বুধবার, ০৪ আগস্ট ,২০২১

Bangla Version
  
SHARE

শুক্রবার, ২৮ মে, ২০২১, ০৮:২৭:৩৫

পাকিস্তানে পাঠ্যবই ‘ইসলামিকরণের’ উদ্যোগ

পাকিস্তানে পাঠ্যবই ‘ইসলামিকরণের’ উদ্যোগ

নিউজ ডেস্ক : পাকিস্তানের শিক্ষাব্যবস্থা একমুখি করার উদ্যোগ নিয়েছে ইমরান খানের সরকার। তবে সমালোচকরা বলছেন, সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এ পদক্ষেপে শিক্ষাব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

১৯৪৭ সালে স্বাধীন দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশের কয়েক বছর পর থেকেই পাকিস্তানে শিক্ষাব্যবস্থায় ইসলাম ধর্মকে বেশি গুরুত্ব দেয়ার উদ্যোগ শুরু হয়। এই প্রবণতা ১৯৫০-এর দশকে কিছুটা বেড়ে ১৯৬০ থেকে ১৯৭০-এর দশকে ক্রমান্বয়ে আরো বাড়তে থাকলেও ১৯৮০-র দশকে সামরিক শাসক জিয়াউল হকের সময়ে তা ব্যাপকতা পায়। ১৯৮৮ সালে মারা যাওয়ার আগ পর্যন্ত স্বৈরশাসক জিয়াউল হক পাঠক্রমের ‘ইসলামিকরণই’ শুধু করেননি, বেশ কিছু ক্ষেত্রে ইসলামি আইন কার্যকর করেছেন, বিচারবিভাগে, সরকারি চাকুরিতে ইসলামপন্থিদের নিয়োগ দিয়েছেন, সারা দেশে ইসলাম শিক্ষার প্রতিষ্ঠানও গড়েছেন কয়েক হাজার।

তবে শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়নের দাবিও বরাবরই উঠেছে দক্ষিণ এশিয়ার এই মুসলিম প্রধান দেশটিতে। বহুমুখী শিক্ষাব্যবস্থাকে একমুখি করার দাবিও উঠেছে বারবার। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল তেহরিক-ই ইনসাফ ২০১৮ সালে শিক্ষাব্যবস্থাকে একমুখি করার অঙ্গীকার করে। আশা করা হয়েছিল, এর মাধ্যমে পাঠ্যসূচিতে বিজ্ঞান, সাহিত্য, শিল্পকলার মতো চলতি বিশ্বের জন্য অধিকতর প্রযোজ্য বিষয়গুলোর গুরুত্ব বাড়বে। কিন্তু ২০১৯ সালে ইমরান খান সরকার যে পরিকল্পনা ঘোষণা করে, তাতে ধরা পড়ে উল্টোচিত্র। দেখা যায়, পাশ্চাত্যের শিক্ষায় শিক্ষিত সাবেক ক্রিকেটার ও ‘প্লেবয়’ ইমরান খান পাঠক্রমে ধর্মের প্রভাব আরো বাড়ানোর পথেই হাঁটছেন। করোনা সংকটের কারণে এতদিন নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী শিক্ষাব্যবস্থাকে ‘একমুখি’ করার কাজ দৃশ্যত শুরু হয়নি। তবে অচিরেই সেই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন শুরু হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বই ছাপার কাজ শেষ। সেখানে ইংরেজি, উর্দু, সামাজিক শিক্ষাসহ সব বিষয়েই ইসলামিকরণের জোর প্রয়াস দেখতে পাচ্ছেন শিক্ষাবিদরা।

জানা গেছে, প্রথম ধাপে প্রাথমিক শিক্ষায় মুসলমানদের ধর্মগ্রন্থ পবিত্র কোরান পুরোপুরি পাঠ করা বাধ্যতামূলক করা হবে। সঙ্গে নামাজ পড়া এবং বেশ কিছু হাদিস মুখস্থ করানোরও উদ্যোগ নেয়া হবে। এসব পরিকল্পনা কার্যকর করতে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অন্তত দু’জন সনদপ্রাপ্ত হাফিজকে নিয়োগ দেয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের। ইসলামাবাদভিত্তিক শিক্ষাবিদ আব্দুল হামিদ নায়ার মনে করেন, ইমরান খান সরকারের শিক্ষাব্যবস্থাকে আরো ইসলামিকরণের এ উদ্যোগ সমাজে জাতিগত বিভেদ আরো বাড়াবে এবং এখনো বিদ্যমান জাতিগত বৈচিত্র্য আরো কমাবে।

ইসলামাবাদের নিউক্লিয়ার ফিজিসিস্ট পারভেজ হুদভয় বর্তমান সরকারের এ উদ্যোগকে ‘অভূতপূর্ব’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, এটা আসলে জেনারেল জিয়াউল হকের সময়কার ইসলামিকরণের প্রয়াসকেও ছাড়িয়ে যাবে। লাহোরের মানবাধিকার কর্মী পিটার জ্যাকব বলেন, ইমরান খান সরকার পাঠক্রমে শতকরা অন্তত ৩০ ভাগ ইসলামি ‘কন্টেন্ট’ রাখার উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারের এই পদক্ষেপ পাকিস্তানের সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক দাবি করে অনেকে এর বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

সরকার দলীয় সাংসদ মুহাম্মদ বশির খান অবশ্য মনে করেন, ‘আদর্শগতভাবে পাকিস্তান একটি ইসলামি রাষ্ট্র আর তাই এখানে ধর্মীয় শিক্ষার প্রয়োজন রয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমার মনে হয়, আমাদের সিলেবাসকে এখনো পুরোপুরি ‘ইসলামি’ করা হয়নি। আমাদের পাঠক্রমের আরো ইসলামিকরণ প্রয়োজন।’ সূত্র: ডয়চে ভেলে।

 

এই বিভাগের আরও খবর

  করোনায় মৃত্যু ২৩৫,শনাক্ত ১৫ হাজার ৭৭৬ জন

  বান্দরবানে আগ্নেয়াস্ত্রসহ চাঁদাবাজ আটক

  চলমান লকডাউন ১০ আগস্ট পর্যন্ত বাড়ল

  চট্টগ্রামে ‘মানবিক হাসপাতাল’, ফোন করলেই ডাক্তার যাবে রোগীর বাসায়

  চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে আগস্টে এইচএসসির ফরম পূরণ, ডিসেম্বরে পরীক্ষা

  রাঙ্গামাটির নানিয়ারচরে ধর্ষণচেষ্টার মামলায় যুবক গ্রেপ্তার

  সাংবাদিকতার নামে কী হচ্ছে, প্রশ্ন হাইকোর্টের

  দেশে করোনায় মৃত্যু ২৪৬ শনাক্ত ১৫ হাজার ৯৮৯ জন

  টিকা নেওয়া করোনা রোগীদের মৃত্যুঝুঁকি কম : গবেষণা

  করোনা,বিধি-নিষেধ আরও ৭ দিন, চূড়ান্ত হবে কাল

  সৌদির গুহায় সাত হাজার বছর আগের আবিষ্কারে বিস্ময় বিজ্ঞানীরা!



 

 

 

 

 

 

আজকের প্রশ্ন