও র‌্যাব-১ এর অভিযানে গত ১২ নভেম্বর রাতে ঢাকার টঙ্গী এবং আব্দুল্লাহপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে উক্ত অকাল মৃত্যুর সাথে জড়িত রাইদা পরিবহনের বাস চালক রাজু মিয়া (২৫), হেলপার ইমরান হোসেনকে (৩৩)’ গ্রেফতার করা হয়। তিনি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা উক্ত নির্মম, হৃদয় বিদারক অকাল মৃত্যুর সাথে সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি স্বীকার করে। গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, ড্রাইভার রাজু মিয়া এবং হেলপার ইমরান হোসেন প্রতিদিনের মতই রাইদা পরিবহনের একটি বাস (ঢাকা মেট্রো ব- ১৪-৯০২২) নিয়ে পোস্তগোলা হতে দিয়াবাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা করে। সকালে স্বল্প সংখ্যক যানবাহন ও যাত্রী কম থাকায় তারা দ্রুতবেগে গাড়ি চালাচ্ছিল। বাসটি প্রগতি সরণি যমুনা ফিউচার পার্কে পৌঁছালে ভিকটিম মরিয়ম বাস যাত্রীদের নিকট হতে সাহায্য চাইবার জন্য গাড়িতে উঠে। গ্রেফতারকৃত হেলপার ইমরান হোসেন এ সময় যাত্রীদের নিকট হতে ভাড়া নিচ্ছিল। হেলপার ইমরান তখন লক্ষ্য করে যে, একজন ছিন্নমূল পথশিশু গাড়িতে উঠে অর্থ সাহায্য চাচ্ছে। তাই তাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে দিতে ড্রাইভার রাজুকে গাড়ির গতি কমাতে বলে এবং ভিকটিমকে দরজার কাছে গিয়ে নেমে যেতে বলে। এ সময় বাসের চালক রাজু কিছুদূর না যেতেই আবার থামতে বলায় বিরক্ত হয়ে গতি হালকা কমিয়ে ছিন্নমূল পথশিশুটিকে তাড়াতাড়ি নামতে বলে। ভিকটিম মরিয়ম তাড়াহুড়া করে নামার সময় হঠাৎ করে ঘাতক গাড়ির ড্রাইভার গাড়ি জোড়ে চালানো শুরু করে। ভিকটিম মরিয়ম বাসের দরজার থেকে ছিটকে রাস্তায় পড়ে যায়। মরিয়মের রাস্তায় ছিটকে পড়ার এই দৃশ্য দেখে গাড়িতে উপস্থিত স্বল্প সংখ্যক যাত্রী এবং রাস্তার পথচারীরা গাড়ীকে থামাতে বললেও ড্রাইভার ও হেলপার এ সময় গাড়ি না থামিয়ে দ্রুতবেগে দিয়াবাড়ির দিকে চলে যায়। র‌্যাব আরো জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে বাসটির চালক রাজু জানায় যে, তাদের বাসের ঠিক পিছনেই একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ বাস ছিলো এবং তারা বাসে ভাঙচুর এবং মারপিট করতে পারে; এই ভয়ে তারা ঘটনাস্থলে বাস না থামিয়ে দ্রুত সামনের দিকে অগ্রসর হয়। পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃত আসামিরা দিয়াবাড়ি হতে পোস্তগোলা পর্যন্ত ফিরতি ট্রিপ করে আসলে জানতে পারে যে তাদের বাস থেকে রাস্তায় ফেলে দেওয়ায় মেয়ে শিশুটি মারা গিয়েছে। এই সংবাদ প্রাপ্তির পরপরই বর্ণিত পরিবহনের ড্রাইভার এবং হেলপার পোস্তগোলায় হাসনাবাদের একটি বাস ডিপোতে গাড়িটি রেখে, দুর্ঘটনা এবং মৃত্যুর বিষয়টি কাউকে না বলে আত্মগোপনে চলে যান। কমান্ডার মঈন বলেন, গ্রেফতারকৃত বাস চালক রাজু মিয়া প্রায় ৬ বছর যাবত রাইদা পরিবহনের গাড়ি চালানোর কাজে নিয়োজিত রয়েছে। পোস্তগোলা হতে বাড্ডা-দিয়াবাড়ি পর্যন্ত প্রতিনিয়ত রাইদা পরিবহনের বাস চালক হিসেবে সে দায়িত্ব পালন করত। গ্রেফতারকৃত হেলপার ইমরান হোসেন পূর্বে গার্মেন্টস শ্রমিক হিসেবে কাজ করতো। বিগত ছয় মাস যাবত সে রাইদা পরিবহনে হেলপার হিসেবে কাজ করছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান র‌্যবের এই কর্মকর্তা।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

আজকের প্রশ্ন

বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেছেন, পুলিশের ওপর নির্বাচন কমিশনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?