বুধবার, ০৪ আগস্ট ,২০২১

Bangla Version
  
SHARE

শনিবার, ২২ মে, ২০২১, ১০:০৭:৪৩

ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগের দায় যুক্তরাষ্ট্রের

ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগের দায় যুক্তরাষ্ট্রের

জি. মুনীর
যুক্তরাষ্ট্রের করপোরেট মিডিয়াগুলো সাধারণত ফিলিস্তিনে ইসরাইলি সামরিক অভিযান সম্পর্কিত যেসব খবর প্রকাশ করে, তার সারমর্ম হচ্ছে, ফিলিস্তিন-ইসরাইল দ্বন্দ্বের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র একটি ‘নির্দোষ নিরপেক্ষ পক্ষ’। তাদের ভাষায় ‘ইনোসেন্ট নিউট্রাল পার্টি’। এটি এসব মিডিয়ার কত বড় মিথ্যাচার, তা বুঝতে কারো কোনো অসুবিধা হয় না। কারণ, কার্যত ফিলিস্তিন প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা লুকানো কোনো বিষয় নয়। এটিও ঠিক; আমেরিকাতে কয়েক দশকে যেসব জনমত জরিপ চলেছে, এর প্রত্যেকটিতে দেখা গেছে- বেশির ভাগ আমেরিকান চায় ইসরাইল-ফিলিস্তিন দ্বন্দ্বে যুক্তরাষ্ট্র ‘নিরপেক্ষ’ থাকুক। তবে ঐতিহাসিক বাস্তবতা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র তা থাকেনি। চরম সত্যটি হলোÑ ইসরাইল ফিলিস্তিনে ব্যাপক হত্যা ও নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে। আর যুক্তরাষ্ট্র তাতে সাহায্য-সহযোগিতা করছে। সত্য এটাই যে, যুক্তরাষ্ট্র হচ্ছে ফিলিস্তিনে অব্যাহত ইসরাইলি দুষ্কর্মের প্রধানতম সহযোগী। ফিলিস্তিনে যেসব অপকর্ম ইসরাইল করছে তার প্রতিটির দায়ভার যেমনি ইসরাইলের, সমভাবে যুক্তরাষ্ট্রেরও।

স্বাভাবিক প্রশ্ন আসে, কেন ইসরাইলি অপরাধের দায় আমেরিকাকে নিতে হবে? এ প্রশ্নের উত্তর খোঁজা কঠিন নয়। ফিলিস্তিনে চলছে ইহুদিদের নিষ্ঠুরতম বর্বরতা। চলছে হত্যাযজ্ঞ। ইসরাইল বোমা ফেলে মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়েছে আবাসিক, বাণিজ্যিকসহ অন্য ভবনগুলো। মিডিয়া অফিসের ভবনও তা থেকে রেহাই পায়নি। যেখানে-সেখানে পড়ে আছে ফিলিস্তিনি বেসামরিক লোকজনের লাশ। এরই মধ্যে নিহত হয়েছে কয়েক শ’ ফিলিস্তিনি, তাদের মধ্যে রয়েছে অনেক নারী-শিশু। ইসরাইলের এই নৃশংস সন্ত্রাসী হামলা থামার কোনো লক্ষণ শুক্রবার মধ্যরাত পর্যন্ত ছিলো না। ইসরাইলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেনি গান্টজ ঘোষণা দিয়েছিলেন : ‘ইসরাইল যুদ্ধবিরতির জন্য তৈরি নয়। আমরা পুরো লক্ষ্য অর্জনের পর থামার কথা বলতে পারি।’ সে লক্ষ্য নাকি অর্জিত হয়েছে এবং শুক্রবার মধ্যরাতের পর যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে ইসরাইল।

গাজায় ইসরাইল যে বর্বরতা চালালো, তা গাজাবাসী ফিলিস্তিনি জনগণের পক্ষে পুরোপুরি অপ্রতিরোধ্য এক বিষয়। থেকে থেকে হামাস হয়তো পাল্টা বোমা বেলুন এবং কিছু রকেট ছুড়েছে, তার বেশির ভাগই আটকা পড়ছে ইসরাইলি আয়রন ডোমে। ফলে এ পর্যন্ত মাত্র ১০ জনের মতো ইসরাইলি নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। কিন্তু এর বিপরীতে ইসরাইলি হামলার শিকার হয়েছে কয়েক হাজার ফিলিস্তিনি এবং তাদের বাড়িঘর, হাট-বাজার ও বাণিজ্যিক ভবন।

অন্য দিকে ‘নির্দোষ নিরপেক্ষ পক্ষ’ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জোসেফ বাইডেন গত ১২ মে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাথে কথা বলে সাংবাদিকদের কাছে হোয়াইট হাউজে বলেন : ‘যখন শত শত রকেট উড়ে এসে ইসরাইলে পড়ে, তখন ইসরাইলের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে।’ কিন্তু গাজায় ইসরাইলিরা যা করছে তা আত্মরক্ষা নয়, প্রকাশ্যে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ। সে ব্যাপারে জো বাইডেনের বিন্দুমাত্র উদ্বেগ নেই। তিনি দশকের পর দশক ধরে দখল করে রাখা ফিলিস্তিনের আত্মরক্ষার অধিকারের ব্যাপারে টুঁ শব্দটিও উচ্চারণ করেননি।

এর পরও যুক্তরাষ্ট্রের মিডিয়া ও রাজনীতিবিদরা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষপাতদুষ্টতার বিষয়টি অস্বীকার করে ফিলিস্তিনিদেরকেই ‘সব সন্ত্রাসের জন্য দায়ী’ করে আসছেন। যারা নিজ ভূমি জবর দখলমুক্ত করার জন্য লড়ছে, আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে, সেই ফিলিস্তিনিরা তাদের কাছে ‘সন্ত্রাসী’। এভাবেই এরা এমন ধারণা দিতে চায় : ইসরাইলের আত্মরক্ষার অধিকার আছে, যা ফিলিস্তিনিদের নেই।

যখনই ফিলিস্তিনি জনগণ তাদের অনিবার্য প্রতিবাদ জোরদার করেছে, তখনই ইসরাইল যুক্তরাষ্ট্র ও এর অন্য মিত্রদের পূর্ণ সহযোগিতা নিয়ে শতগুণ বেশি শক্তিসহ নিরস্ত্র ফিলিস্তিনিদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে। এর বহু উদাহরণ রয়েছে। কয়েকটি উদাহরণ দিয়ে এর সত্যতা স্পষ্ট করা হলো।

প্রথমত, এই লেখা তৈরির সময় পর্যন্ত ইসরাইলি হামলায় গাজায় নিহত হয়েছে দু’শতাধিক ফিলিস্তিনি, যাদের মধ্যে ৫৯ জন শিশু ও ৩৫ জন নারী। অপর দিকে ইসরাইলে হামাসের রকেট হামলায় নিহত মাত্র ১০ জন। দ্বিতীয়ত, ২০০৮ সালের দিকে গাজায় পরিচালিত ইসরাইলি হামলায় নিহত হয় এক হাজার ৪১৭ জন ফিলিস্তিনি। ওই সময় ফিলিস্তিনিরা যে নামমাত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে, তাতে মাত্র ৯ জন ইহুদি মারা যায়। তৃতীয়ত, ২০১৪ সালে গাজায় ৫১ দিনব্যাপী ইসরাইলি হামলায় নিহত দুই হাজার ২৫১ জন ফিলিস্তিনি। তখন যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি করা এফ-১৬ বোমারু বিমান থেকে ইসরাইল কমপক্ষে পাঁচ হাজার বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। অপর দিকে ইসরাইলি ট্যাংক ও আর্টিলারি থেকে ছোড়া হয় ৪৯ হাজার ৫০০ শেল। এই শেলগুলোর বেশির ভাগই ছয় ইঞ্চি ম্যাসিভ শেল, যেগুলো যুক্তরাষ্ট্রেই তৈরি। চতুর্থত, ২০১৮ সালে ইসরাইল-গাজা সীমান্তে ফিলিস্তিনিদের শান্তিপূর্ণ ‘মার্চ অব রিটার্ন’ বিক্ষোভ মিছিলে ইসরাইলি ঘাতকের আঘাতে নিহত হয় ১৮৩ জন ফিলিস্তিনি। আহত হয় আরো ছয় হাজার ১০০ জন। এদের মধ্যে ১২২ জনের দেহের বিভিন্ন অঙ্গ কেটে ফেলে দিতে হয়; ২১ জন মেরুদণ্ডের আঘাতের কারণে শিকার হয় পক্ষাঘাতের এবং ৯ জন স্থায়ীভাবে অন্ধ হয়ে গেছে।

এ কয়টি ঘটনায় উভয়পক্ষের হতাহতের অনুপাত থেকে সহজেই বোঝা যায়, কোন পক্ষের আত্মরক্ষার অধিকার বেশি প্রয়োজন। সেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেনের সাম্প্রতিক বক্তব্যে ‘ইসরাইলের আত্মরক্ষার অধিকার আছে’ বলে উল্লেখ, কিন্তু ফিলিস্তিনিদের আত্মরক্ষার অধিকার প্রশ্নে নীরব থাকার অপর নাম ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা অব্যাহত রাখাকে উসকে দেয়ারই নামান্তর। ইসরাইলের ফিলিস্তিন জবর দখল থেকে শুরু করে অসলো চুক্তি মোতাবেক ‘টু-ন্যাশন’ তত্ত্ব বাস্তবায়নের পথে বাধা সৃষ্টি এবং ফিলিস্তিনিদের নিধনযজ্ঞ চালানো ও তাদের রাষ্ট্রহীন জাতিতে পরিণত করার পেছনে রয়েছে প্রধানত যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় মদদ।

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষপাতদুষ্ট নীতি এবং ইসরাইলের প্রতি শর্তহীন সমর্থনের কারণেই ইসরাইল দশকের পর দশক ধরে যাবতীয় আন্তর্জাতিক আইন ও কনভেনশন উপেক্ষা করে ফিলিস্তিনকে দখলে রেখেছে; ইসরাইল যা ইচ্ছে তাই করতে পারছে। ইসরাইলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের এই অন্ধ সমর্থন চলছে তিনটি উপায়ে : সামরিক, কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক।

প্রথমত, সামরিক ফ্রন্টে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইসরাইল রাষ্ট্র বিদেশী সাহায্য হিসেবে পেয়েছে ১৪ হাজার ৬০০ কোটি ডলার। এর প্রায় সবটুকুই এসেছে সামরিক-সহায়তার আকারে। যুক্তরাষ্ট্র প্রতি বছর ৩৮০ কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা দিচ্ছে। আগামী এক দশকে ইসরাইলকে আরো তিন হাজার ৮০০ কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে রেখেছে তারা। অধিকন্তু, যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলের কাছে বৃহত্তম অস্ত্রবিক্রেতা দেশ। ইসরাইলের সমরসম্ভারে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে : যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি ৩৬২টি এফ-১৬ বোমারু বিমান, আছে আরো ১০০ যুদ্ধবিমান। সম্প্রসারিত হচ্ছে এফ-৩৫ বহর; আছে কমপক্ষে ৪৫টি অ্যাপাচি অ্যাটাক হেলিকপ্টার, ৬০০ এম-১০৯ হাউইট্জার এবং ৬৪ডট এম২৭০ রকেট লান্সার। এখন ইসরাইল গাজায় বোমা নিক্ষেপের কাজে ব্যবহার করছে যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ করা অস্ত্রই।

ইসরাইলের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক জোটের অধীনে চলে যৌথ সামরিক অনুশীলন। এরা যৌথভাবে উৎপাদন করে অ্যারো মিসাইল ও অন্যান্য অস্ত্র। দেশ দু’টির মধ্যে সহযোগিতা আছে গাজায় ড্রোন প্রযুক্তির পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানোর ব্যাপারে। ২০১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলের প্রতি আহ্বান জানায় ফিলিস্তিনে প্রয়োগের জন্য, যুক্তরাষ্ট্রের স্পেশাল অপারেশন ফোর্সের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে। যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলের ছয়টি স্থানে এর ১৮০ কোটি ডলারের অস্ত্র মজুদ রেখেছে, মধ্যপ্রাচ্যে কোনো বড় ধরনের যুদ্ধ লেগে গেলে যাতে সহসাই এগুলো ব্যবহার করা যায় আরবদের বিরুদ্ধে। সে জন্যই এই প্রস্তুতি।

দ্বিতীয়ত, কূটনৈতিকভাবে ইসরাইলের পক্ষ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র নিরাপত্তা পরিষদে ৮২ বার ভেটো দিয়েছে। এর ৪৪ বার ভেটো দেয়া হয়েছে ইসরাইলকে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে বিচার থেকে রক্ষা করার জন্য। এসব ভেটোর মাধ্যমেই দশকের পর দশক ধরে ফিলিস্তিন সঙ্কটের সমাধান আটকে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। নইলে আন্তর্জাতিক মহলের উদ্যোগে ও জাতিসঙ্ঘের মাধ্যমে ফিলিস্তিন সমস্যার সমাধান হয়ে যেত বহু আগেই। অবসান ঘটত ফিলিস্তিনে ইসরাইলের অন্যায় দখলদারিত্ব। ফিলিস্তিন হতো সর্বসম্মত স্বাধীন সার্বভৌম এক দেশ। বিভিন্ন দেশে শরণার্থী হয়ে থাকা লাখ লাখ ফিলিস্তিনি ফিরে আসতে পারত নিজ দেশে। যুক্তরাষ্ট্রের ভেটোর কারণে কোনো কিছুর জন্য ইসরাইলকে কোনো জবাবদিহির আওতায় আনা যাচ্ছে না। আর সে কারণেই ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরাইল এতটা বেপরোয়া। ইসরাইলের পক্ষে একটি মাত্র ভেটো বারবার নিরাপত্তা পরিষদের রেজ্যুলেশনের বিরুদ্ধে আমেরিকাই প্রয়োগ করে আসছে শর্তহীন ও যুক্তিহীনভাবে।

এর ফলে ইসরাইল বাধাহীনভাবে অধিক পরিমাণে গাজা ও জেরুসালেমের ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দখলে নিতে পারছে। সেই সাথে, এসব স্থান থেকে উচ্ছেদ করতে পারছে ফিলিস্তিনিদের।
তৃতীয়ত, রাজনৈতিক ফ্রন্টে বেশির ভাগ আমেরিকান চায় ফিলিস্তিন-ইসরাইল দ্বন্দ্বে যুক্তরাষ্ট্র নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করুক; অবিচল থাকুক ন্যায়নীতির ওপর; শ্রদ্ধাশীল থাকুক আন্তর্জাতিক আইন ও রীতি-নীতির ওপর; অবসান ঘটুক আমেরিকার লজ্জাজনক পক্ষপাতদুষ্টতার। এটি গড়পড়তা আমেরিকানদের প্রত্যাশা মাত্র। বাস্তবতা যে, পুরো ভিন্ন তা সবারই জানা।

আইপেক (AIPAC)। পুরো কথায় : ‘অ্যামেরিকান ইসরাইল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি’। এটি ইসরাইল-সমর্থক একটি মার্কিন লবিং গ্রুপ। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে ও নির্বাহী শাখায় যাতে ইসরাইলপন্থী নীতি ও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, সে ব্যাপারে এরা নিরলস লবিং চালায়। বেস্টি বার্নস কর্ন আইপেকের বর্তমান প্রেসিডেন্ট। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বেশ কয়েকটি ইসরাইলপন্থী লবিং গ্রুপের অন্যতম এটি। এরা দাবি করে, এদের সদস্যসংখ্যা এক লাখ। আছে ১৭টি আঞ্চলিক অফিস। রয়েছে বহু ডোনার। তাদের আরো দাবি : এটিই একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ সংগঠন, যেটি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল জোট জোরদার করার কাজে নিয়োজিত। আইপেক যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিবিদদের মাঝে লবিং চালায়, যাতে তারা ইসরাইলের প্রতি শর্তহীন রাজনৈতিক সমর্থন জারি রাখেন। এদের প্রয়াসেই গাজায় সাম্প্রতিক ইসরাইলি হামলার ঠিক এক সপ্তাহ আগে গত ২২ এপ্রিল কংগ্রেসের ৪৩৫ সদস্যের মধ্যে ৩৩০ জন সদস্য স্বাক্ষরিত একটি চিঠি পাঠানো হয় হাউজ অ্যাপ্রোপ্রিয়েশন কমিটির চেয়ারম্যানসহ পদস্থ সদস্যদের কাছে। এ চিঠিতে তারা বলেছেন, ইসরাইলে অর্থসহায়তা যেন কমানো না হয় কিংবা কোনো শর্তও যেন এ বিষয়ে আরোপ না করা হয়। এই চিঠি আইপেকের প্রতিনিধিত্বের শক্তি প্রদর্শনের একটি উদাহরণ মাত্র।

প্রেসিডেন্ট বাইডেনের সুদীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে ‘ইসরাইলি দুষ্কর্মের সহযোগী হিসেবে। তিনি তার সেই ভূমিকাই প্রকাশ করলেন গত ১২ মে ‘ইসরাইল হ্যাজ দ্য রাইট টু ডিফেন্ড ইটসেলফ’-বক্তব্যের মাধ্যমে। এর প্রতিফলনও দেখা যাচ্ছে এরই মধ্যে। তার জাতিসঙ্ঘের দূত লজ্জার মাথা খেয়ে ইতোমধ্যেই ব্লক করে দিয়েছেন নিরাপত্তা পরিষদের যুদ্ধবিরতি সম্পর্কিত আহ্বান। বাইডেনের এই বক্তব্য ও অবস্থান সমালোচনার মুুখে পড়েছে খোদ যুক্তরাষ্ট্রেই। ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর ইসরাইলের হত্যাযজ্ঞ এবং গাজায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের প্রতিবাদে রাজপথে বিক্ষোভ হয়েছে; বিক্ষোভ প্রদর্শিত হয়েছে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন শহরে। সবার দাবি : যুক্তরাষ্ট্রকে তার নীতি পরিবর্তন করে আন্তর্জাতিক আইনানুগ ও ফিলিস্তিনিদের অধিকারানুগ করতে হবে। কংগ্রেসের প্রতি সদস্যকে স্বাক্ষর করতে হবে বেটি ম্যাককুলাম সূচিত বিলে। এই বিলে রয়েছে : ইসরাইলকে দেয়া যুক্তরাষ্ট্রের কোনো তহবিল ফিলিস্তিনি শিশুদের আটক রাখা, অবৈধ অবরোধ, ফিলিস্তিনি সম্পদ ধ্বংস এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে অধিকতর ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড ইসরাইলে অন্তর্ভুক্তির কাজে ব্যবহার করা যাবে না।

বিশ্ববাসীর কাছে এটি স্পষ্ট- দশকের পর দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি সরকার ইসরাইলের প্রতিটি কাজে শর্তহীন সমর্থন দিয়ে ফিলিস্তিনকে মহা বিপর্যয়কর পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিয়েছে। বিবেকবান মানুষের চাওয়া হলো, এবার অন্তত ফিলিস্তিন প্রশ্নে মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে যুক্তরাষ্ট্র এই সঙ্কট নিরসনে কাক্সিক্ষত ভূমিকা পালন করবে। সেই সাথে কংগ্রেসকে এগিয়ে আসতে হবে যাতে ‘আর্মস কনট্রোল অ্যাক্ট’ ও ‘লেহি লজ’ কাজে লাগিয়ে ইসরাইলে মারণাস্ত্র রফতানি বন্ধ করা হয়। মনে রাখা দরকার, ফিলিস্তিনে ইহুদিরা যা কিছু করছে কথিত ‘রাইট টু সেলফ-ডিফেন্সের’ অজুহাত তুলে। অথচ আন্তর্জাতিক আইন বলছে, আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে বল প্রয়োগ অনুমোদনযোগ্য। কিন্তু দখলদারিত্ব বজায় রাখার জন্য বল প্রয়োগ বৈধ নয়। অতএব ইসরাইলের বল প্রয়োগের কোনো অধিকার নেই ফিলিস্তিনিদের ওপর। অথচ ইসরাইল যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন নিয়ে সেই অবৈধ কাজ জারি রেখেছে।

লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট

 

 

 

 

 

 

 

আজকের প্রশ্ন

বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেছেন, পুলিশের ওপর নির্বাচন কমিশনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?