বুধবার, ০১ ডিসেম্বর ,২০২১

Bangla Version
  
SHARE

শুক্রবার, ০১ অক্টোবর, ২০২১, ০২:১৮:১১

চট্টগ্রামের প্রায় ৩০০ কি.মি নালা-খাল যেন মৃত্যুফাঁদ

চট্টগ্রামের প্রায় ৩০০ কি.মি নালা-খাল যেন মৃত্যুফাঁদ

ডেস্ক রির্পোট:- চট্টগ্রাম নগরের আগ্রাবাদের পরে হালিশহরের বড়পুল ১০ কিলোমিটার পর্যন্ত মূল সড়কের পাশ দিয়ে গেছে মহেশখাল। সড়কের পাশে কোনো নিরাপত্তাবেষ্টনী নেই, নেই কোনো রেলিংও। ভারী বৃষ্টিতে খাল আর সড়ক একাকার হয়ে যায়। এই সময় বোঝা যায় না, কোনটি খাল আর কোনটি সড়ক। অথচ এই পথ দিয়ে প্রতিদিনই অন্তত দুই লাখ মানুষ আসা-যাওয়া করেন। আগ্রাবাদ থেকে সাগরপাড় পর্যন্ত দুই ভাগ মিলে খালের পাশাপাশি খোলা নালাও রয়েছে। চারদিকে ১০০ কিলোমিটার নালায় ৫০-৬০ কিলোমিটার খোলা। অর্থাৎ নালার মাঝে মাঝে ঢাকনা নেই। এ ছাড়া অনেক ম্যানহোলও খোলা। এতে পথচারীরা প্রায় সময় দুর্ঘটনায় পড়ছেন। কারও পা ভাঙছে কারও কোমর। সর্বশেষ আগ্রাবাদ মাজারগেট এলাকায় খোলা নালায় পড়ে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী সেহেরীন মাহবুব সাদিয়ার মৃত্যু হয়। ওই জায়গায় সাত দিনে নালায় পড়ে চারজন আহত হন। দুই নম্বর গেট, ষোলোশহর হয়ে মুরাদপুর থেকে বহদ্দারহাট পর্যন্ত দুই পাশের ৩ কিলোমিটার খোলা নালা রয়েছে। ওই নালাগুলো মিলে গেছে মির্জাখালের সঙ্গে। এরই মধ্যে মুরাদপুর থেকে বহদ্দারহাট পর্যন্ত ১০-১২ ফুট প্রস্থের নালাটি সবচেয়ে বেশি বিপদজন। নিচু এলাকা হওয়ায় সামন্য বৃষ্টিতে নালা-সড়ক মিলে যায়। সর্বশেষ ২৫ আগস্ট নালায় পড়ে তলিয়ে যান সালেহ আহমদ নামের এক সবজি ব্যবসায়ী। যার হদিস এখনো পাওয়া যায়নি। চলতি বছরের ৩০ জুন ষোলোশহর চশমা হিল এলাকাতেও এমন দুর্ঘটনা ঘটে। সেখানে খালের পাশের সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় খালে পড়ে যায় একটি অটোরিকশা। স্রোত থাকায় খালে তলিয়ে মারা যান চালক সুলতান (৩৫) ও যাত্রী খাদিজা বেগম (৬৫)। ওই চশমা খালের পাশের সড়কেও কোনো নিরাপত্তাবেষ্টনী দেখা যায়নি। দুই নম্বর গেট থেকে বহদ্দারহাট, নতুন চান্দগাঁও এলাকায় ঢাকনা ছাড়া খোলা নালা রয়েছে। সবচেয়ে গেঞ্জি এলাকা চকবাজার। কাঁচারবাজার থেকে ডিসি রোডের শেষ মাথা নালাগুলোও খোলা। নালার দেড় শতাধিক জায়গায় ঢাকনা নেই। বাকলিয়া আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান গেট থেকে খালপাড় হয়ে সৈয়দশাহ রোড পর্যন্ত চাক্তাইখালের পাশ দিয়ে দুই পাশে গেছে সড়ক। এখানেও দিনে কয়েক লাখ মানুষ আসা যাওয়া করেন। বর্ষাকালে খাল ও সড়ক মিশে যায়। নিরাপত্তাবেষ্টনী না থাকায় এখানেও প্রতি বছর ঘটে দুর্ঘটনা। বিশেষ করে সড়ক বুঝতে না পাড়ায় যানবাহনগুলো খালে গিয়ে পড়ে। সামন্য বৃষ্টিতে কোমর সমান পানি হওয়ায় স্থানীয়রা নাম দিয়েছেন ‘নদীর নাম চকবাজার’। কালামিয়া বাজারের পেছন দিক দিয়ে খাতুনগঞ্জ পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার চাক্তাইখালের পাশ ঘেঁষে সড়ক। চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ অংশে প্রতিদিন দেড় শতাধিক গাড়ি চলাচল করে। খালের পাশ দিয়ে নিরাপত্তাবেষ্টনী না থাকায় বর্ষাখানে ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে। মোহরায় রয়েছে কৃষ্ণখাল ও ব্রাক্ষণশাহী খাল। এরই মধ্যে সিএন্ডবি, কাজীরহাট, কামালবাজার, ইস্পাহানি হয়ে ব্রাক্ষণশাহী খাল মিশেছে কর্ণফুলী নদীতে। আর কৃষ্ণখাল মোহরার পশ্চিম, উত্তর ও মধ্যে মোহরা হয়ে হালদা নদীতে মিশেছে। মোহরার অন্তত দুই কিলোমিটার এলাকা দিয়ে এই দুই নদী গেলেও কোনো নিরাপত্তাবেষ্টনী নেই। অথচ খুব ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা মোহরায় দুই লাখ মানুষ বসবাস করেন। প্রতি বছর বর্ষার সময় খালে পড়ে অনেক দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। শুধু এই সব জায়গা নয় দুই নম্বর গেট এলাকার কবরস্থানের পাশে বড় অরক্ষিত নালা দেখা গেছে। অলংকার মোড়ে দুই পাশে ৫০ টিরও বেশি ঢাকনাহীন ম্যানহোল ও নালা পাওয়া গেছে। এ ছাড়া বন্দরটিলা থেকে নয়াহাট পর্যন্ত আধা কিলোমিটার এলাকাজুড়ে খোলা নালা রয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরের বিভিন্ন জায়গায় এক হাজার কিলোমিটার খোলা নালা ও খাল যেন মৃত্যুফাঁদ। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম জানান, নগরে নালা রয়েছে ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার আর খাল রয়েছে ১৫১ কিলোমিটার। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিটি করপোরেশনের এক প্রকৌশলী বলেন, ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটারের মধ্যে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার নালা খোলা, খাল ১৫১ কিলোমিটারের মধ্যে ৫০ কিলোমিটার জুড়ে কোনো নিরাপত্তাবেষ্টনী নেই। সিটি করপোরেশনের মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, সিডি এর ঠিকাদাররাই খাল-নালাগুলো এইভাবে খোলা অবস্থায় রেখে দিয়েছে। এটি অবহেলা ছাড়া আর কিছু নয়। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস বলেন, ‘চট্টগ্রাম শহরের সব জায়গায় নিরাপত্তাবেষ্টনী দেওয়া আমাদের কাজ নয়। এখানে সিটি করপোরেশনেরও কাজ রয়েছে। ওরা আমাদের ঘাড়ের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে। আমরা আমাদের প্রকল্পের বাইরে এক পয়সাও খরচ করব না।’ আগ্রাবাদে নালায় পড়ে ছাত্রীর মৃত্যু হওয়া জায়গাটির প্রকল্পের কাজটি সিটি করপোরেশনের ছিল বলে জানান তিনি। উল্লেখ্য, চলতি বছরের চারজন ছাড়াও নালায় পড়ে এর আগে ২০১৮ সালের ৯ জুন আমিন জুট মিল এলাকায় নালায় পড়ে বৃষ্টির পানির স্রোতে ভেসে যায় শিশু আল আমীন (৭)। পরে তার লাশ উদ্ধার হয়। ২০১৭ সালের ২ জুলাই এম এম আলী সড়কে রয়েল গার্ডেন কমিউনিটি সেন্টার সংলগ্ন বড় নালায় পড়ে তলিয়ে যান সাবেক সরকারি কর্মকর্তা শীলব্রত বড়ুয়া (৬২)। পরদিন প্রায় ছয় কিলোমিটার দূরে মিয়াখান নগরে চাক্তাই খালে তাঁর লাশ পাওয়া যায়।

এই বিভাগের আরও খবর

  চট্টগ্রাম মহানগরের ৭৮ শতাংশ ভবন ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে

  আটকের ২৮ দিনের মাথায় কারাগারে বিএনপি নেতার মৃত্যু

  চট্টগ্রামে রাঙ্গুনিয়ায় শিক্ষিকা হত্যায় স্বামীর ফাঁসি

  দু’গ্রুপের সংঘর্ষ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ বন্ধ ঘোষণা

  চট্টগ্রামে বহদ্দারহাট ফ্লাইওভারের পিলারে ফাটল

  চট্টগ্রামে ২৫ ইউনিয়নে ১৩টিতে ভোটের আগেই আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান জয়ী

  বাঁশখালীতে টিউবওয়েলের পানি নিয়ে সংঘর্ষে নিহত ২

  চট্টগ্রামে জুলুসে নেতৃত্ব দিলেন আল্লামা সাবির শাহ

  ১০০ কোটি টাকা খরচের পর বাতিল ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে

  চট্টগ্রামের ১৩ ইউনিয়নে শুধুই আ.লীগ প্রার্থী

  পূর্ণাঙ্গ ট্রমা সেন্টার মিলবে কবে

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

আজকের প্রশ্ন

বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেছেন, পুলিশের ওপর নির্বাচন কমিশনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?