শনিবার, ৩১ জুলাই ,২০২১

Bangla Version
  
SHARE

শনিবার, ২২ মে, ২০২১, ০১:৫৫:৪০

ভালোবাসা নাকি কামনা আপনি কিসে অভ্যস্ত?

ভালোবাসা নাকি কামনা আপনি কিসে অভ্যস্ত?

লাইফস্টাইল ডেস্ক: প্রেমে যদি কামনার উদ্রেগ না হয় হয় তাহলে তা ভালোবাসায় পরিণত হয় না। সাহিত্যিক তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় বহু যুগ আগে একথা বলে গেছেন। তিনি অবশ্য মানুষের মনের ভাবকে সুন্দর ভাষায় ব্যক্ত করেছেন মাত্র। বাস্তবে হাজার হাজার বছর ধরেই একথা সত্যি বলে প্রমাণ হয়েছে। শুধু তাই নয়, এমনও দেখা গেছে শুরু কামনা দিয়ে হলেও পরে তা ভালোবাসায় পরিণত হয়েছে।

ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও অন্য কারও সঙ্গে শরীরি খেলায় মেতে ওঠার লক্ষ লক্ষ উদাহরণ রয়েছে বিশ্বজুড়ে। সে সম্পর্ক নাকি শুধুই শরীরের। সেখানে মনের কোনও স্থান নেই। আগে মানুষ স্বীকার করতেন না। একন হয়তো অনেকেই স্বীকার করে থাকেন।

আজকের প্রজন্ম আবার এক্ষেত্রে আরও এগিয়ে রয়েছে। ওয়েব সিরিজ এবং সিনেমার দৌলতে মানুষের মনের লুকোনো ইচ্ছে আরও যেন বাইরে প্রকাশ পাচ্ছে। আবার উল্টোটাও হয়। মানুষের লুকোনো প্রবৃত্তিকেই হয়তো গল্পের আকারে দেখানো হচ্ছে রুপোলি পর্দায়।

কিন্তু ভালোবাসা এবং কামনার মধ্যে পার্থক্য বুঝবেন কীভাবে? মনোবিদরা বলেন অনেকেই এই পার্থক্য বুঝতে পারেন না। ফলে অনেকসময়ই বিপদে পড়েন। কিংবা মনোকষ্টে ভোগেন। শারীরিক ক্ষতির কথা তো আলাদা।

বোঝার উপায়
- ভালোবাসায় সবকিছুই নিঃস্বার্থ থাকে। ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে যৌনসম্পর্ক না থাকলেও মনের সম্পর্ক অটুট থাকে। কিন্তু কামনার ক্ষেত্রে একটাই উদ্দেশ্য। যৌনতা। এক্ষেত্রে মনের কোনও সম্পর্ক থাকে না। পুরোটাই শরীর সর্বস্ব।

- ভালোবাসার ভৌগলিক দূরত্ব থাকলেও তা সম্পর্কে কোনও প্রভাব ফেলে না। কিন্তু কামনায় দূরত্ব তৈরি হলে সঙ্গী বদল হয়ে যায়।

- ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে শুধু কথা বলেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটিয়ে দেওয়া যায়। কিন্তু কামনার সঙ্গীর সঙ্গে শরীর সুখ মিটে গেলেই আর কোনও আকর্ষণ থাকে না।
- কাউকে দেখে ভালো লাগলে যদি শুধুই তার সঙ্গে যৌন সঙ্গমের কথা ভাবেন তাহলে বুঝতে হবে যে আপনি কামনার শিকার।
- শারীরিক আকর্ষণ বা কামনা সাময়িক। নির্দিষ্ট সময় পর সেই মোহ কেটে যায়। ভালোবাসা দীর্ঘকালীন।

- কামনার মানুষের জন্য মনে কোনোদিন ত্যাগ, সমঝোতা, ধৈর্য্য কিংবা মানসিক আবেগ দেখা দেয় না। শরীরের সুখ মিটে গেলেই তার কাছ থেকে পিছু ছাড়াতে ব্যস্ততা শুরু হযে যায়। মন চায় ভালোবাসার মানুষের কাছে ছুটে চলে যেতে।

- ভালোবাসার মানুষের প্রয়োজন, দুঃখ, কষ্ট, বিপদ-আপদে তাঁর পাশে থাকতে মন চায়। তাঁর জন্য মন খারাপ করে। তাঁর মনোযোগ না পেলে নিজেকে অসহায় মনে হয়।

বিপদ আপদ
মনোবিদদের গবেষণা বলছে বহু মানুষ আছেন যাঁরা ভালোবাসার সঙ্গী থাকা সত্ত্বেও অপরের সঙ্গে শরীরি সম্পর্ক তৈরি করেন। অবস্থা এমন হয় যে তাতেই তাঁরা অভ্যস্ত হয়ে পড়েন। বিশেষ করে পলিগামিদের ক্ষেত্রে এই প্রবণতা দেখা যায়।

আবার অনেক সময় ভালোবাসার মানুষটি শারীরিকভাবে অক্ষম হওয়ার কারণে শুধুমাত্র শরীর সুখের চাহিদায় অন্য সঙ্গীর কাছে অনেকে গিয়ে থাকেন।
বাস্তব বলে অনাকাঙ্খিত সম্পর্ক কখনও চাপা থাকে না। স্বভাবের কারণে অন্য ব্যক্তির সঙ্গে শরীরী সম্পর্ক আখেরে ভালোবাসার মানুষ থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে যায়। সামাজিক সম্মানহানির কথা ছেড়ে দিলেও অতিরিক্ত কামনার কারমে সঙ্গী সঙ্গে বিচ্ছেদ মানসিকভাবে ব্যক্তিকে অবসাদগ্রস্ত করে তোলে।

শরীরের রোগ সহজেই সারানো যায়। কিন্তু মনের অসুখ সারাতে অনেক সময় লাগে।

আবার অনেক সময় দেখা যায় যে কামনায় অভ্যস্ত মানুষ কামসঙ্গীতেই মনের মানুষের খোঁজ পেয়েছেন। শরীরিক এবং মানসিক সুখ দুটিই তার আয়ত্তের মধ্যে। যদিও এরকম সম্পর্ক আজকের দিনে খুবই কম দেখা যায় বলে মনোবিদরা মনে করেন।

মনোবিদদের পরামর্শ, সাময়িক সুখের জন্য বড় কোনও মানসিক বা শারীরিক সমস্যাকে আমন্ত্রণ জানানো বোকামি। প্রকৃতির নিয়মকে লঙ্ঘন করলে তার মাসুল দিতেই হয়। অন্যের সঙ্গে শরীরী খেলায় মেতে উঠতে উঠতে নিজেও যদি খেলার পুতুলে পরিণত হন তখনই বিপদ ঘনিয়ে আসে। কিংবা যদি জানতে পারেন ভালোবাসার মানুষটিও আপনার মতো কামুক এবং অন্য শরীরের প্রতি আকর্ষণ অনুভব করেন তখন তা মেনে নিতে গেলে প্রচণ্ড মানসিক শক্তির প্রয়োজন।

অত্যাধিক কামনা এবং নিয়মিত সঙ্গী বদল ভবিষ্যৎ প্রজন্মের পক্ষেও খারাপ বার্তা।

তাই কামনা এবং ভালোবাসার মধ্যে কীভাবে সামঞ্জস্য আনবেন তা নির্ভর করে একমাত্র আপনার উপর। সমস্যা হলে মনোবিদের পরামর্শ নিন। শরীর এবং মন উভয়কেই সুস্থ রাখুন।

 

আজকের প্রশ্ন

বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেছেন, পুলিশের ওপর নির্বাচন কমিশনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?