মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ,২০২১

Bangla Version
  
SHARE

মঙ্গলবার, ৩১ আগস্ট, ২০২১, ০৭:২৯:২৪

একজন নেতা হওয়ার গল্প ইত্যাদি ইত্যাদি

একজন নেতা হওয়ার গল্প ইত্যাদি ইত্যাদি

শাবলু শাহাবউদ্দিন:- নিজামকে মেরে হাত ভেঙে দিয়েছে সবে কলেজে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থী শুফম আলি। নিজাম ছাত্র রাজনীতি করে। মানুষের চোখে বখাটে হলেও পেপার পত্রিকায় মাঝে মাঝে খবর প্রচারিত হয় জনদরদী হিসেবে। কেনো যে পত্রিকার সাংবাদিকরা এমন খারাপ ছেলেকে জনদরদী রাজনৈতিক ছাত্র নেতা হিসেবে প্রচার করে এটা শুফম আলির কিন্তু জানা। নিজামের এমন ভালো ভালো নিউজ প্রচার করার বিনিময়ে সাংবাদিকদের পকেটে মোটা অঙ্কের টাকা যায়। এই টাকা নিজাম আয় করে চাঁদাবাজি সহ নারী পাচার ও নেশা দ্রব্য বিক্রয় করে। এবং ঐ টাকা ব্যয় করে গ্যাঙ তৈরি কাজে ও সাংবাদিকদের পিছনে। তার এই কুকর্মের সংবাদ শুফম আলি একবার পুলিশকে জানিয়ে দিয়েছিল। যার ফলে পুলিশ নিজামকে ধরে নিয়ে যায়। পরে অবশ্যই নিজামের ধরিয়ে দেওয়া ব্যক্তির নাম পুলিশের কাছ থেকে জানতে পারে নিজামের বাবা মালেক সর্দার। এই নিয়ে তখনই কোনো প্রক্রিয়া জানান না মালেক সর্দার। জবাব দিবে সঠিক সময়ে। নিজাম এক সপ্তাহ পরে জামিনে মুক্তি পেলো। নিজামের বাবা মালেক সর্দার আশুগঞ্জ ইউনিয়নের জাতীয় অনিল দলের সভাপতি। বর্তমানে অনিল দল দেশের সরকার এবং সরকার প্রধান। পিতা ইউনিয়নের সভাপতি ছেলে নিজাম ছাত্র রাজনৈতিক দলের সভাপতি। নিজাম কোন পড়াশোনা করে না। সারাদিন ধান্দা আর ধান্দা। কখনো মাদক সেবন এবং বিক্রয়, কখনো চাঁদাবাজি। পিতা মালেক সর্দার সুদে ব্যবসায় সাথে জায়গা জমি দখল, সালিশ করে আয় রোজগার ইত্যাদি। যেদিন নিজাম ছাড়া পেল, সেদিন পাঁচ শত মোটর সাইকেল, বিশ খানা মাইক্রো বাস আশুগঞ্জ ইউনিয়ন থেকে নিজামকে আনতে গেলো। হাজার আড়াই লোক জন। যারা এই মিছিলে অংশগ্রহণ করবে প্রত্যেকে পাবে এক বাটি বিরানী এবং তিন শত টাকা ইত্যাদি ইত্যাদি। মহা ধুমধামে ছাড়া পেল নিজাম। পত্রিকা থেকে শুরু করে বিভিন্ন টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার হল তার এই মিছিল। নিজাম অল্প দিনে ইউনিয়ন ছাত্র নেতা থেকে জেলার নেতা হয়ে গেলো। কথায় আছে টাকা যার রাজনীতি তার। আর রাজনীতি যার টাকা তার। নিজামের অত্যাচার দিনে দিনে এত পরিমানে বৃদ্ধি পেয়েছে যে, গ্রামে গঞ্জে কেউ সুখে থাকতে পারছে না। কিন্তু ভয়ে সাধারণ জনতা মুখ খোলে না। মুখ খুললেই বিপদ। আর খুলেই বা লাভ কী। নিজাম বেশ কিছু দিন হল শুফম আলির বোন শুফমাকে খুব বিরক্ত করে। শুফমা ক্লাস নাইনে পড়ে। উঠতি বয়সী ডাগর কন্যা। নিজাম চায় শুফমাকে। এই চাওয়া সেই চাওয়া না। নিজাম প্রথমে প্রেমের ফাঁদে আটকায় মেয়েদের। তারপরে হঠাৎ করে উধাও হয়ে যায় সেই সকল মেয়েগুলো। বিক্রয় হয়ে যায় দেশে বিদেশে। এটা শুফমাও জানে। তাই সে নিজামের ফাঁদে পা দিতে চায় না। নিজামও নাছোড়বান্দা। শুফমার ফাঁদে ফেলতে না পারায়, পথে ঘাটে অপমান করে। গায়ে হাত দেয় ইত্যাদি। বুধবার, স্কুল থেকে শুফমা বাড়ি ফিরছে। নিজাম মোটর সাইকেল চালিয়ে পিছন থেকে এসে শুফমার ওড়না ধরে টান দেয়। শুফমা ছুটে পরে যায়। এই দেখে নিজাম বেজায় খুশি হয় । মোটর সাইকেল ঠেকিয়ে হাসতে থাকে। সেই মুহুর্তে, শুফম নিজে বাজার থেকে ফিরছিল। তার বোনের এই দৃশ্য দেখে কোন ক্রমেই নিজেকে সংযত রাখতে পারলো না। পাশের বাড়ির উঠান থেকে হাত মুঠো একটি বাঁশ নিয়ে ইচ্ছা মত পাটাইতে থাকলো। অবশেষে লোকজন এসে, এই মারামারি থামিয়ে দেয়। ততক্ষণে, নিজামের হাত ভেঙে যায় । নিজাম এখন হাসপাতালে। নিজামের হাত ভাঙা নিয়ে মিছিল হয়। পেপার পত্রিকায় টেলিভিশনে নিউজ হয়। নিজাম এখন জেলার নেতা থেকে জাতীয় নেতার পথে এগোচ্ছে। তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল। সে দলের জন্য বারবার নিজের জীবন বাজি রাখছে। কত অপশক্তি নিজাম কে গাইল করার চেষ্টা করছে ইত্যাদি ইত্যাদি। বাস্তবিক চিত্র যেন আয়নার পিছনে পরে যাচ্ছে। কথায় আছে প্রচারেই প্রসার। এই নীতি নিজাম আর নিজামের বাবা মালেক সর্দার খুব ভালো করে কাজে লাগাচ্ছে। ব্যবসায় বিনিয়োগ করলে ব্যবসায় প্রসার হয়। আর রাজনীতিতে বিনিয়োগ করলে সমস্ত দুনিয়া নিজের হয়। আজ শুক্রবার, ঐ মারামারি নিয়ে সালিশ বসেছে ইউনিয়ন পরিষদে। আছে পরিষদের চেয়ারম্যান, থানার ওসি, দলের সভাপতি নিজামের বাবা মালেক সর্দার, ছাত্র নেতা, যুবনেতা অনেকেই । চেয়ারম্যান সবার বয়ান শুনতে চাইলো। প্রথম একজন ছাত্র নেতা দাঁড়িয়ে বয়ান দিলেন। সে কোন প্রতিষ্ঠানের ছাত্র সৃষ্টিকর্তা ছাড়া কেউ জানে না। চোখ মুখ দেখে মনে হচ্ছে গাঁজাখোর। তিনি সাহেব উল্লেখ করলেন, আমি দেখলাম একটি মেয়ের সাথে অশালীন ব্যবহার করছে। আমাদের নেতা নিজাম ভাই মানা করতেই, নিজাম ভাইয়ের উপর মারধর শুরু করলে এই ছেলেটি ইত্যাদি ইত্যাদি। এরপরে অনেকেই বয়ান দিলেন। অবশেষে শুফমের পরিবার হল একঘরে। শুফমকে পাঠানো হল জেলে । এভাবে দেশে ঘরে ঘরে সৃষ্টি হচ্ছে হাজার নেতা। অদক্ষ, অশিক্ষিত, স্বার্থপর মানুষ গুলো চালাচ্ছে দেশ। হচ্ছে দেশের নেতা । কেউ কিছু বললে শুফমের মত যেতে হচ্ছে জেলে। অপশক্তি শক্তি হচ্ছে জনশক্তি, আর জনশক্তি হচ্ছে বিলীন। এর জন্য দায়ী কারা? লেখক শাবলু শাহাবউদ্দিন জীবননগর, বরিশাল Sablushahabuddin@gmail.com

আজকের প্রশ্ন

বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেছেন, পুলিশের ওপর নির্বাচন কমিশনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?