বুধবার, ২৭ অক্টোবর ,২০২১

Bangla Version
  
SHARE

রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ১২:০৩:৫৩

শ্বেতিরোগ নিয়ে বিব্রত হওয়ার কিছু নেই

শ্বেতিরোগ নিয়ে বিব্রত হওয়ার কিছু নেই

ডা. এসএম বখতিয়ার কামাল:- কিছু কিছু রোগ নিয়ে আমাদের সমাজের মানুষের মধ্যে ব্যাপক কুসংস্কার ও বিভ্রান্তি রয়েছে। মানব শরীরে যে কয়েকটি রোগের কারণে ত্বক সাদা হয়ে যায়, শ্বেতি সেগুলোর মধ্যে অন্যতম। কেউ কেউ মনে করেন, কেবল অভিশপ্ত মানুষেরই এ রোগ হয়ে থাকে। কথাটি মোটও ঠিক নয়। আর দশটি রোগের মতো এটি একটি রোগ। চামড়ায় মেলানোসাইট নামক যে কোষগুলো থাকে, সেগুলো ধ্বংস হয়ে গেলে এ রোগ দেখা দেয়। কিন্তু কেন কোষগুলো ধ্বংস হয়ে যায়, সে ব্যাপারটি এখনো নিশ্চিত করে গবেষকরা জানাতে পারেননি। অনেকেই মনে করেন, অ্যান্টিজেন অ্যান্টিবডির বিক্রিয়ায় মেলানোসাইট নামক কোষটি ধ্বংস হয়ে থাকতে পারে। শিশু থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত যে কোনো বয়সী মানুষের শ্বেতিরোগ হতে পারে। এটা সাদা-কালো এবং বাদামি সব বর্ণের মানুষের মধ্যেই হতে দেখা যায়। তবে বংশগতভাবেও এ রোগ হতে পারে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে চর্মরোগের কারণে সাদা সাদা দাগ সৃষ্টি হতে পারে। সব সাদা দাগ শ্বেতিরোগ নয়। শ্বেতি উজ্জ্বল সাদা বা চকের মতো ধবধবে সাদা বর্ণের হয়ে থাকে। এটি স্বাভাবিক বর্ণের চামড়া থেকে সুস্পষ্ট সীমারেখায় পৃথক থাকে। তবে সম্পূর্ণ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এ রোগের প্রকৃতি, বিস্তৃতি, বর্ণ ও আনুষঙ্গিক বৈশিষ্ট্য দেখে একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ রোগটি নির্ণয় করতে পারেন। ক্ষেত্রবিশেষে উডস ল্যাম্প পরীক্ষা এবং চর্ম বায়োপসির প্রয়োজন হয়। শ্বেতি যে কারণে হয় : কারণ আজও অজানা। চামড়ায় কালো রঙ উৎপাদক বহিঃত্বকস্থিত কোষ মেলানোসাইট স্থায়ীভাবে ধ্বংসপ্রাপ্ত হওয়ায় এ দৃষ্টিকটু সাদা দাগের সৃষ্টি। শ্বেতিরোগের সঙ্গে কিছু কিছু অভ্যন্তরীণ রোগের সহাবস্থান থাকতে পারে। যেমন- টাইপ এক বহুমূত্র রোগ, চোখের রোগ, পারনিসিয়াস অ্যানিমিয়া থাইরয়েড রোগ, এডিসন্স ডিজিস, এলো পোসিয়া এরিয়াটা ইত্যাদি। এ কারণে শ্বেতিরোগী কোনো চর্ম ও যৌনরোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হলে তিনি ক্ষেত্রবিশেষ উল্লিখিত অভ্যন্তরীণ রোগগুলো আছে কিনা, তা শারীরিক ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক পরীক্ষার সাহায্যে নির্ণয় করে থাকেন। সূর্যের আলো থেকে শ্বেতিরোগীকে সাবধান থাকতে হয়। কারণ সাদা স্থানে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি প্রতিরোধক কালো রঞ্জক না থাকায় আক্রান্ত স্থানগুলো এ রশ্মির প্রতি অতিসংবেদনশীল থাকে। ফলে সূর্যালোকের সংস্পর্শে সহজেই চামড়ার শ্বেত স্থান পুড়ে যায়। তাই শ্বেতিরোগীর সানস্কিন লোশন ব্যবহার করা উচিত। অযথা ভয়-হতাশা নয় : মনে রাখতে হবে, এ রোগটি সৌন্দর্যহরণ ছাড়া শরীরের জন্য তেমন ক্ষতিকর নয়। খাবারের সঙ্গে শ্বেতিরোগের কোনো সম্পর্ক নেই। তাই টক, দুধ, ডিম বা অন্য কোনো খাবার এ রোগ বৃদ্ধি করে না। শৈল্যচিকিৎসা : এ রোগের চিকিৎসা দীর্ঘদিন চালাতে হয়। তবে ফল কতখানি আসবে, তা মেলানোসাইট পুরো মাত্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে কিনা, তার ওপর নির্ভর করে। দেখা গেছে, ১৫ থেকে ২৫ শতাংশ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের চিকিৎসা ছাড়াই নিজ থেকে চামড়া কালো রঙের হতে থাকে। পুভা থেরাপিতে বেশ ভালো ফলাফল লক্ষ করা গেছে। অনেকের মতে, এ পদ্ধতিতে ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ ক্ষেত্রে কমবেশি সফলতা আসে। এ ছাড়া রোগীকে নিশ্চিত করতে হয়, এটা ক্যানসার হওয়ার আগের আলামত নয় কিংবা কুষ্ঠরোগও নয়। তবে একজন চর্ম ও ত্বকের চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে রাখা ভালো। লেখক : সহকারী অধ্যাপক ত্বক, চর্ম ও যৌনরোগ বিভাগ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল চেম্বার : কামাল হেয়ার অ্যান্ড স্কিন সেন্টার বিটিআই সেন্টার গ্র্যান্ড, (২য় তলা) ফার্মগেট, ঢাকা। ০১৮২২৮৬২৩১৪; ০১৯১১৯৫৭৫৫৩

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

আজকের প্রশ্ন

বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেছেন, পুলিশের ওপর নির্বাচন কমিশনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?