<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>সাক্ষাতকার &#8211; chtnews24.com</title>
	<atom:link href="https://chtnews24.com/category/%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>https://chtnews24.com</link>
	<description></description>
	<lastBuildDate>Wed, 02 Sep 2026 02:09:43 +0000</lastBuildDate>
	<language>en-US</language>
	<sy:updatePeriod>
	hourly	</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>
	1	</sy:updateFrequency>
	<generator>https://wordpress.org/?v=7.1</generator>
	<item>
		<title>প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা: পার্বত্য চট্টগ্রামে শিক্ষার দূরত্ব কমানোর কার্যকর মাধ্যম</title>
		<link>https://chtnews24.com/2026/09/02/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%af%e0%a7%81%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ad%e0%a6%b0-%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b7%e0%a6%be/</link>
					<comments>https://chtnews24.com/2026/09/02/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%af%e0%a7%81%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ad%e0%a6%b0-%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b7%e0%a6%be/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[adminchtnews24]]></dc:creator>
		<pubDate>Wed, 02 Sep 2026 02:04:18 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Second lead]]></category>
		<category><![CDATA[রকমারি]]></category>
		<category><![CDATA[শিরোনাম]]></category>
		<category><![CDATA[সাক্ষাতকার]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://chtnews24.com/?p=37920</guid>

					<description><![CDATA[মো. রেজুয়ান খান:- বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে অবস্থিত নৈসর্গিক রূপসী ভূখণ্ড পার্বত্য চট্টগ্রাম। পাহাড়, নদী, নিঝুম উপত্যকা আর ঘন অরণ্যে ঘেরা এ অঞ্চলটি কেবল তার অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্যই অনন্য নয়, বরং বহুজাতি, বহুভাষা ও বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক অপূর্ব মিলনক্ষেত্র। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরাসহ নানা নৃগোষ্ঠীর মানুষ তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও স্বাতন্ত্র্য [&#8230;]]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>মো. রেজুয়ান খান:- বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে অবস্থিত নৈসর্গিক রূপসী ভূখণ্ড পার্বত্য চট্টগ্রাম। পাহাড়, নদী, নিঝুম উপত্যকা আর ঘন অরণ্যে ঘেরা এ অঞ্চলটি কেবল তার অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্যই অনন্য নয়, বরং বহুজাতি, বহুভাষা ও বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক অপূর্ব মিলনক্ষেত্র। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরাসহ নানা নৃগোষ্ঠীর মানুষ তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও স্বাতন্ত্র্য নিয়ে এই পাহাড়ি অঞ্চলে বসবাস করে আসছে।শিক্ষা উপকরণ খোঁজা</p>
<p>ভৌগোলিক দুর্গমতা, ঐতিহাসিক সামাজিক সীমাবদ্ধতা এবং দীর্ঘকালের রাজনৈতিক জটিলতার কারণে জাতীয় উন্নয়নের মূলস্রোতধারা থেকে পার্বত্য অঞ্চল দীর্ঘদিন কিছুটা বিচ্ছিন্ন ও দূরে অবস্থান করছিল। এর প্রত্যক্ষ ও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল এই অঞ্চলের শিক্ষাব্যবস্থার ওপর। বিদ্যালয়ের অভাব, দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থা, আধুনিক শিক্ষা উপকরণের অপ্রতুলতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ-সুবিধার ঘাটতির কারণে সমতলের চেয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের শিক্ষাক্ষেত্রে একটি বিরাট ব্যবধান তৈরি হয়েছিল।</p>
<p>কিন্তু সময় বদলেছে। একটি বৈষম্যহীন, আধুনিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার জন্য দেশের প্রতিটি নাগরিককে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করা অপরিহার্য। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার পার্বত্য চট্টগ্রামের অধিবাসীদের ভাগ্যোন্নয়ন এবং সমতলের সঙ্গে শিক্ষার ঐতিহাসিক বৈষম্য দূরীকরণে বিশেষ অগ্রাধিকার প্রদান করেছে। বিশেষত, পাহাড়ের সন্তানদের আধুনিক, কারিগরি, প্রযুক্তিনির্ভর ও উন্নত শিক্ষায় আলোকিত করাকে সরকারের প্রধানতম অগ্রাধিকার হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।</p>
<p>সরকারের এই সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য বাস্তবায়নে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। স্থানীয় জেলা প্রশাসন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং নানা সামাজিক ও বেসরকারি সংগঠনের এক অভূতপূর্ব সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে এই অঞ্চলে শিক্ষার আমূল রূপান্তর ঘটানো হচ্ছে। নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে শুরু করে মাঠপর্যায় পর্যন্ত এই সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলে পার্বত্য চট্টগ্রামের শিক্ষাব্যবস্থা আজ এক নতুন, গতিশীল ও প্রশংসনীয় রূপ পরিগ্রহ করছে।ম্যাপ রেফারেন্স দেখা</p>
<p>বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার শিক্ষাকে কেবল বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ না রেখে আধুনিক, যুগোপযোগী ও আনন্দময় করতে পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে ‘মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম’ অত্যন্ত দ্রুতগতিতে চালু করার পদক্ষেপ নিয়েছে। গতানুগতিক ব্ল্যাকবোর্ড ও মুখস্থবিদ্যার একঘেয়েমি কাটিয়ে পাহাড়ি শিক্ষার্থীরা এখন ডিজিটাল স্ক্রিনে ভিজ্যুয়াল কনটেন্টের মাধ্যমে পাঠ গ্রহণ করতে পারছে-এটি আর স্বপ্ন নয়, বাস্তব। বিজ্ঞান, গণিত ও ভূগোলের মতো জটিল বিষয়গুলোকে রঙিন অ্যানিমেশন, তথ্যবহুল শিক্ষণীয় ভিডিও এবং ইন্টারঅ্যাক্টিভ কুইজের মাধ্যমে অত্যন্ত সহজ ও আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। এর ফলে ছোট ছোট শিশুদের বিদ্যালয়মুখিতা ও উপস্থিতির হার বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। কৌতূহল ও উদ্দীপনার সঙ্গে শেখার এই আধুনিক সংস্কৃতি শিশুদের মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।</p>
<p>শিক্ষায় বৈশ্বিক মান নিশ্চিতকরণের অংশ হিসেবে খাগড়াছড়িতে আন্তর্জাতিক মানের ইংরেজি কারিকুলামের স্কুল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে পাহাড়ি দূরবর্তী এলাকার শিশুরাও আন্তর্জাতিক স্তরের গুণগত শিক্ষার সুফল লাভ করছে। এটি তাদের ভবিষ্যৎ বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সমকক্ষ ও আত্মবিশ্বাসী হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করছে।সিটি গাইড এক্সপ্লোর</p>
<p>উচ্চ পাহাড়ি পথ, আঁকাবাঁকা গিরিপথ এবং বর্ষার খাদ-খন্দ পেরিয়ে দূর-দূরান্তের স্কুলে প্রতিদিন যাতায়াত করা পাহাড়ের শিক্ষার্থীদের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই এক বিরাট চ্যালেঞ্জ ছিল। প্রতিকূল আবহাওয়ায় পথচলা যেমন ঝুঁকিপূর্ণ, তেমনি দূরত্বের কারণে অনেক শিশুই মাঝপথে পড়াশোনা ছেড়ে দিত।</p>
<p>সরকার এই ভৌগোলিক বাধা দূরীকরণে অবকাঠামোগত উন্নয়নে অভাবনীয় পরিবর্তন এনেছে। পাহাড়ের প্রত্যন্ত ও দুর্গম এলাকাগুলোতে তৈরি করা হচ্ছে সুপরিসর ও আধুনিক বিদ্যালয় ভবন। প্রতিটি বিদ্যালয়ে স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়নে আধুনিক টয়লেট এবং বিশুদ্ধ ও সুপেয় পানির টেকসই ব্যবস্থা করা হয়েছে। দূরবর্তী পরিবারের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের কষ্ট ও ঝুঁকি লাঘব করতে ছেলে ও মেয়েদের জন্য আলাদা, নিরাপদ ও আধুনিক আবাসন ব্যবস্থা (হোস্টেল) গড়ে তোলা হচ্ছে।</p>
<p>পার্বত্য চট্টগ্রামের বহুভাষিক ও বৈচিত্র্যময় জনগোষ্ঠীর শিশুদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও ভাষার অধিকারকে শ্রদ্ধার সঙ্গে বিবেচনা করে সরকার তাদের নিজস্ব মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করেছে। চাকমা, মারমা, ত্রিপুরাসহ অন্যান্য নৃগোষ্ঠীর শিশুদের জন্য নিজ নিজ ভাষার বর্ণমালা ও মাতৃভাষায় রচিত পাঠ্যবই বিনামূল্যে বিতরণ করা হচ্ছে।নতুন শখ খোঁজা</p>
<p>যে শিশুরা পূর্বে অপরিচিত ভাষার কারণে শ্রেণিকক্ষে নিজেকে বিচ্ছিন্ন মনে করত, তারা এখন নিজ মাতৃভাষায় প্রথম বর্ণমালা শিখতে পারছে এবং বইয়ের গল্প পড়ছে। এটি শিশুদের পাঠগ্রহণের প্রক্রিয়াকে কেবল সহজই করেনি, বরং তাদের মনে আত্মবিশ্বাস ও নিজ সংস্কৃতির প্রতি গভীর অনুরাগ সৃষ্টি করেছে। নিজের মাতৃভাষায় শিক্ষার এই সুযোগ পাহাড়ি শিশুদের জন্য শিক্ষাকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, সার্বজনীন ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করে তুলেছে।</p>
<p>পার্বত্য অঞ্চলের ভৌগোলিক গঠন অত্যন্ত জটিল। অনেক দূরবর্তী গ্রাম বা পাড়া এখনও সাধারণ মোবাইল নেটওয়ার্কের আওতার বাইরে। তবে এই ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতা যেন শিক্ষার আলোর পথে বাধা হতে না পারে, সে জন্য সরকার স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের মাধ্যমে ই-লার্নিং ব্যবস্থা চালুর ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে। স্যাটেলাইট সংযোগের সাহায্যে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরের অভিজ্ঞ শিক্ষকদের ক্লাস এখন পাহাড়ি অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা সরাসরি অনলাইনে উপভোগ করতে পারছে।</p>
<p>পাহাড়ি এলাকায় বিদ্যুৎ সমস্যার টেকসই ও পরিবেশবান্ধব সমাধান হিসেবে বিদ্যালয় ও হোস্টেলগুলোতে সোলার প্যানেল বসানো হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের হাতে ল্যাপটপ, ট্যাবলেট ও আধুনিক গ্যাজেট পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। শিক্ষামূলক গেমস, ডিজিটাল কুইজ ও ভিজ্যুয়াল কনটেন্টের মাধ্যমে শেখার ফলে পাহাড়ি শিশুদের মাঝে প্রযুক্তিবান্ধব সংস্কৃতি গড়ে উঠছে।এশিয়ান পণ্য সংগ্রহ</p>
<p>শুধু তাত্ত্বিক সনদনির্ভর শিক্ষায় সীমাবদ্ধ না রেখে পাহাড়ের তরুণ প্রজন্মকে আত্মনির্ভরশীল ও কর্মক্ষম নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে কারিগরি ও প্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষায় গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় সম্ভাবনা ও অর্থনৈতিক চাহিদা বিবেচনায় রেখে বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। আধুনিক কৃষি, তাঁতশিল্প, পর্যটন, আইসিটি ও ফ্রিল্যান্সিংসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।</p>
<p>এছাড়া পাহাড়ি নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে সেলাই, ফুড প্রসেসিং ও আইটি প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। তিন পার্বত্য জেলায় পলিটেকনিক ও ভোকেশনাল প্রতিষ্ঠান সম্প্রসারণের কাজও এগিয়ে চলছে।</p>
<p>পার্বত্য অঞ্চলের প্রতিকূল পরিবেশে বেড়ে ওঠা শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। বিদ্যালয়গুলোতে প্রশিক্ষিত কাউন্সেলরের মাধ্যমে নিয়মিত মানসিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে, যা তাদের আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠতে সহায়তা করছে।</p>
<p>নিঃসন্দেহে একটি দীর্ঘদিনের অনগ্রসর অঞ্চলকে রাতারাতি পুরোপুরি বদলে ফেলা সম্ভব নয়; এখনও কিছু কাঠামোগত ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতা বিদ্যমান। তবে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহ একযোগে কাজ করছে।এশীয় সংস্কৃতি জানা</p>
<p>পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড এবং তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU), ইউএনডিপি (UNDP), ইউনিসেফ (UNICEF), ব্র্যাক (BRAC) এবং সেভ দ্য চিলড্রেন (Save the Children)-এর মতো সংস্থাসমূহ এই শিক্ষাযাত্রাকে আরও বেগবান করছে।</p>
<p>পার্বত্য চট্টগ্রামের শিক্ষায় এই গুণগত পরিবর্তন কেবল পাঠ্যবই বা পরীক্ষার ফলাফলে সীমাবদ্ধ নয়; এটি অঞ্চলের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির এক দৃঢ় ভিত্তি। শিক্ষার আলো যখন পাহাড়ি ঘরে ঘরে পৌঁছাচ্ছে, তখন অন্ধকার ও অনগ্রসরতা দূর হওয়া সময়ের ব্যাপার।</p>
<p>লেখক: জনসংযোগ কর্মকর্তা, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়<br />
পিআইডি ফিচার</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://chtnews24.com/2026/09/02/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%af%e0%a7%81%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ad%e0%a6%b0-%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b7%e0%a6%be/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগে সংশয়মুক্ত বিএনপি</title>
		<link>https://chtnews24.com/2026/07/26/%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a7%81%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a6%a6%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%97%e0%a7%87-%e0%a6%b8/</link>
					<comments>https://chtnews24.com/2026/07/26/%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a7%81%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a6%a6%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%97%e0%a7%87-%e0%a6%b8/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[adminchtnews24]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 26 Jul 2026 08:54:59 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Second lead]]></category>
		<category><![CDATA[শিরোনাম]]></category>
		<category><![CDATA[সাক্ষাতকার]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://chtnews24.com/?p=37524</guid>

					<description><![CDATA[আনোয়ার হোসেইন মঞ্জ:- অবশেষে পদত্যাগ করেছেন বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি (ভারপ্রাপ্ত) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সাংবিধানিক প্রধানের পদ থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মনোনীত বিশ্বস্ত ব্যক্তিটিও ইতিহাসের পৃষ্ঠায় স্থান পাওয়ার জন্য চলে গেলেন। তাঁকে নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বের মধ্যে [&#8230;]]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>আনোয়ার হোসেইন মঞ্জ:- অবশেষে পদত্যাগ করেছেন বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি (ভারপ্রাপ্ত) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সাংবিধানিক প্রধানের পদ থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মনোনীত বিশ্বস্ত ব্যক্তিটিও ইতিহাসের পৃষ্ঠায় স্থান পাওয়ার জন্য চলে গেলেন। তাঁকে নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বের মধ্যে থাকা বিএনপি নেতৃত্বের পক্ষেও সহজ হলো রাষ্ট্রের মর্যাদার প্রতীক ও শীর্ষ সাংবিধানিক পদে তাদের পছন্দনীয় ব্যক্তিকে আসীন করার। গত ফেব্রুয়ারি বিএনপি সরকার গঠিত হওয়ার পর থেকে গুঞ্জন শুরু হয়, কে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হবেন! সম্ভাব্য নামগুলো এখন আরও বেশি উচ্চারিত হচ্ছে।</p>
<p>সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদকে নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়োগ করতে হবে। অতএব মো. সাহাবুদ্দিন তাঁর মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই পদত্যাগ করে বিএনপি সরকারকে আগাম সুযোগ দিয়েছেন তাদের রাজনৈতিক কাঠামো পুনর্বিন্যাসের। আশা করা হচ্ছে, রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপি সংসদীয় দল এমন একজনকে মনোনীত করতে চায়, যাতে তিনি সর্বসম্মতভাবে নির্বাচিত হতে পারেন। সেই লক্ষ্যে বিএনপি বিরোধী দলের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছার যথাসাধ্য চেষ্টা করবে।</p>
<p>স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশ সাংবিধানিক সংকটের ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে চলে আসছে এবং দেশের তথাকথিত ‘ক্রান্তিকাল’-এর কখনো অবসান ঘটছে না। অতএব সময়ের এক এক পর্যায়ে সংবিধানে সংসদীয় সরকারপদ্ধতি, রাষ্ট্রপতিশাসিত পদ্ধতি এবং অন্তর্বর্তী সরকারব্যবস্থার তালগোলের মধ্যে দেশবাসী রাষ্ট্রের শীর্ষ পদটিতে কখনো নির্বাহী ক্ষমতাহীন, কখনো সামরিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতা দখল করে আসীন এককভাবে ক্ষমতা প্রয়োগকারী জেনারেল, কখনোবা জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত ব্যক্তিকে দেখেছেন। দুজন ক্ষমতাধর রাষ্ট্রপতিকে হত্যা করে, একজন সামরিক একনায়ককে রাজপথের আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত করে তাঁদের শাসনের অবসান ঘটানো হয়েছে। বেশ কজন রাষ্ট্রপতিকে বন্দুকের নলের মুখে অথবা ভয়ভীতি প্রদর্শন করে পদ থেকে হটানোর ঘটনাও ঘটেছে। ১৯৯১ সালের পর যদিও জাতীয় সংসদের সদস্যদের দ্বারা সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের মনোনীত প্রার্থীরাই নিয়মতান্ত্রিকভাবে রাষ্ট্রপতি হয়ে আসছেন। কিন্তু এর মাঝেও কিছু ব্যত্যয় ঘটেছে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল অথবা বিশেষভাবে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আনুগত্যের হেরফের হলে রাষ্ট্রের শীর্ষ পদে আসীন একাধিক ব্যক্তির নাজেহাল হওয়ার ইতিহাসও বাংলাদেশেই বিদ্যমান।</p>
<p>কোনো কোনো রাষ্ট্রপতি একাধিক মেয়াদে রাষ্ট্রপতি হিসেবে পূর্ণ মেয়াদে দায়িত্ব পালন করলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে এর ব্যত্যয় ঘটেছে। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে প্রবাসী সরকারের অনুপস্থিত রাষ্ট্রপ্রধান ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপ্রধান এবং পরবর্তী সময়ে আরও কয়েকজন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেছেন। খুব কমসংখ্যক রাষ্ট্রপতির পক্ষেই তাঁদের পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ করা সম্ভব হয়েছে। একটি দেশের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার মাত্রা বিচার করার ক্ষেত্রে সাড়ে ৫৫ বছর বয়সি বাংলাদেশে ২৩তম রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ বিবেচনা করাই যথেষ্ট। রাষ্ট্রপতিদের দায়িত্ব পালনের মেয়াদের গড় হিসাব করলে দেখা যায়, প্রতিজন রাষ্ট্রপতি গড়ে আড়াই বছর দায়িত্ব পালন করতে পেরেছেন। আর মাত্র তিন মাসের মধ্যে বাংলাদেশ নতুন একজন রাষ্ট্রপতি উপহার পাবে, যিনি হবেন রাষ্ট্রের ২৪তম রাষ্ট্রপতি। পাশের দেশ ভারতকেও অনেক উত্থানপতনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। কিন্তু সাংবিধানিক ধারা বহাল রাখার ক্ষেত্রে তারা কোনো আপস করেনি। ভারতের রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে গভর্নর জেনারেল লর্ড মাউন্টব্যাটেনের সময় বাদ দিলে গত ৭৬ বছরে বর্তমান রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু পর্যন্ত ভারপ্রাপ্তসহ মাত্র ১৮ ব্যক্তি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। দ্রৌপদী মুর্মু ভারতের ১৫তম রাষ্ট্রপতি। উত্তম দৃষ্টান্ত গ্রহণের জন্য বাংলাদেশকে খুব বেশি দূরে যেতে হয় না।</p>
<p>বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিরা কে কত দিন তাঁদের পদে ছিলেন, তা সামনে থাকলে পাঠকদের বোঝা সহজ হবে যে বাংলাদেশ তার ইতিহাসের বেশির ভাগ সময় অস্থিতিশীলতার মধ্যে কাটিয়েছে। এই হিসাব অনুযায়ী শেখ মুজিবুর রহমান (প্রবাসী সরকারের অনুপস্থিত রাষ্ট্রপতি) : ২৭০ দিন, সৈয়দ নজরুল ইসলাম (ভারপ্রাপ্ত) : ২৭০ দিন, আবু সাঈদ চৌধুরী : ১ বছর ৩৪৬ দিন, মোহাম্মদ উল্লাহ চৌধুরী : ১ বছর ৩২ দিন, শেখ মুজিবুর রহমান : ২০২ দিন, খোন্দকার মোশতাক আহমদ : ৮৩ দিন, বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম : ১ বছর ১৬৬ দিন, লে. জেনারেল জিয়াউর রহমান : ৪ বছর ৩৯ দিন, বিচারপতি আবদুুস সাত্তার : ২৯৮ দিন, বিচারপতি আবুল ফজল মোহাম্মদ আহসানউদ্দিন চৌধুরী : ১ বছর ২৫৮ দিন, লে. জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ : ৬ বছর ৩৬০ দিন, বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ (ভারপ্রাপ্ত) : ১০৪ দিন, বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ : ২০৪ দিন, আবদুর রহমান বিশ্বাস : ৫ বছর, বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমেদ : ৫ বছর ৩৬ দিন, এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী : ২১৯ দিন, মুহাম্মদ জমির উদ্দিন সরকার (ভারপ্রাপ্ত) : ৭৭ দিন, ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ : ৬ বছর ১৫৯ দিন, জিল্লুর রহমান : ৪ বছর ৩৬ দিন, মোহাম্মদ আবদুল হামিদ : ১০ বছর ৪১ দিন, মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন : ৩ বছর ৯১ দিন দায়িত্ব পালন করেছেন। হাফিজ উদ্দিন আহমদ জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে পদাধিকারবলে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি (ভারপ্রাপ্ত) হয়েছেন।</p>
<p>মো. সাহাবুদ্দিন মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগে পদত্যাগ করে ভলোই করেছেন। পদত্যাগের জন্য তাঁর ওপর সরকারের কোনো চাপ ছিল কি না, তা তখনই জানা যাবে, যখন তিনি কথা বলার মতো নিরাপদবোধ করবেন। তবে এটা নিশ্চিত করেই বলা যায়, বিপরীত আদর্শের রাজনৈতিক সরকারের সুরে সুরে কথা বলতে বাধ্য হওয়ায় তাঁর মধ্যে অন্তর্দহন চলছিল। তিনি একজন পরীক্ষিত ও কমিটেড আওয়ামী লীগার। জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে তিনি আওয়ামী লীগের প্রতি নিবেদিত ছিলেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পছন্দে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। সম্ভবত এজন্যই কৃতজ্ঞতা প্রকাশে তিনি প্রটোকল ভেঙে প্রকাশ্যে শেখ হাসিনার পদধূলি গ্রহণের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতির পদমর্যাদাকে ভূলুণ্ঠিত করতেও দ্বিধা করেননি। রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণের পর সাহাবুদ্দিন মাত্র ১৫ মাস সময় পেয়েছিলেন শেখ হাসিনার গুণগান করার। কিন্তু প্রায় রাতারাতি সব পাল্টে যাওয়ায় ২০২৪ সালের পর তাঁকেই শেখ হাসিনার সরকারকে ‘ফ্যাসিবাদী’ সরকার বলতে হয়েছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে ‘স্বাধীনতার ঘোষক’ স্বীকার করতে হয়েছে, এমনকি ‘জয় বাংলা’ স্লোগানের পরিবর্তে ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ বলে বক্তৃতা শেষ করতে হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারির নির্বাচন-পূর্ববর্তী সময়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলাপ-আলোচনায় বিরোধী দল, এমনকি বিএনপির অনেকে তাঁকে আপন ভাবতে পারেননি।</p>
<p>কয়েক দিন ধরে মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের সম্ভাবনা নিয়ে দেশের সব মহলে আলোচনা ও গুজব ছিল তুঙ্গে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগামী ডিসেম্বরে দলবলসহ দেশে ফিরে আত্মসমর্পণের ঘোষণার সঙ্গে গত মে মাসে চিকিৎসার জন্য রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের লন্ডন অবস্থানকালে হাসিনার সঙ্গে টেলিফোন আলাপের খবর ছিল সব আলোচনার ভিত্তি। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, গোয়েন্দা সংস্থাগুলো হাসিনার সঙ্গে তাঁর আলাপের কথা জানার পর তাঁকে পদত্যাগের পরামর্শ দিয়ে একটি বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। সাহাবুদ্দিন ব্যক্তিগতভাবে তাঁর ঘনিষ্ঠ দুই-একজনের সঙ্গে এ ধরনের আলাপের কথা অস্বীকার করলেও সরকারের পক্ষ থেকে কিছু বলা হয়নি। তবে এটা ঠিক যে শেখ হাসিনার দেশে ফিরে আসার ঘোষণার পর তাঁর পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা রাজনৈতিক মহলে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। এর রাজনৈতিক বাস্তবতাও ছিল। সংসদীয় ব্যবস্থার অধীনেই বাংলাদেশে কোনো কোনো রাষ্ট্রপতির সহসা ক্ষমতাধর হয়ে ওঠার প্রবণতা দেখা গেছে। একাধিক রাষ্ট্রপতির পদক্ষেপ রাষ্ট্রের জন্য কল্যাণকর প্রমাণিত হলেও সব ক্ষেত্রে তা ছিল না। রাষ্ট্রপতির নির্বাহী ক্ষমতা সীমিত হলেও তিনি রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রধান। তিনি তাঁর স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা প্রয়োগে ব্রতী হলে তাঁকে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া ছাড়া অপসারণ করা কঠিন।</p>
<p>রাষ্ট্রপতি আবদুর রহমান বিশ্বাসকে একজন দুর্বল রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিবেচনা করা হতো। কিন্তু ১৯৯৬ সালের মে মাসে তৎকালীন সেনাপ্রধান আবু সালেহ মোহাম্মদ নাসিম আওয়ামী লীগের অনুকূলে সামরিক অভ্যুত্থানের চেষ্টা করলে রাষ্ট্রপতি আবদুর রহমান বিশ্বাস দ্রুততার সঙ্গে কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়ে অভ্যুত্থান-প্রচেষ্টা প্রতিহত করেন এবং তাঁকে গ্রেপ্তার ও তাঁর অনুগত কয়েকজন পদস্থ সেনা অফিসারকে চাকরিচ্যুত করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এজন্য তিনি প্রশংসিত হয়েছেন।</p>
<p>রাষ্ট্রপতি বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ তাঁর শেষ মেয়াদে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০০১ সালের ১ অক্টোবর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হয়ে সরকার গঠন করে। বিরোধী দল আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে নির্বাচনে কারচুপি, সহিংসতার অভিযোগ এনে রাষ্ট্রপতির কাছে দাবি জানায় নির্বাচন বাতিল করতে। যদিও নির্বাচনসংক্রান্ত এখতিয়ার নির্বাচন কমিশনের, আওয়ামী লীগ কেন রাষ্ট্রপতির কাছে এই দাবি উত্থাপন করেছিল, তা রহস্যাবৃত। রাষ্ট্রপতি এটি তাঁর এখতিয়ারবহির্ভূত এবং এক বিবৃতি দিয়ে এ ব্যাপারে তাঁর অক্ষমতার কথা জানালে আওয়ামী লীগ তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে, অক্টোবরের নির্বাচনের সময় রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাঁর ভূমিকাকে বিতর্কিত বলে বর্ণনা করে। আওয়ামী লীগের বিবৃতিতে রাষ্ট্রপতিকে আক্রমণ করে এমন কথাও বলা হয়েছিল যে ‘শেখ হাসিনা তাঁর ওপর যে আস্থা রেখেছিলেন, তার প্রতিদান তিনি কীভাবে দিয়েছেন, ইতিহাস তার বিচার করবে।’ রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ পাল্টা বিবৃতিতে বলেছিলেন, ‘আওয়ামী লীগের চোখে তাদের ইচ্ছামতো সবকিছু হলে তিনি ফেরেশতা, না হলে তিনি শয়তান।’</p>
<p>বিএনপি সরকার ২০০১ সালে বিএনপির অন্যতম সংগঠক, প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করে। রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি রাষ্ট্রের আলংকারিক সাংবিধানিক প্রধানের পরিবর্তে মোটামুটি তাঁর পদকে স্বাধীনভাবে পরিচালনার চেষ্টা এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে সরকারের গৃহীত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করে সরকার এবং বিএনপিকে বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে ফেলেন। এর মধ্যে অন্যতম একটি বিষয় ছিল সশস্ত্র বাহিনীসম্পর্কিত সরকারের একটি সিদ্ধান্তের বিরোধিতা। রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি নিজেকে নিরপেক্ষ প্রমাণ করার জন্য জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর মাজার জিয়ারতে যাননি এবং মৃত্যুবার্ষিকীতে প্রদত্ত বিবৃতিতে জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক বলে উল্লেখ করেননি। তাঁর বক্তৃতা ও বাণীতে বাংলাদেশ জিন্দাবাদ ব্যবহার বর্জন করেছিলেন। বিএনপির ওই সময়ের মহাসচিব আবদুল মান্নান ভূঁইয়া এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি দলের বিশ্বাসের বিরুদ্ধে যে অবস্থান নিয়েছেন, তা ক্ষমাহীন ব্যাপার। ভুলেরও একটা মাত্রা থাকে। তিনি সেই মাত্রা ছাড়িয়ে গেছেন।’ বিএনপি বদরুদ্দোজা চৌধুরীর ওপর আস্থা হারালে তিনি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।</p>
<p>বাংলাদেশের অতীত অভিজ্ঞতার প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের ওপর বিএনপি সরকারের আস্থা রাখা কঠিন ছিল। অন্তর্বর্তী সরকার শপথ নেওয়ার আগে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ করার কথা বলেছিলেন। পরে তিনি তা অস্বীকার করেন। অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়ের পর এক সাক্ষাৎকারে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে বলেছেন এবং তারেক রহমান এবং বিএনপির প্রশংসা করেছেন। রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাঁর ক্ষমতা যত সীমিতই হোক, আইনানুগভাবে তিনি অনেক কিছু করতে পারেন না। মো. সাহাবুদ্দিন তাঁর দলীয় আনুগত্যের কারণে যদি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগপ্রধান, মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে থাকেন, তাহলে রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি সংগত কাজ করেননি। এ অভিযোগ যদি সত্য না-ও হয়ে থাকে তাহলেও বিএনপি সরকার তাদের দলীয় আদর্শবিরোধী ও আস্থাভাজন নন এমন একজন ব্যক্তিকে রাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং স্পর্শকাতর পদে রেখে সার্বক্ষণিক সংশয় ও উৎকণ্ঠার মধ্যে থাকতে পারে না। অতএব তাঁকে পদত্যাগ করার পরামর্শ দিয়ে থাকলেও বিএনপি রাজনৈতিক বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছে। লেখক : যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী সিনিয়র সাংবাদিক</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://chtnews24.com/2026/07/26/%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a7%81%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a6%a6%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%97%e0%a7%87-%e0%a6%b8/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>কী চায় নতুন প্রজন্ম</title>
		<link>https://chtnews24.com/2026/04/03/%e0%a6%95%e0%a7%80-%e0%a6%9a%e0%a6%be%e0%a6%af%e0%a6%bc-%e0%a6%a8%e0%a6%a4%e0%a7%81%e0%a6%a8-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%9c%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%ae/</link>
					<comments>https://chtnews24.com/2026/04/03/%e0%a6%95%e0%a7%80-%e0%a6%9a%e0%a6%be%e0%a6%af%e0%a6%bc-%e0%a6%a8%e0%a6%a4%e0%a7%81%e0%a6%a8-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%9c%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%ae/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[adminchtnews24]]></dc:creator>
		<pubDate>Fri, 03 Apr 2026 02:55:14 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Second lead]]></category>
		<category><![CDATA[বিশেষ প্রতিবেদন]]></category>
		<category><![CDATA[শিরোনাম]]></category>
		<category><![CDATA[সাক্ষাতকার]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://chtnews24.com/?p=36671</guid>

					<description><![CDATA[ফাইজুস সালেহীন:- জেন-জি (Gen-Z) টার্মটি বাংলাদেশে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ অভ্যুত্থানের আগে খুব বেশি শোনা যেত না। সেটা ছিল ডিজিটালাইজেশনের যুগ। তখনো জেন-জিরা ছিল। তবে তখনো তারা ভালো করে গোঁফে তা দিতে শেখেনি। যদিও অনেকের ওষ্ঠাধারে গোঁফের কালো রেখা উঁকি দিয়েছিল। কেউ কেউ বিয়ে থা করে বাচ্চাকাচ্চার বাপও হয়ে গিয়েছিল। তাদের কেউ কেউ বাল্যবিবাহের [&#8230;]]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>ফাইজুস সালেহীন:- জেন-জি (Gen-Z) টার্মটি বাংলাদেশে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ অভ্যুত্থানের আগে খুব বেশি শোনা যেত না। সেটা ছিল ডিজিটালাইজেশনের যুগ। তখনো জেন-জিরা ছিল। তবে তখনো তারা ভালো করে গোঁফে তা দিতে শেখেনি। যদিও অনেকের ওষ্ঠাধারে গোঁফের কালো রেখা উঁকি দিয়েছিল। কেউ কেউ বিয়ে থা করে বাচ্চাকাচ্চার বাপও হয়ে গিয়েছিল। তাদের কেউ কেউ বাল্যবিবাহের দোষে দুষ্ট হয়ে থাকতে পারেন। আগের জেনারেশনের কাছ থেকে গাঁজা, হেরোইন, ইয়াবা ইত্যাদি মাদক সেবনও রপ্ত করেছেন হয়তো অনেকে। ইঁচড়ে পেকেছে কোনো কোনো জেন-জি। ‘শাওয়্যা’ ভাষায় স্লোগান দেওয়া বালকবালিকারা এবং রংবাজ কিশোর গ্যাংগুলো তো সেই সাক্ষ্যই দেয়। যে কিশোর সদলবলে থানায় গিয়ে অফিসারের সামনে টেবিল চাপড়ে বলেছিল, আমরা থানা জ্বালিয়ে দিয়েছিলাম, অমুক পুলিশ অফিসারকে জ্বালিয়ে দিয়েছিলাম, সে-ও ইঁচড়ে পাকা কাঁঠালকুঁড়ি বৈ তো নয়। অকালে পেকে গেলে যে আর পরিপুষ্ট কাঁঠাল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না, সে সবাই জানে। এই জেন-জিদের অনেকে আবার টিকটক করে, অনলাইনে বিজনেস জমিয়ে কামাই রোজগার ভালোই করতে শিখেছে।</p>
<p>কী চায় নতুন প্রজন্মদোষেগুণে যেমন মানুষ তেমনই একটি জেনারেশনও। আগের জেনারেশন মিলেনিয়ান, এক্স, ওয়াই, বেবিবুমার কিংবা সাইলেন্ট জেনারেশন কোনোটিই একেবারে নিষ্কলুষ বা গুণেভরা নয়। আমরা যারা ১৯৪৬ থেকে ১৯৬৪ সালের মধ্যে জন্মেছি তারা নাকি বেবিবুমার জেনারেশন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে আমেরিকার অর্থনীতি ফুলেফেঁপে উঠতে শুরু করেছিল। সেই সময়টায় মানুষ অধিকারসচেতন হয়ে ওঠে। ঔপনিবেশিক শাসনের শৃঙ্খল ভেঙে স্বাধীনতা লাভ করতে শুরু করে পরাধীন দেশগুলো। এই জেনারেশন পরিশ্রমী, উদ্যমী ও চিন্তাশীল। এরা বিশ্বাস করে সিম্পল লিভিং অ্যান্ড হাই থিংকিং দর্শনে। এদের তথ্যপ্রবাহের বাহন ছিল রেডিও-টেলিভিশন, টেলিফোন-টেলিপ্রিন্টার ও সংবাদপত্র। এদের বয়স এখন কমপক্ষে ৬২ এবং সর্বোচ্চ ৮০। এদের ব্র্যান্ডিং করে বিভ্রান্ত করা অত সহজ নয়। না বিদেশে, না দেশে। কিছু সময়ের জন্য ভ্রান্তির বেড়াজালে আটকা পড়লেও অচিরেই সেই বিভ্রম কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছে এই বুমার প্রজন্ম। অনুরূপ বৈশিষ্ট্যের অধিকারী আগের সাইলেন্ট জেনারেশন (যাদের জন্ম ১৯২৮-১৯৬৩) এবং পরের এক্স (১৯৬৪-১৯৮০) জেনারেশন। সেজন্যই ’৪৭-এর ভুলের সংশোধনের জন্য তারা একযোগে জেগে উঠেছিলেন ১৯৪৮ সালেই। ভাষা আন্দোলনের সূত্রপাত করেন তারা সে বছরই। আইউব খানের ধোঁকায় পড়ে মৌলিক গণতন্ত্রের বড়ি গিলে ’৬৯ সালে এসে গণ অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তা উগরে দিতে পেরেছিলেন। কিন্তু তারা নিজেদের গায়ে কোনো জেনারেশনের মার্কা সেঁটে দেননি। কে কোন জেনারেশন, কী নাম তার জেনারেশনের, সেই চিন্তা তাদের মাথায় আসেনি। তারা কেবল জানতেন সব মানুষের রক্তের রং লাল, অধিকার ও স্বাধীনতার স্বাদও একই রকম। তারা নিজেদের ব্র্যান্ডিং করেননি। ব্র্যান্ডিং বা মার্কার দিয়ে চিহ্নিত করার ধারণা হাইলি কমার্শিয়াল। অতীতের রাজনীতি, আর যা-ই হোক কমার্শিয়াল ছিল না। বড় বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের প্রোডাক্টের বাণিজ্যিক পসারের লক্ষ্যে ব্র্যান্ডিং করার দায়িত্ব পালন করে অ্যাডভারটাইজিং ফার্মগুলো। কনসালটেন্টরাও এই কাজ করে থাকেন পরামর্শ দেওয়ার মাধ্যমে। অতীতে সমাজচিন্তা বা রাজনীতি-কোনোটাই বাণিজ্যিক ছিল না। কাজেই ব্র্যান্ডিংয়ের চিন্তা কারও মাথায় আসেনি।</p>
<p>বাংলাদেশের রাজনীতিতে ব্র্যান্ডিংয়ের ধারণাটি এসেছে সম্ভবত এনজিও-ওয়ালাদের মাথা থেকে। আর এই চিন্তাটিকে কার্যে পরিণত করে এনসিপি নামক নবীন দলটি। দল গঠনের আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা থাকা অবস্থায়ই তারা জেন-জি টার্মটি ব্যবহার করতে শুরু করেন। এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ড. ইউনূস সরকারের উপদেষ্টা হয়ে জেন-জির জন্য টেলিটকের একটা আলাদা প্যাকেজও চালু করেছিলেন। এনসিপির নেতাদের প্রায় সবাই জি (ত) জেনারেশনের। সে হিসাবে তারা নিজেদের জি জেনারেশনের প্রতিনিধি বিবেচনা করে থাকেন। মহান জাতীয় সংসদেও একজন সোচ্চার কণ্ঠে বলেছেন যে তিনি জেন-জিদের প্রতিনিধি এবং জে-জিরা বাহাত্তরের সংবিধান চায় না। সত্যিই কি তারা তা চায় না! না! হলফ করে বলতে পারি; এই কথা মিথ্যার চেয়েও কঠিন মিথ্যা। ডাহা মিথ্যা। এনসিপি নামক দলটিও জি জেনারেশনের সবার প্রতিনিধিত্ব করে না। বড় জোর ৩ বা সোয়া ৩ শতাংশ জেন-জির প্রতিনিধিত্ব করে মাত্র। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে এনসিপি সারা দেশে কুড়িয়ে বাড়িয়ে ৩.০৫ শতাংশ ভোট পেয়েছে। অথচ দেশে জেন-জি জনসংখ্যা ৫-৬ কোটি। শতকরা হিসাবে ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ। এই বিপুল জনগোষ্ঠীর অতি ক্ষুদ্র একটি অংশ এনসিপির সঙ্গে যুক্ত। পক্ষান্তরে এই প্রজন্মের বিরাট এক অংশ জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী। আওয়ামী লীগের মতাদর্শের অনুসারী জি প্রজন্মের সংখ্যাও বিপুল। সিপিবিসহ বিভিন্ন বাম দলের ইয়াং কমরেডের সংখ্যাও কম নয়। এনসিপি ও ছাত্রশিবিরের কর্মী-সমর্থক মিলিয়ে ৩ কি সাড়ে ৩ পার্সেন্ট জেন-জি তাদের পিতৃপার্টির প্ররোচনায় বাহাত্তরের সংবিধান ছুড়ে ফেলার পক্ষপাতী হলে হতেও পারেন। কিন্তু বাকি ৩৩ শতাংশ নবীন-নবীনা রক্ত¯œাত মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত স্বাধীনতা, স্বাধীনতার দলিল বাহাত্তরের সংবিধান, সংবিধান নির্দেশিত লাল-সবুজের পতাকা ও জাতীয় সংগীতকে মনপ্রাণ দিয়ে ভালোবাসেন। এই ভালোবাসা হৃদয়নিসৃত; সহজাত-কৃত্রিম বা লোকদেখানো নয়। বাহাত্তরের সংবিধান যারা ছুড়ে ফেলতে চান, জাতীয় সংগীত বাজানোর সময় যারা বসে থাকেন, তারা শহীদ মিনারে, জাতীয় স্মৃতিসৌধে গিয়ে লোকের চোখে ধুলা দিতে পারেন। কিন্তু দেশ ও দেশের সংবিধানের প্রতি তরুণ প্রজন্মের ভালোবাসায় কোনো ধুলাময়লা নেই।</p>
<p>জুলাই সনদের দোহাই দিয়ে যারা বাহাত্তরের সংবিধান ছুড়ে ফেলতে চান তারা আসলে কী চান! অবশ্য আনকাট জুলাই সনদ, গণভোট ইত্যাদি এখন পাস্ট ট্যানস-অতীতকালের ঘটনা। সে অর্থে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে গেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ যথার্থই বলেছেন ‘জুলাই সনদ অন্তর্বর্তী সরকারের অন্তহীন প্রতারণার দলিল।’ বস্তুত এই জুলাই সনদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ব্রেইন চাইল্ড। এই সনদের মাধ্যমে তিনি ও তাঁর অনুসারীরা ইতিহাস রিসেট করতে চেয়েছিলেন। সাতচল্লিশের পরে চব্বিশ। মাঝখানে আর কোনো ইতিহাস নেই, থাকবে না। এনসিপি-জামায়াত জোটভুক্ত ১১ দলের নেতারা এই রাজনৈতিক ধারার মুখ বা মুখপাত্র। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের এই মিশন ইউটোপিয়া কবে থেকে শুরু হয়েছিল, তা বলা মুশকিল। তবে নব্বই দশকের শুরুতে রাজনৈতিক দল গঠনের (তাঁর নিজের ভাষায়) দিবাস্বপ্ন দেখার সময় থেকেই হয়তো মিশনটি শুরু হয়েছিল। ওয়ান-ইলেভেনের সরকারের সময়েও তিনি তাঁর মিশন নিয়ে সক্রিয় হয়েছিলেন। তখন তিনি নাগরিক শক্তি নামে একটি পার্টি গঠনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন।</p>
<p>শেখ হাসিনা এই নোবেল লরিয়েটকে হয়তো ঠিকই চিনতে পেরেছিলেন। কিন্তু তিনি তাঁকে মোকাবিলা করতে চেয়েছিলেন স্বৈরাচারী পন্থায়। তদুপরি তিনি বিরুদ্ধ মতের প্রতি না ছিলেন সহিষ্ণু, না ছিলেন প্রিয়ভাষিণী। বস্তুত স্তাবক পরিবেষ্টিত শেখ হাসিনা তৈল স্রোতে ভাসতে ভাসতে কূল হারিয়ে ফেলেছিলেন। তিনি দেশটাকে পৈতৃক সম্পত্তি ভাবতে শুরু করেছিলেন। জাতির জনক আর ব্যক্তি শেখ হাসিনার পিতার মধ্যকার প্রভেদরেখাটি তিনি মুছে দিয়েছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে পাওয়া সংবিধানকে তিনি রাফখাতা বানিয়ে ফেলতে চেয়েছিলেন পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে। তৈলসিক্ত শেখ হাসিনা যখন অহেতুক আত্মপ্রসাদে নিমগ্ন নার্সিসিস্ট, তখন অনিবার্য পরাজয় এসে তাঁর দম্ভ উড়িয়ে দেয়। তাঁকে পালিয়ে যেতে হলো। এর মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হলো; হোয়াট ইজ লটেড ক্যান নট বি ব্লটেড। অতঃপর মঞ্চে প্রবেশ করলেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি যেন বা হয়ে উঠতে চাইলেন জাতির কাঁধে চেপে বসা সিন্দাবাদের বুড়ো দৈত্য। যে ছদ্মবেশী ক্ষুধার্ত বুড়োর হাঁটুতে প্রচ- শক্তি ছিল। সিন্দাবাদ সেই বুড়োকে যতবার কাঁধ থেকে নামাতে চেয়েছে ততবার বুড়ো দুই হাঁটু দিয়ে টুঁটি চেপে ধরেছে সিন্দাবাদের। অবশেষে কৌশলে নামাতে হয়েছিল সেই বুড়ো দৈত্যটিকে।</p>
<p>ক্ষমতা পাওয়ার পর ড. ইউনূস তাঁর মিশন বাস্তবায়নের জন্য আমেরিকা থেকে ডেকে আনেন আলী রীয়াজকে। ডেকে নিলেন চৌকশ এনজিও সংগঠকদের। রাতারাতি তাঁরা হয়ে উঠলেন সংবিধান বিশেষজ্ঞ। তাঁদের কাজ হলো এমন একটি সনদ বানানো যা দিয়ে একটি অক্ষম পার্লামেন্ট গঠন করতে পারা যাবে, যে পার্লামেন্ট হবে রাবার স্ট্যাম্পেরও অধম। সেই পার্লামেন্টের চোখের সামনে দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ মিথ্যা হয়ে যাবে, ২৫ মার্চের কালরাত, ২৬ মার্চ, ১৬ ডিসেম্বরের বিজয়-সব ডিলিট হয়ে যাবে। পার্লামেন্ট শুধু চেয়ে চেয়ে দেখবে। কিন্তু সেটা হলো না। বিএনপি রুখে দিল।</p>
<p>মুক্তির সনদ বাহাত্তরের শাসনতন্ত্র সমুন্নত থাকুক। সময়ের প্রয়োজনে দরকারি পরিবর্তন-পরিমার্জন হবে, সেও স্বাভাবিক।</p>
<p>বিএনপি যে নৈতিক শক্তি দিয়ে শাসনতন্ত্রের সুরক্ষা করছে, সেই শক্তি নিয়ে সব ধরনের বিকৃতির হাত থেকে ইতিহাসকেও বাঁচাতে হবে। পুরাতন ইতিহাস মেরামত করার কাজ কোনো সরকার বা রাজনৈতিক দলের নয়। তারা নিজেদের কাজের মধ্য দিয়ে নতুন ইতিহাস তৈরি করে। আর ইতিহাস নিজে বয়ে যায় আপন বেগে।<br />
♦ লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://chtnews24.com/2026/04/03/%e0%a6%95%e0%a7%80-%e0%a6%9a%e0%a6%be%e0%a6%af%e0%a6%bc-%e0%a6%a8%e0%a6%a4%e0%a7%81%e0%a6%a8-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%9c%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%ae/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>শেষবেলায় কেন ইমেজ সংকটে সরকার</title>
		<link>https://chtnews24.com/2026/02/07/%e0%a6%b6%e0%a7%87%e0%a6%b7%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%af%e0%a6%bc-%e0%a6%95%e0%a7%87%e0%a6%a8-%e0%a6%87%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%9c-%e0%a6%b8%e0%a6%82%e0%a6%95%e0%a6%9f%e0%a7%87/</link>
					<comments>https://chtnews24.com/2026/02/07/%e0%a6%b6%e0%a7%87%e0%a6%b7%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%af%e0%a6%bc-%e0%a6%95%e0%a7%87%e0%a6%a8-%e0%a6%87%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%9c-%e0%a6%b8%e0%a6%82%e0%a6%95%e0%a6%9f%e0%a7%87/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[adminchtnews24]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 07 Feb 2026 02:26:48 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Second lead]]></category>
		<category><![CDATA[শিরোনাম]]></category>
		<category><![CDATA[সাক্ষাতকার]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://chtnews24.com/?p=35756</guid>

					<description><![CDATA[অদিতি করিম:- ১৮ মাস বয়সি অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়ের আয়োজন চলছে। গত বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকের পর প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব বলেছেন, নির্বাচনের পর নবনির্বাচিত প্রতিনিধিদের শপথ গ্রহণের পরপরই ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে এবং এ প্রক্রিয়া কোনোভাবেই ১৭ বা ১৮ ফেব্রুয়ারির পর যাবে না। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা জানিয়েছেন, অনেক উপদেষ্টা কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন। কিন্তু সরকারের বিদায়বেলায় [&#8230;]]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>অদিতি করিম:- ১৮ মাস বয়সি অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়ের আয়োজন চলছে। গত বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকের পর প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব বলেছেন, নির্বাচনের পর নবনির্বাচিত প্রতিনিধিদের শপথ গ্রহণের পরপরই ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে এবং এ প্রক্রিয়া কোনোভাবেই ১৭ বা ১৮ ফেব্রুয়ারির পর যাবে না। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা জানিয়েছেন, অনেক উপদেষ্টা কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন। কিন্তু সরকারের বিদায়বেলায় যেন অস্বস্তির সুর বাজছে। অন্তর্বর্তী সরকার যখন ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রস্তুতি নিচ্ছে তখন বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী এবং জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সমর্থক আনু মুহাম্মদ অন্তর্বর্তী সরকার সম্পর্কে সবচেয়ে কঠিন কথাটি বললেন। তিনি বলেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের (ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন) মাধ্যমে যারা ক্ষমতায় আসবে, তাদের দায়িত্ব হচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার কেন ও কীসের বিনিময়ে জাতীয় স্বার্থবিরোধী চুক্তিগুলো করছে, তার একটা শ্বেতপত্র প্রকাশ করা এবং এর মধ্যে যারা দায়ী, তাদের বিচারের সম্মুখীন করা। সেটা করার জন্য এই সরকারের মধ্যে যারা এসব তৎপরতা চালাচ্ছে, তারা যেন দেশ থেকে বের হতে না পারে, সেটা নিশ্চিত করতে হবে।’ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ আরও বলেন, ‘নিয়মনীতি বহির্ভূতভাবে বিভিন্ন ধরনের চুক্তি করা হচ্ছে। উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীর মুখোশ পরিয়ে এই সরকারে ইউনূস সাহেব (প্রধান উপদেষ্টা) প্রকৃতপক্ষে বিদেশি কোম্পানি এবং বিদেশি রাষ্ট্রের লবিস্টদের নিয়োগ করেছেন।’ আনু মুহাম্মদ একা নন, জুলাই আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন এমন অনেকেই এখন ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের কট্টর সমালোচক।</p>
<p>জুলাই আন্দোলনের উজ্জ্বল তারকা ছিলেন আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক। অন্তর্বর্তী সরকার তাঁকে প্রথমে সংবিধান সংস্কার কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল। কিন্তু তিনি নিজেই সেই দায়িত্ব পালনে অপারগতা প্রকাশ করেন। সারা জীবন নিরপেক্ষ এবং স্বাধীন মতপ্রকাশের জন্য আলোচিত এই সংবিধান বিশেষজ্ঞ অন্তর্বর্তী সরকারের মূল্যায়ন সেকেন্ড ডিভিশন আর থার্ড ডিভিশনের মাঝামাঝি বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি আসন্ন গণভোটকেও বাংলাদেশের নির্বাচনি ইতিহাসে সবচেয়ে বড় তামাশা হিসেবে উল্লেখ করেন।</p>
<p>আওয়ামী লীগ সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি সোচ্চার ছিল টিআইবি। দুর্নীতিবিরোধী এ সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান জুলাই আন্দোলনে ঝুঁকি নিয়ে সামনে এসে দাঁড়ান। অন্তর্বর্তী সরকারের একাধিক সংস্কারকাজে তিনি সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনেরও একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য তিনি। সেই ইফতেখারুজ্জামানই সরকারের বিরুদ্ধে এখন সবচেয়ে বেশি সোচ্চার। তাঁর ভাষ্য, এ সরকারের ইতিবাচক যে অর্জন হয়েছে, তারচেয়ে ‘ঘাটতি বা পথভ্রষ্ট হওয়ার’ উপাদানের ‘পাল্লাটা তুলনামূলক ভারী’। ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে অবাধ তথ্যের প্রবাহ, যেটি অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে ব্যাপকভাবে প্রত্যাশিত ছিল মানুষের। সরকারের অঙ্গীকারের মধ্যে ছিল, জাতির কাছে সরকার প্রধানের প্রথম যে ভাষণ ছিল, সেই ভাষণে পরিষ্কারভাবে বিষয়টির ওপরে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল।</p>
<p>‘কিন্তু সরকারি দপ্তরে আমরা দেখেছি, সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণ, নীতি ইত্যাদি ক্ষেত্রে অস্বচ্ছতা ছিল, অংশগ্রহণমূলক হয়নি এবং গোপনীয়তার সংস্কৃতি কাজ করেছে।’ সরকারের সর্বোচ্চ মহল থেকে ঘোষণা ছিল, উপদেষ্টা পরিষদ তাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত যে সেটি করা হয়নি তা মনে করিয়ে দেন তিনি।</p>
<p>নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশন নিয়ে সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করে টিআইবি নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘সেখানে সরকারের নির্লিপ্ততা বরং প্রকাশ্যে ঘোষণা দেয় যে, নারী কমিশনের প্রতিবেদন তাদের সরকারের প্রতিবেদন নয়। এই ন্যারেটিভের ফলে একদিক থেকে প্রতিবেদনের অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। অন্যদিক থেকে যারা নারী ক্ষমতায়নের প্রতিরোধক শক্তি, তাদের অতি ক্ষমতায়িত করেছে সরকার।’</p>
<p>আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে ‘সবচেয়ে দুর্বল’ জায়গা ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।</p>
<p>শেষ সময়ে জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন এবং সম্প্রচার কমিশন অধ্যাদেশকে ‘বিদায়ি পরিহাস’ আখ্যা দিয়ে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘এটি একটা লোকদেখানো পদক্ষেপ ছাড়া আর কিছুই নয়। লোকদেখানো পদক্ষেপের মাধ্যমে মিডিয়াকে আরও বেশি সরকারি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য পাঁয়তারা ছাড়া আর কিছুই নয়।’ তবে সবচেয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য তিনি করেন দুদক সংস্কার বিষয়ে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, ‘আমাদের বলা হয়েছে, শুধু আমলাতন্ত্রের একাংশ সংস্কার চায় না। কিন্তু উপদেষ্টা পরিষদের অন্তত সাতজন সদস্য তাদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এ বিষয়টি আমাদের অত্যন্ত আশাহত করেছে। সংস্কার কমিশনের জমা দেওয়া দু-একটি সুপারিশ বাস্তবায়ন হলেও এর ফলে কোনো অগ্রগতি হয়নি। বরং কিছু কৌশলগত সুপারিশ উদ্দেশ্যমূলকভাবে বাতিল করা হয়েছে।’ সম্প্রতি নিউজটোয়েন্টিফোরকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। অন্তর্বর্তী সরকারের নিষ্ক্রিয়তার সমালোচনা করে সিপিডির সম্মানীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘তাদের মনে রাখা উচিত, তারা কোনো নির্বাচিত সরকার না। বৈধ সরকার হয়তো, কিন্তু তারা নির্বাচিত সরকার না। একটি অনির্বাচিত সরকারের শাসন করার যোগ্যতা-ক্ষমতা থাকে ততক্ষণ, যখন তার নৈতিক বৈধতা থাকে। বর্তমান সরকার তার নৈতিক বৈধতা অনেক ক্ষেত্রেই হ্রাস করে ফেলেছে। জনগণ পরিষ্কারভাবে বর্তমান সরকারের ওপর আস্থার অভাবের কথা বলেছেন। বর্তমান সরকার, তার প্রশাসন, তার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দিয়ে নিরাপত্তা দিতে পারবে, এটাতে তাদের আস্থার অভাব।’ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য জুলাই আন্দোলনের পক্ষে সামনের সারিতে থাকা অর্থনীতিবিদ। তিনি অন্তর্বর্তী সরকার কর্তৃক গঠিত শ্বেতপত্র কমিটির প্রধান ছিলেন।</p>
<p>শুধু এসব বিশিষ্টজন নন, অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের কার্যক্রম নিয়ে এরকম সমালোচনা এখন জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া সুশীল সমাজের প্রায় সবার। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক থেকে উন্নয়নকর্মী, বেসরকারি উদ্যোক্তা থেকে আইনজীবী সবার কণ্ঠে হতাশার সুর। আশাহতের বেদনা সবার মাঝে। কেউ প্রকাশে?্য বলছেন, কেউবা নীরবে দীর্ঘশ্বাস ফেলছেন।</p>
<p>শুধু বাংলাদেশের সুশীল সমাজ নয়, জুলাই আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রমে হতাশ। বাংলাদেশের মানবাধিকারের নানা দিক নিয়ে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদন-২০২৬-এ বলা হয়েছে, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কিংবা প্রতিশ্রুত মানবাধিকার সংস্কারে ব্যর্থ হয়েছে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার।</p>
<p>শেষ বেলায় এসে অন্তর্বর্তী সরকারের তাড়াহুড়ো করে বিভিন্ন চুক্তি করা নিয়েও জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনের যেখানে মাত্র আর কয়েক দিন বাকি রয়েছে, তখন শুল্ক ইস্যুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি এবং চীন-জাপানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তিসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে চুক্তি ও সমঝোতার উদ্যোগ নিয়ে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার তাড়াহুড়ো করছে কি না এমন প্রশ্ন উঠেছে।</p>
<p>এই সময় একটি বিদায়ি সরকারের এমন সব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত না নিয়ে নির্বাচিত একটি সরকারের জন্য অপেক্ষা করা যেত কি না এমন আলোচনাও চলছে।</p>
<p>অথচ এ সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছিল বিপুল জনসমর্থন নিয়ে। সব শ্রেণির মানুষ ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারকে সমর্থন করেছিল। আমরা আশায় বুক বেঁধেছিলাম। কিন্তু এই আশা এখন হতাশায় রূপ নিয়েছে। জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা এই সরকার বিদায় নিচ্ছে নানা প্রশ্ন নিয়ে। এক ধরনের ইমেজ সংকটে। তবে এ সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করা। আর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এটাই এ সরকারের শেষ পরীক্ষা। শেষ পর্যন্ত যদি সরকার একটি বিতর্কহীন, সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে সফল হয়, তাহলে এ দেশের মানুষ সব ভুলে যাবে। সব ভালো যার শেষ ভালো তার- এ কথাটি অন্তর্বর্তী সরকারের বেলায় সবচেয়ে বেশি প্রযোজ্য। প্রধান উপদেষ্টা বারবার দেশের জনগণের কাছে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বলেছেন, এ নির্বাচন হবে বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বকালের সেরা নির্বাচন। সত্যিই যদি তিনি সেটি করতে পারেন, তাহলে এই সরকারের বিদায় হবে রাজসিক, গৌরবের। কিন্তু সেটি না করতে পারলে এ সরকারকেও ইতিহাস ক্ষমা করবে না। কারণ ইতিহাস বড় নিষ্ঠুর, নির্মম।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://chtnews24.com/2026/02/07/%e0%a6%b6%e0%a7%87%e0%a6%b7%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%af%e0%a6%bc-%e0%a6%95%e0%a7%87%e0%a6%a8-%e0%a6%87%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%9c-%e0%a6%b8%e0%a6%82%e0%a6%95%e0%a6%9f%e0%a7%87/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধে সরকার শিগগিরই পদক্ষেপ নেবে</title>
		<link>https://chtnews24.com/2025/02/08/%e0%a6%86%e0%a6%93%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a7%80-%e0%a6%b2%e0%a7%80%e0%a6%97-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b7%e0%a6%bf%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%a7%e0%a7%87-%e0%a6%b8%e0%a6%b0%e0%a6%95/</link>
					<comments>https://chtnews24.com/2025/02/08/%e0%a6%86%e0%a6%93%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a7%80-%e0%a6%b2%e0%a7%80%e0%a6%97-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b7%e0%a6%bf%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%a7%e0%a7%87-%e0%a6%b8%e0%a6%b0%e0%a6%95/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[adminchtnews24]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 08 Feb 2025 02:58:09 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[বাংলাদেশ]]></category>
		<category><![CDATA[রাজনীতি]]></category>
		<category><![CDATA[শিরোনাম]]></category>
		<category><![CDATA[সাক্ষাতকার]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://chtnews24.com/?p=27667</guid>

					<description><![CDATA[ডেস্ক রির্পোট:- স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন (এলজিআরডি) ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার ব্যাপারে বর্তমান সরকার শিগগিরই পদক্ষেপ নেবে। তিনি বলেন, প্রথমত এটা অত্যন্ত ইতিবাচক যে, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করার ব্যাপারে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও এক ধরনের ‘ঐকমত্য’ তৈরি হচ্ছে। দেশের মানুষ তৎকালীন ক্ষমতাসীন ওই দলের [&#8230;]]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>ডেস্ক রির্পোট:- স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন (এলজিআরডি) ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার ব্যাপারে বর্তমান সরকার শিগগিরই পদক্ষেপ নেবে। তিনি বলেন, প্রথমত এটা অত্যন্ত ইতিবাচক যে, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করার ব্যাপারে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও এক ধরনের ‘ঐকমত্য’ তৈরি হচ্ছে। দেশের মানুষ তৎকালীন ক্ষমতাসীন ওই দলের অগণতান্ত্রিক এবং একগুয়েমি মনোভাব ও কার্যকলাপ মেনে নিতে পারেনি বলেই ৫ই আগস্টের আগে ও পরে তাদের মধ্যে দলটি নিষিদ্ধ করার বিষয়ে ‘ঐকমত্য’ প্রতিষ্ঠিত হয়। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এমন ঐকমত্য তৈরি হলে সরকারের জন্য যেকোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা সহজ হবে। আসিফ মাহমুদ বার্তা সংস্থা বাসস’র সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন।</p>
<p>রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার ব্যাপারে সরকার সহসাই কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, আমি মনে করি, সাধারণ মানুষ কিংবা রাজনৈতিক দল; যে বা যারাই হই না কেন, আমরা এদেশের জনগণকে ‘রিপ্রেজেন্ট’ করি। ফলে ৫ই আগস্টের পরে জনগণের যে আকাঙ্ক্ষা ও চাওয়ার জায়গা আছে, সেগুলোকে প্রাধান্য দেয়াটাই আমাদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। সে জায়গা থেকে বিএনপি’র পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের যে দাবি উঠেছে, আমি বিষয়টিকে সাধুবাদ জানাতে চাই।</p>
<p>অন্তর্বর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বলেন, বিচারিক প্রক্রিয়া ছাড়াও ৪টি আইন রয়েছে, যেখানে সরকার নির্বাহী আদেশে যেকোনো দলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে। তবে এটার লিগ্যাল ফ্রেমওয়ার্কটা (আইনি কাঠামো) কী হবে, এ বিষয়ে সরকার এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। তিনি বলেন, বিচারিক প্রক্রিয়ায় স্বাভাবিক ভাবেই জুলাই-আগস্টের গণহত্যার সঙ্গে স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হওয়ার কথা। সেক্ষেত্রে আওয়ামী লীগকে দলীয়ভাবে নিষিদ্ধ করা, নিবন্ধন বাতিল করাসহ যেকোনো ব্যবস্থা সরকার গ্রহণ করতে পারে। তবে বিষয়টি যেহেতু আইনের বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত, সেক্ষেত্রে সরকার প্রয়োজনীয় সকল প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করার বিষয়ে একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসবে। তিনি বলেন, আমি আশ্বস্ত করতে চাই, বাংলাদেশের জনগণের চাওয়ার প্রতিফলন ঘটাতে সরকার এ ব্যাপারে দ্রুতই পদক্ষেপ নেবে।</p>
<p>জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীদের নতুন রাজনৈতিক দল গঠন প্রসঙ্গে সরকারের এই উপদেষ্টা বলেন, ৫ই আগস্টের পরিবর্তনের পরে আমরা একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করেছি। একটি গণ-অভ্যুত্থান যারা ঘটায়, পরবর্তী প্রক্রিয়ার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা না থাকার কারণে আমরা অতীতে দেখেছি যে, অভ্যুত্থানের অর্জনগুলো সব নষ্ট হয়ে যায়। তিনি বলেন, নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের পরেও মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এ বিষয়গুলো বিবেচনা করেই যারা স্বৈরাচার হটানোর আন্দোলনে অগ্রভাগে নেতৃত্ব দিয়েছে তারা একটি দল গঠনের চিন্তা করেছে। তাছাড়া ৫ই আগস্টের পর গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেয়া অনেকেই কোনো রাজনৈতিক ব্যানারে যায়নি।</p>
<p>আসিফ বলেন, বর্তমানে তাদের ভেতরেও রাষ্ট্র গঠনের স্পৃহা তৈরি হয়েছে। এই শক্তিটাকে সংহত করার জন্য একটা রাজনৈতিক দলের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দল গঠনের সিদ্ধান্ত হলেও এ দলের কোনো নাম এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয়ার্ধে নতুন দলটির আত্মপ্রকাশের বিষয়ে চিন্তা করা হচ্ছে বলে এখন পর্যন্ত জানতে পেরেছি।’</p>
<p>ছাত্রদের নতুন দলে সরকারের কোনো প্রতিনিধি থাকবে কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে আসিফ মাহমুদ বলেন, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে আমাদের নীতিগত অবস্থান হলো- বর্তমান সরকারে ছাত্র প্রতিনিধি যারা আছেন তাদের মধ্যে থেকে কেউ যদি রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করেন, সেক্ষেত্রে তাদের সরকারে থাকাটা ঠিক হবে না। কেউ যদি সেই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যায় তো অবশ্যই সরকার থেকে পদত্যাগ করে তবেই সেখানে যাবে।</p>
<p>কারণ, এ সরকার একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করার দায়িত্ব নিয়েছে। পাশাপাশি দেশের সংস্কার এবং ফ্যাসিস্টদের বিচার কাজ শেষ করার দায়িত্বও তাদের ওপর অর্পিত রয়েছে। সেক্ষেত্রে কোনো ধরনের ‘কনফ্লিক্ট’ যেন তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থেকেই সকল সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।</p>
<p>জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেয়া শিক্ষার্থীদের নতুন রাজনৈতিক দলে তিনি থাকবেন কিনা এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেননি জানিয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি ভাবিনি। কিছু বিষয় পর্যালোচনা করছি। সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলে সবাই জানতে পারবে।’<br />
সরকার চায় সংস্কার, রাজনৈতিক দলগুলো চায় নির্বাচন, এক্ষেত্রে বিষয় দুইটি সাংঘর্ষিক হয়ে যাচ্ছে কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে এলজিআরডি উপদেষ্টা বলেন, না, মোটেই সাংঘর্ষিক নয়। এ বিষয়গুলোর পুরোটাই আমাদের সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করে।<br />
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই সরকার স্পষ্টই একটি ইতিবাচক রাজনৈতিক কাঠামো নির্মাণের দায়িত্ব নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। ৫ই আগস্টের পরে মানুষের মধ্যে এই মনোভাবই ছিল যে- যেকোনো একটি রাজনৈতিক দলকে যদি ক্ষমতায় বসিয়ে দেয়া হয়, তবে সেও ওই একই গতানুগতিক ধারায় কাজ করবে। তবে এসব বিষয়ে অনেকগুলো চ্যালেঞ্জ এই সরকারও ফেস করছে। কারণ সমাজের প্রত্যেকটি কাঠামোতেই স্বৈরাচারের দোসররা রয়ে গেছে।</p>
<p>আসিফ মাহমুদ সংস্কার কমিশন যে ৬ রিপোর্ট দেয়া হয়েছে প্রসঙ্গটি উল্লেখ করে বলেন, এই রিপোর্টগুলো যথাযথ স্টেকহোল্ডারের কনসালটেশনের মাধ্যমে বাস্তবায়নের মধ্যদিয়েই একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাঠ তৈরি হতে পারে।</p>
<p>তিনি আরও বলেন, ‘যে রাজনৈতিক দলগুলো শেখ হাসিনার সময় বলে আসছিল, বিদ্যমান কাঠামোতে নির্বাচন সম্ভব নয়, তারা এখন আবার একই বিদ্যমান কাঠামোতে নির্বাচনের কথা কোন গ্রাউন্ড থেকে বলছে এটা আমার কাছে স্পষ্ট নয়। সেটাও তাদেরকে স্পষ্ট করতে হবে। একই সংবিধান, আইনকানুন রেখে নির্বাচন করলে সেটা স্বৈরাচার শেখ হাসিনার আমলের নির্বাচন থেকে কতোটা আলাদা হবে সেটা আমার বোধগম্য নয়।’</p>
<p>যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা যদি সংস্কার ছাড়া নির্বাচন করে কোনো দলের হাতে ক্ষমতা দিয়ে দিই, তাদের জন্য সরকার চালানো কঠিন হবে। এ কারণেই ছয়টা সংস্কার কমিশনকে প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে। কারণ, এগুলো শাসনতান্ত্রিক। বাকি সংস্কারগুলো জনস্বার্থমূলক। সেগুলোও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সুতরাং আমরা মনে করি, এখানে মিনিংফুল সংস্কারের মাধ্যমেই নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত হতে পারে এবং সংস্কার কার্যক্রম ও আওয়ামী লীগের দৃশ্যমান বিচারের মাধ্যমেই নির্বাচনের ক্ষেত্র প্রস্তুত হবে।’</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://chtnews24.com/2025/02/08/%e0%a6%86%e0%a6%93%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a7%80-%e0%a6%b2%e0%a7%80%e0%a6%97-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b7%e0%a6%bf%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%a7%e0%a7%87-%e0%a6%b8%e0%a6%b0%e0%a6%95/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>সাবেক ‘র’ কর্মকর্তার চোখে বাংলাদেশের অভ্যুত্থান</title>
		<link>https://chtnews24.com/2025/02/07/%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%95-%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ae%e0%a6%95%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%9a%e0%a7%8b%e0%a6%96/</link>
					<comments>https://chtnews24.com/2025/02/07/%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%95-%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ae%e0%a6%95%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%9a%e0%a7%8b%e0%a6%96/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[adminchtnews24]]></dc:creator>
		<pubDate>Fri, 07 Feb 2025 03:58:48 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[বিশেষ প্রতিবেদন]]></category>
		<category><![CDATA[শিরোনাম]]></category>
		<category><![CDATA[সাক্ষাতকার]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://chtnews24.com/?p=27640</guid>

					<description><![CDATA[ডেস্ক রির্পোট:- ৫ই আগস্ট, ২০২৪। কার ভুল, কার ক্ষতি। এর পাশাপাশি বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্র, ভারতের ভূমিকা এবং বাংলাদেশের বাস্তবতা বিশ্লেষণ করেছেন ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা র-এর সাবেক স্পেশাল সেক্রেটারি অমিতাভ মাথুর। তিনি ইন্ডিয়া’স ওয়ার্ল্ড নামের আউটলেটকে দেয়া এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে এসব নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন। ইন্ডিয়া’স ওয়ার্ল্ডের সম্পাদকীয় উপদেষ্টা পরিষদের চেয়ারম্যান সুপরিচিত কলামনিস্ট, সাংবাদিক সি রাজা মোহন। ইন্ডিয়া’স [&#8230;]]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>ডেস্ক রির্পোট:- ৫ই আগস্ট, ২০২৪। কার ভুল, কার ক্ষতি। এর পাশাপাশি বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্র, ভারতের ভূমিকা এবং বাংলাদেশের বাস্তবতা বিশ্লেষণ করেছেন ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা র-এর সাবেক স্পেশাল সেক্রেটারি অমিতাভ মাথুর। তিনি ইন্ডিয়া’স ওয়ার্ল্ড নামের আউটলেটকে দেয়া এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে এসব নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন। ইন্ডিয়া’স ওয়ার্ল্ডের সম্পাদকীয় উপদেষ্টা পরিষদের চেয়ারম্যান সুপরিচিত কলামনিস্ট, সাংবাদিক সি রাজা মোহন। ইন্ডিয়া’স ওয়ার্ল্ডের মালিকানা দিল্লিভিত্তিক প্রতিষ্ঠান প্যাক্সএনালাইসিস (ওপিসি) প্রাইভেট লিমিটেড। ‘র’ কর্মকর্তা অমিতাভ মাথুরের সাক্ষাৎকারটি প্রকাশিত হয়েছে ইন্ডিয়া’স ওয়ার্ল্ডে। এখানে পাঠকের সুবিধার জন্য তা প্রশ্নোত্তর আকারে তুলে ধরা হলো।<br />
প্রশ্ন: বর্তমানে বাংলাদেশে যে কথিত নতুন বাস্তবতা, তাকে আপনি কীভাবে দেখেন?<br />
অমিতাভ মাথুর: আগেও দেখা গেছে এমন এক অনুভূতি। ১৯৭৫ সালে আমরা এমনটা দেখেছি। তখন শেখ মুজিবের সাক্ষ্য বহন করতো এমন সবকিছুকে পুরোপুরি অস্বীকার করা হয়েছিল। আর এখন ২০২৪ সালে এসে সেটা দেখেছি। এটা শুধু শেখ হাসিনাকে প্রত্যাখ্যানই নয়। আরও একবার শেখ মুজিবকে প্রত্যাখ্যান করা। আপনি দেখেছেন বাংলাদেশে সম্ভবত দু’টি বড় পরিচয় আছে। এর উৎস কেউ খুঁজে পেতে পারেন ১৯৪৭ সালে। যদিও উত্তর দিকে আমাদের বিভক্তির ইতিহাস সুপরিচিত। তবে বৃটিশরা সাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতে পূর্বদিকটাকে ভাগ করেছিল। তার আগে উত্তর থেকে যে ভয়াবহতা ঘটেছিল তা উত্তরের খুব কম মানুষেরই জানা বা পড়া। ১৯০৫ সালে ঢাকায় গঠন করা হয় মুসলিম লীগ। ১৯৪০-এর দশকে এ অঞ্চলে বার বার দাঙ্গার সঙ্গে মিশে যায় দুর্ভিক্ষ। ১৯৪১, ’৪৬, ’৪৭ (দেশভাগ), ’৪৮ এবং ’৫০। মহাত্মা গান্ধী কলকাতা ও নোয়াখালীতে অনশন করেন। এই নোয়াখালী এখন বাংলাদেশে। সাম্প্রদায়িকতাকে আরও বাড়িয়ে তোলা হয়েছিল। কারণ, পূর্ব বাংলায় (বা পূর্ব পাকিস্তানে) শতকরা ৯৫ ভাগ জমিদার ছিলেন হিন্দু। তাদের অধীনে যেসব মানুষ ছিলেন তারা ছিলেন মুসলিম। ফলে দেশভাগ থেকে একটি পরিচয় ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করে।<br />
এরপর আমরা ১৯৭১ সালে বাঙালি পরিচয় পাই। এটা ছিল পাকিস্তানের ভেতরে ভাষা আন্দোলনের ফল। এর মধ্যদিয়ে ইসলামিক পরিচয়কে অস্বীকার করা হয়নি। কিন্তু প্রাথমিকভাবে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এটাকে তাদের বাঙালি পরিচয় হিসেবে দেখা হয়। বাঙালি সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে গর্বভরে জোর দেয়। দীর্ঘ সময় এই দু’টি পরিচয়ের মধ্যে সংঘাত চলছে। আমরা ওইসব ঘটনা এমনকি ১৯৭১ সালে যা ঘটেছিল তা ভুলে যেতে চাই। ওই সময় পাকিস্তানের সঙ্গে থাকার পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন শতকরা ৩৫ থেকে ৪০ ভাগ বাংলাদেশি। তাই কয়েক দফা পটপরিবর্তনের পর বিএনপিকে দেখা যেতে পারে সম্ভবত তাদের উত্তরসূরি হিসেবে। একই সঙ্গে ১৯৭১ সালের বাঙালি পরিচয়টা জটিল হয়ে পড়ে (আওয়ামী লীগের সুবিধার বাইরে)। হ্যাঁ, এর মধ্যে আছেন ধর্মনিরপেক্ষ (সেক্যুলার) মুসলিম ও হিন্দুরা। এর মধ্যে আরও আছেন বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মতো সামরিক মুক্তিযোদ্ধা। ফলে ২০২৪ সালে ক্ষমতার পালাবদলের পর আমরা নতুন এক বাস্তবতার মুখোমুখি। আমি এটাকে দেখি পরিচয়ের অব্যাহত পরিবর্তন ও সংঘাত হিসেবে। এটা বাংলাদেশে কয়েক দশক ধরে চলছে এবং সম্ভবত তা অব্যাহত থাকবে।</p>
<p>প্রশ্ন: তাৎক্ষণিক সুনির্দিষ্ট পরিস্থিতি, অনুঘটকের মতো, যেটাকে বিগত প্রশাসনের অধীনে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ব্যর্থতা বলা যায়?<br />
উত্তর: আপনি একদম ঠিক। ১৯৭৫ সালে মুজিবের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান ঘটেছিল তার অপশাসনের কারণে। অনেক বিষয় ছিল তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে। কিন্তু বহু সমস্যা তিনি নিজে সৃষ্টি করেছেন। যেমন তার স্বৈরাচারী ধারা- তিনি সব রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করেছিলেন এবং ব্যবহার করেছিলেন মিলিশিয়াদের।<br />
তার (মুজিব) ভুল পদক্ষেপের পুনরাবৃত্তি করেন শেখ হাসিনা। তার সময়ে আপনি ঠিকই বলেছেন- ২০১৯ সাল পর্যন্ত সবকিছু ভালোই চলছিল। তারপর কোভিড হলো। যখন আমরা তা থেকে মুক্তি পেলাম, তখন ইউক্রেন ঘটলো। তারপর মধ্যপ্রাচ্য ঘটলো। আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট এবং অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে সব কিছু ভালো চলছিল মানে হলো তিনি ২০১৯ সাল পর্যন্ত ভালো চালাতে পেরেছেন। কিন্তু ২০২৪ সালে এসে তা আর ধরে রাখতে সক্ষম হননি।<br />
প্রশ্ন: বর্তমানে বাংলাদেশে যে অবস্থার উদ্ভব ঘটছে তাতে ভারতের জন্য বাস্তবে নিরাপত্তা উদ্বেগ কি?<br />
উত্তর: মিলিট্যান্টস অথবা উত্তর-পূর্ব ভারতের বিদ্রোহীরা সেখানে (বাংলাদেশে) পা রাখার বিষয়ে আলোচনা করেন সবাই। অবশ্যই এটা একটা বাস্তবতা। যদি ঢাকায় শত্রুভাবাপন্ন সরকার থাকে, তাহলে (ওইসব মিলিট্যান্টদের) জন্য সহায়ক হতে পারে তারা। অতীতে এমন ঘটনা ঘটেছে। জিয়ার সময়ে হয়েছে। এরশাদের সময়ে হয়েছে। এমনকি বিএনপি’র দ্বিতীয় প্রশাসনিক মেয়াদের সময়ে হয়েছে। যাহোক সবচেয়ে বড় সমস্যা হতে পারে সাম্প্রদায়িক সমস্যা, যা আমাদের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক এজেন্ডাকে কাজে লাগায়। বাংলাদেশের হিন্দুদের সঙ্গে যদি অসদাচরণ করা হয়, তাহলে এখানে (ভারত) উত্তেজনা দেখা দেয়। সাম্প্রদায়িকতা আসলে আরেকটা সাম্প্রদায়িকতাকে রসদ যোগায়। অন্য কথায় আমাদের রাজনৈতিক গতিবিধিতে বিঘ্ন ঘটানোও একটি বাস্তব নিরাপত্তা হুমকি। উপরন্তু, বাংলাদেশ যদি অর্থনৈতিকভাবে ভালো পারফর্ম করতে না পারে, তাহলে ভারতে অভিবাসীরা ছুটে আসবেন। আমাদের দেশে আর কোনো মানুষকে আমরা নিতে পারি না। আমাদের নিজেদের জন্যই পর্যাপ্ত সম্পদ নেই। এটা একটা নিরাপত্তা উদ্বেগ।<br />
প্রশ্ন: চীন এবং পাকিস্তানকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা অথবা ভূরাজনৈতিক হিসাবনিকাশের অংশ হিসেবে কীভাবে দেখেন এবং বাংলাদেশে বর্তমানে যে জটিল পরিস্থিতি, তাতে তারা কীভাবে সুবিধা নেয়ার সক্ষমতা রাখে?<br />
উত্তর: ভালো কথা। আমি মনে করি চীন একটি ‘নিট’ সুবিধাবাদী। কারণ, তারা বাংলাদেশের অবকাঠামো এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গভীরভাবে জড়িত। কিন্তু তারা টানটান করে বাঁধা একটি রশির উপর দিয়ে হাঁটছে। এই রশি পরিচালিত হচ্ছে রাডারের অধীনে। নেপাল, বাংলাদেশে তারা ধীরে ধীরে সম্পদ গড়ছে। তা শুধু অর্থনৈতিকই নয়। একই সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পদও বৃদ্ধি করছে। সেনাবাহিনীর সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক আছে। কারণ তারা অস্ত্রের একটি বড় সরবরাহকারী এবং তারা এমন সম্পর্ক আরও বৃদ্ধি করবে। বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের অংশ হতে বঙ্গোপসাগরে একটি অবস্থান পাওয়ার চেষ্টা করছে চীন। তাদের এই কর্মকাণ্ডে আমাদের অবশ্যই উদ্বিগ্ন হতে হবে। তারা এক্ষেত্রে কতোটা এগুতে পারবে তা নির্ভর করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়ার ওপর। পাকিস্তান যতটা সচেতন, গত কয়েক দশকে তারা ভারতের গোয়েন্দা নীতিকে কড়া নজরে রেখেছে। বর্তমানে তারা আর্থিক ও সামরিক দিক থেকে যখন কঠিন সংকটে পড়েছে, তারা যখন বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে, তখন আমাদের বিরুদ্ধে কোনো বড় অ্যাডভেঞ্চার চালাতে পারবে না পাকিস্তান। এমনকি কাশ্মীরে অনুপ্রবেশের বিষয়েও তারা সুর নরম করতে পারে। বাংলাদেশের দেয়া সুযোগ ছেড়ে দেবে না পাকিস্তান এবং তারা হবে একটি বিঘ্ন সৃষ্টিকারী শক্তি। আমি আশা করি- ঢাকা এটা বুঝতে পারে যে, কোনো সুনির্দিষ্ট রেড লাইন অতিক্রমকে সহ্য করবে না ভারত। তবে পাকিস্তানকে সহযোগিতা করতে আগ্রহী লোকের অভাব নেই। এটা বড় একটি সমস্যা, যা আমরা মোকাবিলা করছি।<br />
প্রশ্ন: কথিত বিপ্লবকে ফিরিয়ে আনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা আছে বলে ভীষণ আলোচনা আছে। এ বিষয়ে আপনি কি বলবেন?<br />
উত্তর: আমি তেমনটা মনে করি না। বাংলাদেশে এই পরিবর্তন আনার পেছনে আমেরিকানদের যদি কোনো ভূমিকা থাকতো, তাহলে উপদেষ্টা পরিষদকে চকচকে দেখানোর জন্য তারা অধিক পরিমাণে সক্রিয় ভূমিকা রাখতো। কিন্তু উপদেষ্টা পরিষদের সেই চকচকে ভাব দ্রুততার সঙ্গে হারিয়েছে। আমি মনে করি আমেরিকার প্রত্যাশাকে অযথাই গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। তবে নিশ্চিতভাবেই আমেরিকানরা এর সুবিধা নিচ্ছে, অন্য যে কারও মতোই।<br />
প্রশ্ন: কীভাবে?<br />
উত্তর: আমি সবসময় অনুভব করেছি যে, বাংলাদেশে কোনোভাবে পা রাখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। ১৯৯৮ সালে তারা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার অজুহাতে বাংলাদেশের সঙ্গে একটি স্ট্যাটাস অব ফোর্সেস এগ্রিমেন্ট স্বাক্ষর করে। এর অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদেরকে ভিসামুক্তভাবে বাংলাদেশে আসার সুযোগ দেয়া হয়। এমনকি তাদের সঙ্গে আনা সরঞ্জাম চেক করা হতো না। বাংলাদেশি আইনে তাদেরকে দেয়া হয় দায়মুক্তি। তাদের কথা শোনা হোক এমন কোনো পোস্ট কি তারা খুঁজছিলেন? ঈশ্বরই জানেন। কিন্তু বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ সব সময়ই আছে। এ সময়ে সম্ভবত একটু বেশিই প্রকাশ্যে এসেছে।<br />
২০১৯ সালে আমি ভেবেছি (বাংলাদেশে) তারা একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চাওয়ার বিষয়ে খুবই সক্রিয়। কিন্তু দুর্ভাগ্য, তা ঘটেনি। আবারো তারা ২০২৪ সালের জানুয়ারির নির্বাচনে আরও বেশিভাবে জড়িত হতে চাইলো। কিন্তু এবারো তা ঘটলো না। কিন্তু বাংলাদেশের পটপরিবর্তনের ফলে দ্রুততার সঙ্গে তারা স্বাগত জানিয়েছে এবং তত্ত্বাবধায়ক পরিষদের কাছে তাদের লোক পাঠিয়েছে। এই মন্ত্রিপরিষদের বেশ কয়েকজন এনজিও’র। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের সুসম্পর্ক আছে। এর মধ্যদিয়ে এমন একটি আবহ সৃষ্টি করা হয়েছে যে, মার্কিনিরা নিয়ন্ত্রণ করছে এবং তারা গাইড দিচ্ছে। কিন্তু এখনো আমি মনে করি না যে, এ কথা সত্য।<br />
প্রশ্ন: বাংলাদেশে বর্তমানে যে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তার প্রেক্ষাপটে ভারতের নীতি কী হওয়া উচিত?<br />
উত্তর: প্রথমত, আমরা জানি না কার সঙ্গে কথা বলতে হবে, কার নিয়ন্ত্রণে আছে। তারা কি শিক্ষার্থী? আমরা কি সব ছাত্রনেতার ব্যাকগ্রাউন্ড দেখেছি? আমি মনে করি তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতি ঝুঁকে ছিল। ফলে বিভিন্ন রাজনৈতিক পর্যায় থেকে তারা এসেছেন। আমরা কি উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলবো, যাদের কিছু সদস্য এনজিও থেকে এসেছেন? আমরা কি সেনাবাহিনীর সঙ্গে কথা বলবো? আমরা কি জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে কথা বলবো? সুতরাং, আমার মনে হয় প্রথম সমস্যা হলো সেটা খুঁজে বের করা।<br />
দ্বিতীয়ত, পরিস্থিতি দ্রুত উন্মোচিত হচ্ছে। উপদেষ্টা পরিষদের প্রতি আস্থা প্রতিদিনই কমে যাচ্ছে। বিশেষ করে বেকারত্ব ও পণ্যমূল্য বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে। দৈনন্দিন জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে। সামনেই পবিত্র রমজান। ফলে পরিস্থিতি খুব উত্তেজনার মধ্যে আছে। এর ফলে ঢাকার সঙ্গে অর্থপূর্ণ যোগাযোগ পুরোপুরি কঠিন করে তুলছে।<br />
আমি মনে করি গুরুতর ভুল করছে অন্তর্বর্তী সরকার। শুরুতেই প্রতিহিংসাকে নিয়ন্ত্রণে তারা সক্ষম হয়নি। এর ফল হিসেবে আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত এমন সবার পেছনে লেগেছে তারা। এর মধ্যে আছে বেক্সিমকো, গাজী গ্রুপের মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। বহু কারখানা এরই মধ্যে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে অথবা ভাঙচুর করা হয়েছে। পরিণামে হাজার হাজার শ্রমিক বেকার হয়েছেন। প্রতিটি দিনই বিশৃঙ্খলা দেখা দিচ্ছে। প্রতিদিনই বিক্ষোভ হচ্ছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ রেলওয়ের কর্মীরা ধর্মঘট করেন। সব ট্রেন ছিল ঠাঁয় দাঁড়ানো। আপনি প্রতিদিনই খবর পড়ছেন তৈরি পোশাক রপ্তানি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তাদের কর্মীরা, যারা বেতন পাননি, তারা রাস্তা অবরোধ করছেন। ফলে তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের অর্ডার পূরণ করতে সক্ষম হচ্ছেন না। এতে অর্ডার কমে যাচ্ছে। প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশের আয়ের প্রাথমিক এই উৎসটির আয় কমেছে ৪০০ কোটি ডলার। এ দেশের জন্য এটি খুব ছোট অঙ্ক নয়। রেমিট্যান্স বাড়ছে। কিন্তু ব্যাংকের বাইরে এবং ভেতরে ডলার বিনিময়ের হারে অনেক বেশি পার্থক্য। এ জন্য মানুষজন হাওলা রুটের মাধ্যমে অর্থ পাঠাচ্ছেন দেশে। ফলে সেখানে একটি অনিশ্চিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।<br />
প্রশ্ন: তাহলে ভারতের জবাব হওয়া উচিত&#8230;?<br />
উত্তর: আমাদেরকে ধৈর্য ধরতে হবে এবং নজর রাখতে হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত বাংলাদেশের ভেতরের সমস্যার সমাধান না হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের সঙ্গে অব্যাহতভাবে অর্থনৈতিক ও অন্যান্য যোগাযোগ অব্যাহত রাখা উচিত আমাদের। যেকোনো সম্ভাব্য ফলাফল থেকে কিছুটা দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।<br />
প্রশ্ন: বাংলাদেশে যদি এ বছরের শেষের দিকে নির্বাচন হয়, তাহলে আমরা এমন একটি পরিস্থিতি দেখতে পাচ্ছি- যেখানে জামায়াতে ইসলামীর সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় আসতে যাচ্ছে বিএনপি। এসব পক্ষ থেকে ভারতবিরোধী বক্তব্য আসা সত্ত্বেও কি এই নতুন সরকারের সঙ্গে সর্বান্তকরণে কাজ করা উচিত হবে ভারতের?<br />
উত্তর: নির্লজ্জভাবে পক্ষপাতিত্বপূর্ণ অথবা পূর্ব নির্ধারিত নির্বাচন করা না হলে জনগণ যে সিদ্ধান্ত দেবেন, আমাদের উচিত হবে তাকে স্বাগত জানানো। আমি মনে করি যেকোনো সরকারকে মোকাবিলা করতে যথেষ্ট শক্তিশালী এখন ভারত। যদিও তারা কিছু ইস্যুতে চোখে চোখ রাখে না। আমার মনে হয় না যে, বিএনপি বিপর্যস্ত হবে। আমরা তাদের সঙ্গে কাজ করতে পারবো। অতীতে তাদের সঙ্গে আমরা কাজ করেছি। তবে তা নিয়ে আমাদের অভিজ্ঞতা ভালো নয়। কিন্তু আমরা অতীত থেকে শিক্ষা নিয়েছি। আমি নিশ্চিত তারাও অতীত থেকে শিক্ষা নিয়েছেন। বাংলাদেশে যদি পরিবর্তন ঘটে, তা একটি ভালো বিষয় হবে- যদি তা একটি নির্বাচিত বডির অধীনে হয়। তাদের প্রতি জনগণের ম্যান্ডেট থাকে, বৈধতা থাকে। কিন্তু উপদেষ্টা পরিষদ, নিজেরাই নিজেদেরকে নিয়োগ করেছে। তাদের সেই ম্যান্ডেট নেই। বৈধতা নেই।<br />
ইন্ডিয়া’স ওয়ার্ল্ড: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ, স্যার।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://chtnews24.com/2025/02/07/%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%95-%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ae%e0%a6%95%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%9a%e0%a7%8b%e0%a6%96/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>মহানবী (সা.)-এর সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞা</title>
		<link>https://chtnews24.com/2025/01/14/%e0%a6%ae%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%ac%e0%a7%80-%e0%a6%b8%e0%a6%be-%e0%a6%8f%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%93-%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%9c/</link>
					<comments>https://chtnews24.com/2025/01/14/%e0%a6%ae%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%ac%e0%a7%80-%e0%a6%b8%e0%a6%be-%e0%a6%8f%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%93-%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%9c/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[adminchtnews24]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 14 Jan 2025 02:22:53 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[শিরোনাম]]></category>
		<category><![CDATA[সাক্ষাতকার]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://chtnews24.com/?p=26465</guid>

					<description><![CDATA[আসআদ শাহীন:- নবী করিম (সা.)-এর মহান ব্যক্তিত্ব এমন এক সমন্বিত আদর্শ—যেখানে শাসক, রাষ্ট্রনায়ক, সমাজবিদ, প্রাজ্ঞ রাজনীতিবিদ এবং অনুপম সংগঠকের গুণাবলি একত্রে পূর্ণরূপে বিকশিত হয়েছে। পবিত্র কোরআনের অসংখ্য আয়াতে এই বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে যে তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে নিযুক্ত শাসক ছিলেন এবং এই মর্যাদা তাঁকে রাসুলের দায়িত্বের সঙ্গেই অঙ্গাঙ্গিভাবে প্রদান করা হয়েছিল। এটি কখনোই এমন [&#8230;]]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>আসআদ শাহীন:- নবী করিম (সা.)-এর মহান ব্যক্তিত্ব এমন এক সমন্বিত আদর্শ—যেখানে শাসক, রাষ্ট্রনায়ক, সমাজবিদ, প্রাজ্ঞ রাজনীতিবিদ এবং অনুপম সংগঠকের গুণাবলি একত্রে</p>
<p>পূর্ণরূপে বিকশিত হয়েছে। পবিত্র কোরআনের অসংখ্য আয়াতে এই বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে যে তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে নিযুক্ত শাসক ছিলেন এবং এই মর্যাদা তাঁকে রাসুলের দায়িত্বের সঙ্গেই অঙ্গাঙ্গিভাবে প্রদান করা হয়েছিল। এটি কখনোই এমন নয় যে তিনি নিজ প্রচেষ্টায় রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে তার শাসক হয়ে উঠেছিলেন, কিংবা মানুষ তাঁকে ভোট দিয়ে তাদের শাসক হিসেবে নির্বাচিত করেছিল।</p>
<p>রাসুল (সা.)-এর শাসনক্ষমতা ও রিসালাত মূলত একই সত্তার অভিব্যক্তি।<br />
একজন শাসক হিসেবে তাঁর আনুগত্য করা আল্লাহর আনুগত্যেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাঁর বিরোধিতা করা মানে আল্লাহর সার্বভৌমত্ব অস্বীকার করা। তিনি নিজেই আমাদের শিখিয়েছেন যে রাসুলের প্রতি আনুগত্য আল্লাহর আনুগত্য থেকে আলাদা নয়; বরং এটি আল্লাহর আদেশের অধীনে। রাসুল, যিনি নবুয়ত ও রিসালাতের আমানতদার, নিজে কোনো স্বার্থসিদ্ধি বা আনুগত্য আদায়ের জন্য আসেননি; বরং আল্লাহর নির্দেশ পালনের পূর্ণাঙ্গ বার্তা পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব নিয়ে এসেছেন।<br />
পবিত্র কোরআনে রাসুল (সা.)-এর আনুগত্যের ব্যাপারে বলা হয়েছে—‘আমি প্রত্যেক রাসুলকে শুধু এই জন্য প্রেরণ করেছি, যাতে আল্লাহর আদেশক্রমে তাঁর আনুগত্য করা হয়।’</p>
<p>(সুরা : নিসা, আয়াত : ৬৪)</p>
<p>অন্য আয়াতে বলা হয়েছে : ‘যে ব্যক্তি রাসুলের আনুগত্য করে, সে মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করে।’</p>
<p>(সুরা : নিসা, আয়াত : ৮০)</p>
<p>আল্লাহ তাআলা আরো ঘোষণা করেছেন যে নবী করিম (সা.)-এর হাতে বায়াত করা প্রকৃত পক্ষে আল্লাহর সঙ্গেই বায়াত করার সমতুল্য : ‘যারা আপনার কাছে বায়াত গ্রহণ করছে, তারা মূলত আল্লাহর কাছেই বায়াত গ্রহণ করছে।’ (সুরা : ফাতহ, আয়াত : ১০)</p>
<p>আল্লাহ তাআলা নবী করিম (সা.)-এর শাসন ও সিদ্ধান্তের গুরুত্ব এভাবে ব্যক্ত করেছেন : ‘আল্লাহ ও তাঁর রাসুল যখন কোনো বিষয়ে চূড়ান্ত ফায়সালা দান করেন, তখন কোনো মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীর নিজেদের বিষয়ে কোনো এখতিয়ার বাকি থাকে না।<br />
কেউ আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের অবাধ্যতা করলে সে তো সুস্পষ্ট গোমরাহিতে পতিত হলো।’ (সুরা : আহজাব, আয়াত : ৩৬)</p>
<p>আল্লাহ তাআলা নবীর বিরোধিতাকে এমন গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করেছেন, যা মানুষের সত্কর্ম (আমল) ধ্বংস করে দেয় : ‘হে ঈমানদাররা! আল্লাহর আনুগত্য করো, তাঁর রাসুলের আনুগত্য করো এবং নিজেদের আমল বিনষ্ট করে দিয়ো না।’ (সুরা : মুহাম্মদ, আয়াত : ৩৩)</p>
<p>এসব কোরআনের আয়াত নবী করিম (সা.)-এর নবুয়ত ও রিসালাতের মর্যাদা ও তাঁর ব্যক্তিত্ব তুলে ধরে।</p>
<p>নবী করিম (সা.)-এর রিসালাত ও শাসক হিসেবে ভূমিকা একে অপরের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে সংযুক্ত।</p>
<p>তাঁর ব্যক্তিত্ব কোরআনের দ্বিতীয় উৎস হিসেবে মানবজাতির জন্য আদর্শ হয়ে দাঁড়িয়েছে।<br />
শাসক, রাজনীতিবিদ এবং ন্যায়নিষ্ঠ নেতা হিসেবে তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ বৈশিষ্ট্য হলো, তিনি মানুষের কল্যাণের জন্য আল্লাহর নির্দেশিত আইন ও নীতিমালা বাস্তবায়ন করেছেন, যা চিরকালীন দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। (হিফাজতে হাদিস, পৃষ্ঠা-৫০)</p>
<p>মদিনায় আগমনের পর নবী করিম (সা.) নিজের রিসালাতের পাশাপাশি শাসক ও প্রশাসকের ভূমিকায় মদিনার সামাজিক ও রাজনৈতিক জীবনের সূচনা করেন। মক্কায় তাঁর কাছে কোনো রাজনৈতিক ক্ষমতা ছিল না, আর সেখানকার সমাজে তিনি শাসক হিসেবেও বিবেচিত হননি। তবে মদিনায় আল্লাহর নির্দেশনায় এবং তাঁর অসাধারণ দূরদর্শিতা ও প্রশাসনিক দক্ষতায় তিনি একটি আদর্শ রাষ্ট্র ও সমাজ প্রতিষ্ঠা করেন, যেখানে ন্যায়পরায়ণতা, প্রজ্ঞা এবং দূরদর্শী নেতৃত্বের উদাহরণ স্থাপন করা হয়। এখানে তিনি একই সঙ্গে ধর্মীয় নেতা ও রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে কাজ করেছেন। তাঁর ব্যক্তিত্বে ধর্ম ও দুনিয়ার নেতৃত্ব একত্র হয়েছিল, তবে তিনি কখনো খ্রিস্টান পোপের মতো অহংকারে ভোগেননি কিংবা রোমান সম্রাটের মতো বিশাল সামরিক বাহিনী তাঁর ছিল না।</p>
<p>(ইনসানে কামেল, পৃষ্ঠা-৩৬০)</p>
<p>নবী করিম (সা.)-এর অতুলনীয় কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক গুণাবলি তাঁর মক্কার জীবনেও প্রমাণিত হয়েছিল। নবুয়তের পূর্ববর্তী দুটি ঘটনা তাঁর প্রজ্ঞা ও সামাজিক চেতনাকে উজ্জ্বলভাবে প্রকাশ করে। এর একটি হলো ‘হিলফুল ফুজুল’ নামক শান্তিচুক্তি, যা নিয়ে তিনি গর্বভরে বলতেন, ‘আমি সেই চুক্তিতে অংশ নিয়েছিলাম।’ এটি ছিল সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ।</p>
<p>(তাবাকাতুল কুবরা, খণ্ড-১, পৃষ্ঠা-১২৮)</p>
<p>দ্বিতীয় উদাহরণ হলো কাবা শরিফে হাজরে আসওয়াদ পুনঃস্থাপন। (সিরাতুন নববী, খণ্ড-১, পৃষ্ঠা-২০৯)</p>
<p>যখন বিভিন্ন গোত্রের মধ্যে এই সম্মানজনক কাজটি নিয়ে তীব্র বিরোধ দেখা দেয়, তখন তাঁর দূরদর্শিতার মাধ্যমে এই বিবাদ মিটিয়ে ফেলা হয়। তিনি এমন এক সমাধান প্রদান করেন, যা সব পক্ষের জন্য গ্রহণযোগ্য হয়। তাঁর এই কাজের ফলে শুধু তাঁর মর্যাদাই প্রতিষ্ঠিত হয়নি, তাঁর অসাধারণ প্রজ্ঞা ও নেতৃত্বগুণও প্রকাশ পেয়েছিল।</p>
<p>[হায়াতে মুহাম্মদ (সা.), পৃষ্ঠা-২৮১]</p>
<p>নবুয়তের ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই মহানবী (সা.) একটি আন্দোলনের নেতা হয়ে ওঠেন। এর ফলে নবীজিকে অসংখ্য বিরোধিতার মুখোমুখি হতে হয়, অসীম কষ্ট ও বিপদের সম্মুখীন হতে হয়। তাঁর সঙ্গীদের ওপর চরম নির্যাতন চালানো হয়, তাঁদের জীবনের পথ সংকুচিত করে দেওয়া হয়। কিন্তু নবী করিম (সা.)-এর নবীসুলভ প্রজ্ঞা ও আল্লাহর সহায়তায় তিনি এই আন্দোলনকে সুরক্ষা দিতে সক্ষম হন। যদি তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতায় সামান্যতম ঘাটতি থাকত, তাহলে মক্কায় সংঘাতের সৃষ্টি হতো, আর মুসলিমদের ক্ষুদ্র দলটি ধ্বংস হয়ে যেত।</p>
<p>(সিরাতুন নববী, খণ্ড-১, পৃষ্ঠা-৩১০-৩৩৯)</p>
<p>নবী করিম (সা.)-এর নেতৃত্বে আল্লাহর সহায়তা ও নবীসুলভ দূরদর্শিতা সব সময় কার্যকর ছিল। যখন তিনি দেখলেন মক্কা তাঁর আন্দোলনের জন্য উপযুক্ত কেন্দ্র নয়, তখন তিনি এর বাইরে একটি নিরাপদ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার চিন্তা করেন। প্রথমে তিনি মুসলিমদের একটি দলকে হাবশায় হিজরত করার অনুমতি দেন, পরে নিজেই মদিনায় হিজরত করেন। মক্কার সময়কালে ইয়াসরিব (মদিনা) থেকে আসা বায়াতগুলো তাঁর এই রাজনৈতিক কৌশলেরই অংশ। (তাবাকাতুল কুবরা, খণ্ড-১, পৃষ্ঠা-২০৩-২০৭)</p>
<p>নবী করিম (সা.) তাঁর সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞার মাধ্যমে ইসলামের জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি গড়ে তোলেন, যা পরবর্তী সময়ে পৃথিবীর ইতিহাস পাল্টে দেয়।<br />
লেখক : গবেষক ও প্রাবন্ধিক</p>
<p>arfasadibnsahin@gmail.com</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://chtnews24.com/2025/01/14/%e0%a6%ae%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%ac%e0%a7%80-%e0%a6%b8%e0%a6%be-%e0%a6%8f%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%93-%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%9c/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>সবাইকে নির্বাচনে চায় বিএনপি</title>
		<link>https://chtnews24.com/2024/11/20/%e0%a6%b8%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%9a%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a6%9a%e0%a6%be%e0%a6%af%e0%a6%bc-%e0%a6%ac%e0%a6%bf/</link>
					<comments>https://chtnews24.com/2024/11/20/%e0%a6%b8%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%9a%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a6%9a%e0%a6%be%e0%a6%af%e0%a6%bc-%e0%a6%ac%e0%a6%bf/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[adminchtnews24]]></dc:creator>
		<pubDate>Wed, 20 Nov 2024 02:29:52 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[বিশেষ প্রতিবেদন]]></category>
		<category><![CDATA[শিরোনাম]]></category>
		<category><![CDATA[সাক্ষাতকার]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://chtnews24.com/?p=24252</guid>

					<description><![CDATA[ডেস্ক রির্পোট:- ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতের কাছে ফেরত চাইবে বাংলাদেশ। তাকে ফেরত আনতে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। ভারত যদি এক্ষেত্রে প্রত্যর্পণ বিষয়ক চুক্তির রাজনৈতিক ধারা ব্যবহার করে তাহলে আমাদের মধ্যে খুব ভালো সম্পর্ক তৈরি করবে না। দ্য হিন্দুকে দেয়া দীর্ঘ এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি [&#8230;]]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>ডেস্ক রির্পোট:- ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতের কাছে ফেরত চাইবে বাংলাদেশ। তাকে ফেরত আনতে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। ভারত যদি এক্ষেত্রে প্রত্যর্পণ বিষয়ক চুক্তির রাজনৈতিক ধারা ব্যবহার করে তাহলে আমাদের মধ্যে খুব ভালো সম্পর্ক তৈরি করবে না। দ্য হিন্দুকে দেয়া দীর্ঘ এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, আসন্ন নির্বাচনে দল হিসেবে আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয়ে তার কোনো আপত্তি নেই। বিএনপি চায় নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ অবশ্যই থাকতে হবে। এর মধ্যদিয়ে বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি তার রায় দিয়ে দিয়েছে। ড. ইউনূস বলেন, একটি বড় দলের মতামতকে আমরা উপেক্ষা করতে পারি না। সাক্ষাৎকারে তিনি ভারত-বাংলাদেশ প্রসঙ্গ, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক সহ বিভিন্ন ইস্যুতে কথা বলেছেন। দাবি তুলেছেন সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করার। বলেছেন, তিনি স্বপ্ন দেখেন ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের মতো একটি ইউনিয়নের। ড. ইউনূস অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম ১০০ দিন পূর্তি উপলক্ষে ঢাকার যমুনায় তার সরকারি বাসভবনে ওই সাক্ষাৎকার দেন। এ সময় তিনি বলেন, ১০০ দিনে তিনি অর্থনীতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল করেছেন। অন্যদিকে হিন্দুদের ওপর হামলার বিষয়টিকে প্রপাগান্ডা বা অপপ্রচার বলে অভিহিত করেন। এই সাক্ষাৎকারে তিনি ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গি ও সংস্কার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, ভারতীয় ওই সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তর একজন দক্ষ এবং দূরদর্শীর মতো দিয়েছেন ড. ইউনূস। যেসব প্রশ্নে তার উত্তেজিত হয়ে যাওয়া স্বাভাবিক ছিল, তার উত্তর দিয়েছেন অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায়। কখনো কখনো ওই সাংবাদিককে তিনি পাল্টা প্রশ্ন করেছেন। দ্য হিন্দুর পক্ষে সাক্ষাৎকারটি নেন সাংবাদিক সুহাসিনী হায়দার। এখানে প্রশ্নোত্তর আকারে তা তুলে ধরা হলো-</p>
<p>প্রশ্ন: বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ১০০ দিন সম্পন্ন করেছেন আপনি। প্রধান দু’টি ইস্যু আইনশৃঙ্খলা এবং অর্থনীতি নিয়ে আপনার সরকারকে কীভাবে গ্রেড দেবেন?<br />
ড. ইউনূস: ভালো কথা। আমরা এখনো আইনশৃঙ্খলার উন্নতি ঘটাচ্ছি। কিন্তু আমি বলবো না যে, আমরা ‘এ’ গ্রেড পেয়েছি। অন্য ইস্যুতে আমি বলবো- এটা ‘এ-প্লাস’। কারণ, উত্তরাধিকার সূত্রে আমরা বিধ্বস্ত একটি অর্থনীতি পেয়েছি। সব আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং ব্যাংকিং সিস্টেম ধ্বংসের কাছাকাছি চলে এসেছিল। এটা এক ‘ক্রেজি’ ব্যাংকিং সিস্টেম। আছে মন্দ ঋণ, শতকরা ষাট ভাগ পেমেন্ট পরিশোধ করা হয়নি। ব্যাংক জানে না কীভাবে একে অন্যের সঙ্গে কাজ করতে হবে, কীভাবে কাস্টমারের সঙ্গে ‘ডিল’ করতে হবে এবং আরও অনেক কিছু। ফলে আমরা প্রায় অকার্যকর একটি আর্থিক ব্যবস্থা পেয়েছি। সেখান থেকে আমরা ব্যাংকিং সিস্টেমকে আবার নতুন করে গড়ে তুলে তাদেরকে কার্যকর করেছি। এখনো পারফেক্ট হয়নি, কিন্তু তারা সামনে অগ্রসর হচ্ছে। আমরা যখন দায়িত্ব নিই তখন বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নিম্নমুখী ছিল। কিন্তু গত ১০০ দিনে মাসের পর মাস তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমরা পাওনা পরিশোধে সক্ষম হয়েছি। আন্তর্জাতিকভাবে আমাদের ভাবমূর্তি উন্নত করেছি। মুদ্রাস্ফীতিকে সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনার চেষ্টা করছি। সবচেয়ে ভালো বিষয় হলো, আমরা বৈশ্বিক পর্যায় থেকে বিপুল পরিমাণের সাপোর্ট পেয়েছি। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আমাদের সঙ্গে কাজ করছে। তারা মুক্ত বিনিয়োগে আরও সহযোগিতা ও অনেক কিছুর আশ্বাস দিয়েছে। আমি যখন জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিয়েছি তখন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট সহ অনেক দেশের সরকার প্রধানদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। তারা আর্থিক ও রাজনৈতিক সমর্থন দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আমাদের এমন কর্মকর্তারা আছেন, যারা বিনিয়োগকারীদের সমস্যাকে সমাধানে প্রস্তুত, যাতে তারা বাংলাদেশের ব্যুরোক্রেটিক জটিলতায় না পড়েন। সেটা হলো ওয়ান-স্টপ সার্ভিস, যেখানে আপনি সমস্যা সমাধান করতে পারবেন। ফলে আমি বলবো, দেশ খুবই ইতিবাচক পথে এগিয়ে যাচ্ছে।</p>
<p>প্রশ্ন: সুনির্দিষ্টভাবে খুবই ইতিবাচক চিত্র বর্ণনা করেছেন। কিন্তু আপনি কী ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন- উদাহরণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে ডনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচিত হওয়া নিয়ে, তিনি (ট্রাম্প) বাংলাদেশের সমালোচনা করে খুব কড়া বিবৃতি দিয়েছেন? যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রশাসনের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সমর্থন অব্যাহত থাকার বিষয়ে আপনি কীভাবে আস্থাশীল?<br />
উত্তর: আমি মনে করি না বাংলাদেশ নিয়ে কোনো বিবৃতি দিয়েছেন নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।</p>
<p>প্রশ্ন: তিনি সংখ্যালঘুদের সম্পর্কে বিবৃতি দিয়েছেন।<br />
উত্তর: ভালো কথা। সেটা বাংলাদেশ এবং সংখ্যালঘুদের নিয়ে, হয়তো তাকে সঠিকভাবে তথ্য জানানো হয়নি। এটা একটা প্রপাগান্ডা, যা বিশ্ব জুড়ে চলছে। কিন্তু বাংলাদেশের বাস্তবতায় যখন তিনি আসবেন, তখন তিনি বাংলাদেশ নিয়ে যে কথা বলেছেন তা থেকে পরিস্থিতি কতোটা আলাদা, তা দেখে বিস্মিত হবেন। আমি এটা মনে করি না, কারণ যুক্তরাষ্ট্রে নতুন প্রেসিডেন্ট আসা মানে সব কিছু পাল্টে যাওয়া না। প্রেসিডেন্ট পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পররাষ্ট্রনীতি এবং দেশের সঙ্গে দেশের সম্পর্ক সাধারণত পরিবর্তন হয় না। যদি ট্রাম্প ২.০ তে কোনো পরিবর্তন হয়, তাহলে আমাদেরও মনে রাখতে হবে এখন একটি বাংলাদেশ ২.০ আছে, যাকে আমরা নতুন বাংলাদেশ বলি। ফলে আমরা অপেক্ষা করবো এবং দেখবো যদি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা আসেন এবং আমাদের বিষয়ে খতিয়ে দেখেন, এবং আমাদের অর্থনীতি যদি ভালো করতে থাকে, তাহলে তারাও খুব আগ্রহী হবেন। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সরকারি পর্যায়ের ক্রেতা তারা। সুতরাং আমাদের পক্ষ থেকে খুবই ভালো সম্পর্ক থাকবে, যেটা বছরের পর বছর ধরে গড়ে উঠেছে। আমাদের আশা- এই সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।</p>
<p>প্রশ্ন: ট্রাম্পের বক্তব্যকে আপনি প্রপাগান্ডা বলেছেন। কিন্তু তিনি একাই এটা বলেননি। হিন্দু সম্প্রদায়কে টার্গেট করা হচ্ছে, তাদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয়া হচ্ছে, সুনির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে হত্যা করা হচ্ছে, এমনকি সন্দেহজনক ধর্ষণের ঘটনা নিয়ে এরই মধ্যে ভারত সরকার উদ্বেগ প্রকাশ করে বেশ কিছু বিবৃতি দিয়েছে। এ বিষয়ে আপনার জবাব কি?<br />
উত্তর: (ভারতের) প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে আমার প্রথম ফোনকল হয় (১৬ই আগস্ট)। এ সময়ে তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে খারাপ আচরণ করা হচ্ছে এবং আরও অনেক কিছু। জবাবে আমি তাকে খুব পরিষ্কারভাবে বলেছি, এটা একটা প্রপাগান্ডা। অনেক সাংবাদিক এখানে (বাংলাদেশে) এসেছিলেন। উত্তেজনা নিয়ে কিছু রিপোর্ট প্রকাশ হয়েছে। কিন্তু মিডিয়ায় যেভাবে বর্ণনা করা হয়েছে তেমন নয়।</p>
<p>প্রশ্ন: তখন এর নেপথ্যে কারা বলে আপনার মনে হয়েছে?<br />
উত্তর: আমি জানি না। তবে এই অপপ্রচার বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খায় না। সব মামলায় একের পর এক খুব সিরিয়াস গ্রুপের একদল মানুষ ঢুকে পড়ছেন।</p>
<p>প্রশ্ন: সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অনেক মানুষের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তারা ভীতিসন্ত্রস্ত বোধ করছেন। তারা মনে করছেন তাদেরকে টার্গেট করা হয়েছে। ফেসবুকে ভিডিও আছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা আছে যে, বাংলাদেশ হবে একটি মুসলিম দেশ। বর্তমান ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিদের আমরা বলতে শুনছি সংবিধান থেকে ধর্মনিরপেক্ষতা বদলে দেয়া হবে। আপনার সরকারের মাধ্যমে বাংলাদেশে পরবর্তীতে যা আসছে তা ইসলামের অধিক মাত্রায় উগ্রবাদ। এটা গত ১৬ বছরে বাংলাদেশে আমরা দেখিনি। এসব সম্প্রদায়কে আশ্বস্ত করার জন্য আপনার সরকার কি কিছু করতে পারে?<br />
উত্তর: এটা (ভাবমূর্তি) কি আমাকে মানাবে? অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে থাকা প্রতিজন ব্যক্তি এক একজন মানবাধিকারকর্মী। তারা নিজেরা ভুগেছেন। অথবা তাদের কেউ পরিবেশবাদী কর্মী, লিঙ্গগত কর্মী এবং অন্য ধরনের অধিকারকর্মী। সুতরাং তারা সবাই অধিকারবাদী। তাদের সামনে যদি এ কথাগুলো আপনি বলেন, তাহলে তারা আপনার প্রতি চিৎকার করবেন, উপদেষ্টা পরিষদের প্রতিজন সদস্যের জীবন সম্পর্কে জানুন।</p>
<p>প্রশ্ন: তার মানে আপনি বলতে চাইছেন যে, আপনার উপদেষ্টা পরিষদের কারোরই ইসলামপন্থি এজেন্ডা নেই?<br />
উত্তর: তাদের প্রত্যেকের জীবনের গল্পগুলোর দিকে তাকান। তারা উৎসর্গিত মানুষ। তারা নারী অধিকারকর্মী।</p>
<p>প্রশ্ন: অন্য বিষয়েও উদ্বেগ আছে। মানবাধিকার বিষয়ক গ্রুপ অধিকার-এর মতে, সেপ্টেম্বরে রাজনৈতিক সহিংসতায় আহত হয়েছেন ৮৪১ জন। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন আটজন। আমরা শুনেছি অনেক সাংবাদিকের অ্যাক্রিডিটেশন বাতিল করা হয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, আপনার সরকারও অতীতের সরকারের আচরণ অব্যাহত রেখেছে।<br />
উত্তর: জনগণকে বিচার এবং তুলনা করতে দিন এই সরকার কী (কাজ) করেছে এবং অন্য সরকার কী করেছে। আমি বিতর্কে যাচ্ছি না। আমরা সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছি। এ নিয়ে কোনো সংশয় নেই। অ্যাক্রিডিটেশন বিষয়ক যে আইন সেটা আমরা তৈরি করিনি। আমরা শুধু সেটা প্রয়োগ করেছি। এটা নিয়ে আপনি বিতর্ক করতে পারেন যে, এটা কি সঠিক প্রয়োগ হয়েছে কিনা। এই আইন পরিবর্তন করতে চাই আমি। ওটা এমন আইন, যা অন্য রকম শাসকগোষ্ঠীর অধীনে ছিল।</p>
<p>প্রশ্ন: আর একটি উদ্বেগ আছে। তা হলো- বিগত সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক আছে এমন ব্যক্তিদেরকে টার্গেট করা হবে রাজনৈতিক প্রতিশোধ নিতে। এটা হবে না নিশ্চিত করার জন্য আপনি কি কোনো মেকানিজম রাখতে পারেন?<br />
উত্তর: আমি বলবো আইনের শাসনের জয় হোক। এটাই।</p>
<p>প্রশ্ন: সংস্কারের জন্য আপনি অনেক কমিশন গঠন করেছেন। সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে কোনো কমিশন নেই কেন?<br />
উত্তর: মানবাধিকার বিষয়ে আমাদের একটি কমিশন আছে। সংখ্যালঘুদের কেন আলাদাভাবে দেখা হবে? আমি (সংখ্যালঘু গ্রুপগুলোকে) বলেছি, আপনারা এ দেশের নাগরিক। সংবিধানে নিশ্চয়তা দেয়া প্রতিটি অধিকার আছে আপনাদের। আমরা চাই সংবিধানে দেয়া সব মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে এবং সব অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে। সুতরাং আমাদের সংবিধান বিষয়ক কমিশনে কে আছেন, সেদিকে তাকান। কে এর প্রধান (যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক শিক্ষাবিদ ড. আলী রীয়াজ) এবং তারপর আপনি যা বলছেন তার সঙ্গে মিলিয়ে দেখার চেষ্টা করুন। অন্যথায় এর পুরোটাই অপপ্রচার।</p>
<p>প্রশ্ন: যদি আপনার নিকট প্রতিবেশী ভারতের মতো বা যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশ মনে করে, তখন আপনার সরকার কী এই অপপ্রচারের বিষয়টি জনগণকে বোঝাতে ব্যর্থ হয়েছে?<br />
উত্তর: হতে পারে বিশ্বকে বোঝানোর মতো শক্তি বা আর্থিক শক্তি আমাদের নেই।</p>
<p>প্রশ্ন: এখন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আপনি সাক্ষাৎ করেননি, যদিও টেলিফোনে আপনি কথা বলেছেন।<br />
উত্তর: হ্যাঁ, এখন পর্যন্ত এটা হয়নি। যখন আমি জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে গিয়েছি, ততক্ষণ মোদি চলে গেছেন। বাকু’তে জলবায়ু বিষয়ক (কপ) সম্মেলনে যোগ দিয়েছি। কিন্তু তিনি সেখানে ছিলেন না। (থাইল্যান্ডে) বিমসটেক বাতিল করা হয়েছে। কমনওয়েলথ সিএইচওজিএম মিটিংয়ে আমাদের (দু’জনের) কেউই যোগ দেইনি। এর অর্থ এই নয় যে, আমরা সাক্ষাৎ করবো না। আমরা শুধু প্রতিবেশীই নই, একই সঙ্গে ইতিহাস আমাদেরকে একত্রিত করেছে। ভূগোল আমাদেরকে একত্রিত করেছে। ভাষাগত সম্পর্ক আমাদেরকে একত্রিত করেছে। সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আমাদেরকে একত্রিত করেছে। ক্ষমতার প্রথম দিন থেকেই সার্ক’কে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য প্রধানমন্ত্রী মোদির কাছে প্রস্তাব দিয়েছি। কেন এমন একটি সংগঠন মৃত অবস্থায় থাকবে? আমি এমনও বলেছি, সার্কের সব নেতার নিউ ইয়র্কে অন্তত ৫ মিনিটের জন্য হলেও সাক্ষাৎ করা উচিত এবং এর মধ্যদিয়ে একটি বার্তা দেয়া যে, আমরা এখনো সার্কে আছি।</p>
<p>প্রশ্ন: বিমসটেক, বিবিআইএন-এ এখনো সহযোগিতা করে ভারত ও বাংলাদেশ। তাহলে কেন সার্ক?<br />
উত্তর: কেন সার্ক নয়? আমরা যত বন্ধু ও সম্পর্ক গড়তে পারবো, ততই ভালো।</p>
<p>প্রশ্ন: কারণ হলো সার্কে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে অমীমাংসিত বিরোধ দৃশ্যমান।<br />
উত্তর: সার্ক’কে সামনে এগুতেই হবে। মাত্র দু’টি দেশের সম্পর্কের কারণে একটি পুরো সংগঠন অদৃশ্য হয়ে যাওয়া উচিত হবে না। আমরা রেজ্যুলুশন পাস করাতে পারি। এজেন্ডা থেকে ভারত-পাকিস্তান বিষয়ক যেকোনো এজেন্ডা বাদ রাখতে পারি। কিন্তু সার্কের ইতি ঘটাতে পারি না।</p>
<p>প্রশ্ন: সন্ত্রাসবাদের শেষ না হওয়া পর্যন্ত সার্ক’কে স্থগিত রাখায় ভারতকে ২০১৬ সালে সমর্থন দিয়েছিল বাংলাদেশ। এটা কি একটা ভুল ছিল?<br />
উত্তর: আমরা যদি এমন শর্ত জুড়ে দিই, তাহলে কোনো সম্পর্কই টিকে থাকবে না কখনো। দু’টি সদস্য দেশের মধ্যে সম্পর্কের কারণে কেন পুরো দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো দুর্ভোগে থাকবে?</p>
<p>প্রশ্ন: ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়টি যখন আসে, তখন ৫ই আগস্টের ইভেন্টে তা কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে? এটা কি একটি আঘাত ছিল?<br />
উত্তর: কেন এটা হবে? বাংলাদেশ যখন এমন একটি শাসন থেকে স্বাধীন হয়েছে, যেখানে মানুষ দুর্ভোগের শিকার হয়েছে, এত মানুষকে হত্যা করা হয়েছে, এত মানুষ গুম হয়েছেন, এত বেশি প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করা হয়েছে- তখন বাংলাদেশের এই স্বাধীনতাকে একটি বন্ধুপ্রতিম দেশ হিসেবে উদ্‌যাপন করা উচিত ছিল ভারতের। আমাদের তরুণদের সঙ্গে যোগ দিয়ে একসঙ্গে উদ্‌যাপন করা উচিত ছিল তাদের, যেমনটা অন্য অনেক দেশ করেছে।</p>
<p>প্রশ্ন: আপনি বলেছেন, ৫ই আগস্ট থেকে ভারতে শেখ হাসিনার উপস্থিতি জটিলতা সৃষ্টি করেছে।<br />
উত্তর: সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে বসবাস করছেন, ন্যূনতম কিছু সময় ধরে। এটা কোনো সমস্যা নয়। বাংলাদেশ নিয়ে কথা বলা সমস্যা। তিনি বাংলাদেশি লোকজনের সঙ্গে কথা বলছেন এবং এটা রাজনীতি। তিনি অব্যাহতভাবে তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন, এটা সমস্যা।</p>
<p>প্রশ্ন: কীভাবে?<br />
উত্তর: তিনি তাদেরকে (তার লোকজন) ঘর থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছেন। ঢাকা ও অন্য শহরগুলোর রাস্তায় প্রতিবাদ বিক্ষোভ করার আহ্বান জানাচ্ছেন। তার অডিও বার্তা প্রচার করা হচ্ছে। তাদেরকে (তার লোকজন) তিনি বলছেন- যুক্তরাষ্ট্রে নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ছবিযুক্ত প্ল্যাকার্ডকে (ঢাল হিসেবে) বহন করতে। এর ফলে যখন পুলিশ তাদেরকে থামাবে, তখন তারা বলবে- বাংলাদেশের (বর্তমান) সরকার যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী। এটা অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ ও বাইরের বিষয়ে হস্তক্ষেপ।</p>
<p>প্রশ্ন: তাকে (হাসিনা) ফেরত আনার অনুরোধ জানিয়ে ইন্টারপোলের দ্বারস্থ হয়েছে আপনার সরকার। কেন আপনারা সরাসরি ভারতের প্রতি অনুরোধ করলো না? এক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় মেকানিজম সক্রিয় করার সুযোগ আছে।<br />
উত্তর: তাকে (হাসিনা) ফেরত আনতে সব রকম আইনি ব্যবস্থা ব্যবহার করবো আমরা।</p>
<p>প্রশ্ন: এখন পর্যন্ত আপনার সরকার তাকে ফেরত দেয়ার জন্য প্রকৃতপক্ষে কোনো অনুরোধ জানায়নি। প্রত্যর্পণ বিষয়ক চুক্তি আছে তো।<br />
উত্তর: আমি মনে করি এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ আছে, আমরা সেটার দিকে অগ্রসর হচ্ছি। কিন্তু এখনো আমরা সেই পর্যায় পর্যন্ত আসতে পারিনি।</p>
<p>প্রশ্ন: ভারত যদি অনুরোধ না রাখে, যদি (চুক্তিতে থাকা) রাজনৈতিক বিচারের ধারাটি সক্রিয় করে, তখন কী হবে?<br />
উত্তর: আপনি কি বলছেন, ভারত এই চুক্তি লঙ্ঘন করবে? হ্যাঁ, (চুক্তিতে) এমন ধারা আছে। কিন্তু ভারত সরকার যদি তাকে (হাসিনা) সেখানে রাখার জন্য সেসব ধারা ব্যবহার করে, তাহলে তা আমাদের মধ্যে খুব ভালো সম্পর্ক তৈরি করবে না। আমাদের অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ অল্প সময়ের। ফলে এই সরকার ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার সব সমস্যার সমাধান করতে সক্ষম না-ও হতে পারে। তবে আমাদের পরে যে সরকার আসবে তারা তো এটাকে ভুলে যাবে না।</p>
<p>প্রশ্ন: অন্য ইস্যুগুলোতে ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক মসৃণভাবে অগ্রসর হচ্ছে বলে কি আপনি দেখতে পান? সম্প্রতি আমরা বিদ্যুৎ সংযোগ, বাণিজ্যিক সংযোগসহ বিভিন্ন ইস্যুতে কিছু উদ্যোগ দেখেছি।<br />
উত্তর: আমাদের স্বপ্ন হলো ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের (যেখানে চলাচলে স্বাধীনতা ও বাণিজ্যে স্বাধীনতা আছে) মতো একটি সম্পর্ক কল্পনা করা। আমরা এই দিকেই অগ্রসর হতে চাই। আমরা কোন পথে অগ্রসর হবো এ বিষয়ে আপনি যেটা উল্লেখ করেছেন তা ভালো লক্ষণ এবং নির্দেশনা। কিন্তু তার চেয়েও বেশি আমরা অর্জন করতে চাই, যেটা হবে খুব ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের একটি ইউনিয়ন। আমরা জন্মেছি একত্রিত হওয়ার জন্য। আমরা তো টুইন (বা যমজ)।</p>
<p>প্রশ্ন: আপনার সরকারের সময় কতোটা সংক্ষিপ্ত? কখন নির্বাচন হবে?<br />
উত্তর: আমাদেরকে যখন দায়িত্ব দেয়া হয়েছে, তখন খুব পরিষ্কার করে আমাদেরকে বলা হয়েছে যে, আমরা শুধুই একটি অন্তর্বর্তী সরকার হবো না। অন্তর্বর্তী সরকারের হাতে থাকে নির্বাচন করে ক্ষমতা হস্তান্তরের দায়িত্ব। আমাদেরকে বলা হয়েছে যে, আমাদের বড় দায়িত্ব হলো বাংলাদেশ ২.০-এর জন্য সংস্কার করা। আমরা দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকতে চাই না। আমরা ওইসব ফর্মুলা সঙ্গে নিয়ে এসেছি। প্রথম দিন থেকেই নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। এটা আলাদা একটি প্রক্রিয়া। সংস্কারের অন্যান্য প্রক্রিয়াও সমান্তরালে চলছে। এখন, আমরা প্রথমেই নির্বাচন কমিশন সৃষ্টি করেছি। এটি একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। এর প্রক্রিয়ার খসড়া করা হয়েছে। সামনের কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আমরা এ সম্পর্কে ঘোষণা দিতে পারবো বলে আশা করি। প্রধান নির্বাচন কমিশনার নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য একটি নিরপেক্ষ এনটিটি গঠন করবেন। কিন্তু অন্য সব সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত তারা নির্বাচন করতে পারবেন না। সংবিধান সংশোধনের জন্য কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে দ্বিপক্ষবিশিষ্ট পার্লামেন্ট হবে কিনা, পার্লামেন্টে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব থাকবে কিনা, শর্তাবলী এবং আরও অনেক বিষয়ে। আমি বলবো (নির্বাচনের) ট্রেন স্টেশন ছেড়ে গেছে। এই চলার পথে পথে আমাদেরকে ট্রেন থামাতে হবে। জানতে হবে কোন পথে যেতে হবে এবং এ জন্যই আমাদেরকে সংস্কার কমিশনের কাছে ফিরে যেতে হবে।</p>
<p>প্রশ্ন: এতে কি কয়েক বছর সময় লাগবে?<br />
উত্তর: আমার কোনো ধারণা নেই। জনগণ একটি নির্বাচিত সরকার দেখতে চায়। তাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ঐকমত্যের ভিত্তিতে আমরা এগিয়ে যাবো।</p>
<p>প্রশ্ন: নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে প্রতিদ্বন্দ্বিতার অনুমতি দেয়া হবে কিনা?<br />
উত্তর: এরই মধ্যে এ ঘোষণা হয়ে গেছে। রাজনৈতিক দলের বিষয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নিতে চাইনি। বিএনপি সেটা করেছে। তারা বলেছে, নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ অবশ্যই থাকতে হবে। সুতরাং তারা এরই মধ্যে রায় দিয়ে দিয়েছেন। দেশের একটি বড় দলের মতামতকে আমরা উপেক্ষা করতে পারি না।</p>
<p>প্রশ্ন: তাহলে আওয়ামী লীগের (নির্বাচনে) অংশগ্রহণ নিয়ে আপনার কোনো আপত্তি নেই?<br />
উত্তর: আমি কোনো রাজনীতিক নই যে, একটি পার্টি বা অন্য আরেকটি পার্টিকে বেছে নেবো। আমি শুধু রাজনীতিবিদদের ইচ্ছা পূরণ করছি।</p>
<p>প্রশ্ন: কয়েক বছর আগে (২০০৭ সালে) আপনি নিজের একটি দল চালু করার চেষ্টা করেছিলেন।<br />
উত্তর: ওটা ছিল মাত্র ১০ সপ্তাহের। তারপর আমি সংবাদ সম্মেলন করেছি এবং সব বন্ধ করে দিয়েছি। অনেক মানুষ আমার ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিলেন। তারা বলেছিলেন, জনগণের জন্য একটি পরিবর্তন প্রয়োজন। এমনকি আমরা পার্টির নামও দিয়েছিলাম এবং এ পর্যন্তই। তার পর থেকে বাকি জীবনভর একটি রাজনৈতিক দল করার জন্য আমাকে অভিযোগ বয়ে বেড়াতে হচ্ছে।</p>
<p>প্রশ্ন: আপনি নিজেকে একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে দেখেন না?<br />
উত্তর: আমি নিজেকে কখনোই একজন রাজনীতিক হিসেবে দেখি না।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://chtnews24.com/2024/11/20/%e0%a6%b8%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%9a%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a6%9a%e0%a6%be%e0%a6%af%e0%a6%bc-%e0%a6%ac%e0%a6%bf/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>প্রেক্ষিত-ছাত্র গণবিপ্লব প্রত্যাশা ও দায়িত্ব</title>
		<link>https://chtnews24.com/2024/10/21/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b7%e0%a6%bf%e0%a6%a4-%e0%a6%9b%e0%a6%be%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%b0-%e0%a6%97%e0%a6%a3%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b2%e0%a6%ac/</link>
					<comments>https://chtnews24.com/2024/10/21/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b7%e0%a6%bf%e0%a6%a4-%e0%a6%9b%e0%a6%be%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%b0-%e0%a6%97%e0%a6%a3%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b2%e0%a6%ac/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[adminchtnews24]]></dc:creator>
		<pubDate>Mon, 21 Oct 2024 03:02:47 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[বিশেষ প্রতিবেদন]]></category>
		<category><![CDATA[শিরোনাম]]></category>
		<category><![CDATA[সাক্ষাতকার]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://chtnews24.com/?p=22599</guid>

					<description><![CDATA[অধ্যাপক ডা: শাহ মো: বুলবুল ইসলাম:- ৫ আগস্টের ছাত্র-গণবিপ্লব এ দেশের মানুষকে স্বপ্ন দেখিয়েছিল আইনের শাসনের; সুবিচারের; প্রাণভরে মুক্ত বাতাসে শ্বাস নেয়ার, মানুষের মর্যাদা নিয়ে গৌরবের আলোয় ভাস্বর এক জীবনের। কৃষক স্বপ্ন দেখেছিল দালাল ফড়িয়াদের হাত থেকে বাঁচার; শ্রমিক স্বপ্ন দেখেছিল ন্যায্য মজুরির। ছাত্র-যুবকরা স্বপ্ন দেখেছিল দাক্ষিণ্যহীন, প্রভাবমুক্ত মেধার অধিষ্ঠান। ব্যবসায়ীরা স্বপ্ন দেখেছিলেন চাঁদাবাজি ও [&#8230;]]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>অধ্যাপক ডা: শাহ মো: বুলবুল ইসলাম:- ৫ আগস্টের ছাত্র-গণবিপ্লব এ দেশের মানুষকে স্বপ্ন দেখিয়েছিল আইনের শাসনের; সুবিচারের; প্রাণভরে মুক্ত বাতাসে শ্বাস নেয়ার, মানুষের মর্যাদা নিয়ে গৌরবের আলোয় ভাস্বর এক জীবনের। কৃষক স্বপ্ন দেখেছিল দালাল ফড়িয়াদের হাত থেকে বাঁচার; শ্রমিক স্বপ্ন দেখেছিল ন্যায্য মজুরির। ছাত্র-যুবকরা স্বপ্ন দেখেছিল দাক্ষিণ্যহীন, প্রভাবমুক্ত মেধার অধিষ্ঠান।</p>
<p>ব্যবসায়ীরা স্বপ্ন দেখেছিলেন চাঁদাবাজি ও বাধাবন্ধনহীন ব্যবসায় পরিচালনার। অত্যাচারীরা বিতাড়িত হবে, বিচার হবে তাদের অত্যাচার, লুণ্ঠন, অর্থপাচার, গুম আর খুনের। গত ১৭ বছর সবচেয়ে বহুল উচ্চারিত শব্দ গুম। এর ভয় থেকে বাঁচার, রিমান্ড নামক রক্তহিম এক দুঃস্বপ্ন থেকে বাঁচতে- ৫ আগস্ট ছিল জাতির একটি স্বপ্নের সফলতা। যে সফলতা রাজনীতির পাঠ বদলে দিয়েছে। শেখ হাসিনা চলে গেলে কে দেশ চালাবে? তোমাদের নেতা কই? এ ধরনের মদমত্ততার জবাব ৫ আগস্ট। ঠিক এমনি প্রশ্ন ছিল ১৯৭৫ সালের আগস্ট মাসেও। শেখ মুজিব ক্ষমতা ছেড়ে দিলে দেশ চালাবে কে? প্রখ্যাত সংবাদ ভাষ্যকার বিবিসির তৎকালীন ঢাকার প্রতিনিধি মার্ক টালি এই প্রশ্নের অবতারণা করেছিলেন ১৯৭৫ সালের আগস্ট মাসের প্রথম দিকে। সেদিনও পরিস্থিতি নেতা সৃষ্টি করেছিল। আজও প্রকৃতি তার নিজ প্রয়োজনে নেতৃত্ব তৈরি করে নিয়েছে। সৃষ্টি হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের।</p>
<p>জাতির আকাঙ্ক্ষার সাংবিধানিক সরকারের প্রয়োজন এখন সর্বাগ্রে হলেও সাংবিধানিক নিয়মের বাইরে এই সরকারকে দায়িত্ব নিতে হয়েছে জাতির সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করতে। এ ক্ষেত্রে সব মতের রাজনৈতিক নেতৃত্বের নিঃশর্ত পরামর্শ এবং সহযোগিতার প্রয়োজন সর্বাগ্রে। জুলাই বিপ্লবের চেতনা ধারণ করে বিপ্লবের আদর্শে উদ্বুদ্ধ রাজনৈতিক নেতাদের সহযোগিতা ছাড়া বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে এককভাবে জাতির স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা প্রায় অসম্ভব। রাজনীতির সাথে প্রায় সংশ্রবহীন উপদেষ্টামণ্ডলীর পক্ষে সবদিক সামলিয়ে গত ১৭ বছরের পুঞ্জীভ‚ত ক্ষোভ, আবর্জনা, সার্বিক বিশৃঙ্খলা ও প্রত্যাশা সামাল দেয়া যে অসম্ভব বর্তমান অবস্থা তার প্রকৃষ্ট প্রমাণ। গত ১৬-১৭ বছরের রাজনৈতিক নেতৃত্বের স্খলনে জাতি বীতশ্রদ্ধ চিরাচরিত রাজনৈতিক ব্যবস্থায়, তাও নেতাদেরকে সম্যকভাবে উপলব্ধি করতে হবে। বিপ্লব শুধু ক্ষমতার হাত বদল নয়, এর কার্যকর পরীক্ষায় আমাদের নেতারা এখনো উত্তীর্ণ হতে পারেননি। ব্যাপারটি শঙ্কার। জনগণ রাজনৈতিক প্রক্রিয়া থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলে বিকল্প পথে আবারো ফ্যাসিবাদের উত্থানের সম্ভাবনা তৈরি হয়। এ দিকে আমাদের প্রাজ্ঞ রাজনৈতিক নেতাদের সজাগ এবং কার্যকর ভ‚মিকা অপরিহার্য।</p>
<p>গত দেড় দশকে এমন কোনো সাংবিধানিক রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান নেই, যা ধ্বংস করা হয়নি। সরকার, সংসদ, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা, বিচার, অর্থনীতি, শিক্ষা, এমন কোনো বিভাগ নেই- যাকে অস্তিত্বহীন করা হয়নি। সব সাংবিধানিক, রাজনৈতিক, সামাজিক প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে ‘এক নেতা এক দেশ’ সৃষ্টির সামগ্রিক আয়োজন শেষ করে এনেছিল পতিত সরকার। রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য মৌলিক অবকাঠামো, মৌলিক নীতিমালাসংবলিত একটি গ্রহণযোগ্য কাঠামো তৈরি এখন সর্বাগ্রে গণ্য। মৌলিক অধিকার, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার উত্তরণের একটি কার্যকর অবকাঠামো তৈরি সরকার এবং রাজনৈতিক দল ও নেতাদের প্রাধিকার তালিকায় থাকা দরকার, যা নির্দিষ্ট সময়কাঠামোর মধ্যে সীমিত থাকবে।</p>
<p><img decoding="async" class="alignnone size-medium wp-image-22600" src="https://chtnews24.com/wp-content/uploads/2024/10/images-20-300x162.jpg" alt="" width="300" height="162" srcset="https://chtnews24.com/wp-content/uploads/2024/10/images-20-300x162.jpg 300w, https://chtnews24.com/wp-content/uploads/2024/10/images-20.jpg 650w" sizes="(max-width: 300px) 100vw, 300px" /><br />
অর্থনৈতিক অবকাঠামো এবং আইনশৃঙ্খলা বর্তমান সরকারের প্রাধিকার তালিকায় থাকা দরকার। আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর যেসব সদস্য বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে অনুপস্থিত রয়েছেন তাদের শূন্যস্থান পূরণের ত্বরিত ব্যবস্থা নেয়া উচিত। ইতোমধ্যে কয়েক ব্যাটালিয়ন পুলিশ ও আনসার স্বল্পকালীন প্রশিক্ষণ দিয়ে দায়িত্ব দেয়া গেলে সঙ্কটের অনেকটাই সুরাহা হয়ে যেত। বিজিবি ও সেনাবাহিনীর সাধারণ সৈনিকদের ক্ষেত্রেও এটি করা যায়। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে যাদের বাধ্যতামূলক অবসর দেয়া এবং নেয়ার জন্য বাধ্য করা হয়েছিল তাদের পূর্ণ জ্যেষ্ঠতা দিয়ে পুনরায় নিয়োগ দেয়ার মাধ্যমে এটি করা যায়। দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিপ্লববিরোধী কোনো অপতৎপরতা যেন না হতে পারে এ ব্যাপারে ছাত্র ও জনগণের যৌথভাবে প্রতিরোধী ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন। ছাত্র সমন্বয়কদের এ ক্ষেত্রে রয়েছে বিশাল ভূমিকা। যে গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকার মাধ্যমে অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তারা ইতিহাস তৈরি করছেন তার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও তাদের জোরালো সতর্কতামূলক দৃষ্টি থাকা জরুরি। তাদের নাম ভাঙিয়ে যেন কেউ কোথাও অবৈধ সুবিধা না নিতে পারে এ ব্যাপারে তাদের কঠোর ভূমিকা থাকা দরকার। বিপ্লবী চেতনার নাম ভাঙিয়ে অবৈধ সুবিধা বিপ্লবকে নস্যাৎ করার অপর নাম; এটি তাদের বুঝতে হবে। এ ধরনের অপচেষ্টা এখনই দৃশ্যমান। এ ক্ষেত্রে ছাত্র-জনতার সতর্ক তীক্ষ্ম নজরদারির বিকল্প নেই। বিচার বিভাগের মর্যাদা এবং বিচারের নিশ্চয়তা বিধানের ক্ষেত্রে ত্বরিত সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে অপেক্ষমাণ ছাত্র-জনতা। সংখ্যালঘুদের উপাসনালয়ের নিরাপত্তা বিধানের ক্ষেত্রে ছাত্রদের ভ‚মিকার কোনো বিকল্প নেই।</p>
<p>যে স্বপ্ন এবং প্রত্যাশা সামনে রেখে হাজার জীবনের মূল্যে দেশের ছাত্র-গণজাগরণ তার শুধু প্রথম পর্যায় শেষ হয়েছে। এই অর্জনকে সংহত করা, এর আলোকে রাষ্ট্র নির্মাণ এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারের গুরুদায়িত্ব এখন। কষ্টার্জিত বিজয়ের সুফলকে আম-জনতার কাছে পৌঁছে দেয়ার ভিত্তি নির্মাণের সময় এখন। এখন যেকোনো ধরনের কলহ, অনৈক্য-অপশক্তিকে মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে সাহায্য করবে। এখন প্রয়োজন জাতির ইস্পাতকঠিন সুদৃঢ় বন্ধন।</p>
<p>প্রয়োজন রাজনৈতিক নেতা এবং ছাত্র-জনতার চিন্তা এবং চেতনার ঐক্যের ভিত্তিতে কর্মসূচি ও অন্তর্বর্তী সরকারের মাধ্যমে তার বাস্তবায়ন। হরিলুটের বাতাসার কাড়াকাড়ির প্রতিযোগিতা কিংবা ‘ওলট পালট করে দে মা লুটে পুটে খাই’-এর সময় এখন নয়। এ ধরনের চর দখলের অসুস্থ প্রতিযোগিতা রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বিজয়ের সফলতাকে ব্যর্থ করে দিতে পারে। বিজয়ের হালুয়া-রুটির কাড়াকাড়ি ভাগাভাগির সময় এখন নয়। এ ক্ষেত্রে মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানী মেজর জলিলের অরক্ষিত স্বাধীনতাই পরাধীনতা ‘সাবধান বাণীর কথা’ স্মর্তব্য।<br />
লেখক : চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ<br />
ই-মেল : shah.b.islam@gmail.com</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://chtnews24.com/2024/10/21/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b7%e0%a6%bf%e0%a6%a4-%e0%a6%9b%e0%a6%be%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%b0-%e0%a6%97%e0%a6%a3%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b2%e0%a6%ac/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>মিশন শেষ করে হাসিনা ঠিকই পালালেন</title>
		<link>https://chtnews24.com/2024/09/18/%e0%a6%ae%e0%a6%bf%e0%a6%b6%e0%a6%a8-%e0%a6%b6%e0%a7%87%e0%a6%b7-%e0%a6%95%e0%a6%b0%e0%a7%87-%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%a0%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a6%87-%e0%a6%aa/</link>
					<comments>https://chtnews24.com/2024/09/18/%e0%a6%ae%e0%a6%bf%e0%a6%b6%e0%a6%a8-%e0%a6%b6%e0%a7%87%e0%a6%b7-%e0%a6%95%e0%a6%b0%e0%a7%87-%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%a0%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a6%87-%e0%a6%aa/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[adminchtnews24]]></dc:creator>
		<pubDate>Wed, 18 Sep 2024 02:30:42 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[বিশেষ প্রতিবেদন]]></category>
		<category><![CDATA[শিরোনাম]]></category>
		<category><![CDATA[সাক্ষাতকার]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://chtnews24.com/?p=20531</guid>

					<description><![CDATA[ডাঃ ওয়াজেদ খান:- শেখ হাসিনা পিতার দেখানো পথেই হাঁটলেন। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের চূড়ান্ত মূহূর্তে পালালেন দেশ ছেড়ে। সাথে নিয়ে গেলেন বোন রেহানাকে। ভয়ংকর অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তাহীনতায় ফেলে গেলেন নিজ দলের নেতাকর্মী ও অনুগত প্রশাসনকে। পালানোর বিষয়টি তিনি আগে জানান দেননি কাউকে। হাসিনার পরিবারের সদস্যরা আগে থেকেই অবস্থান করছিলেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। পঁচাত্তর পরবর্তী সময়ে বোন রেহানাকে [&#8230;]]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>ডাঃ ওয়াজেদ খান:- শেখ হাসিনা পিতার দেখানো পথেই হাঁটলেন। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের চূড়ান্ত মূহূর্তে পালালেন দেশ ছেড়ে। সাথে নিয়ে গেলেন বোন রেহানাকে। ভয়ংকর অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তাহীনতায় ফেলে গেলেন নিজ দলের নেতাকর্মী ও অনুগত প্রশাসনকে। পালানোর বিষয়টি তিনি আগে জানান দেননি কাউকে। হাসিনার পরিবারের সদস্যরা আগে থেকেই অবস্থান করছিলেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। পঁচাত্তর পরবর্তী সময়ে বোন রেহানাকে নিয়ে যে মিশনে তিনি বাংলাদেশে এসেছিলেন, সেই মিশন শেষে বোনকে নিয়ে পালালেন তিনি। দীর্ঘ ৪৩ বছরে শেখ পরিবারের হত্যাকারীদের বিচারসহ হাসিনা চরিতার্থ করেছেন তার সকল বিকৃত জিঘাংসা। স্বৈরতান্ত্রিক কায়দায় শাসন করেছেন বাংলাদেশ। রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুণ্ঠন করে বংশের সব সদস্যকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন বিভিন্ন দেশে। শেখ হাসিনা যে ভারত থেকে বোনকে নিয়ে ১৯৮১ সালে বাংলাদেশে ফিরে এসেছিলেন, বোনকে নিয়ে সেই ভারতেই পালালেন তিনি। তার পলায়নের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশে অবসান ঘটলো শেখ পরিবারের নেতৃত্বের। পদত্যাগ করার শেষ মূহূর্তেও দম্ভ, অহমিকা ও ঔদ্ধত্য স্পষ্ট ছিলো তার আচরণে। “বঙ্গবন্ধু কন্যা কখনো পালায় না” এমন উক্তি তিনি করেছেন বহুবার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পালিয়েছেন সবকিছু পেছনে ফেলে। এই পালানোর মধ্য দিয়ে হাসিনা তার প্রয়াত পিতার দেখানো পথেই হেঁটেছেন। শাসন কাজেও অনুসরণ করেছেন পিতাকে।</p>
<p><img fetchpriority="high" decoding="async" class="alignnone size-medium wp-image-20532" src="https://chtnews24.com/wp-content/uploads/2024/09/images-8-300x169.jpg" alt="" width="300" height="169" srcset="https://chtnews24.com/wp-content/uploads/2024/09/images-8-300x169.jpg 300w, https://chtnews24.com/wp-content/uploads/2024/09/images-8.jpg 700w" sizes="(max-width: 300px) 100vw, 300px" /></p>
<p>একাত্তরের ২৫ মার্চের কালো রাতে শেখ মুজিব সাড়ে সাত কোটি মানুষকে পাকবাহিনীর বন্দুকের নলের মুখে দাঁড় করিয়ে চলে যান পশ্চিম পাকিস্তানে। পঁচিশে মার্চের কালো রাতে পাকবাহিনী জঘন্যতম গণহত্যায় নামছে এমন আগাম বার্তা ছিলো শেখ মুজিবের কাছে। এজন্য দলের কিংকর্তব্যবিমুঢ় নেতারা ছুটে যান তার বাসায়, দিক নির্দেশনা চান নেতার নিকট। এমনকি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দিন আহমেদ টেপ রেকর্ডার নিয়ে ৩২ নম্বরের বাসায় যান স্বাধীনতার ঘোষণা রেকর্ড করতে। কথিত আছে যুদ্ধের ময়দানে আত্মসমর্পণকারী সেনাপতির চেয়ে লড়াকু সৈনিকের মূল্য অনেক বেশি।” কিন্তু ইতিহাস থেকে সব সৈনিকের নাম মুছে ফেলেন শেখ মুজিব। এমনকি বাদ যায়নি মুক্তিযুদ্ধের সেনাপতি জেনারেল এমএজি ওসমানী। তারপরের ঘটনা সবারই জানা। মুক্তিযুদ্ধের ৮ মাস ২১দিনে লাখো মানুষের প্রাণহানি, মা-বোনের ইজ্জত ও ধ্বংসলীলার মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা পায় বাংলাদেশের মানুষ। শেখ মুজিবের নামে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে সত্য। কিন্তু যুদ্ধের ময়দানে ছিলেন না তিনি। মুজিব যুদ্ধের বিভৎসতা ও গণহত্যা দেখেননি, শোনেননি সন্তানহারা মায়ের আহাজারি । মুক্তিযুদ্ধে তিনি বা তার দলের চেয়ে বড় অবদান ছিলো দেশের আপামর জনতার। সাধারণ মানুষই নির্ভীক সৈনিক হিসেবে লড়েছে রণাঙ্গনে। পরবর্তী সময়ে স্বাধীনতার পুরো ফসল গোলায় তোলে শেখ পরিবার ও তার দল। শেখ মুজিব বনে যান প্রেসিডেন্ট। একদলীয় শাসন, শোষণ ও ক্ষমতার শতভাগ ভোগদখল করেন তারা। খুন-হত্যা-রাহাজানি-ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ, অপশাসনে অল্প দিনেই মুজিব হয়ে উঠেন বিতর্কিত ও অজনপ্রিয়। ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে পৌঁছায় বাংলাদেশ।</p>
<p>ইতিহাসের বাক ঘুরে ২১ বছর পর পিতৃ হত্যার প্রতিশোধ নিতে মুজিব কন্যা হাসিনা ফিরে আসেন বাংলাদেশের রাষ্ট্র ক্ষমতায়। দ্বিতীয় দফায় ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে গণতন্ত্র, আইনের শাসন, সামাজিক ন্যায়বিচার, মানবাধিকারের তোয়াক্কা না করে কায়েম করেন স্বৈরশাসন। সংবিধান শিকেয় তুলে রেখে অনুসরণ করেন পিতার প্রদর্শিত বাকশালী কায়দা। বিগত দেড় দশকে পরপর তিনটি সংসদীয় নির্বাচনে বিনা ভোটে দখলে রাখেন রাষ্ট্র ক্ষমতা। বাংলাদেশকে পরিণত করেন এক বৃক্ষের বাগানে। গণ প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশকে শুধু দল বা পরিবারে সীমিত না রেখে নিয়ে নেন ব্যক্তি মালিকানায়। বাংলাদেশ রাষ্ট্রের ১৭ কোটি মানুষের অধিকার হরণ করে ধ্বংস করে দেন রাষ্ট্রের সকল সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। নির্মম, নৃশংসভাবে মধ্যযুগীয় কায়দায় হত্যা করেন নিজ দেশের হাজারো মানুষকে। দেড় দশকে ২ হাজার ৭’শ মানুষকে হত্যা করেন বিচারবর্হিভূতভাবে। তার শাসনামলে গুমের শিকার হয়েছে প্রায় ৭’শ মানুষ। অভিযোগ আছে, হাসিনা ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর তার সরকারের অভিষেক হয় পিলখানায় সেনাবাহিনীর ৫৭জন চৌকষ অফিসারকে হত্যার মধ্য দিয়ে। এরপর মোটা দাগে গণহত্যা চালায় তার বাহিনী হেফাজতে ইসলামের সদস্যদের উপর। একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দোহাই দিয়ে হত্যা করেন অনেককে। গোপন কারাগার আয়না ঘর তৈরি করে গুমকৃতদের নীপিড়ন-নির্যাতন এবং হত্যার শিকারে পরিণত করা হয়। বিরোধী দলের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে মামলা দিয়ে করা হয় কারারুদ্ধ। দেশকে ঠেলে দেন সাক্ষাত নরকে। মানুষের পিঠ ঠেকে যায় দেয়ালে। সাামাজিক বৈষম্য যখন চরমে এমন একটি ক্রান্তিকালে ঘুরে দাঁড়িয়েছে আমাদের সন্তানেরা।</p>
<p><img decoding="async" class="alignnone size-medium wp-image-20533" src="https://chtnews24.com/wp-content/uploads/2024/09/Ud-2rrrr-300x200.jpg" alt="" width="300" height="200" srcset="https://chtnews24.com/wp-content/uploads/2024/09/Ud-2rrrr-300x200.jpg 300w, https://chtnews24.com/wp-content/uploads/2024/09/Ud-2rrrr.jpg 700w" sizes="(max-width: 300px) 100vw, 300px" /></p>
<p>যে বৈষম্যের কারণে মুক্তিযুদ্ধ হয় একাত্তরে, সেই বৈষম্যের অবসান ঘটাতে শিক্ষার্থীরা রাজপথে নামে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে। শেখ হাসিনা শিক্ষার্থীদেরকে “রাজাকারের বাচ্চা” বলে গালি দিয়ে তাদেরকে দমাতে লেলিয়ে দেন রাষ্ট্রীয় বাহিনী ও দলীয় ক্যাডারদের। চালান নির্বিচার গণহত্যা। নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে প্রায় একহাজার মানুষ। শেখ হাসিনার মানবতাবিরোধী অপরাধে ফুঁসে উঠে সারাদেশ। একমাস ৬ দিনের আন্দোলন রূপ নেয় ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে। তারপরের ঘটনা সৃষ্টি করেছে নজিরবিহিন বিশ্ব ইতিহাস। নূতন করে স্বাধীনতার স্বাদ পেয়েছে বাংলাদেশের মানুষ। যে নতুন প্রজন্ম এবং সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে জনমনে ছিলো হতাশা, তারাই আজ পরিণত হয়েছে জাতির ভরসাস্থলে। শেখ হাসিনা এখানো আওয়াজ দিচ্ছেন ভারতে বসে। কিন্তু ইতিহাস বলে বিশ্বের পলাতক স্বৈরশাসকদের কেউই পরবর্তীতে ফিরতে পারেনি রাজনীতিতে। উল্টো নিক্ষিপ্ত হয়েছেন ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে। এমনকি ক্ষমতাচ্যুতির দীর্ঘদিন পরও প্রতিষ্ঠিত হতে পারেনি স্বৈরাচারদের সন্তানরা। দাঁড়াতে পারেনি তাদের রাজনৈতিক দলগুলোও। শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে তার ব্যতিক্রম হবে এমনটি ভাবার কোনো কারণ নেই। শেখ হাসিনার স্বৈরশাসন, দুর্নীতি, গুম ও গণহত্যা অন্যান্য দেশের স্বৈরাচারের তুলনায় নজিরবিহীন ও ভয়ঙ্কর। জুলাই-আগষ্টের ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর পালিয়ে গিয়ে প্রাণে বেঁচেছেন হাসিনা। ভারত জরুরি ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক আশ্রয় দিয়েছে তাকে। তার পরবর্তী গন্তব্য জানা নেই কারো। হাসিনা বা তার পরিবারের কেউই আর কখনো যে দেশে ফিরতে পারবেন না সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত। দেশে শতাধিক হত্যা মামলা ও মানবতা বিরোধী অপরাধের দায় মাথায় নিয়ে শেখ হাসিনা ‘চট’ করে দেশে ফিরবেন তার এমন উক্তি হাস্যকর। স্বৈরাচারী ও নৈরাশ্যবাদী হাসিনা নাকি মানসিকভাবে অসুস্থ এমনটি দাবি করেছেন তার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়। শুধু এখন নয় হাসিনার মানসিক অসুস্থতা আজন্ম। ‘প্যাথলজিক্যাল লায়ার’ হাসিনা চট করে দেশে ফিরে আসুক এমনটিই চাচ্ছে দেশের মানুষ।</p>
<p>(ডা: ওয়াজেদ খান<br />
সম্পাদক<br />
সাপ্তাহিক বাংলাদেশ, নিউইয়র্ক।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://chtnews24.com/2024/09/18/%e0%a6%ae%e0%a6%bf%e0%a6%b6%e0%a6%a8-%e0%a6%b6%e0%a7%87%e0%a6%b7-%e0%a6%95%e0%a6%b0%e0%a7%87-%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%a0%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a6%87-%e0%a6%aa/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
	</channel>
</rss>
