বুধবার, ২৭ অক্টোবর ,২০২১

Bangla Version
  
SHARE

বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ০৫:৪৭:৩০

আঁধারে ডুবছে রুপালী পর্দা

আঁধারে ডুবছে রুপালী পর্দা

ডেস্ক রির্পোট:- এক সময় নাগরিক বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম ছিল সিনেমা হলএক সময় নাগরিক বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম ছিল সিনেমা হল। ছবি: আজকের পত্রিকা এক সময় নাগরিক বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম ছিল সিনেমা হল। নতুন বাংলা ছবি মুক্তি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা দেখার জন্য মানুষ ছুটে যেত সিনেমা হলে। পরিবার-পরিজন নিয়ে দল বেঁধে বাংলা ছবি দেখত। আশি দশকে সিনেমা হলগুলোতে বিনোদনের জন্য মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়ত। ঈদ-পূজা, পালা-পার্বণে গ্রাম ও শহরের মানুষ সিনেমা হলের সামনে লাইন ধরে দাঁড়াতো পছন্দের সিনেমার টিকিট কাটতে। তবে তখনকার ছবির পরিবেশ ছিল আলাদা। সেই সময় বিনোদনের একমাত্র জায়গা হিসেবে সিনেমা হলগুলোর ব্যাপক কদর থাকলেও বর্তমানে কেবল টিভি আর অনলাইন স্যাটেলাইট, ইন্টারনেট আর পাইরেসির যুগে দর্শক প্রেক্ষাগৃহে আর যেতে চায় না। সবকিছুই এখন হাতের মুঠোয়। বর্তমান ডিজিটাল এই যুগে হল বিমুখ মানুষ টেলিভিশন-কম্পিউটার ও স্মার্ট ফোন সহ নানা মাধ্যমে খুঁজে নিচ্ছে নিজেদের পছন্দের সিনেমা ও বিনোদন এমনটাই বলছেন দর্শকেরা। দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলায় উর্বশী, অবকাশ, মনিমালা নামে তিনটি সিনেমা হল ছিল। এর মধ্যে মিট মিট করে জ্বলছে কেবল অবকাশ সিনেমা হল। বেশ কিছুদিন আগেই মনিমালা সিনেমা হলটি বন্ধ হয়ে গেছে। করোনা ভাইরাসের কারণে গত এক বছর ধরে ছবি চালানো বন্ধ রয়েছে এ দুটি হলেও। আগে এমন এক সময় ছিল মানুষ অবসর সময়ে বিনোদন পেতে ছুটে যেতো সিনেমা হলে। কবে কখন কোন নতুন বাংলা ছবি মুক্তি পাচ্ছে তা নিয়ে চারদিকে গুঞ্জন চলতো। নতুন ছবি মুক্তি পাওয়ার সঙ্গেই মানুষ হলে গিয়ে টিকিটের জন্য লাইন ধরে ভিড় জমাতো। সে সময় ‘রূপবান, বেদের মেয়ে জোসনা, রাঙা ভাবি, কমলার বনবাস, কাসেম মালারপ্রেম, ঝিনুক মালা, রাখাল বন্ধু, ভাত দে, নবাব সিরাজ উদ দৌলার মতো পারিবারিক আবহে নির্মিত সব ছবি মুক্তি পেত। এসব বাংলা ছবি গ্রাম বাংলার মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে দল বেঁধে সিনেমা হলে গিয়ে দেখত। গ্রামে এমন প্রথাও চালু হয়েছিল যে, নতুন জামাই শ্বশুরবাড়ি গেলে নতুন বউ ও শ্যালক-শ্যালিকাদের নিয়ে সিনেমা দেখতে যেতেন! কিন্তু সেই সব এখন ভাটা পড়েছে। চারদিকে নানা প্রযুক্তির ছড়াছড়ি। ডিজিটাল যুগে মানুষ ঘরে বসে এখন সিনেমা দেখতে পাচ্ছে। এখন হলগুলোতে দর্শক শূন্যের কোঠায়। আর এর প্রভাব পড়ছে আমাদের দেশের চলচিত্রের ওপর, যা এখন হুমকির মুখে। ২০১০ সালের পর থেকে শুরু হয় সিনেমা হলে মন্দার ভাব। একে একে বন্ধ হতে থাকে হল। এক সময়ের রমরমা সিনেমা হলের অনেকগুলোই এখন পরিত্যক্ত, ব্যবহৃত হচ্ছে স্কুল ভবন, কমিউনিটি হাসপাতাল ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গোডাউন হিসেবে। সিনেমা হলগুলোকে আধুনিকায়ন করতে সরকার থেকে ২০১৮ সালে একটা উদ্যোগে নেওয়া হলেও পরবর্তীতে আর আলোর মুখ দেখেনি। উর্বশী সিনেমা হলের স্বত্বাধিকারী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মো. খুরশিদ আলম মতি বলেন, ২০১০ সাল পর্যন্ত সিনেমা হল ভালোই চলছিল। এরপর ধীরে ধীরে এটা লোকসানের মুখে পড়ে। চলচ্চিত্র নির্মাণকারীরা দর্শকদের চাহিদা অনুযায়ী চলচ্চিত্র উপহার দিতে পারছে না। ভালো সিনেমার অভাবে দর্শকের উপস্থিতি একেবারে নেই বললেই চলে। করোনার কারণে গত বছর থেকে শো চালানো বন্ধ রাখা হয়েছে। স্থানীয় প্রবীণ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শিক্ষক গবিন্দচন্দ্র সরকার বলেন, এক সময় ছবির গল্পগুলো মানসম্মত ও আকর্ষণীয় ছিল। সিনেমা হলে ছবি দেখতে দর্শকদের উপচে পড়া ভিড় ছিল। এখন হলগুলোতে বসে সিনেমা দেখার তেমন পরিবেশ নাই। ভালো মানের ছবি না হওয়ার কারণে দর্শকেরা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

আজকের প্রশ্ন

বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেছেন, পুলিশের ওপর নির্বাচন কমিশনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?