রবিবার, ২৮ নভেম্বর ,২০২১

Bangla Version
  
SHARE

শনিবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২১, ০৮:৪২:১২

প্রশাসন যখন রাজনৈতিক শক্তির ওপরে

প্রশাসন যখন রাজনৈতিক শক্তির ওপরে

স্বদেশ রায়:- বৈরাম খাঁর নিহত হওয়া নিয়ে নানান মত রয়েছে। কেউ কেউ মনে করেন, বৈরাম খাঁর প্রশাসনিক শক্তি সম্রাট আকবরের রাজশক্তির ওপরে ওঠে গিয়েছিলো বলেই সম্রাট আকবর তাঁকে হত্যা করান। বাস্তবে রাজনৈতিক শক্তিকে সব সময়ই প্রশাসনিক শক্তিকে সঙ্গে নিয়ে চলতে হয়। আর চলার পথে মাঝে মাঝেই বৈপরিত্য ঘটে। ইতিহাসের পাতা ঘাটলেই দেখা যায়, মাঝে মাঝেই কোনও সভাসদের শক্তি রাজা, কিং বা সম্রাটের শক্তিকে ছাড়িয়ে যায়। কখনও বা সামরিক প্রশাসনের কেউ কেউ একইভাবে রাজা, কিং বা সম্রাটকে ছাড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। আর তখন রাজশক্তি যদি ওই সভাসদের ও সামরিক প্রশাসনের সেনানীকে ক্ষমতাহীন করতে পারেন, তাহলে তার রাজশক্তি দিয়ে তিনি তার নিয়মেই রাজ্য পরিচালনা করতে পারেন। আর যদি ব্যর্থ হন তাহলে এক পর্যায়ে রাজশক্তি হয় পুতুল হয়ে যায়, না হয় ক্ষমতা হারায়। এ কারণেই আধুনিক রাজনীতি পরিচালিত রাষ্ট্র ব্যবস্থায় প্রশাসনিক শক্তিকে বেশিক্ষেত্রে এমনভাবে সাজানো হয়েছে- যাতে তারা রাজনৈতিক শক্তি থেকে, রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত থেকে দূরে থেকে, অনেকটা রাজনৈতিক শক্তির মেশিনারিজ হিসেবে কাজ করতে পারে। তারজন্যে এই প্রশাসন ব্যবহারের সিস্টেম নিয়ে একের পর এক পরীক্ষা-নিরীক্ষা আছে বা চলছে। তবে তারপরও বাস্তবতা হলো, প্রশাসনও কিন্তু মানুষই চালায়। এবং তারা রাজনৈতিক শক্তির কাছাকাছি থেকে রাজনৈতিক শক্তির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে। এ কারণে দুই-ই স্বাভাবিকভাবেই খুব কাছে চলে আসে। আর যখনই কোনও কিছু একে-অপরের কাছে চলে আসে তখন স্বাভাবিক প্রবণতা থাকে দুইয়ের পার্থক্য রেখা কমে যাওয়া। আর এই পার্থক্য রেখা যতই কমতে থাকে ততই সমস্যা শুরু হয়। রাজনৈতিক শক্তি ও প্রশাসনিক শক্তির ক্ষেত্রেও একই অবস্থা হয়। প্রশাসনিক শক্তির স্বাভাবিক গতি থাকে রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে তার পার্থক্য ঘুচিয়ে দিয়ে বা কমিয়ে এনে নিজের শক্তিকে বড় করা। অন্যদিকে রাজনীতির উচিত কাজ থাকে, দুইয়ের ভেতর পার্থক্য বজায় রেখে প্রশাসন যাতে তার নিজ অবস্থানে থাকে সেটা ধরে রাখা। অবশ্য পৃথিবীর ইতিহাসে দেখা যায়, নানা কারণে নানান দেশে রাজনৈতিক শক্তি মাঝে মাঝেই একাজে ব্যর্থ হয়েছে। এই ব্যর্থতার মূলে থাকে রাজনীতির শক্তি কমে যাওয়া। রাজনীতির এই শক্তি কমে যায়ও বেশ কিছু কারণে। যেহেতু রাজনীতি সমাজ বিজ্ঞানের অংশ তাই এর সব কারণ পদার্থবিদ্যার মতো কখনই নির্ধারণ করা যাবে না। তবে তারপরও যে সব দেশে রাজনৈতিক শক্তি প্রশাসনিক শক্তির কাছে ব্যর্থ হয়েছে বা প্রশাসনিক শক্তি নিজেকে বেশি ক্ষমতাবান করেছে, অধিকাংশের মূলে মোটা দাগে বেশ কিছু কারণ খুঁজে পাওয়া যায়। যেমন, রাজনৈতিক শক্তির মূল হলো, তার নিজস্ব রাজনৈতিক আদর্শ। যে আদর্শ জনগণকে চুম্বকের মতো টেনে এনে ওই রাজনৈতিক শক্তির চারপাশে জড়ো করে। জনগণের শক্তিতে রাজনৈতিক শক্তি তখন এতই ক্ষমতাশালী থাকে যে প্রশাসনিক শক্তির তখন আর রাজনৈতিক শক্তির ধারে কাছে যাওয়ার ক্ষমতা থাকে না। বরং তারা আজ্ঞাবাহী একটি মেশিনারিজ থাকতে বাধ্য হয়। আর যখনই রাজনৈতিক শক্তি সত্যি অর্থে কোনও আদর্শ ধারণ করে না তখন জনগণ তার থেকে দূরে চলে যায়। ফলে দুর্বল হয়ে যায় রাজনৈতিক শক্তি। আর এ দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে প্রশাসনিক শক্তি তখন রাজনৈতিক শক্তির ওপর আধিপত্য গড়ে তোলে। বর্তমানের পৃথিবীতে গণতান্ত্রিক শাসন, একনায়কতন্ত্রী শাসন, স্বৈরতন্ত্র, ধর্মতন্ত্র, অধিক নিয়ন্ত্রণমূলক শাসন, এমনকি মাফিয়া শাসন সবাই মুক্তবাজার অর্থনীতিকে গ্রহণ করেছে। এবং যার যার মতো করেই এই মুক্তবাজার অর্থনীতি চালাচ্ছে। মুক্তবাজার অর্থনীতিতে বেশ কিছু দেশ অর্থনৈতিক উন্নয়নের একটা চিত্র হিসাবের খাতায় ভালোভাবেই তুলে ধরতে পারছে। যে সকল দেশ তাদের এই অর্থনৈতিক উন্নয়নের ছবি তুলে ধরতে পারছে তারা সকলেই সুপারসনিক মিশাইল থেকে তথ্য প্রযুক্তি অবধি মোটা দাগে উন্নতি করছে। কিন্তু বেশিক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, উন্নয়নের নীতিতে মানুষে মানুষে সম্পদের বৈষম্য বাড়ছে অনেক বেশি। কেউ হয়তো বলতে পারেন, মানুষে মানুষে এই যে সম্পদের বৈষম্য এত ইতিহাসের অতীত থেকেই আছে। একে কখনও দূর করা যায়নি। তাদের কথা আংশিক সত্য। দূর করা যায়নি ঠিকই। তবে এই দূর করার চেষ্টাতেই একের পর এক আধুনিক রাজনৈতিক আদর্শ ও রাজনৈতিক শক্তি সৃষ্টি হয়েছে। মানুষ যে রাজতন্ত্র ছেড়ে আধুনিক রাজনীতির কাছে আশ্রয় নিয়েছে তারও মূল এখানেই; অর্থাৎ মানুষ চায়, গুটি কয়েক মানুষের সঙ্গে বেশিভাগ মানুষের যে সম্পদের বৈষম্য তা দূর করুক রাজনীতি। তাই রাজনীতিকে সব সময়ই সজাগ থাকতে হয় সে যেন কোনোমতেই গুটি কয়েকের স্বার্থ রক্ষাকারী না হয়ে যায়। অন্যদিকে নানান স্বার্থ রাজনীতিকে সব সময়ই গুটিকয়েকের স্বার্থরক্ষার দিকে টানতে থাকে। রাজনীতি যদি সচেতনভাবে এবং মানুষের শক্তিতে নির্ভর করে একে না ঠেকায়- তাহলে ধীরে ধীরে রাজনীতি তার পথ হারায়। পৃথিবীর যতগুলো দেশে রাজনীতি পথ হারিয়েছে, তাই সে সামাজতান্ত্রিক, নিয়ন্ত্রণমূলক আর গণতান্ত্রিক দেশ হোক, সবখানেই দেখা গেছে প্রশাসন রাজনীতির ওপরে ওঠে যায়। প্রশাসন যখনই রাজনৈতিক শক্তির ওপরে ওঠে যায় তখনই শুরু হয়ে যায় গুটি কয়েকের স্বার্থ রক্ষা। আজ যে পৃথিবীর দেশে দেশে ক্ষমতাকেন্দ্রিক লুটেরা শ্রেণির জন্ম হচ্ছে- একাজে সব থেকে বেশি সহায়তা করছে প্রশাসনিক শক্তি। কারণ, এই গুটি কয়েকের স্বার্থ রক্ষা করতে হলে তখনই নীতির বাইরে গিয়ে অবৈধ সুবিধা বা দুর্নীতির পথটি খুলে দিতে হয়। এই দুর্নীতির পথটি খুলে দেওয়ার কাজটি প্রশাসন তখনই খুব সহজভাবে করতে পারে যখন তাদের ওপর রাজনৈতিক শক্তির নিয়ন্ত্রণের বদলে নির্ভরতা এসে যায়। কারণ, তখন আর প্রশাসন সত্যি অর্থে কারও কাছে দায়বদ্ধ থাকে না। প্রশাসন এমনিতে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ নয়, অন্যদিকে রাজনৈতিক শক্তি যদি তাকে সঠিক নিয়ন্ত্রণ না করে তাহলে সে তখন দড়ি ছেড়া ঘোড়ার মতোই হয়ে যায়। আওরঙ্গজেব শাসক হিসেবে খুবই নিয়ন্ত্রণমূলক শাসক ছিলেন। তার কঠোরতা, ব্যক্তিগত সততার কথা সকলেই জানেন। তবে ওই নিয়ন্ত্রণমূলক শাসক হওয়ার ফলে তিনি রাজশক্তির বদলে নির্ভর করেছিলেন প্রশাসনিক শক্তির ওপরে। কিন্তু তাঁরই শাসনের শেষের দিকে এসেই মূলত মোগল সাম্রাজ্য রাজশক্তি হারিয়ে ফেলে। মোটা দাগে বলা হয় দক্ষিণ ভারতের যুদ্ধই তার রাজকোষ শূন্য করেছিলো। কিন্তু অন্য হিসেব তা বলে না। কারণ, ওই সময়ে শুধু বেঙ্গল থেকে যে রেভিনিউ মোগল রাজকোষে দেওয়া হতো তার পরিমাণ ছিল আজকের ব্রিটেন সহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের যতগুলো দেশ এই দেশগুলোর ওই সময়ের মোট বাজেটের থেকে বেশি। আর ওই পরিমাণ অর্থ কখনই তার দক্ষিণ ভারতের যুদ্ধে ব্যয় হয়নি। মূলত মোগল রাজকোষ শূণ্য করেছিলো প্রশাসনের সহায়তায় নানান ব্যবসায়ী। তার মূলে ছিল প্রশাসনের সহায়তায় নানান দুর্নীতি। বর্তমানের বিশ্বে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন থেকে শুরু করে অনেক গণতান্ত্রিক দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের বড় কারণ কিন্তু আধুনিক রাষ্ট্রের আধুনিক রাজকোষে টানপড়া। আধুনিক রাষ্ট্রের রাজকোষ বলতে তার ব্যাংক ব্যবস্থা। এ মুহূর্তে আফ্রিকা, এশিয়ার বহু দেশে ব্যাংক লুটের খবর মাঝে মাঝেই আসছে। এ সব কেস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, রাজনৈতিক শক্তির দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে প্রশাসনের কিছু দুর্নীতিগ্রস্থ কর্মকর্তা ও দুর্নীতিবাজ ব্যবসায়ীদের একটি অবৈধ চক্রই মূলত দায়ী। আর রাজনৈতিক শক্তি দুর্বল হলে তখন প্রশাসনের দুর্নীতিবাজদের সঙ্গে দুর্নীতিগ্রস্থ ব্যবসায়ীদের এই চক্র গড়ে উঠবেই। এবং চক্র সহজেই কিছু রাজনীতিককে এই দুর্নীতির পথে টেনে নিয়ে আসে। যার ফলে রাজনীতি শুধু আদর্শ হারায় না, দুর্নীতিগ্রস্থও হয়ে পড়ে। আর পৃথিবীর ইতিহাসে দেখা যায়, যখনই রাজনৈতিক শক্তি প্রশাসনিক ও ব্যবসায়িক এই দুর্নীতিচক্রের সঙ্গে হাত মেলায় তখনই ধীরে ধীরে ওই রাজশক্তি বা রাজনৈতিক শক্তি ধ্বংস হয়ে যায়। রাজনৈতিক শক্তির আরেকটি ভুল দেখা যায়, তারা প্রশাসনের লোকজনকে রাষ্ট্র পরিচালনার কাজে বিশেষজ্ঞ মনে করে বসে কখনও কখনও। এ কারণে তারা তাদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। আর এই নির্ভরশীলতার সুযোগ নিয়ে প্রশাসন রাজনৈতিক শক্তির ওপরে উঠে আসে। বাস্তবে প্রশাসনের লোক বিশেষজ্ঞ নয়, তারা অভিজ্ঞ মাত্র। অভিজ্ঞরা ট্রাডিশনাল কাজ করতে পারে কিন্তু উদ্ভাবনী কাজ করতে পারে খুবই কমক্ষেত্রে। আর বিশেষজ্ঞ’র কাজ তো তারা করতেই পারে না। যেমন ধরা যাক, এই যে করোনা বা কোভিড গোটা পৃথিবীকে আক্রমণ করলো। একে মোকাবিলার কাজে কিন্তু প্রশাসনের লোকের কোনও অভিজ্ঞতা ছিল না। তারা এর আগে কখনই করোনা মোকাবিলা করেনি। তাই স্বাভাবিকই এখানে প্রশাসনিক শক্তি আর রাজনৈতিক শক্তি একই সমান্তরালে দাঁড়িয়ে। তবে একই সমান্তরালে হলেও এখানে রাজনৈতিক শক্তির একটা বাড়তি দিক আছে। তারা যোগ্য রাজনীতিক হলে তাদের নেতৃত্ব দেওয়ার গুণ থাকে। আর এ ক্ষেত্রে নেতার কাজ থাকে প্রকৃত বিশেষজ্ঞকে এখানে নিয়ে আসা এবং তার মতানুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া। প্রশাসনের কাজ তখন বিশেষজ্ঞর মতানুযায়ী রাজনৈতিক নেতৃত্ব যে সিদ্ধান্ত নেবে সেটা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা। যে কারণে দেখা যায়, এই কোভিডের সময় ট্রাম্পের মতামতের থেকে কিন্তু ফাউসির মতামত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিলো। কিন্তু ট্রাম্প কোভিড মোকাবিলায় ব্যর্থ হন তার কারণ তিনি ফাউসির মতামতকে বুঝতে পারেননি। বরং প্রশাসনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিলেন। অন্যদিকে বাইডেন এসে সফল হয়েছেন তার কারণ তিনি ফাউসির মতো বিশেষজ্ঞদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আর সেই সিদ্ধান্তকে বাস্তবায়নের দ্বায়িত্ব দিয়েছেন প্রশাসনকে। এখান থেকে আরো একটি বিষয় পরিষ্কার হয়, রাজনৈতিক শক্তির ওপরে যদি প্রশাসনিক শক্তি ওঠে যায়, আর রাজনৈতিক শক্তি যদি প্রশাসনকে অভিজ্ঞর বদলে বিশেষজ্ঞ মনে করেন- তখন রাষ্ট্র বা সমাজে মূল বিশেষজ্ঞদের গুরুত্ব কমে যায়। প্রশাসনের লোকজন বিশেষজ্ঞ হওয়াতে প্রতিটি ক্ষেত্রে ওই সব বিষয়ের মান নামতে থাকে। কারণ শিক্ষার বিশেষজ্ঞ যদি প্রশাসনের লোকজন হয়ে যায়, শিক্ষাবিদের জায়গা যদি তারা দখল করে শিক্ষা বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে ওই দেশে শিক্ষার মান নামতে বাধ্য। এমনিভাবে যে কোনও রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, শিক্ষা, সংস্কৃতি, দুর্বল মানুষদের নিরাপত্তা থেকে শুরু করে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের মান অবধি যখন নামতে শুরু করে তখন ধরেই নিতে হয়, এই রাষ্ট্রে বিশেষজ্ঞর জায়গা দখল করেছে প্রশাসনের লোকজন। আর রাষ্ট্রের রাজনৈতিক শক্তি সেটা বুঝতে ব্যর্থ হচ্ছে। অর্থাৎ রাজনৈতিক শক্তির ওপরে ওঠে গেছে প্রশাসনিক শক্তি। যা শুধু ওই রাজনৈতিক শক্তির জন্যে নয় রাষ্ট্রের জন্যেও ক্ষতিকর। আর এ ক্ষতি থেকে বাঁচার জন্যে, কখনও কখনও আকবররা বৈরাম খাঁদেরকে হত্যা করে বৃহত্তর রাজশক্তি ও রাষ্ট্রের স্বার্থে। লেখক: রাষ্ট্রীয় পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক

আজকের প্রশ্ন

বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেছেন, পুলিশের ওপর নির্বাচন কমিশনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?