বুধবার, ২৭ অক্টোবর ,২০২১

Bangla Version
  
SHARE

শনিবার, ২১ আগস্ট, ২০২১, ০৭:১৭:১৬

গর্ভকালীন সময়ে করোনা

গর্ভকালীন সময়ে করোনা

ডা. আফরোজা শারমিন:- গর্ভকালীন সময়ে মায়েদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাভাবিকের চেয়ে কম থাকে। তাই এসময় বিভিন্ন সংক্রাক ব্যাধির সম্ভাবনা বেড়ে যায়, তার মধ্যে কোভিড-১৯ ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। করোনা আক্রান্ত হয়ে গর্ভবর্তী মা অনেক সময় মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে, এমনকি মৃত্যুও হতে পারে। তাই গর্ভকালীন সময়ে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে এবং করোনা আক্রান্ত হলে ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে। অধিকাংশ করোনা আক্রান্ত গর্ভবতী মায়ের কোন উপসর্গ থাকে না। অনেকের ক্ষেত্রে শুধু মৃদু উপসর্গ দেখা দেয়। যেমন : 1) মৃদু জ্বর অনুভূত হওয়া। 2) সর্দি, কাশি ও নাক বন্ধ থাকা। 3) ঘ্রান শক্তি না থাকা। 4) শরীর ও গলা ব্যথা 5) অরুচি, বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া। 6) দুর্বলতা অনুভব করা। ​কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে শেষ তিন মাসে গর্ভবতীর মারাত্মক উপসর্গ দেখা দিতে পারে। অনেক সময় কোভিড ১৯ ভাইরাসে আক্রান্ত গর্ভবতীর Hypercoagulability হয়ে Thrombus তৈরি হয়ে স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাক হয়ে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। এজন্য গর্ভবতীকে অবশ্যই বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। যেমন : 1) সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাতে হবে। পারস্পারিক দূরত্ব কমপক্ষে ৩ ফিট হতে হবে। 2) যারা করোনা আক্রান্ত বা যাদের উপসর্গ আছে তাদের থেকে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে হবে। 3) নিয়মিত সঠিক নিয়মে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। 4) বার বার সাবান পানি দিয়ে হাত পরিষ্কার করতে হবে। 5) অপ্রয়োজনে নাকে ও মুখে হাত দেয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। 6) প্রয়োজন বোধে স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে হবে। 7) সব সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পোশাক পরিধান করতে হবে। 8) হালকা ধরনের ব্যায়াম করতে হবে। 9) সুষম খাদ্য গ্রহণ ও প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে। 10) ফলিক এসিড, ভিটামিন ডি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় ওষুধ এসময় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী গ্রহণ করতে হবে। 11) নিয়মিত গর্ভকালীন চেকআপ এবং আল্ট্রাসনোগ্রাম করাতে হবে। 12) যে কোন ধরনের করোনা আক্রান্ত হওয়ার উপসর্গ দেখা দিলে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে। ​ গর্ভকালীন মায়ের যত্ন সন্তান একজন মায়ের জীবনের পরিপূর্ণতা এনে দেয়। সন্তান ধারণ থেকে শুরু করে সন্তানের প্রসব পর্যন্ত মায়ের শরীরের বিভিন্ন শারীরিক পরিবর্তন হতে থাকে। এসময় একজন মায়ের শারীরিক ও মানসিক যত্নের একান্ত প্রয়োজন। গর্ভবতী মায়েদের অবশ্যই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, আরামাদায়ক টিলাঢালা পোশাক এবং মাপ অনুযায়ী নরম জুতো পরা উচিত। খাদ্য তালিকা : গর্ভবতী মায়েদের সুষম খাদ্য তালিকা অনুযায়ী খাদ্য গ্রহণ আবশ্যক। এতে করে প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত ও খাদ্যঘাটতি দূর করা সম্ভব। এ সময় পর্যাপ্ত পরিমাণে মাছ, মাংস, দুধ, ডিম, প্রচুর পরিমানে শাক সবজি ও মৌসুমি ফল খেতে হবে। প্রচুর পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে। খাদ্যাভাসে সতকর্তা : 1) আনারস, কাঁচা এবং আধা পাকা পেঁপে খাওয়া যাবে না। 2) ক্যাফেইন জাতীয় পানীয়, যেমন চা, কফি অতিরিক্ত পান করা যাবে না। 3) অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার না খাওয়াই শ্রেয়। 4) ধুমপান ও মধ্যপান থেকে বিরত থাকতে হবে। ​ পরিমিত হালকা ধরনের কাজ : অতিরিক্ত পরিশ্রম না করে হালকা হাঁটাচলা করা উচিত। ভারী জিনিস উত্তোলন বা বহন করা যাবে না। সিড়ি বেয়ে উঠার সময় এবং পিচ্ছিল স্থানে হাঁটার সময় সতকর্তা অবলম্বন করতে হবে। বিশ্রাম : গর্ভকালীন সময়ে দিনের বেলা অন্তত দুই ঘণ্টা এবং রাতে কমপক্ষে আট ঘণ্টা ঘুম আবশ্যক। ভ্রমণকালীন সতকর্তা : গর্ভকালীন প্রথম তিন মাস ও শেষ তিন মাস দীর্ঘ ভ্রমণের পরিকল্পনা বাদ দেওয়াই স্রেয়। উঁচু নিচু পথ কিংবা ঝাঁকির আশঙ্কা আছে এমন যানবাহনে ভ্রমণ পরিহার করতে হবে। সকালে ও বিকালে কিছু সময়ের জন্য ফুলের বাগান, লেকের পাড় ও পার্ক এসব স্থানে ভ্রমণ কলে গর্ভবতীর মন প্রফুল্ল ও শরীর সুস্থ থাকবে। শরীরের বিশেষ যত্ন ও রোগ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ : প্রতিনিয়ত সাবান পানি দিয়ে ভালভাবে গোসল করতে হবে এবং হাত পায়ের নখ কেটে ছোট রাখতে হবে। গর্ভকালীন সময়ে মায়েদের দাঁতগুলো বেশ নরম হয়ে যায়, তাই নিয়মিত দু’বেলা দাঁত ব্রাশ করতে হবে। ৪ থেকে ৬ মাসের মধ্যে টিটেনাসের টিকা নিতে হবে। গর্ভকালীন সময়ে মায়েদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাভাবিকের চেয়ে কম থাকে। তাই বিভিন্ন সংক্রামক ব্যাধির সম্ভাবনা বেড়ে যায়। তাই ইনফ্লুয়েঞ্জা, হাম, চিকেন পক্স ইত্যাদি ছোঁয়াচে রোগে আক্রান্ত রোগী থেকে দূরে থাকতে হবে। মানসিক স্বাস্থ্য : গর্ভকালীন সময়ে শরীরের বিভিন্ন হরমোনের তারতম্য ঘটতে থাকে। তাই এই সময় মায়েরা বিভিন্ন মানসিক চাপ ও দুশ্চিতার মধ্যে দিয়ে যায়। যা তাদের জন্য এবং অনাগত সন্তানের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। তাই অতিরিক্ত আবেগ, মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা-ভয় ও রোগ-শোক ইত্যাদি গর্ভবর্তী মায়ের স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর, তাই এসব এড়িয়ে ভালো চিন্তা করতে হবে। বিশেষ সতর্কতা : প্রথম তিন মাস ও শেষ তিন মাস স্বামীর সহবাস থেকে বিরত থাকতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবন করা যাবে না। সব ধরনের ঝুঁকি এড়াতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়া আবশ্যক। লেখক : কনসালটেন্ট, ব্রাক আরবান প্রাইমারি হেলথ সেন্টার, ঢাকা।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

আজকের প্রশ্ন

বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেছেন, পুলিশের ওপর নির্বাচন কমিশনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?