রবিবার, ২৫ জুলাই ,২০২১

Bangla Version
  
SHARE

বুধবার, ০৫ জুলাই, ২০১৭, ০১:৪৭:২৯

খাগড়াছড়িতে পাহাড় ধসঃ অনিশ্চয়তায় আক্রান্ত লোকজন, ফিরতে চান না বসত-বাড়িতে

খাগড়াছড়িতে পাহাড় ধসঃ অনিশ্চয়তায় আক্রান্ত লোকজন, ফিরতে চান না বসত-বাড়িতে

খাগড়াছড়িঃ-খাগড়াছড়ির রামগড় ও লক্ষ্মীছড়ি উপজেলায় মারাত্মক পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোর দিন কাটছে চরম অনিশ্চয়তায়। পাহাড় ধসে বাড়ি-ঘর, স্বজন ও সম্পদ হারানোর ২০দিন পেরিয়ে গেলেও তারা জানেন না তাদের পরবর্তী গন্তব্য কোথায়? ফিরতে চাননা ঝুঁকিপূর্ন বাড়িতে। তারা অন্যের জায়গায় অস্থায়ীভাবে অনাহারে-অর্ধাহারে দিনতিপাত করলেও এনিয়ে প্রশাসনিক কোন সক্রিয় পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলার বুদংছড়া এলাকার মোঃ মোস্তফা মিয়া জানান, গত ১৮ জুন ভোর সাড়ে ৫টার দিকে রামগড় উপজেলার বুদংছড়ায় একটি মাটির ঘরের ওপর পাহাড় ধসে তার ঘর সম্পূর্ন বিধ্বস্থ হওয়ার পাশাপাশি তার চৌদ্দ ও দশ বছর বয়সী ছেলে নুরুন্নবী ও মোঃ হোসেন মাটি চাপা পড়ে এবং ঘটনাস্থলেই মারা যায়। ১৮জুন সকাল বেলায় যে পাহাড় ধস আতংক জীবনে ভর করেছে, তা থেকে এখনো বেরোতে পারিনি আমরা। ”আমার পুরো পরিবারে এখন পাহাড় ধস আতংক, নির্ঘুম রাত, কান্না, চোখের জল-এগুলোই নিত্য দিনের চিত্র উল্লেখ করে তিনি আরো বলেছেন কষ্ট আরো বেড়ে যায় যখন দেখি রাষ্ট্র, সরকার কেউ আমাদের পাশে নেই”। প্রশাসন আপনাদের পাশে দাঁড়িয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন রামগড় উপজেলা প্রশাসন থেকে ৪০ হাজার টাকা, ৬০ কেজি চাল, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি থেকে ১০ হাজার টাকা, খাগড়াছড়ি ব্লাড ডোনার এসোসিয়েশন থেকে ৫ হাজার টাকা, সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা থেকে ৫০ হাজার টাকা পেয়েছি। রামগড় উপজেলার নাকাপা এলাকার জয়নাল আবেদীন জানান পাহাড় ধসে তার ঘরটি বিধ্বস্থ হবার পর তিনি তার আত্মীয়ের বাড়িতে আছেন। তার বসত বাড়ির জায়গাটুকু ছাড়া আর কোন জায়গা নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন তার ভবিষ্যত সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না। এই পর্যন্ত শুধু বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, খাগড়াছড়ি ইউনিটের পক্ষ থেকে ১০ হাজার এবং খাগড়াছড়ি ব্লাড ডোনারস এসোসিয়েশন থেকে ৩ হাজার টাকা পেয়েছেন, তবে সরকারীভাবে কোন সহযোগিতা পাননি। তার লক্ষিছড়ি উপজেলার যতীন্দ্র কার্বারি পাড়ায় দেবব্রত চাকমা জানান ১৮ জুন সকাল বেলায় তিনি ঘর হারানোর পাশাপাশি ঘরের মানিক পাঁচ বছর বয়সী ছেলে ইটন চাকমাকেও হারিয়েছেন। পৃথিবীর কোন সম্পদ নেই এই ক্ষতি পুষিয়ে দিতে পারে। সব হারিয়ে তিনি এখন শরনার্থীদের মতো জীবন যাপন করছেন। প্রশাসনিক সহযোগিতা অপ্রতুল উল্লেখ করে তিনি নিরাপদ জীবন যাপনে প্রশাসনিক সহযোগিতা কামনা করেন। ”তিনি নতুন করে নিরাপদ স্থানে ঘরবাড়ি করে বাঁচতে চান উল্লেখ করে আরো বলেন পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস করা আর মৃত্যুর সাথে ঘর-সংসার করা একই কথা”।
এদিকে, লক্ষিছড়ি উপজেলার বর্মাছড়ি এলাকার প্রানকৃত্য চাকমা বলেন পাহাড় ধসে তিনি তার ছেলে পরিমল চাকমাকে হারিয়েছেন। যে ঘরে তার ছেলে মারা গেছে সে ঘরে তিনি আর থাকতে চান না। তিনি নিরাপদ এলাকায় ঘরবাড়ি করবেন। খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন খাগড়াছড়িতে সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ৪ পরিবার। প্রশাসনের পাশাপাশি বিভিন্ন স্বেচ্চাসেবী সংস্থা তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। আমরা এই ৪ পরিবারকে নিরাপদ স্থানে পূনর্বাসনের উদ্যোগ নিয়েছি। এছাড়া যারা অধিক ঝুঁকিপূর্ন এলাকায় বসবাস করছে, তাদের তালিকা প্রনয়ন করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে সকল পরিবারকে নিরাপদে বসবাসের লক্ষ্যে পূনর্বাসন করবো।



আজকের প্রশ্ন