<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>বিশেষ প্রতিবেদন &#8211; chtnews24.com</title>
	<atom:link href="https://chtnews24.com/category/%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B6%E0%A7%87%E0%A6%B7-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%A6%E0%A6%A8/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>https://chtnews24.com</link>
	<description></description>
	<lastBuildDate>Thu, 08 Oct 2026 15:07:14 +0000</lastBuildDate>
	<language>en-US</language>
	<sy:updatePeriod>
	hourly	</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>
	1	</sy:updateFrequency>
	<generator>https://wordpress.org/?v=7.1.3</generator>
	<item>
		<title>আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া: ছাত্ররাজনীতি থেকে  পার্বত্য উন্নয়নের নানা অধ্যায়ের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক নেতার গল্প</title>
		<link>https://chtnews24.com/2026/10/08/%e0%a6%86%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%b2-%e0%a6%93%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%a6-%e0%a6%ad%e0%a7%82%e0%a6%81%e0%a6%87%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be-%e0%a6%9b/</link>
					<comments>https://chtnews24.com/2026/10/08/%e0%a6%86%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%b2-%e0%a6%93%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%a6-%e0%a6%ad%e0%a7%82%e0%a6%81%e0%a6%87%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be-%e0%a6%9b/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[adminchtnews24]]></dc:creator>
		<pubDate>Thu, 08 Oct 2026 15:07:14 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Second lead]]></category>
		<category><![CDATA[খাগড়াছড়ি]]></category>
		<category><![CDATA[বিশেষ প্রতিবেদন]]></category>
		<category><![CDATA[রকমারি]]></category>
		<category><![CDATA[শিরোনাম]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://chtnews24.com/?p=38984</guid>

					<description><![CDATA[এসএম শামসুল আলম:&#8212; পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির রাজনীতিতে আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া একটি দীর্ঘ সময় ধরে আলোচিত নাম। ছাত্ররাজনীতি দিয়ে যাত্রা শুরু করে জেলা বিএনপির নেতৃত্ব, সংসদ সদস্য, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং বর্তমানে জাতীয় সংসদের সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব—বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে তিনি নিজের রাজনৈতিক [&#8230;]]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>এসএম শামসুল আলম:&#8212; পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির রাজনীতিতে আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া একটি দীর্ঘ সময় ধরে আলোচিত নাম। ছাত্ররাজনীতি দিয়ে যাত্রা শুরু করে জেলা বিএনপির নেতৃত্ব, সংসদ সদস্য, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং বর্তমানে জাতীয় সংসদের সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব—বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে তিনি নিজের রাজনৈতিক অবস্থান তৈরি করেছেন।<br />
২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খাগড়াছড়ি-২৯৮ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়ে তিনি তৃতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য হয়েছেন। এর আগে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনেও একই আসন থেকে জয়ী হয়েছিলেন।</p>
<p>রামগড় থেকে রাজনীতির যাত্রা&#8212;-<br />
আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়ার জন্ম ১৯৬৫ সালের ৫ জানুয়ারি খাগড়াছড়ির রামগড় এলাকায়। তাঁর পিতা ছালেহ আহম্মদ ভূঁইয়া এবং মাতা বিয়া ছালেহ। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞানে এমএসএস ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি।<br />
তাঁর রাজনৈতিক জীবনের শুরু ছাত্ররাজনীতির মধ্য দিয়ে। বিভিন্ন জীবনীভিত্তিক সূত্র অনুযায়ী, ১৯৮০ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত তিনি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রামগড় রাজনৈতিক জেলা শাখার নেতৃত্বে ছিলেন। একই সময়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সঙ্গেও যুক্ত হন এবং ১৯৮৭ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ১৯৯০ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত রামগড় রাজনৈতিক জেলা যুবদলের সভাপতি ছিলেন।<br />
এই সময়টিই তাঁর রাজনৈতিক ভিত গড়ে ওঠার গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ছাত্রদলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, এরশাদবিরোধী আন্দোলন এবং পরবর্তী সময়ে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ তাঁকে ধীরে ধীরে খাগড়াছড়ির বৃহত্তর রাজনীতির সামনে নিয়ে আসে।<br />
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি থেকে জাতীয় রাজনীতিতে<br />
ওয়াদুদ ভূঁইয়ার রাজনৈতিক উত্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক ১৯৮৯ সালের খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ নির্বাচন। ওই নির্বাচনে তিনি সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তী সময়ে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের সঙ্গে মতবিরোধের প্রেক্ষাপটে তিনি পদত্যাগ করেন।<br />
এরপর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাঁর সরাসরি অংশগ্রহণ শুরু হয়। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও জয়ী হতে পারেননি। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনেও প্রথম দফায় পরাজয়ের পর একই বছর অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খাগড়াছড়ি-২৯৮ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন। ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও একই আসন থেকে জয়ী হয়ে দ্বিতীয়বার সংসদ সদস্য হন।<br />
অর্থাৎ ২০২৬ সালের নির্বাচন পর্যন্ত আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন—১৯৯৬, ২০০১ ও ২০২৬ সালে।</p>
<p>সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব&#8212;&#8212;<br />
১৯৯৬ সালে প্রথমবার সংসদ সদস্য হওয়ার পর থেকেই জাতীয় সংসদে খাগড়াছড়ির প্রতিনিধিত্ব করেন ওয়াদুদ ভূঁইয়া। ২০০১ সালে দ্বিতীয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তাঁর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিসর আরও বিস্তৃত হয়।<br />
২০০১ সালে তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।<br />
তবে তাঁর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দায়িত্বগুলোর একটি ছিল পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান পদ। সরকারি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০০২ থেকে ২২ নভেম্বর ২০০৬ পর্যন্ত এ দায়িত্বে ছিলেন।<br />
এই দায়িত্ব পালনকালে পার্বত্য অঞ্চলের অবকাঠামো, যোগাযোগ, শিক্ষা, কৃষি ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন নিয়ে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে তাঁর নাম যুক্ত হয়। তাঁর সমর্থকদের দাবি, ওই সময় খাগড়াছড়িসহ পার্বত্য এলাকার বিভিন্ন স্থানে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বিস্তার ঘটে।<br />
বিএনপির জেলা নেতৃত্বে উত্থান&#8212;-<br />
জাতীয় রাজনীতির পাশাপাশি খাগড়াছড়ি বিএনপির সাংগঠনিক নেতৃত্বেও ওয়াদুদ ভূঁইয়ার অবস্থান শক্ত হয়। তিনি ১৯৯৩ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত তিনি খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ২০০৯ সালে জেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন এবং একই সময়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হন। পরে কেন্দ্রীয় বিএনপিতে সহ-কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পান।<br />
দীর্ঘ সময় ধরে জেলা বিএনপির নেতৃত্বে থাকায় খাগড়াছড়িতে দলটির সাংগঠনিক কাঠামো তৈরিতে তাঁর ভূমিকা রয়েছে।<br />
পাহাড়ের রাজনীতিতে পরিচিতি&#8212;-<br />
ওয়াদুদ ভূঁইয়ার রাজনৈতিক পরিচয়ের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনৈতিক ইস্যুতে তাঁর অবস্থান। ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির বিরোধিতা করে বিএনপির তৎকালীন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তিনি সক্রিয় ছিলেন। ওই সময়কার লংমার্চ কর্মসূচির তিনি অন্যতম সংগঠক ছিলেন।<br />
এ কারণে পাহাড়ের রাজনীতিতে তাঁর পরিচিতি কেবল বিএনপির একজন জেলা নেতা হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকেনি; পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনৈতিক অধিকার, পাহাড়ি-বাঙালি সম্পর্ক, ভূমি ও আঞ্চলিক রাজনৈতিক কাঠামো নিয়েও তাঁর অবস্থান তাঁকে আলোচনার কেন্দ্রে রেখেছে।<br />
তাঁর সমর্থকদের কাছে তিনি পাহাড়ে বিএনপির অন্যতম প্রধান সংগঠক।<br />
উন্নয়ন ও জনসম্পৃক্ততার দাবি&#8212;&#8211;<br />
সংসদ সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান থাকার সময় শিক্ষা, যোগাযোগ, কৃষি, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার কথা তাঁর নির্বাচনী হলফনামাতেও উল্লেখ রয়েছে। ২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে জমা দেওয়া হলফনামায় তিনি দাবি করেন, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর ভোটারদের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থানসহ আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কাজ করেছেন।<br />
তাঁর রাজনৈতিক অনুসারীদের বক্তব্য, পাহাড়ি-বাঙালি উভয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ রেখে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা এবং বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে তিনি দীর্ঘদিন ধরে জনসম্পৃক্ততা বজায় রেখেছেন। তাঁর নিজের রাজনৈতিক বক্তব্যেও খাগড়াছড়িতে পাহাড়ি-বাঙালির সহাবস্থান, অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা উঠে এসেছে।</p>
<p>দীর্ঘ বিরতির পর আবার সংসদে&#8212;&#8211;<br />
২০০৬ সালের পর ওয়াদুদ ভূঁইয়ার রাজনৈতিক জীবনে বড় পরিবর্তন আসে। ২০০৭ সালে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও সম্পদের তথ্য গোপনের মামলা হয় এবং পরে আদালতে দণ্ডিতও হন। তবে ২০২৫ সালের ১০ আগস্ট হাইকোর্ট ওই মামলায় তাঁর আপিল মঞ্জুর করে তাঁকে খালাস দেন এবং আগের দণ্ড বাতিল হয়।<br />
২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে তাঁর হলফনামায় ২৬টি ফৌজদারি মামলার উল্লেখ ছিল; সেখানে ২১টি মামলা থেকে অব্যাহতি, চারটিতে খালাস এবং একটি মামলা নথিজাত অবস্থায় থাকার তথ্য দেওয়া হয়।<br />
২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি প্রার্থী ছিলেন না। এরপর দীর্ঘ সময় জাতীয় সংসদের বাইরে থাকার পর ২০২৬ সালের নির্বাচনে আবার খাগড়াছড়ি আসনে বিএনপির প্রার্থী হন।</p>
<p>তৃতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য&#8212;&#8211;<br />
২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খাগড়াছড়ি-২৯৮ আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হন আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া। প্রকাশিত ফলাফলে তিনি ১ লাখ ৫১ হাজার ৪০ ভোট পেয়ে বিজয় লাভ করেন।<br />
বিজয়ের পর ওয়াদুদ ভূঁইয়া বলেন, তাঁর বিজয় খাগড়াছড়ির জনগণের উদ্দেশে উৎসর্গ করেছেন। তিনি পাহাড়ি-বাঙালির সহাবস্থান বজায় রাখা, অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধির কথা বলেন।</p>
<p>নতুন দায়িত্বে নতুন অধ্যায়&#8212;-<br />
সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে তাঁর রাজনৈতিক জীবনে নতুন একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় যুক্ত হয়। জাতীয় সংসদে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হিসেবে তাঁকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সংসদে কণ্ঠভোটে কমিটি গঠন ও পুনর্গঠনের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়।<br />
এই দায়িত্বের কারণে তাঁর বর্তমান রাজনৈতিক ভূমিকা শুধু খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য হিসেবে সীমাবদ্ধ নেই; পার্বত্য চট্টগ্রাম সম্পর্কিত জাতীয় নীতি, উন্নয়ন পরিকল্পনা, সরকারি কার্যক্রমের সংসদীয় তদারকি এবং পাহাড়ের মানুষের বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে ভূমিকা রাখার সুযোগও তৈরি হয়েছে।</p>
<p>বর্তমান অবস্থান&#8211;+<br />
২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া খাগড়াছড়ি-২৯৮ আসনের সংসদ সদস্য এবং খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় রয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি।<br />
সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর জনসম্পৃক্ততার একটি দৃষ্টান্ত দেখা যায় দীঘিনালায় বন্যাকবলিত মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণে। আগস্ট ২০২৬-এর এক অনুষ্ঠানে তিনি মাদক, চাঁদাবাজি ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা নিয়েও বক্তব্য দেন।</p>
<p>পাহাড়ের মানুষের প্রত্যাশা&#8212;&#8211;<br />
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পর তৃতীয়বার সংসদ সদস্য হয়ে এবার ওয়াদুদ ভূঁইয়ার সামনে প্রত্যাশার পরিধিও বড়। খাগড়াছড়ির দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতি, কর্মসংস্থান, কৃষি ও পর্যটন, ভূমি-সংক্রান্ত জটিলতা, পাহাড়ি-বাঙালি সম্পর্ক এবং দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক রাজনৈতিক সংকট—এসব বিষয় তাঁর রাজনৈতিক দায়িত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।<br />
নির্বাচনের পর তিনি খাগড়াছড়িকে আধুনিক ও পর্যটননির্ভর নগরীতে রূপান্তর, পাহাড়ের উন্নয়ন এবং সব জনগোষ্ঠীর সহাবস্থানের কথা বলেছেন।<br />
অতীতের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, সংসদীয় অভিজ্ঞতা এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তাঁর বর্তমান দায়িত্বকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে। তবে তাঁর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার কতটা নতুন উন্নয়ন বাস্তবতায় রূপ নেয়, বিশেষ করে পাহাড়ি ও বাঙালি উভয় জনগোষ্ঠীর প্রত্যাশা কতটা সমন্বিতভাবে পূরণ হয়—সেটিই এখন তাঁর সামনে বড় পরীক্ষা।</p>
<p>উপসংহার&#8212;<br />
রামগড়ের ছাত্ররাজনীতি থেকে যাত্রা শুরু করে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি, দুই দফা সংসদ সদস্য, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক বিরতির পর আবার সংসদ সদস্য—আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়ার রাজনৈতিক জীবন মূলত কয়েক দশকের উত্থান-পতনের একটি ধারাবাহিক গল্প।<br />
১৯৯৬, ২০০১ ও ২০২৬—তিন দফা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া তাঁর রাজনৈতিক জীবনের বড় মাইলফলক। আর ২০২৬ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পাওয়া তাঁর রাজনৈতিক জীবনের বর্তমান অধ্যায়কে নতুন মাত্রা দিয়েছে।<br />
এখন তাঁর সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও বর্তমান রাষ্ট্রীয় দায়িত্বকে কীভাবে খাগড়াছড়ি তথা পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়ন, জননিরাপত্তা, সম্প্রীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও মানুষের প্রত্যাশা পূরণে কাজে লাগানো যায়। সেই উত্তরই আগামী দিনে পাহাড়ের রাজনীতিতে আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়ার ভূমিকার মূল্যায়নের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হয়ে উঠবে।</p>
<p>লেখক:<br />
এসএম শামসুল আলম<br />
স্টাফ রিপোর্টার, যমুনা টেলিভিশন<br />
সাবেক সভাপতি, রাঙ্গামাটি প্রেসক্লাব<br />
smshamsu.cht@gmai.com</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://chtnews24.com/2026/10/08/%e0%a6%86%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%b2-%e0%a6%93%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%a6-%e0%a6%ad%e0%a7%82%e0%a6%81%e0%a6%87%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be-%e0%a6%9b/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>দীপন তালুকদার দিপু: দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা ও নতুন অধ্যায়ের গল্প</title>
		<link>https://chtnews24.com/2026/10/07/%e0%a6%a6%e0%a7%80%e0%a6%aa%e0%a6%a8-%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%81%e0%a6%95%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%aa%e0%a7%81-%e0%a6%a6%e0%a7%80%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%98-2/</link>
					<comments>https://chtnews24.com/2026/10/07/%e0%a6%a6%e0%a7%80%e0%a6%aa%e0%a6%a8-%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%81%e0%a6%95%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%aa%e0%a7%81-%e0%a6%a6%e0%a7%80%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%98-2/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[adminchtnews24]]></dc:creator>
		<pubDate>Wed, 07 Oct 2026 07:07:16 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Second lead]]></category>
		<category><![CDATA[বিশেষ প্রতিবেদন]]></category>
		<category><![CDATA[রকমারি]]></category>
		<category><![CDATA[রাঙ্গামাটি]]></category>
		<category><![CDATA[শিরোনাম]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://chtnews24.com/?p=38955</guid>

					<description><![CDATA[এসএম শামসুল আলম:&#8211; রাঙ্গামাটির রাজনৈতিক অঙ্গনে দীপন তালুকদার দিপু এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম। দীর্ঘদিনের দলীয় রাজনীতি, সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন, আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয়তা এবং জেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃত্ব পেরিয়ে তিনি আজ রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির সভাপতি। ২০২২ সালে কাউন্সিলরদের সরাসরি ভোটে সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর ২০২৩ সালে অনুমোদিত ১৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতেও সভাপতি হিসেবে তাঁর নাম আসে। [&#8230;]]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>এসএম শামসুল আলম:&#8211; রাঙ্গামাটির রাজনৈতিক অঙ্গনে দীপন তালুকদার দিপু এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম। দীর্ঘদিনের দলীয় রাজনীতি, সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন, আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয়তা এবং জেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃত্ব পেরিয়ে তিনি আজ রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির সভাপতি। ২০২২ সালে কাউন্সিলরদের সরাসরি ভোটে সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর ২০২৩ সালে অনুমোদিত ১৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতেও সভাপতি হিসেবে তাঁর নাম আসে।<br />
২০২৬ সালের আগস্টে তাঁর রাজনৈতিক জীবনে যুক্ত হয়েছে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সরকার রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের নতুন অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ গঠন করে তাঁকে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দিয়েছে। ফলে দলীয় রাজনীতির পাশাপাশি বর্তমানে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বও দিচ্ছেন।<br />
কিন্তু জেলা বিএনপির সভাপতি কিংবা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান—এই অবস্থানে পৌঁছানোর গল্পটি একদিনের নয়। এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘ সময় ধরে সংগঠনের বিভিন্ন স্তরে কাজ করার অভিজ্ঞতা এবং রাজনৈতিক উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে নেতৃত্বে উঠে আসার একটি ধারাবাহিক পথ।<br />
তৃণমূলের রাজনীতি থেকে জেলা পর্যায়ে<br />
দীপন তালুকদার দিপুর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো—জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বে আসার আগে তিনি সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেছেন।<br />
স্থানীয় রাজনৈতিক তথ্য অনুযায়ী, তিনি রাঙ্গামাটি সদর উপজেলা বিএনপির নেতৃত্বে ছিলেন। পরবর্তীতে জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। অর্থাৎ জেলা বিএনপির সভাপতি হওয়ার আগে দীর্ঘ সময় ধরে তিনি সংগঠনের সাংগঠনিক কাঠামোর ভেতরে কাজ করার সুযোগ পান।<br />
এই ধারাবাহিকতাই তাঁকে জেলা পর্যায়ের নেতৃত্বের জন্য প্রস্তুত করে বলে তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ক্রমপর্যবেক্ষণে দেখা যায়।</p>
<p>২০২১ সালের সম্মেলন: সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নতুন দায়িত্ব&#8212;&#8211;<br />
রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির রাজনীতিতে দিপুর জন্য বড় একটি মাইলফলক ছিল ২০২১ সালের জেলা সম্মেলন।<br />
ওই সম্মেলনে তিনি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। সে সময় সভাপতি নির্বাচিত হন হাজী মো. শাহ আলম। সাধারণ সম্পাদক পদে দিপুর নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে জেলা সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব তাঁর হাতে আসে।<br />
এরপর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই জেলা বিএনপির নেতৃত্বে বড় পরিবর্তনের পরিস্থিতি তৈরি হয়।</p>
<p>এক ভোটের ব্যবধানে সভাপতি&#8212;<br />
২০২২ সালের ২১ এপ্রিল জেলা বিএনপির সভাপতি হাজী শাহ আলম মারা গেলে সভাপতির পদটি শূন্য হয়।<br />
এরপর সভাপতি পদে উপনির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হলে সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে পদত্যাগ করেন দীপন তালুকদার দিপু। ২০২২ সালের ৯ জুন অনুষ্ঠিত কাউন্সিলে সভাপতি পদে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।<br />
সেই নির্বাচনের ফলাফল ছিল অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ।<br />
প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, ১৫০ জন কাউন্সিলরের ভোটে দিপু পান ৭৪ ভোট। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী সাইফুল ইসলাম ভুট্টো পান ৭৩ ভোট। অর্থাৎ মাত্র এক ভোটের ব্যবধানে তিনি রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন।<br />
এই জয় তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মোড়। কারণ এর মধ্য দিয়ে তিনি কাউন্সিলরদের ভোটে জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বে আসেন।<br />
১৫১ সদস্যের কমিটিতে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি<br />
সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর তাঁর নেতৃত্ব আরও সাংগঠনিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়।<br />
২০২৩ সালের ১২ মার্চ বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের অনুমোদনে রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির ১৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে সভাপতি হিসেবে রাখা হয় দীপন তালুকদার দিপুকে এবং সাধারণ সম্পাদক করা হয় অ্যাডভোকেট মামুনুর রশীদ মামুনকে।<br />
এর ফলে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামোয় তাঁর নেতৃত্ব আনুষ্ঠানিক রূপ পায়।</p>
<p>আন্দোলন-সংগ্রামে দলীয় নেতৃত্ব&#8212;&#8211;<br />
জেলা বিএনপির নেতৃত্বে থাকার সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি, সভা-সমাবেশ ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে দিপুর সক্রিয় উপস্থিতি দেখা গেছে।<br />
রাঙ্গামাটির মতো পাহাড়ি জেলায় রাজনৈতিক সংগঠন পরিচালনা অন্য অনেক জেলার তুলনায় আলাদা বাস্তবতার মুখোমুখি। এখানে পাহাড়ি-বাঙালি বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর বসবাস, দুর্গম উপজেলা, যোগাযোগের সীমাবদ্ধতা এবং পাহাড়ের স্বতন্ত্র রাজনৈতিক বাস্তবতা রয়েছে।<br />
এই বাস্তবতার মধ্যে জেলা বিএনপির সংগঠনকে সক্রিয় রাখা এবং উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত দলীয় কর্মকাণ্ড বিস্তৃত করা জেলা সভাপতির অন্যতম দায়িত্ব।<br />
দিপনের বিভিন্ন বক্তব্যেও দলকে তৃণমূল পর্যায়ে শক্তিশালী করা, বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ এবং রাঙ্গামাটির উন্নয়ন নিয়ে রাজনৈতিক বক্তব্য উঠে এসেছে।</p>
<p>পাহাড়ি-বাঙালি সম্প্রীতির কথা&#8212;<br />
দিপনের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বক্তব্যের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো পাহাড়ি-বাঙালি উভয় সম্প্রদায়ের উন্নয়ন ও সম্প্রীতির কথা বলা।<br />
২০২৫ সালের একটি মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, বিএনপি সকল সম্প্রদায়ের মানুষের পাশে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। একই বক্তব্যে তিনি রাঙ্গামাটিকে একটি মডেল জেলা হিসেবে গড়ে তোলার কথা বলেন।<br />
২০২৬ সালে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরও তাঁর বক্তব্যে একই ধরনের বিষয় উঠে আসে। তিনি দল-মত নির্বিশেষে পাহাড়ি-বাঙালি সকলের জন্য বৈষম্যহীনভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।<br />
রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি বাস্তবে এই নীতিগুলো কীভাবে প্রয়োগ করা হয়—তা এখন তাঁর নেতৃত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার বিষয়।<br />
তারেক রহমানের প্রতি আস্থার কথা<br />
২০২৬ সালের আগস্টে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হওয়ার পর দেওয়া বক্তব্যে দীপন তালুকদার দিপু তাঁর রাজনৈতিক জীবনে তারেক রহমানের আস্থার বিষয়টি তুলে ধরেন।<br />
জেলা পরিষদের দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী এবং প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীনের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান। তাঁদের পরামর্শ ও নির্দেশনা অনুসরণ করে রাঙ্গামাটি তথা পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়নে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।<br />
এই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ তাঁর নতুন দায়িত্ব গ্রহণের সময় দেওয়া বক্তব্যের অংশ। একই সময়ে তিনি দায়িত্ব পালনে দলীয় নেতাকর্মী ও সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।</p>
<p>২০২৬: রাজনৈতিক জীবনে নতুন মোড়&#8212;-<br />
দীপন তালুকদার দিপুর রাজনৈতিক জীবনে সবচেয়ে বড় সাম্প্রতিক পরিবর্তন আসে ২০২৬ সালের ২০ আগস্ট।<br />
সেদিন সরকার দীপন তালুকদারকে চেয়ারম্যান করে ১৫ সদস্যের অন্তর্বর্তীকালীন রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ পুনর্গঠন করে। নতুন পরিষদে চেয়ারম্যানসহ ১৫ জনের মধ্যে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী ও স্থানীয় পর্যায়ের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।<br />
এর ফলে একই সঙ্গে তাঁর হাতে আসে দুটি গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়—<br />
রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির সভাপতি এবং রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান।<br />
রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃত্ব এবং সরকারি উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক নেতৃত্ব—দুই ধরনের দায়িত্বের প্রকৃতি এক নয়। ফলে তাঁর সামনে এখন নতুন ধরনের দায়িত্ব ও চ্যালেঞ্জও তৈরি হয়েছে।</p>
<p>রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা হলেন&#8212;-<br />
সরকারি জেলা পরিষদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের নতুন পরিষদে চেয়ারম্যানসহ মোট ১৫ জন রয়েছেন।<br />
চেয়ারম্যান:<br />
১. দীপন তালুকদার<br />
সদস্যবৃন্দ:<br />
২. মোহাম্মদ মামুনুর রশিদ<br />
৩. শাশ্বত চাকমা<br />
৪. বিলটু চাকমা<br />
৫. মো. তোফাজ্জল হোসেন<br />
৬. মোহাম্মদ ফারুক<br />
৭. নন্দিতা দাশ<br />
৮. অনিল বরণ চাকমা<br />
৯. পাইচিং মং মার্মা<br />
১০. উথোয়াইমং মারমা<br />
১১. প্রেমা তালুকদার<br />
১২. তিমথী খিয়াং<br />
১৩. সুবিমল চাকমা<br />
১৪. চন্দ্রা চাকমা<br />
১৫. সুপর্ণ দেব বর্মন</p>
<p>নতুন পরিষদ নিয়ে দিপুর প্রত্যাশা&#8212;&#8211;<br />
চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণের পর দীপন তালুকদার দিপু বলেন, রাঙ্গামাটির প্রতিটি প্রান্তে উন্নয়নের ছোঁয়া পৌঁছে দিতে চান। জনগণের কল্যাণে কাজ করা এবং জেলা পরিষদকে একটি মডেল জেলা পরিষদ হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।<br />
তাঁর বক্তব্যে বিশেষভাবে উঠে এসেছে রাঙ্গামাটিতে বসবাসরত সব সম্প্রদায়ের কল্যাণের বিষয়টি। তিনি বলেছেন, জনগণের ভালোবাসা ও প্রত্যাশাকে সঙ্গে নিয়ে জেলার সার্বিক উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে কাজ করাই হবে নতুন পরিষদের প্রধান লক্ষ্য।</p>
<p>সবার সার্বিক সহযোগিতা চান চেয়ারম্যান&#8212;&#8211;<br />
নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর দীপন তালুকদার দিপু শুধু রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের নয়, রাঙ্গামাটির সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতাও চেয়েছেন।<br />
তিনি মনে করেন, একটি জেলা পরিষদ এককভাবে চেয়ারম্যানের পক্ষে পরিচালনা করা সম্ভব নয়। পরিষদের সদস্য, কর্মকর্তা-কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক এবং সর্বস্তরের জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন।<br />
দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি নবগঠিত জেলা পরিষদকে সহযোগিতা করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।<br />
তাঁর এই আহ্বানের মূল লক্ষ্য হিসেবে উঠে এসেছে—রাঙ্গামাটির সামগ্রিক উন্নয়ন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং সব সম্প্রদায়ের মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা।</p>
<p>জেলা পরিষদে কী করতে চান দিপু?<br />
চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণের পর দীপন তালুকদার তাঁর অগ্রাধিকারের কিছু বিষয় তুলে ধরেছেন।<br />
তিনি রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদকে বৈষম্যহীন ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার কথা বলেছেন। একই সঙ্গে জেলার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা, পর্যটনের বিকাশ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বেকারত্ব কমাতে উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেছেন।<br />
এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে রাঙ্গামাটির বাস্তবতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।<br />
দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা, যোগাযোগব্যবস্থা, কৃষি, পর্যটন, কাপ্তাই হ্রদকেন্দ্রিক অর্থনীতি, ভূমি ও সামাজিক সমস্যা এবং বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে আস্থা—এসব বিষয় জেলা পরিষদের কার্যক্রমের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত।<br />
তাই নতুন চেয়ারম্যানের কর্মকাণ্ড শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত দিয়ে নয়, মাঠপর্যায়ে তার বাস্তব প্রভাব দিয়েও মূল্যায়িত হবে।</p>
<p>ব্যক্তিগত রাজনৈতিক সংগ্রামের জায়গাটি&#8212;&#8211;<br />
দীপন তালুকদার দিপু নিজে ২০২৬ সালে জেলা পরিষদের দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁর রাজনৈতিক জীবনের দীর্ঘ সময়ের ত্যাগ, প্রতিকূলতা, মামলা ও হামলার কথা উল্লেখ করেছেন। একটি প্রতিবেদনে তাঁর ১৭ বছরের রাজনৈতিক ত্যাগ-তিতীক্ষা, মামলা ও হামলার কথা তাঁর বক্তব্য বলা হয়েছে।<br />
দিপুর ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বাস্তবতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো দীর্ঘ সময় ধরে জেলা বিএনপির বিভিন্ন সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন এবং শেষ পর্যন্ত কাউন্সিলরদের ভোটে জেলা সভাপতির পদে আসীন হওয়া।</p>
<p>পরিবার ও রাজনৈতিক উত্তরাধিকার&#8212;&#8212;<br />
দীপন তালুকদার দিপুর পরিবারও রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সঙ্গে যুক্ত একটি আলোচিত পরিবার।<br />
২০২৬ সালের আগস্টে তাঁর নিজের দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, তাঁর বড় ভাই রাজনীতি করেন না এবং এর আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছিলেন।<br />
ফলে ২০২৬ সালে দিপু চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেওয়ার বিষয়টি রাঙ্গামাটির জেলা পরিষদের ইতিহাসেও একটি উল্লেখযোগ্য পারিবারিক ধারাবাহিকতা তৈরি করেছে।<br />
তবে তাঁর রাজনৈতিক উত্থানকে কেবল পারিবারিক পরিচয়ের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করলে তাঁর দীর্ঘ সাংগঠনিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়টি আড়ালে পড়ে যায়। জেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ে তাঁর দায়িত্ব পালন এবং ২০২২ সালের কাউন্সিল নির্বাচনে সরাসরি ভোটে সভাপতি হওয়া তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের পৃথক গুরুত্বপূর্ণ দিক।</p>
<p>সামনে বড় চ্যালেঞ্জ&#8212;&#8212;<br />
দীপন তালুকদার দিপুর সামনে এখন সবচেয়ে বড় বিষয় শুধু দল পরিচালনা নয়; সরকারি দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করা।<br />
একদিকে তাঁকে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক ঐক্য ও দলীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে হবে। অন্যদিকে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের প্রত্যাশা থাকবে।<br />
বিশেষ করে রাঙ্গামাটির দুর্গম এলাকাগুলোতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, কৃষি ও পর্যটন উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, কাপ্তাই হ্রদকেন্দ্রিক অর্থনীতি এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান—এসব ক্ষেত্রে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া তাঁর সামনে বড় কাজ।<br />
একই সঙ্গে পাহাড়ি-বাঙালি সব সম্প্রদায়ের মধ্যে আস্থা ও সম্প্রীতি বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।</p>
<p>রাজনৈতিক জীবনের মূল্যায়নের জায়গা<br />
দীপন তালুকদার দিপুর রাজনৈতিক পথচলাকে কয়েকটি ধাপে দেখা যায়—<br />
তৃণমূল রাজনীতি → সদর উপজেলা বিএনপির নেতৃত্ব → জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক → জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক → কাউন্সিলরদের ভোটে জেলা সভাপতি → পূর্ণাঙ্গ জেলা কমিটির সভাপতি → জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান।<br />
এই ধারাবাহিকতার মধ্যেই তাঁর রাজনৈতিক উত্থানের মূল চিত্রটি পাওয়া যায়।<br />
২০২২ সালের এক ভোটের ব্যবধানে পাওয়া জয় থেকে ২০২৩ সালের পূর্ণাঙ্গ কমিটির সভাপতি এবং ২০২৬ সালের জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান—প্রতিটি ধাপই তাঁর রাজনৈতিক জীবনের আলাদা মাইলফলক।<br />
তবে এখন তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শুরু হয়েছে। কারণ দলীয় রাজনীতিতে নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে তাঁর সিদ্ধান্ত, প্রশাসনিক দক্ষতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডও জনপরিসরে আলোচিত ও মূল্যায়িত হবে।</p>
<p>শেষ কথা&#8212;-<br />
দীপন তালুকদার দিপুর গল্পকে শুধু একজন রাজনৈতিক নেতার পদোন্নতির গল্প হিসেবে দেখলে পুরো চিত্রটি পাওয়া যাবে না। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় রয়েছে সংগঠনের বিভিন্ন স্তরে দায়িত্ব পালন, জেলা বিএনপির নেতৃত্বে ওঠার প্রতিযোগিতা, মাত্র এক ভোটের ব্যবধানে সভাপতি নির্বাচিত হওয়া এবং পরবর্তীতে পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে নেতৃত্বের স্বীকৃতি।<br />
২০২৬ সালে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব তাঁর রাজনৈতিক জীবনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী এবং প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে দিপু যে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন, তার কেন্দ্রে রয়েছে রাঙ্গামাটির উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার অঙ্গীকার।<br />
একই সঙ্গে নবগঠিত পরিষদের সদস্যদের নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করা এবং সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা নিয়ে রাঙ্গামাটির উন্নয়ন এগিয়ে নেওয়ার কথা বলেছেন তিনি।<br />
এখন তাঁর সামনে দলীয় রাজনীতির পাশাপাশি রাঙ্গামাটির সামগ্রিক উন্নয়ন, প্রশাসনিক কার্যকারিতা, পাহাড়ি-বাঙালি সম্প্রীতি, পর্যটন, কর্মসংস্থান এবং প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়নের মতো বড় বড় বিষয়।<br />
দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের পর যে অবস্থানে তিনি পৌঁছেছেন, সেই অবস্থানের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হবে—রাজনীতির মাঠে অর্জিত নেতৃত্বকে তিনি কতটা জনসেবা, উন্নয়ন ও কার্যকর প্রশাসনিক কাজে রূপ দিতে পারেন।</p>
<p>লেখক:- এসএম শামসুল আলম।<br />
স্টাফ রির্পোটার যমুনা টেলিভিশন।<br />
সাবেক সভাপতি রাঙ্গামাটি প্রেসক্লাব।<br />
smshamsul.cht@gmail.com</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://chtnews24.com/2026/10/07/%e0%a6%a6%e0%a7%80%e0%a6%aa%e0%a6%a8-%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%81%e0%a6%95%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%aa%e0%a7%81-%e0%a6%a6%e0%a7%80%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%98-2/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>অ্যাডভোকেট মামুনুর রশীদ মামুনের পাহাড়ে বিএনপির রাজনৈতিক উত্তরাধিকার থেকে নিজস্ব নেতৃত্বে উঠে আসার গল্প</title>
		<link>https://chtnews24.com/2026/10/04/%e0%a6%85%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%a1%e0%a6%ad%e0%a7%8b%e0%a6%95%e0%a7%87%e0%a6%9f-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%a8%e0%a7%81%e0%a6%b0-%e0%a6%b0%e0%a6%b6%e0%a7%80%e0%a6%a6/</link>
					<comments>https://chtnews24.com/2026/10/04/%e0%a6%85%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%a1%e0%a6%ad%e0%a7%8b%e0%a6%95%e0%a7%87%e0%a6%9f-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%a8%e0%a7%81%e0%a6%b0-%e0%a6%b0%e0%a6%b6%e0%a7%80%e0%a6%a6/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[adminchtnews24]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 04 Oct 2026 05:21:37 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Second lead]]></category>
		<category><![CDATA[বিশেষ প্রতিবেদন]]></category>
		<category><![CDATA[রাঙ্গামাটি]]></category>
		<category><![CDATA[শিরোনাম]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://chtnews24.com/?p=38916</guid>

					<description><![CDATA[এসএম শামসুল আলম:- রাঙ্গামাটির রাজনীতিতে অ্যাডভোকেট মামুনুর রশীদ মামুন এখন একটি পরিচিত নাম। ছাত্রজীবন থেকে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে দীর্ঘ চার দশকের রাজনৈতিক পথচলায় তিনি স্কুল, কলেজ, শহর, জেলা ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের ছাত্রদলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তীতে বিএনপির মূল রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করে বর্তমানে [&#8230;]]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>এসএম শামসুল আলম:- রাঙ্গামাটির রাজনীতিতে অ্যাডভোকেট মামুনুর রশীদ মামুন এখন একটি পরিচিত নাম। ছাত্রজীবন থেকে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে দীর্ঘ চার দশকের রাজনৈতিক পথচলায় তিনি স্কুল, কলেজ, শহর, জেলা ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের ছাত্রদলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তীতে বিএনপির মূল রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করে বর্তমানে রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।<br />
দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার পাশাপাশি আইন পেশা, ক্রীড়া সংগঠন, ব্যবসায়ী সংগঠন এবং বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন মামুনুর রশীদ মামুন। ২০২৬ সালের আগস্টে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের নতুন অন্তর্বর্তী পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার মধ্য দিয়ে তাঁর কর্মপরিধিতে যুক্ত হয়েছে নতুন একটি অধ্যায়। একই পরিষদে রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির সভাপতি দীপন তালুকদার দীপু চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেয়েছেন।<br />
একজন রাজনৈতিক নেতার বর্তমান অবস্থান কখনোই একদিনে তৈরি হয় না। এর পেছনে থাকে দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক শিক্ষা, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, আন্দোলন-সংগ্রামে অংশগ্রহণ, মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক এবং নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার প্রচেষ্টা। মামুনুর রশীদ মামুনের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি।<br />
তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সঙ্গে যেমন রয়েছে একটি ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক পরিবারের উত্তরাধিকার, তেমনি রয়েছে ছাত্ররাজনীতি থেকে ধাপে ধাপে উঠে এসে নিজের সাংগঠনিক পরিচয় ও নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ ইতিহাস।<br />
রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম, রাজনীতির আবহে বেড়ে ওঠা<br />
মামুনুর রশীদ মামুনের রাজনৈতিক জীবন বোঝার ক্ষেত্রে তাঁর পারিবারিক পটভূমি গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর বাবা আলহাজ্ব নাজিম উদ্দিন আহম্মদ ছিলেন রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ নেতা। ১৯৭৯ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত তিনি রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাংগঠনিক সম্পাদক, সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।<br />
১৯৮৫ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত তিনি রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান—এই তিন পার্বত্য জেলার বিএনপির সমন্বয়কারী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। জাতীয় পর্যায়ের রাজনীতিতেও তাঁর সক্রিয়তা ছিল। ১৯৯১ সালে তিনি জাতীয় সংসদ সদস্য পদে প্রার্থী হন।<br />
রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির সাংগঠনিক বিকাশের বিভিন্ন পর্যায়ে আলহাজ্ব নাজিম উদ্দিন আহম্মদের ভূমিকা স্থানীয় বিএনপির ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। দীর্ঘ সময় জেলা বিএনপির নেতৃত্বে থাকার পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়ে দলকে সাংগঠনিকভাবে বিস্তৃত করার কাজেও তিনি যুক্ত ছিলেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের কারণে নেতাকর্মীদের কাছে তিনি ‘নাজিম চাচা’ নামে পরিচিত ছিলেন। দলীয় রাজনীতির বাইরে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গেও তাঁর যোগাযোগ ছিল।<br />
এই রাজনৈতিক পরিবেশেই বেড়ে ওঠেন তাঁর ছেলে অ্যাডভোকেট মামুনুর রশীদ মামুন। ছোটবেলা থেকেই দলীয় নেতাকর্মীদের আনাগোনা, রাজনৈতিক কর্মসূচি, সংগঠনের কর্মকাণ্ড এবং মানুষের সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্ক তৈরির বিষয়গুলো তিনি কাছ থেকে দেখেছেন।<br />
তবে বাবার রাজনৈতিক পরিচয়কে ভিত্তি করে থেমে থাকেননি তিনি। ছাত্রজীবন থেকেই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ধাপে ধাপে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান তৈরি করেছেন।<br />
ছাত্ররাজনীতিতে হাতেখড়ি<br />
মামুনুর রশীদ মামুনের রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয় ছাত্রজীবনে। ১৯৮৫ সালে তিনি রাঙ্গামাটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর দুই বছর পর, ১৯৮৭ সালে মাঝেরবস্তি আঞ্চলিক ছাত্রদলের সভাপতি হন। ১৯৮৯ সালে দায়িত্ব পান রাঙ্গামাটি সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে।<br />
ছাত্ররাজনীতির পাশাপাশি নির্বাচনী রাজনীতিতেও তাঁর অংশগ্রহণ ছিল। ১৯৯০ সালে রাঙ্গামাটি সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ডি.পি. পদে প্রার্থী হন তিনি। ওই নির্বাচনে মাত্র চার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। একই বছর রাঙ্গামাটি শহর ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।<br />
১৯৯১ সালে তিনি রাঙ্গামাটি জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি এবং ১৯৯৪ সালে জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ১৯৯৭ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর মধ্য দিয়ে তাঁর সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড রাঙ্গামাটি জেলার গণ্ডি পেরিয়ে বৃহত্তর পরিসরে বিস্তৃত হয়।<br />
২০০১ সালে তিনি রাঙ্গামাটি জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হন। ২০০২ সালে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ সময় কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের কমিটি ছিল লাল্টু-পিন্টু ভাইয়ের নেতৃত্বাধীন কমিটি। পরবর্তীতে ২০০৪ সালে হেলাল-বাবু ভাইয়ের নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় ছাত্রদল কমিটিতে তিনি বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।<br />
স্কুল পর্যায় থেকে কলেজ, শহর, জেলা, বিশ্ববিদ্যালয় এবং কেন্দ্রীয় পর্যায়ের ছাত্রসংগঠনে ধারাবাহিকভাবে দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে তাঁর রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতার ভিত তৈরি হয়।<br />
বিএনপির মূল রাজনীতিতে প্রবেশ<br />
ছাত্রদলের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার পর মামুনুর রশীদ মামুন বিএনপির মূল রাজনীতিতে সক্রিয় হন।<br />
২০০২ সালে তিনি রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির কার্যকরী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০০৮ সালে রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হন।<br />
২০০৯ সালে তাঁর রাজনৈতিক দায়িত্বের পরিধি আরও বিস্তৃত হয়। ওই বছর তিনি রাঙ্গামাটি সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এবং রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৪ সালে পুনরায় রাঙ্গামাটি সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পান।<br />
২০১৫ সালে তিনি রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। একই বছর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হন।<br />
এই ধারাবাহিকতা দেখলে দেখা যায়, স্কুল পর্যায়ের ছাত্ররাজনীতি থেকে শুরু করে কলেজ, শহর, জেলা এবং কেন্দ্রীয় পর্যায়ের সংগঠনে দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে ধাপে ধাপে বিএনপির মূল নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে উঠে এসেছেন তিনি।<br />
শিক্ষা ও আইন পেশা<br />
রাজনীতির পাশাপাশি শিক্ষাজীবনেও উচ্চশিক্ষা অর্জন করেছেন অ্যাডভোকেট মামুনুর রশীদ মামুন।<br />
তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজতত্ত্ব বিষয়ে এম.এস.এস. এবং এলএল.বি. ডিগ্রি অর্জন করেন। সমাজতত্ত্বের শিক্ষা তাঁকে সমাজ, মানুষ, সামাজিক কাঠামো এবং জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন বাস্তবতা বোঝার সুযোগ দিয়েছে। আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা তাঁর পেশাগত জীবনে আলাদা পরিচয় তৈরি করে।<br />
পরবর্তীতে তিনি আইন পেশার সঙ্গে যুক্ত হন এবং একজন আইনজীবী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। ফলে তাঁর কর্মজীবনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ পরিচয় তৈরি হয়েছে—একদিকে আইনজীবী, অন্যদিকে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মী ও সংগঠক।<br />
২০২২: কাউন্সিলের প্রত্যক্ষ ভোটে সাধারণ সম্পাদক<br />
মামুনুর রশীদ মামুনের রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম বড় মাইলফলক আসে ২০২২ সালের ৯ জুন।<br />
রাঙ্গামাটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির কাউন্সিল। জেলার ১৪৯ জন কাউন্সিলর প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে তাঁদের নেতৃত্ব নির্বাচন করেন।<br />
ওই কাউন্সিলে দীপন তালুকদার দীপু সভাপতি এবং অ্যাডভোকেট মামুনুর রশীদ মামুন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।<br />
তৃণমূলের কাউন্সিলরদের সরাসরি ভোটে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়া তাঁর রাজনৈতিক জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এর মাধ্যমে জেলা পর্যায়ে তাঁর সাংগঠনিক নেতৃত্বের স্বীকৃতি আনুষ্ঠানিক রূপ পায়।<br />
পরবর্তীতে ২০২৩ সালের ১২ মার্চ বিএনপির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দীপন তালুকদার দীপুকে সভাপতি এবং মামুনুর রশীদ মামুনকে সাধারণ সম্পাদক করে ১৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপি কমিটি ঘোষণা করা হয়।<br />
সেই থেকে তিনি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।<br />
মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় উপস্থিতি<br />
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পর দলীয় কর্মসূচিতে তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি আরও দৃশ্যমান হয়। সভা-সমাবেশ, বিক্ষোভ, গণসংযোগ, সাংগঠনিক সভা, উপজেলা পর্যায়ের কর্মসূচি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময়ে তাঁকে নিয়মিত দেখা গেছে।<br />
২০২৪ ও ২০২৫ সালের বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতেও তিনি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অংশ নেন। ২০২৬ সালেও তাঁর সাংগঠনিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।<br />
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে রাঙ্গামাটিতে বিএনপির আয়োজিত সমাবেশেও তিনি উপস্থিত ছিলেন।<br />
২০২৬ সালে জেলা ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে নেতাকর্মীদের বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধের পরিস্থিতিতেও তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি তুলে ধরে সড়ক অবরোধ না করার আহ্বান জানান তিনি।<br />
এ ধরনের ঘটনায় দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ, পরিস্থিতি সামাল দেওয়া এবং সাংগঠনিক সমন্বয়ের একটি দিকও তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রতিফলিত হয়েছে।<br />
রাজনীতির বাইরে ক্রীড়াঙ্গনেও সম্পৃক্ততা<br />
মামুনুর রশীদ মামুনের জনসম্পৃক্ততা শুধু রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ নয়। রাঙ্গামাটির ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গেও তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে।<br />
বিভিন্ন সময়ে তিনি রাঙ্গামাটি জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহ-সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন।<br />
২০২২ সালে জেলা ক্রীড়া সংস্থার ক্লাব নিবন্ধন সংক্রান্ত বিষয়েও তাঁকে সহ-সভাপতি এবং ক্লাব রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত উপকমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়।<br />
২০২৫ সালে জেলা ক্রীড়া সংস্থার আহ্বায়ক কমিটি বাতিলের দাবিতে ক্রীড়া সংগঠক, খেলোয়াড় ও বিভিন্ন ক্লাবের মানববন্ধনেও তিনি বক্তব্য দেন। ওই সময় তিনি সাউথ স্পোর্টিং ক্লাবের সভাপতি হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন।<br />
ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্ক তাঁকে রাঙ্গামাটির তরুণ, খেলোয়াড় ও ক্রীড়া সংগঠকদের একটি বড় অংশের সঙ্গেও যুক্ত রেখেছে।<br />
ব্যবসায়ী সমাজের নেতৃত্বে<br />
রাজনীতির পাশাপাশি ব্যবসায়ী সংগঠনেও রয়েছে তাঁর নেতৃত্বের ভূমিকা।<br />
মামুনুর রশীদ মামুন রাঙ্গামাটি চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।<br />
২০২৬ সালের জানুয়ারিতে চেম্বারের উদ্যোগে রাঙ্গামাটির ৮০০ শীতার্ত মানুষের মধ্যে কম্বল বিতরণ কর্মসূচিতে তিনি সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সেখানে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে ব্যবসায়ী ও বিত্তবানদের দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।<br />
এর মাধ্যমে ব্যবসায়ী সমাজের সঙ্গেও তাঁর একটি সাংগঠনিক ও সামাজিক যোগাযোগ তৈরি হয়েছে।<br />
সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ড<br />
সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডেও তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে।<br />
২০২৬ সালে প্রকৃতি ও জীবন ক্লাবের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে গাছের চারা বিতরণ কর্মসূচিতেও তিনি অংশ নেন। ওই কর্মসূচিতে পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থীর মধ্যে বনজ, ফলজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করা হয়।<br />
এ ছাড়া বিভিন্ন সামাজিক, ধর্মীয় ও পেশাজীবী প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভাতেও তাঁকে দেখা যায়।<br />
সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতাদের সঙ্গে জেলা বিএনপির মতবিনিময় সভায় তাঁর বক্তব্য দেওয়ার ঘটনাও তাঁর রাজনৈতিক ও সামাজিক যোগাযোগের বিস্তৃত পরিসরকে তুলে ধরে।<br />
বাবার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার, ছেলের নিজস্ব পথ<br />
মামুনুর রশীদ মামুনের রাজনৈতিক জীবনের সঙ্গে তাঁর বাবা আলহাজ্ব নাজিম উদ্দিন আহম্মদের রাজনৈতিক ইতিহাসের সরাসরি পারিবারিক ও সাংগঠনিক যোগসূত্র রয়েছে।<br />
একদিকে নাজিম উদ্দিন আহম্মদ ১৯৭৯ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাংগঠনিক সম্পাদক, সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। অন্যদিকে তাঁর ছেলে মামুনুর রশীদ মামুন ছাত্রদলের রাজনীতি থেকে উঠে এসে বর্তমানে রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।<br />
রাঙ্গামাটি বিএনপির রাজনৈতিক ইতিহাসে এটি দুই প্রজন্মের নেতৃত্বের একটি উল্লেখযোগ্য ধারাবাহিকতা।<br />
তবে মামুনুর রশীদ মামুনের বর্তমান অবস্থানকে শুধু পারিবারিক উত্তরাধিকার দিয়ে ব্যাখ্যা করার সুযোগ নেই। ১৯৮৫ সালে স্কুল ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে রাজনৈতিক যাত্রা শুরু করে প্রায় চার দশক ধরে বিভিন্ন সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন, নির্বাচনে অংশগ্রহণ, তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে কাজ করা, জেলা ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে ছাত্রদলের দায়িত্ব পালন এবং পরবর্তীতে বিএনপির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন—এসব কর্মকাণ্ড তাঁর নিজস্ব রাজনৈতিক পরিচয়ও তৈরি করেছে।<br />
অর্থাৎ বাবার কাছ থেকে পাওয়া রাজনৈতিক পরিবেশ তাঁর পথচলার প্রাথমিক ভিত্তি তৈরি করলেও পরবর্তী সময়ে নিজের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে তিনি নিজস্ব অবস্থান তৈরি করেছেন।<br />
চার দশকের রাজনৈতিক পথচলা<br />
অ্যাডভোকেট মামুনুর রশীদ মামুনের রাজনৈতিক জীবনের দিকে তাকালে প্রায় চার দশকের একটি ধারাবাহিক পথচিত্র পাওয়া যায়।<br />
১৯৮৫ সালে রাঙ্গামাটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে যাত্রা শুরু করে ১৯৮৭ সালে মাঝেরবস্তি আঞ্চলিক ছাত্রদলের সভাপতি, ১৯৮৯ সালে রাঙ্গামাটি সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি, ১৯৯০ সালে কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ডি.পি. পদে প্রার্থী হওয়া এবং একই বছর শহর ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন তিনি।<br />
১৯৯১ সালে জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি, ১৯৯৪ সালে জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক, ১৯৯৭ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক এবং ২০০১ সালে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হন।<br />
এরপর ২০০২ সালে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সদস্য এবং একই বছরে রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির কার্যকরী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৪ সালে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।<br />
২০০৮ সালে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক, ২০০৯ সালে রাঙ্গামাটি সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক, ২০১৪ সালে পুনরায় সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এবং ২০১৫ সালে জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।<br />
এরপর ২০২২ সালের ৯ জুন প্রত্যক্ষ ভোটে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং ২০২৩ সালে ঘোষিত ১৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ জেলা বিএনপি কমিটিতেও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব বহাল থাকে।<br />
এই দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় নির্বাচনে অংশগ্রহণ, দলীয় নেতৃত্ব, সাংগঠনিক দায়িত্ব এবং তৃণমূল পর্যায়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন তিনি।<br />
২০২৬: জেলা পরিষদে নতুন দায়িত্ব<br />
রাজনৈতিক জীবনে ২০২৬ সাল মামুনুর রশীদ মামুনের জন্য নতুন একটি অধ্যায় নিয়ে আসে।<br />
২০ আগস্ট ২০২৬ সরকার রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের নতুন অন্তর্বর্তী পরিষদ ঘোষণা করে। ১৫ সদস্যের ওই পরিষদে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মামুনুর রশীদকে সদস্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।<br />
একই পরিষদে রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির সভাপতি দীপন তালুকদার দীপুকে চেয়ারম্যান করা হয়।<br />
ফলে জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক—দলের জেলা পর্যায়ের শীর্ষ দুই নেতা একই সময়ে জেলা পরিষদের নেতৃত্ব কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত হন।<br />
জেলা পরিষদের সদস্য হওয়ার পর মামুনুর রশীদ মামুনের দায়িত্বের পরিধি আরও বিস্তৃত হয়। দলীয় রাজনীতির পাশাপাশি স্থানীয় উন্নয়ন, নাগরিক সেবা ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখার সুযোগ তৈরি হয়।<br />
স্বাস্থ্যসেবায় নতুন দায়িত্ব<br />
জেলা পরিষদের সদস্য হওয়ার পর স্বাস্থ্য বিভাগের আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পেয়েছেন তিনি।<br />
৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ অনুষ্ঠিত স্বাস্থ্য বিভাগের সমন্বয় সভায় তিনি দুর্গম ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, কমিউনিটি ক্লিনিক কার্যকর করা, ম্যালেরিয়া ও মাতৃমৃত্যু রোধসহ বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।<br />
পার্বত্য অঞ্চলের ভৌগোলিক বাস্তবতায় দুর্গম এলাকার মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এ কারণে স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্ব তাঁর নতুন জনসেবামূলক ভূমিকার গুরুত্বপূর্ণ একটি ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।<br />
রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালের সেবার মানোন্নয়ন, বিদ্যমান সমস্যা সমাধান এবং সীমিত জনবলকে কাজে লাগিয়ে সাধারণ মানুষের উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার বিষয়েও তিনি মতবিনিময় করেছেন।<br />
নাগরিক সমস্যা ও উন্নয়ন ভাবনা<br />
জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর স্থানীয় উন্নয়ন ও নাগরিক সমস্যার বিভিন্ন বিষয়েও বক্তব্য রেখেছেন তিনি।<br />
রাঙ্গামাটির খসড়া মহাপরিকল্পনা নিয়ে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় তিনি কাপ্তাই হ্রদে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ, যত্রতত্র বাড়িঘর নির্মাণ নিয়ন্ত্রণ এবং জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের রাস্তা কাটাকাটির ক্ষেত্রে সমন্বয়হীনতা দূর করার দাবি জানান।<br />
শহরের স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নের জন্য প্রতিটি ওয়ার্ডে অন্তত একটি করে আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সেন্টার স্থাপনের প্রস্তাবও দেন।<br />
২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ অনুষ্ঠিত রাঙ্গামাটি পৌরসভার মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন কর্মশালায় জেলা পরিষদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তাঁর উপস্থিতির বিষয়টিও সংবাদে এসেছে।<br />
এতে দলীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বাইরে স্থানীয় নাগরিক সমস্যা, নগর পরিকল্পনা ও উন্নয়ন নিয়েও তাঁর সক্রিয়তার বিষয়টি সামনে এসেছে।<br />
তরুণ ও ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গে যোগাযোগ<br />
ক্রীড়াঙ্গনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কারণে তরুণদের সঙ্গেও তাঁর যোগাযোগ রয়েছে।<br />
জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিভিন্ন ফুটবল, ক্রিকেটসহ ক্রীড়া আয়োজনে তাঁর উপস্থিতি ছিল।<br />
২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরেও রাঙ্গামাটি ইয়ুথ স্পোর্টিং ক্লাবের একটি অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তিনি। সেখানে ক্রীড়া অবকাঠামো, খেলোয়াড়দের পৃষ্ঠপোষকতা এবং তরুণদের ক্রীড়ামুখী করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হয়। ওই অনুষ্ঠানে তাঁকে নবগঠিত জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবে সংবর্ধনাও দেওয়া হয়।<br />
রাজনীতির বাইরে তরুণ সমাজের সঙ্গে এই যোগাযোগ ভবিষ্যৎ জনসম্পৃক্ত কর্মকাণ্ডেও একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হতে পারে।<br />
মানুষের কাছে পৌঁছানোর রাজনীতি<br />
মামুনুর রশীদ মামুনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম দৃশ্যমান দিক হলো বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ।<br />
রাজনৈতিক নেতাকর্মী, ব্যবসায়ী, ক্রীড়াবিদ, সামাজিক সংগঠক, ধর্মীয় ও সম্প্রদায়ভিত্তিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে তাঁকে মতবিনিময় করতে দেখা গেছে।<br />
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে এই জনসম্পৃক্ততা ছিল মূলত রাজনৈতিক সংগঠনকেন্দ্রিক। জেলা পরিষদের সদস্য হওয়ার পর সেই যোগাযোগের পরিধি আরও বিস্তৃত হয়েছে।<br />
এখন তাঁর সামনে দলীয় সংগঠনের পাশাপাশি স্বাস্থ্য, শিক্ষা, যোগাযোগ, ক্রীড়া ও সামাজিক উন্নয়নসহ জেলার বিভিন্ন নাগরিক ইস্যুতে কাজ করার সুযোগ রয়েছে।<br />
নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা<br />
মামুনুর রশীদ মামুনের রাজনৈতিক পথচলাকে কয়েকটি পর্যায়ে দেখা যায়।<br />
প্রথমত, রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম এবং বাবা আলহাজ্ব নাজিম উদ্দিন আহম্মদের দীর্ঘ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পরিবেশে বেড়ে ওঠা।<br />
দ্বিতীয়ত, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজতত্ত্ব বিষয়ে এম.এস.এস. ও এলএল.বি. ডিগ্রি অর্জন এবং আইন পেশার সঙ্গে সম্পৃক্ততা।<br />
তৃতীয়ত, ১৯৮৫ সালে স্কুল ছাত্রদলের নেতৃত্ব দিয়ে ছাত্ররাজনীতিতে প্রবেশ এবং পরবর্তীতে কলেজ, শহর, জেলা, বিশ্ববিদ্যালয় ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে ছাত্রদলের বিভিন্ন দায়িত্ব পালন।<br />
চতুর্থত, ২০০২ সালে জেলা বিএনপির কার্যকরী সদস্য হওয়ার মধ্য দিয়ে বিএনপির মূলধারার রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হওয়া।<br />
পঞ্চমত, ২০০৮ সালে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক, ২০০৯ সালে সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক, ২০১৪ সালে সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এবং ২০১৫ সালে জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন।<br />
ষষ্ঠত, ২০২২ সালের ৯ জুন ১৪৯ কাউন্সিলরের প্রত্যক্ষ ভোটে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়া।<br />
সপ্তমত, ২০২৩ সালে ১৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ জেলা বিএনপি কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব বহাল থাকা।<br />
অষ্টমত, ক্রীড়া সংগঠন, ব্যবসায়ী সংগঠন ও বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থেকে রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে জনসম্পৃক্ততার পরিধি বিস্তৃত করা।<br />
নবমত, ২০২৬ সালের আগস্টে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের অন্তর্বর্তী পরিষদের সদস্য হিসেবে নতুন দায়িত্ব গ্রহণ এবং স্বাস্থ্য বিভাগের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া।<br />
এই ধারাবাহিকতার মধ্য দিয়েই একজন স্কুল ছাত্রনেতা থেকে কলেজ, শহর, জেলা ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের সংগঠক, এরপর বিএনপির জেলা পর্যায়ের নেতা এবং একই সঙ্গে জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছেন তিনি।<br />
সামনে বড় দায়িত্ব<br />
বর্তমানে মামুনুর রশীদ মামুনের সামনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র—দলীয় সংগঠন এবং জনসেবা।<br />
একদিকে রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দলীয় সংগঠনকে সক্রিয় রাখা, নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব রয়েছে তাঁর।<br />
অন্যদিকে জেলা পরিষদের সদস্য ও স্বাস্থ্য বিভাগের আহ্বায়ক হিসেবে জেলার দুর্গম এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, যোগাযোগ, ক্রীড়া ও অন্যান্য উন্নয়নমূলক বিষয়েও ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে।<br />
বিশেষ করে পাহাড়ের দুর্গম জনপদে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া, শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন এবং তরুণদের জন্য ক্রীড়া ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ তৈরি করা বড় চ্যালেঞ্জ।<br />
তাঁর সাম্প্রতিক বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডে এসব বিষয় গুরুত্ব পাওয়ায় ভবিষ্যতে তাঁর জনসেবামূলক ভূমিকার দিকেও নজর থাকবে।<br />
উপসংহার<br />
অ্যাডভোকেট মামুনুর রশীদ মামুনের রাজনৈতিক পথচলা একদিকে যেমন একটি রাজনৈতিক পরিবারের উত্তরাধিকার বহন করছে, অন্যদিকে তেমনি রয়েছে তাঁর নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের ইতিহাস।<br />
বাবা আলহাজ্ব নাজিম উদ্দিন আহম্মদের ১৯৭৯ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাংগঠনিক সম্পাদক, সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি হিসেবে দীর্ঘ রাজনৈতিক ভূমিকা তাঁর জন্য একটি রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করেছিল। সেই পরিবেশ থেকে ১৯৮৫ সালে স্কুল ছাত্রদলের নেতৃত্বে যাত্রা শুরু করে কলেজ, শহর, জেলা, বিশ্ববিদ্যালয় ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেন মামুনুর রশীদ মামুন।<br />
এরপর বিএনপির মূল রাজনীতিতে প্রবেশ করে জেলা বিএনপির কার্যকরী সদস্য, যুগ্ম আহ্বায়ক, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি, জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ও সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদকসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। ২০২২ সালের কাউন্সিলে ১৪৯ জন কাউন্সিলরের প্রত্যক্ষ ভোটে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়া এবং ২০২৩ সালে ১৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে দায়িত্ব বহাল থাকা তাঁর রাজনৈতিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।<br />
রাজনীতির পাশাপাশি ক্রীড়া, ব্যবসায়ী সংগঠন, আইন পেশা এবং সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ততা তাঁর জনসম্পৃক্ততার ক্ষেত্রকে আরও বিস্তৃত করেছে।<br />
সবশেষে ২০২৬ সালে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া এবং স্বাস্থ্য বিভাগের আহ্বায়ক হওয়ার মধ্য দিয়ে তাঁর রাজনৈতিক ও কর্মজীবনে নতুন অধ্যায় যুক্ত হয়েছে।<br />
একদিকে বাবার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার, অন্যদিকে নিজের প্রায় চার দশকের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড—এই দুইয়ের সমন্বয়ে অ্যাডভোকেট মামুনুর রশীদ মামুনের পথচলা রাঙ্গামাটির বিএনপির রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি ধারাবাহিক অধ্যায়।<br />
তবে রাজনীতির পথ কখনো স্থির নয়। সময়ের সঙ্গে দায়িত্ব বদলায়, মানুষের প্রত্যাশাও বদলায়। তাই আগামী দিনে দলীয় সংগঠন এবং জেলা পরিষদের দায়িত্ব—দুই ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা কীভাবে বিকশিত হয়, সেটিই হয়ে উঠবে তাঁর রাজনৈতিক ও জনসম্পৃক্ত জীবনের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।<br />
লেখক:<br />
এসএম শামসুল আলম<br />
স্টাফ রিপোর্টার, যমুনা টেলিভিশন<br />
সাবেক সভাপতি, রাঙ্গামাটি প্রেসক্লাব<br />
smshamsu.cht@gmail.com</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://chtnews24.com/2026/10/04/%e0%a6%85%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%a1%e0%a6%ad%e0%a7%8b%e0%a6%95%e0%a7%87%e0%a6%9f-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%a8%e0%a7%81%e0%a6%b0-%e0%a6%b0%e0%a6%b6%e0%a7%80%e0%a6%a6/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>যুক্তরাষ্ট্র সফরে তারেক রহমান: বিশ্বমঞ্চে নতুন বাংলাদেশকে তুলে ধরার প্রত্যয়</title>
		<link>https://chtnews24.com/2026/09/30/%e0%a6%af%e0%a7%81%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%b7%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a7%8d%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a6%ab%e0%a6%b0%e0%a7%87-%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%95/</link>
					<comments>https://chtnews24.com/2026/09/30/%e0%a6%af%e0%a7%81%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%b7%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a7%8d%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a6%ab%e0%a6%b0%e0%a7%87-%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%95/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[adminchtnews24]]></dc:creator>
		<pubDate>Wed, 30 Sep 2026 15:42:42 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Second lead]]></category>
		<category><![CDATA[বিশেষ প্রতিবেদন]]></category>
		<category><![CDATA[শিরোনাম]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://chtnews24.com/?p=38860</guid>

					<description><![CDATA[এসএম শামসুল আলম:&#8211; বাংলাদেশের রাজনীতিতে পরিবর্তনের একটি নতুন অধ্যায়ের প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্র সফর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান ও সম্ভাবনাকে নতুন করে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে। জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছান তিনি এবং ২৭ সেপ্টেম্বর দেশে ফেরেন। সফরকালে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের [&#8230;]]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>এসএম শামসুল আলম:&#8211; বাংলাদেশের রাজনীতিতে পরিবর্তনের একটি নতুন অধ্যায়ের প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্র সফর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান ও সম্ভাবনাকে নতুন করে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে। জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছান তিনি এবং ২৭ সেপ্টেম্বর দেশে ফেরেন। সফরকালে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন।<br />
চার কর্মদিবসে তারেক রহমানের প্রায় ৩০টি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি ছিল। ১১টি দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অংশীদারত্ব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এসব আলোচনায় সমতা, ন্যায় ও মর্যাদার ভিত্তিতে পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।<br />
বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের সম্ভাবনা<br />
বাংলাদেশ এখন আর শুধু জনবহুল একটি উন্নয়নশীল দেশ নয়; উৎপাদন, রপ্তানি, জনশক্তি, প্রবাসী আয় এবং শিল্পায়নের কারণে আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতেও দেশটির গুরুত্ব রয়েছে। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশে আরও বিদেশি বিনিয়োগ, নতুন বাজার সৃষ্টি এবং প্রযুক্তি ও দক্ষতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি করা সম্ভব।<br />
বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের সক্ষমতার একটি উদাহরণ হচ্ছে দেশের রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলগুলো। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে BEPZA-এর আওতাধীন অঞ্চলগুলো থেকে ৮ দশমিক ৪১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা দেশের মোট রপ্তানির ১৭ দশমিক ৫১ শতাংশ। একই সময়ে এসব অঞ্চলে ২৫ হাজারের বেশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে এবং মোট কর্মসংস্থান ৫ লাখ ৫৮ হাজার ৬৯১-এ পৌঁছেছে।<br />
প্রবাসীরাই অর্থনীতির অন্যতম শক্তি<br />
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদানও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাই মাসে দেশে ২ দশমিক ৮৫৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও সাম্প্রতিক সময়ে আগের তুলনায় শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে; ২০২৬ সালের আগস্টে মোট রিজার্ভ ছিল প্রায় ৩৭ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।<br />
এই বাস্তবতায় যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা এবং তাদের বিনিয়োগ ও দক্ষতাকে দেশের উন্নয়নে কাজে লাগানো গুরুত্বপূর্ণ।<br />
বাংলাদেশের সামনে বড় সুযোগ<br />
তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্র সফরের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগ মহলের সঙ্গে যোগাযোগ। সফরসূচিতে ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকও ছিল। সেখানে বাংলাদেশের ব্যবসা ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়।<br />
বাংলাদেশের জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো এই আন্তর্জাতিক যোগাযোগকে বাস্তব বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তি স্থানান্তরে রূপ দেওয়া। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা, রাজস্ব আদায় ও কর্মসংস্থানের মতো অর্থনৈতিক সমস্যাগুলো সমাধান করাও জরুরি। বিশ্বব্যাংক ২০২৬ সালের প্রতিবেদনে এসব চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করেছে।<br />
সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়<br />
একটি দেশের সাফল্য শুধু রাজনৈতিক বক্তব্যে নয়; অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো, বিনিয়োগ, রপ্তানি এবং মানুষের জীবনমানের উন্নয়নের মধ্য দিয়েই তার বাস্তব প্রতিফলন ঘটে। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে রপ্তানি, প্রবাসী আয় ও শিল্পায়নে উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা তৈরি করেছে। এখন প্রয়োজন এই সক্ষমতাকে আরও সুসংগঠিত করে একটি শক্তিশালী, বিনিয়োগবান্ধব ও কর্মসংস্থানমুখী অর্থনীতি গড়ে তোলা।<br />
তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্র সফর সেই বৃহত্তর সম্ভাবনার কথাই সামনে এনেছে—বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের কাছে একটি সম্ভাবনাময় দেশ হিসেবে উপস্থাপন, জাতীয় স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নতুন সুযোগ সৃষ্টি।<br />
বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের পরিচয় আরও শক্তিশালী করতে হলে দেশের অর্জনগুলোকে সামনে তুলে ধরার পাশাপাশি যে সমস্যাগুলো রয়েছে, সেগুলোরও বাস্তবসম্মত সমাধান করতে হবে। উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে রাষ্ট্র, রাজনৈতিক নেতৃত্ব, ব্যবসায়ী সমাজ, প্রবাসী বাংলাদেশি এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণই হতে পারে সবচেয়ে বড় শক্তি।<br />
লেখক:- এসএম শামসুল আলম।<br />
স্টাফ রির্পোটার,যমুনা টেলিভিশন।<br />
সাবেক সভাপতি রাঙ্গামাটি প্রেসক্লাব।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://chtnews24.com/2026/09/30/%e0%a6%af%e0%a7%81%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%b7%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a7%8d%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a6%ab%e0%a6%b0%e0%a7%87-%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%95/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>বন উজাড় হচ্ছে, আসছে বিপর্যয়; জাতিসংঘের হুঁশিয়ারি</title>
		<link>https://chtnews24.com/2026/09/29/%e0%a6%ac%e0%a6%a8-%e0%a6%89%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%a1%e0%a6%bc-%e0%a6%b9%e0%a6%9a%e0%a7%8d%e0%a6%9b%e0%a7%87-%e0%a6%86%e0%a6%b8%e0%a6%9b%e0%a7%87-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d/</link>
					<comments>https://chtnews24.com/2026/09/29/%e0%a6%ac%e0%a6%a8-%e0%a6%89%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%a1%e0%a6%bc-%e0%a6%b9%e0%a6%9a%e0%a7%8d%e0%a6%9b%e0%a7%87-%e0%a6%86%e0%a6%b8%e0%a6%9b%e0%a7%87-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[adminchtnews24]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 29 Sep 2026 14:37:10 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Second lead]]></category>
		<category><![CDATA[বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি]]></category>
		<category><![CDATA[বিশেষ প্রতিবেদন]]></category>
		<category><![CDATA[শিরোনাম]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://chtnews24.com/?p=38837</guid>

					<description><![CDATA[ডেস্ক রির্পোট:- বিশ্বজুড়ে বন উজাড় ও ক্ষয়ক্ষতির হার উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জলবায়ু সংকটের প্রভাব মোকাবিলার সুযোগ দ্রুত কমে আসছে বলে সতর্ক বার্তা দিয়েছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)। সংস্থাটির সর্বশেষ প্রকাশনা ‘স্টেট অব দ্য ওয়ার্ল্ডস ফরেস্টস’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এই চরম হুমকির চিত্র তুলে ধরে পৃথিবীর বন পুনরুদ্ধারের বিষয়টিকে অবিলম্বে [&#8230;]]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>ডেস্ক রির্পোট:- বিশ্বজুড়ে বন উজাড় ও ক্ষয়ক্ষতির হার উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জলবায়ু সংকটের প্রভাব মোকাবিলার সুযোগ দ্রুত কমে আসছে বলে সতর্ক বার্তা দিয়েছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)। সংস্থাটির সর্বশেষ প্রকাশনা ‘স্টেট অব দ্য ওয়ার্ল্ডস ফরেস্টস’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এই চরম হুমকির চিত্র তুলে ধরে পৃথিবীর বন পুনরুদ্ধারের বিষয়টিকে অবিলম্বে জাতীয় অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য বিশ্বের সরকারগুলোর প্রতি জোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে।</p>
<p>প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, ১৯৯০ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৪৮ কোটি ৯০ লাখ হেক্টরেরও বেশি বনভূমি বিলুপ্ত হয়েছে এবং এর চেয়েও বড় একটি অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়েছে। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বজুড়ে বন সুরক্ষা ও বৃক্ষরোপণের বিভিন্ন উদ্যোগ লক্ষ্য করা গেছে। তবুও সার্বিক পদক্ষেপগুলো মূল অঙ্গীকারের সাথে তাল মেলাতে পারছে না। গত দুই দশকে জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নানা উদ্যোগের মাধ্যমে শতকোটি হেক্টরেরও বেশি জমি পুনর্বাসনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তব ক্ষেত্রে তার পাঁচ ভাগের এক ভাগ এলাকাতেও পুনরুদ্ধার কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। এফএও উল্লেখ করেছে যে, এই অগ্রগতি যেমন অসম, তেমনি ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক চাহিদা মেটাতেও একেবারেই অপর্যাপ্ত।</p>
<p>বর্তমানে পৃথিবীর মোট স্থলভাগের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ ৪১৪ কোটি হেক্টর এলাকা বনে আচ্ছাদিত। এই বনভূমিগুলো ৭১৪ গিগাটন কার্বন সঞ্চয় করে রাখার পাশাপাশি স্থলভাগের প্রায় ৮০ শতাংশ জীববৈচিত্র্যের প্রধান আবাসস্থল হিসেবে কাজ করে। এছাড়া বৃষ্টিপাত নিয়ন্ত্রণ এবং বিশ্বব্যাপী ক্ষুধা হ্রাসেও বনভূমির ভূমিকা অপরিসীম, কারণ বিশ্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ তাদের জীবিকার জন্য কোনো না কোনোভাবে বনের ওপর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল।</p>
<p>তবে দিন দিন বনের ওপর নানামুখী হুমকি আরও তীব্র হয়ে উঠছে। প্রতি বছর প্রায় ১২ কোটি ৭০ লাখ হেক্টর বনভূমি দাবানলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যার পাশাপাশি কীটপতঙ্গের আক্রমণ, নানা ধরনের রোগবালাই এবং চরম প্রতিকূল আবহাওয়া বন ধ্বংসের প্রক্রিয়াকে আরও ত্বরান্বিত করছে। বাণিজ্যিক কৃষির সম্প্রসারণ, জলবায়ু সংকট, পরিবেশ দূষণ এবং জীবাশ্ম জ্বালানিসহ অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদ অতিরিক্ত আহরণের ফলে বনভূমিগুলো এখন অভূতপূর্ব ঝুঁকির মুখে পড়েছে।</p>
<p>জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাঠের মতো বনজ পণ্যের বাড়তি চাহিদা এবং তার টেকসই সরবরাহের মধ্যকার এই ক্রমবর্ধমান ব্যবধান গভীর কাঠামোগত ভারসাম্যহীনতা তৈরি করছে। এটি যেমন প্রকৃতির পরিবেশগত ভারসাম্য বিনষ্ট করছে, তেমনই বনভিত্তিক অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্বকেও গুরুতর হুমকিতে ফেলছে। তবে ধ্বংসপ্রাপ্ত বন ও সংবেদনশীল বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হলে তা বৈশ্বিক অর্থনীতি, খাদ্য নিরাপত্তা ও সাধারণ মানুষের জীবনের জন্য বিপুল সুফল বয়ে আনবে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শতকোটি হেক্টর ক্ষতিগ্রস্ত জমি সফলভাবে পুনর্বাসন করা গেলে প্রতি বছর প্রায় এক লাখ ৮০ হাজার কোটি ডলার সমপরিমাণ অর্থনৈতিক সুবিধা তৈরি করা সম্ভব।</p>
<p>পরিস্থিতির ভয়াবহতা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে এফএওর মহাপরিচালক কু দোংইউ জানিয়েছেন, এই প্রতিবেদন প্রমাণ করে যে বন ও প্রাকৃতিক প্রাকৃতিক পরিবেশ পুনরুদ্ধার কেবল কোনো পরিবেশগত অগ্রাধিকার নয়, বরং এটি একটি স্থিতিস্থাপক কৃষি-খাদ্য ব্যবস্থা ও গ্রামীণ উন্নয়নের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত বিনিয়োগ। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ দিন দিন সংকুচিত হয়ে আসছে সতর্ক করে তিনি বলেন, উদ্যোগ গ্রহণে বিলম্ব কিংবা ভুল পরিকল্পনা দীর্ঘমেয়াদে খরচ বাড়িয়ে দেবে, সামাজিক বৈষম্য তীব্র করবে এবং সমগ্র পরিবেশকে স্থায়ী অবক্ষয়ের দিকে ঠেলে দেবে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত বন টিকিয়ে রাখা এবং একই সাথে ভূমিভিত্তিক পণ্যের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের জন্য এখনই বড় মাপে কার্যকর পুনরুদ্ধার কার্যক্রম বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://chtnews24.com/2026/09/29/%e0%a6%ac%e0%a6%a8-%e0%a6%89%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%a1%e0%a6%bc-%e0%a6%b9%e0%a6%9a%e0%a7%8d%e0%a6%9b%e0%a7%87-%e0%a6%86%e0%a6%b8%e0%a6%9b%e0%a7%87-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>অর্থসংকটে ৮৩ লাখ শরণার্থীর সহায়তা বন্ধের শঙ্কা: জাতিসংঘ</title>
		<link>https://chtnews24.com/2026/09/29/%e0%a6%85%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a5%e0%a6%b8%e0%a6%82%e0%a6%95%e0%a6%9f%e0%a7%87-%e0%a7%ae%e0%a7%a9-%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%96-%e0%a6%b6%e0%a6%b0%e0%a6%a3%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a5/</link>
					<comments>https://chtnews24.com/2026/09/29/%e0%a6%85%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a5%e0%a6%b8%e0%a6%82%e0%a6%95%e0%a6%9f%e0%a7%87-%e0%a7%ae%e0%a7%a9-%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%96-%e0%a6%b6%e0%a6%b0%e0%a6%a3%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a5/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[adminchtnews24]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 29 Sep 2026 11:36:42 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Second lead]]></category>
		<category><![CDATA[কক্সবাজার]]></category>
		<category><![CDATA[বিশেষ প্রতিবেদন]]></category>
		<category><![CDATA[শিরোনাম]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://chtnews24.com/?p=38825</guid>

					<description><![CDATA[ডেস্ক রির্পোট:- অর্থায়নে ব্যাপক ঘাটতির কারণে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে শরণার্থী ও বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য সহায়তা ও সুরক্ষা কার্যক্রম সংকটের মুখে পড়েছে। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, প্রায় ৮৩ লাখ শরণার্থী, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ও রাষ্ট্রহীন মানুষ জরুরি সহায়তা হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন। ইউএনএইচসিআরের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ‘প্রটেকশন ইরোডেড: দ্য হিউম্যান কস্ট অব আন্ডারফান্ডিং’ [&#8230;]]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>ডেস্ক রির্পোট:- অর্থায়নে ব্যাপক ঘাটতির কারণে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে শরণার্থী ও বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য সহায়তা ও সুরক্ষা কার্যক্রম সংকটের মুখে পড়েছে। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, প্রায় ৮৩ লাখ শরণার্থী, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ও রাষ্ট্রহীন মানুষ জরুরি সহায়তা হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন।</p>
<p>ইউএনএইচসিআরের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ‘প্রটেকশন ইরোডেড: দ্য হিউম্যান কস্ট অব আন্ডারফান্ডিং’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অর্থায়নের ঘাটতির কারণে সংস্থাটিকে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন কার্যক্রম সীমিত করতে হচ্ছে। ফলে সুরক্ষা, শিশু সেবা, নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র ও নিবন্ধন কার্যক্রমসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা থেকে লাখো মানুষ বঞ্চিত হতে পারেন।</p>
<p>প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ইউএনএইচসিআরের জন্য পাওয়া অর্থের পরিমাণ ৫ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার থেকে কমে ৩ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। ২০২৬ সালের জুলাইয়ের শেষ নাগাদ চলতি বছরের প্রয়োজনীয় ৮ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের মাত্র ৩২ শতাংশ অর্থ পেয়েছে সংস্থাটি। অথচ ইউএনএইচসিআরের সুরক্ষার আওতায় থাকা মানুষের সংখ্যা এখনো ঐতিহাসিকভাবে বেশি।</p>
<p>ইউএনএইচসিআরের বৈদেশিক সম্পর্কবিষয়ক পরিচালক ডমিনিক হাইড বলেন, নিবন্ধন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলে, নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র বন্ধ হলে কিংবা শিশু সুরক্ষা সেবা কমে গেলে মানুষ যে সহিংসতা, শোষণ ও নির্যাতন থেকে পালিয়ে এসেছে, সেই ঝুঁকিগুলো আবারও তাদের জীবনে ফিরে আসে। এতে পরিবারগুলো আরও ঝুঁকির মধ্যে পড়ে এবং কেউ কেউ নিরাপত্তার সন্ধানে আবারও স্থানান্তরিত হতে বাধ্য হয় বা মানবপাচারকারীদের শিকার হয়।</p>
<p>তিনি বলেন, সুরক্ষা কার্যক্রম অনির্দিষ্টকাল কমিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ের নিচে নেমে গেলে সেবার পরিধি শুধু কমে যায় না, পুরো ব্যবস্থাই অকার্যকর হয়ে পড়তে পারে।</p>
<p>চাদে প্রায় ৩ লাখ ১৯ হাজার শরণার্থী নিবন্ধন জটিলতার মুখে রয়েছেন। প্রয়োজনীয় নথিপত্র না থাকায় তারা বিভিন্ন সেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি আটক হওয়ার ঝুঁকিতেও রয়েছেন। একই দেশে ২ লাখ নারী ও কিশোরী নিরাপদ স্থান ও প্রতিরোধমূলক কর্মসূচি হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন। প্রায় ২ লাখ ৩৩ হাজার শিশুও শিশু সুরক্ষা সেবা হারাতে পারে।</p>
<p>ইথিওপিয়ায় যৌন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রের সক্ষমতা এক বছরে অর্ধেকেরও বেশি কমেছে। কোনো কোনো এলাকায় শিশু সুরক্ষা কার্যক্রমের আওতাও ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। সুদানে যৌন সহিংসতার শিকার হাজারো মানুষ এবং গুরুতর ঝুঁকিতে থাকা শিশুরা গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা সেবা হারানোর আশঙ্কায় রয়েছে।</p>
<p>অর্থের ঘাটতি মোকাবিলায় ইউএনএইচসিআর গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম রক্ষায় সংস্কার ও অগ্রাধিকার নির্ধারণের বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে দীর্ঘস্থায়ী অর্থসংকটের কারণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা ও পুনর্বাসন কার্যক্রমও এখন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।</p>
<p>দীর্ঘমেয়াদে মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে বাস্তুচ্যুত মানুষকে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগও অর্থসংকটে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। চাদে জীবিকা, কারিগরি প্রশিক্ষণ ও ব্যবসা উন্নয়নের সুযোগ প্রায় ৩ লাখ ৯৫ হাজার শরণার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দার জন্য ঝুঁকিতে রয়েছে। ইরাকে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থী অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তির সুযোগ হারাতে পারেন।</p>
<p>ইউএনএইচসিআর দাতা ও অংশীদারদের দ্রুত সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে ইতোমধ্যে অর্জিত অগ্রগতি ধরে রাখা, বাস্তুচ্যুত মানুষের মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীলতা কমানো এবং তাদের পুনরায় জীবন গড়ে তুলতে নমনীয় অর্থায়ন বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। সূত্র-বাসস</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://chtnews24.com/2026/09/29/%e0%a6%85%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a5%e0%a6%b8%e0%a6%82%e0%a6%95%e0%a6%9f%e0%a7%87-%e0%a7%ae%e0%a7%a9-%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%96-%e0%a6%b6%e0%a6%b0%e0%a6%a3%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a5/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>ইউরেনিয়ামবাহী বাংলাদেশের বিমান আটকে দেয়ার নেপথ্যে কী, জানাল পাকিস্তান</title>
		<link>https://chtnews24.com/2026/09/29/%e0%a6%87%e0%a6%89%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a7%80-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b6/</link>
					<comments>https://chtnews24.com/2026/09/29/%e0%a6%87%e0%a6%89%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a7%80-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b6/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[adminchtnews24]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 29 Sep 2026 11:30:13 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Second lead]]></category>
		<category><![CDATA[জাতীয়]]></category>
		<category><![CDATA[বিশেষ প্রতিবেদন]]></category>
		<category><![CDATA[শিরোনাম]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://chtnews24.com/?p=38816</guid>

					<description><![CDATA[ডেস্ক রির্পোট:- বাংলাদেশের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য রাশিয়া থেকে ইউরেনিয়াম জ্বালানি পরিবহনে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ার বিষয়টিকে কূটনৈতিক কোনো সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছে না ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের দাবি, এটি মূলত ফ্লাইট রুট, আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমোদন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোর সমন্বয়ের সঙ্গে যুক্ত একটি কারিগরি ও প্রক্রিয়াগত বিষয়। ভারতের সংবাদ সংস্থা এএনআই এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। [&#8230;]]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>ডেস্ক রির্পোট:- বাংলাদেশের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য রাশিয়া থেকে ইউরেনিয়াম জ্বালানি পরিবহনে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ার বিষয়টিকে কূটনৈতিক কোনো সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছে না ইসলামাবাদ।</p>
<p>পাকিস্তানের দাবি, এটি মূলত ফ্লাইট রুট, আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমোদন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোর সমন্বয়ের সঙ্গে যুক্ত একটি কারিগরি ও প্রক্রিয়াগত বিষয়। ভারতের সংবাদ সংস্থা এএনআই এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।</p>
<p>মঙ্গলবার ঢাকায় অবস্থিত পাকিস্তান হাইকমিশন এক বিবৃতিতে জানায়, কূটনৈতিক ফ্লাইট পরিচালনা এবং আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতির আবেদনগুলো নির্ধারিত নিয়ম ও বেসামরিক বিমান চলাচল-সংক্রান্ত প্রটোকল অনুসরণ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বিবেচনা করা হয়।<br />
পাক হাইকমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী, সম্প্রতি যে প্রতিবেদনগুলো প্রকাশিত হয়েছে, সেগুলোর বিষয়বস্তু মূলত ফ্লাইটের নির্ধারিত রুট এবং আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমোদন-সংক্রান্ত কারিগরি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত। এ ধরনের ক্ষেত্রে বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজন হতে পারে। আর সেই সমন্বয় প্রক্রিয়ার কারণে কোনো কোনো সময় ফ্লাইটের সময়সূচিতে পরিবর্তনও আসতে পারে।</p>
<p>পাকিস্তান হাইকমিশন আরও বলেছে, বিষয়টিকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত কোনো প্রচারণার সঙ্গে যুক্ত না করে এর প্রকৃত কারিগরি ও প্রক্রিয়াগত প্রেক্ষাপটেই দেখা উচিত।<br />
বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তান তার সম্পর্ককে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।<br />
এর আগে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য নির্ধারিত ইউরেনিয়াম জ্বালানি পরিবহন পিছিয়ে যায়। গত ২৪ সেপ্টেম্বর এই জ্বালানি বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না মেলায় কার্গো ফ্লাইটটি বাংলাদেশে আসতে পারেনি।</p>
<p>এনিয়ে বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এএনআইকে ফোনে জানান, রূপপুর প্রকল্পের জন্য ইউরেনিয়াম বহনকারী একটি কার্গো বিমান ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা ছিল। কিন্তু পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমোদন না পাওয়ায় নির্ধারিত সময়ে ফ্লাইটটি আসেনি।<br />
তিনি বলেন, পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি কেন পাওয়া যায়নি, সে বিষয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি। তবে ইউরেনিয়াম জ্বালানি বাংলাদেশে পৌঁছানোর জন্য অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহকে নতুন সম্ভাব্য সময় হিসেবে প্রস্তাব করেছে রাশিয়া।বাংলাদেশ সংবাদ</p>
<p>বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব শেখ মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলামও এএনআইকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।</p>
<p>তিনি জানান, কার্গো বিমান আসার প্রস্তুতি হিসেবে বিমানবন্দরে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা সম্পন্ন করে রাখা হয়েছিল। কিন্তু রোসাটমের একজন লিয়াজোঁ কর্মকর্তা তাদের জানান, ফ্লাইটটির জন্য আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমোদন পাওয়া যায়নি।<br />
এর ফলে নির্ধারিত সময়ে ইউরেনিয়াম পাঠানো সম্ভব হয়নি। এখন নতুন করে ফ্লাইটের সময় নির্ধারণ করতে হতে পারে বলেও জানান তিনি।</p>
<p>রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প। পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের পদ্মা নদীর তীরে রূপপুর গ্রামে প্রকল্পটি নির্মাণ করা হচ্ছে।<br />
রাশিয়ার স্টেট অ্যাটমিক এনার্জি করপোরেশন- রোসাটমের কারিগরি সহায়তায় এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের তত্ত্বাবধানে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।</p>
<p>প্রকল্পের আওতায় তৃতীয় প্রজন্মের দুটি ভিভিইআর-১২০০ পারমাণবিক চুল্লি নির্মাণ করা হচ্ছে। দুটি ইউনিট থেকে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা থাকবে।</p>
<p>এর আগে ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যে রূপপুরের প্রথম ইউনিটের জন্য প্রথম চালানের ইউরেনিয়াম জ্বালানি বাংলাদেশে আনা হয়।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://chtnews24.com/2026/09/29/%e0%a6%87%e0%a6%89%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a7%80-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b6/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে মিয়ানমার বাহিনীর ভয়াবহ হামলা, নিহত ৩৩</title>
		<link>https://chtnews24.com/2026/09/28/%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b6-%e0%a6%b8%e0%a7%80%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%9b%e0%a7%87-3/</link>
					<comments>https://chtnews24.com/2026/09/28/%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b6-%e0%a6%b8%e0%a7%80%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%9b%e0%a7%87-3/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[adminchtnews24]]></dc:creator>
		<pubDate>Mon, 28 Sep 2026 13:08:13 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Second lead]]></category>
		<category><![CDATA[জাতীয়]]></category>
		<category><![CDATA[বিশেষ প্রতিবেদন]]></category>
		<category><![CDATA[শিরোনাম]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://chtnews24.com/?p=38758</guid>

					<description><![CDATA[ডেস্ক রির্পোট:- বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের যুদ্ধবিধ্বস্ত রাখাইন রাজ্যে একটি বাজারের কাছে দেশটির সামরিক বাহিনী মুহুর্মুহু বিমান হামলা চালিয়েছে। এতে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৩ জন নিহত হয়েছে। দেশটির বিদ্রোহী গোষ্ঠী ও স্থানীয় এক ত্রাণকর্মীর বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৮ সেপ্টেম্বর রাখাইন রাজ্যের কিয়াউকতাও শহরে এই বিমান হামলা চালানো হয়েছে। [&#8230;]]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>ডেস্ক রির্পোট:- বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের যুদ্ধবিধ্বস্ত রাখাইন রাজ্যে একটি বাজারের কাছে দেশটির সামরিক বাহিনী মুহুর্মুহু বিমান হামলা চালিয়েছে। এতে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৩ জন নিহত হয়েছে। দেশটির বিদ্রোহী গোষ্ঠী ও স্থানীয় এক ত্রাণকর্মীর বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।</p>
<p>প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৮ সেপ্টেম্বর রাখাইন রাজ্যের কিয়াউকতাও শহরে এই বিমান হামলা চালানো হয়েছে। ওই এলাকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি জানিয়েছে, হামলায় অন্তত ৩৩ জন নিহত এবং ৩৬ জন আহত হয়েছেন।</p>
<p>এলাকাটিতে কার্যক্রম পরিচালনাকারী একটি ত্রাণকর্মী দলের সদস্য ওয়াই হুন অংও হতাহতের এই সংখ্যা নিশ্চিত করেছেন।<br />
২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকেই মিয়ানমারে গৃহযুদ্ধ চলছে। আরাকান আর্মিসহ বেশ কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠী দেশটির বিভিন্ন ফ্রন্টে সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করছে।<br />
রাখাইন রাজ্যের উত্তরে নদীর তীরে অবস্থিত কিয়াউকতাও শহর সম্পর্কে ওয়াই হুন অং বলেন, এই জায়গাটি সংঘর্ষস্থল থেকে বেশ দূরে এবং এই সংঘাতের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।</p>
<p>তবে রয়টার্স ঘটনাটির বিস্তারিত তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য মিয়ানমার সরকারের এক মুখপাত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।<br />
এর আগে দেশটির সরকার বলেছে, বেসামরিক মানুষের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে সামরিক বাহিনী সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন করে।<br />
আরাকান আর্মি ও ওয়াই হুন অংয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, কিয়াউকতাওয়ের এই বিমান হামলা রাখাইনে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলাগুলোর একটি।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://chtnews24.com/2026/09/28/%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b6-%e0%a6%b8%e0%a7%80%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%9b%e0%a7%87-3/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>ক্ষমতার সঙ্গে বদলে যায় ইতিহাস ও সংস্কৃতির পাঠ, শেষ কোথায়?</title>
		<link>https://chtnews24.com/2026/09/26/%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b7%e0%a6%ae%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%97%e0%a7%87-%e0%a6%ac%e0%a6%a6%e0%a6%b2%e0%a7%87-%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%af%e0%a6%bc-%e0%a6%87/</link>
					<comments>https://chtnews24.com/2026/09/26/%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b7%e0%a6%ae%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%97%e0%a7%87-%e0%a6%ac%e0%a6%a6%e0%a6%b2%e0%a7%87-%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%af%e0%a6%bc-%e0%a6%87/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[adminchtnews24]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 26 Sep 2026 02:41:38 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Second lead]]></category>
		<category><![CDATA[বিশেষ প্রতিবেদন]]></category>
		<category><![CDATA[শিক্ষা]]></category>
		<category><![CDATA[শিরোনাম]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://chtnews24.com/?p=38732</guid>

					<description><![CDATA[ডেস্ক রির্পোট:- দেশে বিভিন্ন সময়ই পরিবর্তন করা হয়েছে পাঠ্যবই। ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে বদলেছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন বিষয়বস্তু। ফলে এক প্রজন্মের শিক্ষার্থী যে ইতিহাস ও সংস্কৃতি জেনে বেড়ে উঠেছে, পরবর্তী প্রজন্ম জানছে বদলে যাওয়া বইয়ের লেখা ইতিহাস ও সংস্কৃতি। দীর্ঘ সময় ধরে পাঠ্যবইয়ের এই পরিবর্তনের প্রভাবে শিক্ষার্থীরা ‘গিনিপিগ’ হচ্ছে কিনা; তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ড. [&#8230;]]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>ডেস্ক রির্পোট:- দেশে বিভিন্ন সময়ই পরিবর্তন করা হয়েছে পাঠ্যবই। ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে বদলেছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন বিষয়বস্তু। ফলে এক প্রজন্মের শিক্ষার্থী যে ইতিহাস ও সংস্কৃতি জেনে বেড়ে উঠেছে, পরবর্তী প্রজন্ম জানছে বদলে যাওয়া বইয়ের লেখা ইতিহাস ও সংস্কৃতি। দীর্ঘ সময় ধরে পাঠ্যবইয়ের এই পরিবর্তনের প্রভাবে শিক্ষার্থীরা ‘গিনিপিগ’ হচ্ছে কিনা; তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।</p>
<p>ড. কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশনের প্রতিবেদন বাস্তবায়ন না হওয়া থেকেই শিক্ষাব্যবস্থার সংকট শুরু হয়েছে বলে মনে করেন শিক্ষাবিদরা। ১৯৭৫ সালের পর থেকেই পাঠ্যবই ও কনটেন্টে পরিবর্তন আসতে থাকে। তবে ২০১০ সালের জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়নের পর এই পরিবর্তনের পরিমাণ ও ধারাবাহিকতা আরও বেড়ে যায়।</p>
<p>২০১০ সালের জাতীয় শিক্ষানীতিতে শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচি যুগোপযোগী করার কথা বলা হয়। এর আলোকে ২০১২ সালে মাধ্যমিক স্তরের নতুন শিক্ষাক্রম প্রকাশ করে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। ২০১৩ সাল থেকে এ শিক্ষাক্রমের অধীনে পরিমার্জিত পাঠ্যবই চালু হয়। এরপর কখনও নতুন শিক্ষাক্রমের আলোকে বই নতুন করে প্রণয়ন, কখনও লেখা ও বিষয়বস্তু বাদ-সংযোজন, আবার কখনও ছাপার পর ভুলত্রুটি সংশোধন করা হয়েছে।</p>
<p>এর মধ্যে ২০২৫ শিক্ষাবর্ষে সবচেয়ে বড় পরিসরে একসঙ্গে ৪৪১টি পাঠ্যবই পরিবর্তন করা হয়। এর এক বছর পর ২০২৬ শিক্ষাবর্ষেও মাধ্যমিক স্তরের ৯৯টি বই পরিবর্তন করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রাথমিক স্তরের আরও ৩৬টি বই পরিবর্তনের কাজ নেওয়া হয়েছে।</p>
<p>২০১৭ সালে বড় পরিবর্তন<br />
২০১৭ সালে পাঠ্যবইয়ের বিষয়বস্তুতে বড় ধরনের পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা হয়। বিভিন্ন শ্রেণির বাংলা বইয়ে লেখা বাদ দেওয়া ও নতুন লেখা যুক্ত করা হয়। নবম-দশম শ্রেণির বাংলা বইয়ের ‘সাহিত্য সংকলন’ থেকে সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘পালামৌ’, জ্ঞানদাসের ‘সুখের লাগিয়া’, ভারতচন্দ্রের ‘আমার সন্তান’, লালন শাহের ‘সময় গেলে সাধন হবে না’ ও সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘সাঁকোটা দুলছে’ বাদ দেওয়া হয়। যুক্ত করা হয় শাহ মোহাম্মদ সগীরের ‘বন্দনা’, আলাওলের ‘হামদ’, আব্দুল হাকিমের ‘বঙ্গবাণী’, গোলাম মোস্তফার ‘জীবন বিনিময়’ ও কাজী নজরুল ইসলামের ‘উমর-ফারুক’।</p>
<p>সে সময় হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফা দাবির প্রেক্ষাপটও আলোচনায় আসে। দাবিগুলোর মধ্যে শিক্ষাব্যবস্থায় ইসলামী ভাবধারা প্রতিষ্ঠা এবং পাঠ্যসূচি থেকে ‘ইসলামবিরোধী’ বিষয় বাদ দেওয়ার দাবি ছিল। পাঠ্যবই থেকে বিভিন্ন প্রগতিশীল ও অমুসলিম কবি-সাহিত্যিকের লেখা বাদ দিয়ে ইসলামী ভাবধারার লেখা যুক্ত করার বিষয়টি নিয়ে তখন সমালোচনা হয়।</p>
<p>নতুন শিক্ষাক্রম, নতুন বিতর্ক<br />
২০১২ সালের শিক্ষাক্রমের পরিবর্তে ২০২৩ সালে প্রথম, ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে নতুন শিক্ষাক্রমের বই চালু করা হয়। নতুন বই প্রকাশের পর সমালোচনা শুরু হয়। মূল্যায়ন ব্যবস্থা চূড়ান্ত করতে না পারায় সমালোচনা গতি পায়। আর ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির বাংলা ও ইংরেজি ভার্সনের ৪৮টি বই পর্যালোচনা করে এনসিটিবি ৪০০টির বেশি সংশোধনী দেয়।</p>
<p>বিবর্তনবাদ বিতর্কে একই বছর ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান বিষয়ের ‘অনুসন্ধানী পাঠ’ বই দুটি পাঠদান থেকে প্রত্যাহার করা হয়। নতুন শিক্ষাক্রমের বিজ্ঞান বইয়ের ‘বিবর্তনবাদ’ নিয়েও বিতর্ক শুরু করেন একটি বিশেষ গোষ্ঠী। সমালোচনার মুখে বিবর্তনবাদ-সংক্রান্ত কনটেন্ট বাদ দেওয়া হয়। যদিও সংশ্লিষ্ট বইয়ে ‘বানর থেকে মানুষের সৃষ্টি’—এমন বক্তব্য ছিল না।</p>
<p>২০২৪ সালে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির বইয়ে আরও ১৪৭টি ভুল সংশোধন করে এনসিটিবি। একই বছর সপ্তম শ্রেণির ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান বইয়ের ‘শরীফার গল্প’ নিয়েও বিতর্ক শুরু করে বিশেষ একটি গোষ্ঠী। মানুষে মানুষে সাদৃশ্য ও ভিন্নতার ধারণা দিতে গল্পটি যুক্ত করা হয়েছিল। সমালোচনার পর বই থেকে গল্পটি বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এর পরিবর্তে হিজড়াদের নিয়ে নতুন গল্প যুক্ত করার কথা জানানো হয়।</p>
<p>২০২৫ সালে ৪৪১ বইয়ে পরিবর্তন</p>
<p>২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নতুন শিক্ষাক্রম বাদ দিয়ে ২০২৫ শিক্ষাবর্ষে ২০১২ সালের শিক্ষাক্রমে ফেরার সিদ্ধান্ত হয়। বিভিন্ন শ্রেণির বই পরিমার্জনের জন্য বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়। ঐতিহাসিক তথ্যের ‘অতিরঞ্জন’ ও ব্যক্তিবিশেষের ‘অপ্রয়োজনীয় গৌরবগাথা’ বাদ দেওয়ার কথাও জানানো হয়।</p>
<p>এর ধারাবাহিকতায় ৪১ জন বিশেষজ্ঞকে দিয়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের ৪৪১টি পাঠ্যবই পরিবর্তন করা হয়। বিভিন্ন গদ্য, প্রবন্ধ, উপন্যাস ও কবিতা বাদ দেওয়ার পাশাপাশি নতুন বিষয়বস্তু যুক্ত হয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিষয়বস্তুও গল্প, কবিতা, ছবি ও গ্রাফিতির মাধ্যমে বিভিন্ন বইয়ে স্থান পায়। এনসিটিবির ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় আড়াই মাসে বইগুলো পরিবর্তন করা হয়।</p>
<p>মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসেও পরিবর্তন</p>
<p>২০২৫ সালের পাঠ্যবইয়ে মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ সৃষ্টির ইতিহাসের উপস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভূমিকা ও অবদান সংক্রান্ত একাধিক লেখা, কবিতা ও গদ্য বাদ দেওয়া বা পরিবর্তন করা হয়; কমানো হয় ‘বঙ্গবন্ধু’ ও ‘জাতির পিতা’ পরিচয়ের ব্যবহার।</p>
<p>স্বাধীনতার ঘোষণার বর্ণনাতেও পরিবর্তন এনে ‘১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং ২৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর পক্ষে আবার ঘোষণা দেন’ এমন বর্ণনা যুক্ত করা হয়। ‘অতিরঞ্জিত’ বা ‘প্রমাণভিত্তিক নয়’; এমন ইতিহাস বাদ দেওয়ার যুক্তি দেখানো হলেও নতুন বইয়ে জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা ও মুক্তিযুদ্ধে তার ভূমিকা তুলনামূলকভাবে বেশি গুরুত্ব পায়। একই সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণসহ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের বিভিন্ন কনটেন্ট বাদ বা পরিবর্তন করা হয়।</p>
<p>পঞ্চম শ্রেণির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বইয়ের ‘আমাদের মুক্তিযুদ্ধ’ অধ্যায়ও পরিমার্জন করা হয়। ফলে আগের বইয়ের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের উপস্থাপনায় দৃশ্যমান পার্থক্য তৈরি হয়।</p>
<p>এক বছর পর আবার ৯৯ বই</p>
<p>২০২৬ শিক্ষাবর্ষেও মাধ্যমিক স্তরের ৯৯টি বই পরিবর্তন করা হয়েছে। প্রাথমিক স্তরের আরও ৩৬টি বই পরিবর্তনের কাজ নেওয়া হয়েছে। ইতিহাসের অংশেও পরিবর্তন এসেছে। ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম এবং নবম-দশম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পাশাপাশি নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের বিষয় যুক্ত করা হয়েছে।</p>
<p>অষ্টম শ্রেণির বাংলা বই থেকে ৭ মার্চের ভাষণ বাদ দিয়ে জুলাই-আগস্ট আন্দোলন যুক্ত করা হয়েছে। ষষ্ঠ শ্রেণির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বইয়ের একটি সংস্করণে ২৬ মার্চ জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার কথাও লেখা হয়েছে।</p>
<p>২০২৭ শিক্ষাবর্ষে নতুন পরিবর্তন</p>
<p>২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বইয়েও মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের উপস্থাপনায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। ষষ্ঠ শ্রেণির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বইয়ে বীরশ্রেষ্ঠদের জীবনী এবং অষ্টম শ্রেণির বাংলা বইয়ে মুক্তিযুদ্ধের ব্রিগেড ফোর্সের বিষয় যুক্ত করা হচ্ছে।</p>
<p>ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির বিভিন্ন বইয়ে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনা এবং ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানে খালেদা জিয়ার ভূমিকা যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলা সাহিত্য’ বইয়ে জিয়াউর রহমানের ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’ নিবন্ধও যুক্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কারণ, ঘটনাপ্রবাহ, হতাহত, শহীদদের আত্মত্যাগ, নারীদের ভূমিকা ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিভিন্ন বইয়ে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।</p>
<p>চতুর্থ শ্রেণিতে ‘খেলাধুলা’ ও ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ এবং ষষ্ঠ শ্রেণিতে ‘আনন্দময় শিক্ষা’ ও ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’ নামে চারটি নতুন বইও যুক্ত হচ্ছে।</p>
<p>বারবার কেন বদল</p>
<p>গত দেড় দশকে পাঠ্যবই পরিবর্তনের কারণ এক নয়। কখনও শিক্ষাক্রম পরিবর্তন, কখনও ভুলত্রুটি সংশোধন, আবার কখনও বিতর্ক বা রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কনটেন্ট বদলানো হয়েছে। ২০১৭ সালের লেখা বাদ-সংযোজন, ২০২৩-২৪ সালে নতুন শিক্ষাক্রমের বইয়ে ভুল সংশোধন ও বিভিন্ন কনটেন্ট নিয়ে বিতর্ক, ২০২৫ সালে একসঙ্গে ৪৪১টি বইয়ে পরিবর্তন এবং ২০২৬ সালে ৯৯টি মাধ্যমিক বইয়ে পরিবর্তন তার উদাহরণ।</p>
<p>এখন প্রশ্ন উঠছে, পাঠ্যবই প্রণয়নের আগে গবেষণা, সম্পাদনা ও যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া কতটা কার্যকর ছিল; যে কারণে শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছানোর পরও বারবার তা সংশোধন বা পরিমার্জনের প্রয়োজন হচ্ছে।</p>
<p>সরকার বদলালে বদলে যায় কনটেন্ট</p>
<p>শিক্ষায় এগিয়ে আছে, এমন দেশগুলোতেও পাঠ্যক্রমে নিয়মিত পরিবর্তন করা হয়। তবে এসব দেশের বেশিরভাগ কারিকুলামই পরিবর্তন হয় মূলত তথ্য ও প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন পাঠের জন্য। বাংলাদেশের রাজনৈতিক কারণে এক্ষেত্রে ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়েই বেশি পাঠ বদলায়। গত দেড় দশকের পাঠ্যবইয়ের পরিবর্তন পর্যালোচনা করলে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে ইতিহাস ও বিভিন্ন কনটেন্টের উপস্থাপনেও পরিবর্তনের নজির দেখা যায়।</p>
<p>২০১৭ সালে হেফাজতে ইসলামের দাবির প্রেক্ষাপটে পাঠ্যবইয়ের পরিবর্তন নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। পরে নতুন শিক্ষাক্রমে ‘বিবর্তনবাদ’ এবং ২০২৪ সালে ‘শরীফার গল্প’ নিয়েও বিতর্কের পর পরিবর্তন আসে।</p>
<p>অন্যদিকে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ২০২৫ সালের বইয়ে মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ সৃষ্টির ইতিহাসের উপস্থাপনায় পরিবর্তন আনা হয়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ও উদ্ধৃতি বাদ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে লেখা, মুক্তিযুদ্ধের গল্প-কবিতা ও অন্যান্য কনটেন্ট বাদ দেওয়া এবং সংযোজন করা হয়। একই সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘটনা, আবু সাঈদ ও মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধসহ নতুন বিষয়বস্তু যুক্ত করা হয়।</p>
<p>২০২৬ সালের বইয়েও অষ্টম শ্রেণির বাংলা বই থেকে ৭ মার্চের ভাষণ বাদ দিয়ে জুলাই-আগস্ট আন্দোলন যুক্ত করা হয়েছে। ফলে রাষ্ট্রের রাজনৈতিক ইতিহাসের বিভিন্ন ঘটনা কীভাবে পাঠ্যবইয়ে উপস্থাপিত হবে, তা সময়ের রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে বদলানোর নজির দেখা যাচ্ছে।</p>
<p>শিক্ষার্থীদের ওপর প্রভাব কী</p>
<p>শিক্ষাবিদরা বলছেন, পাঠ্যবইয়ের পরিবর্তন শিক্ষার্থীদের ওপর কী প্রভাব ফেলছে; এর সরাসরি উত্তর পেতে দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা প্রয়োজন। তবে একই শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ভিন্ন সময়ে ভিন্ন কনটেন্ট পড়ায় মুক্তিযুদ্ধ, গণঅভ্যুত্থান, রাজনৈতিক ইতিহাস, সাহিত্য ও সামাজিক বিভিন্ন বিষয়ে প্রজন্মভেদে শেখা তথ্যের পার্থক্য তৈরি হওয়ার সুযোগ রয়েছে।</p>
<p>প্রয়োজনীয় সংশোধন ও সময়ের সঙ্গে পাঠ্যবই হালনাগাদ করা স্বাভাবিক। তবে ইতিহাস ও মূল্যবোধ সম্পর্কিত বিষয় রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে দ্রুত বদলালে শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্থায়ী ও নির্ভরযোগ্য জ্ঞান কাঠামো তৈরি কঠিন হতে পারে। তাই পাঠ্যবই প্রণয়নে গবেষণা, প্রমাণ ও শিক্ষাবিজ্ঞানের ভিত্তিকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রশ্নটি সামনে আসছে।</p>
<p>শিক্ষাবিদদের বক্তব্য</p>
<p>শিক্ষাবিদ, নাট্যকার ও নাট্যনির্দেশক অধ্যাপক মলয় ভৌমিক বলেন, ‘বারবার পাঠ্যবই পরিবর্তনের ক্ষেত্রে অনেক সময় যথেচ্ছ বা উদ্দেশ্যমূলক পরিবর্তনের অভিযোগ ওঠে। পাঠ্যবই পরিবর্তনের সংকট শুধু ২০১০ সাল থেকে শুরু হয়নি। স্বাধীনতার পর থেকেই শিক্ষাব্যবস্থায় সংকট রয়েছে। কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশনের প্রতিবেদন অনেক বেশি বিজ্ঞানসম্মত ছিল, সেটি আলোর মুখ দেখেনি। সেখান থেকেই সংকটের শুরু।’</p>
<p>প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের নিয়ে বারবার পরীক্ষা-নিরীক্ষার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘বিশেষ করে প্রাথমিকের কোমলমতি শিশুদের কয়েক বছর পরপর নানা ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্যে ফেলা হলে তারা যেন গিনিপিগ হয়ে যাচ্ছে। অন্তত অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত প্রকৃত ইতিহাস ও সংস্কৃতির জায়গায় বারবার হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়। একটি শিশু আজ যে ইতিহাস একভাবে পড়ছে, কয়েক বছর পর যদি তার বিপরীত কিছু পড়ে, তাহলে তার মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হবে; আমি আগে যা পড়েছি, সেটা তাহলে ঠিক ছিল না?’</p>
<p>পাঠ্যবই পরিবর্তনের সঙ্গে রাজনীতির সম্পর্ক রয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে শিক্ষাকে সংকীর্ণ দলীয়করণ করা হয়েছে। যারা ক্ষমতায় আসে, তারা তাদের বয়ান বা ন্যারেটিভ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঢোকাতে চায়। স্বাধীনতার পর থেকেই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ-বিপক্ষ নিয়ে একটি রাজনৈতিক সংকট রয়েছে। ফলে সময়ের সঙ্গে ন্যারেটিভও পরিবর্তিত হয়েছে।’</p>
<p>শিক্ষাবিদ রাশেদা কে. চৌধূরীও মনে করেন, বারবার পাঠ্যবই পরিবর্তনের কারণে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে গিয়ে বাচ্চাদের গিনিপিগ বানিয়ে ফেলছি। এর সুযোগে গাইড বই ও কোচিংনির্ভরতা বাড়ছে, যা পরিবারের ব্যয়ও বাড়াচ্ছে। ইতিহাস থেকে আমরা শিক্ষা নিই না। ইতিহাস কি বদলে দেওয়া যায়? ইতিহাস যুগে যুগে থাকে। নীতিনির্ধারকেরা নিজেদের মতো করে বদলানোর চেষ্টা করলেও মূল কথাটা বাদ পড়ে গেলে ক্ষতিটা শিক্ষার্থীদেরই হয়।’</p>
<p>তিনি বলেন, ‘একজন শিক্ষার্থী এক শ্রেণিতে যে ইতিহাস পড়ছে, পরবর্তী সময়ে তার সঙ্গে মিল না পেলে মনে প্রশ্ন তৈরি হয়; আমি যেটা পড়ছি, সেটা তাহলে ঠিক নয়? এভাবে প্রজন্মের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। ইতিহাস বদলানোর চেষ্টা পৃথিবীর কোনও দেশেই সফল হয়নি।’</p>
<p>পাঠ্যবই পরিবর্তনের পেছনে রাজনীতি ও ব্যবসা কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘একটা কারণ হচ্ছে রাজনীতি, আরেকটা কারণ হচ্ছে ব্যবসা। পাঠ্যপুস্তক বদলালেই গাইড বই ও কোচিংয়ের ব্যবসা বাড়ে।’</p>
<p>তিনি বলেন, ‘সময়, জ্ঞান, বিজ্ঞান ও সমাজের পরিবর্তনের সঙ্গে পাঠ্যবই পরিবর্তন স্বাভাবিক। ভুল তথ্য সংশোধন ও নতুন জ্ঞান যুক্ত করাও প্রয়োজন। তবে পরিবর্তন যখন রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক পরিবর্তনের সঙ্গে বেশি সম্পর্কিত হয়ে পড়ে, তখন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।’</p>
<p>মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘নতুন গবেষণা ও প্রমাণের ভিত্তিতে ইতিহাস পরিমার্জন করা সম্ভব। কিন্তু রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে ইতিহাসের মৌলিক বয়ান বারবার বদলালে একটি প্রজন্ম বিভ্রান্ত হতে পারে। প্রয়োজন সরকার পরিবর্তনের ঊর্ধ্বে স্থায়ী, গবেষণাভিত্তিক ও বিশেষজ্ঞনির্ভর পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যবই পর্যালোচনা ব্যবস্থা।’</p>
<p>এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক কাবেরী গয়েন বলেন, ‘সব সরকারের আমলেই সরকারি কর্তাব্যক্তিদের অভিনব চিন্তার প্রথম প্রয়োগ আমরা দেখি শিক্ষার্থীদের ওপরেই। তাদের গিনিপিগ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। শিক্ষার্থীদের ওপর এর প্রভাব মারাত্মক হতে পারে। কিছু দিন পরপর নতুন পাঠ্যক্রম চালুর ফলে শিক্ষার্থীরা একটি শিক্ষা পদ্ধতিতে অভ্যস্ত হওয়ার আগেই ভিন্ন পদ্ধতির মুখোমুখি হয়। এতে অনিশ্চয়তা ও অসহায়ত্ব তৈরি হয়।’</p>
<p>তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে সব শিক্ষার্থীর পারিবারিক শিক্ষাসূচক এক নয়। ফলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় নিম্নবিত্ত ও প্রান্তিক শিক্ষার্থীরা। বাড়ে ব্যক্তিগত শিক্ষক ও কোচিং নির্ভরতা। নতুন বই, শিক্ষকদের অপর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ এবং পরীক্ষা পদ্ধতি বদলে যাওয়ার কারণে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকদের সেরা পারফরম্যান্স দেওয়া সম্ভব না হলে অনিবার্য ভিকটিম হয়ে পড়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এর প্রভাব পরীক্ষার ফলাফলেও দেখা যায়। পাশাপাশি মানসিক চাপ ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়, যা কিছু ক্ষেত্রে আত্মহত্যার মতো ঘটনাতেও গড়াতে পারে।’</p>
<p>সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে পাঠ্যবই ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পরিবর্তনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটা আমাদের দেশের রাজনৈতিক অসৌজন্য ও অসহিষ্ণুতার রোগ, যার ভিকটিম হতে হয় শিক্ষার্থীদের। ইতিহাস বিকৃতি যেকোনও সভ্য দেশেই মারাত্মক অপরাধ হিসেবে পরিগণিত হলেও আমাদের দেশে অহরহ ঘটছে। এর পরিণতি ভয়াবহ।’</p>
<p>তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা অনেক সময় জেনেই ইতিহাস মুখস্থ করে বা পরীক্ষার খাতায় লেখে যে এটি সত্য নয়, শুধু পাস করার জন্য পড়ছে। ফলে জাতির ইতিহাস শেখার প্রতি তারা অমনোযোগী হয়ে পড়ে এবং লিখিত ইতিহাসের প্রতি সন্দেহ ও বিতৃষ্ণা নিয়ে বেড়ে ওঠে। যে জাতি সংকীর্ণ দলীয় স্বার্থে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিক ইতিহাস জানা থেকে বঞ্চিত রাখে, সে জাতি ইতিহাসবিমুখ ভবিষ্যৎ নির্মাণ করে। সঠিক ইতিহাস জানা কতটা জরুরি, দলীয় স্বার্থের কারণে আমাদের রাজনীতি বরাবরই তা উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হয়েছে। এর দায় সাধারণ মানুষকে নিতে হচ্ছে এবং হবে।’</p>
<p>শিক্ষা গবেষক কে এম এনামুল হক বলেন, ‘২০১৭ সালে পাঠ্যবইয়ের বিষয়বস্তুতে বড় ধরনের পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা হয়। সে সময় বিভিন্ন শ্রেণির বাংলা বইয়ে লেখা বাদ দেওয়া ও নতুন লেখা যুক্ত করা হয়। নবম-দশম শ্রেণির বাংলা বই থেকেও পাঁচটি লেখা বাদ দিয়ে পাঁচটি নতুন লেখা যুক্ত করা হয়। এ নিয়ে তখন ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।’বাংলা ট্রিবিউন</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://chtnews24.com/2026/09/26/%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b7%e0%a6%ae%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%97%e0%a7%87-%e0%a6%ac%e0%a6%a6%e0%a6%b2%e0%a7%87-%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%af%e0%a6%bc-%e0%a6%87/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>নীরবে বেপরোয়া ঘুষ</title>
		<link>https://chtnews24.com/2026/09/24/%e0%a6%a8%e0%a7%80%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a7%87-%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8b%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be-%e0%a6%98%e0%a7%81%e0%a6%b7/</link>
					<comments>https://chtnews24.com/2026/09/24/%e0%a6%a8%e0%a7%80%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a7%87-%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8b%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be-%e0%a6%98%e0%a7%81%e0%a6%b7/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[adminchtnews24]]></dc:creator>
		<pubDate>Thu, 24 Sep 2026 02:15:38 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Second lead]]></category>
		<category><![CDATA[অপরাধ-অনুসন্ধান]]></category>
		<category><![CDATA[জাতীয়]]></category>
		<category><![CDATA[বিশেষ প্রতিবেদন]]></category>
		<category><![CDATA[শিরোনাম]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://chtnews24.com/?p=38694</guid>

					<description><![CDATA[ডেস্ক রির্পোট:- ফাইল নড়াতে ঘুষ, স্বাক্ষর করাতে ঘুষ, নামজারিতে ঘুষ, ভোটার হতে ঘুষ, পেনশনের টাকা তুলতেও ঘুষ। অনেক ক্ষেত্রেই নীরবে, আড়ালে কিংবা মধ্যস্বত্বভোগীর মাধ্যমে চলছে এ লেনদেন। কোথাও নির্দিষ্ট অঙ্ক, কোথাও আবার কাজের গুরুত্ব ও তদবিরের ওপর নির্ভর করে নির্ধারিত হচ্ছে ঘুষের পরিমাণ। দেশে সরকার বদলেছে, প্রশাসনে সংস্কারের আলোচনা চলছে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’-এর বার্তাও [&#8230;]]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>ডেস্ক রির্পোট:- ফাইল নড়াতে ঘুষ, স্বাক্ষর করাতে ঘুষ, নামজারিতে ঘুষ, ভোটার হতে ঘুষ, পেনশনের টাকা তুলতেও ঘুষ। অনেক ক্ষেত্রেই নীরবে, আড়ালে কিংবা মধ্যস্বত্বভোগীর মাধ্যমে চলছে এ লেনদেন। কোথাও নির্দিষ্ট অঙ্ক, কোথাও আবার কাজের গুরুত্ব ও তদবিরের ওপর নির্ভর করে নির্ধারিত হচ্ছে ঘুষের পরিমাণ। দেশে সরকার বদলেছে, প্রশাসনে সংস্কারের আলোচনা চলছে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’-এর বার্তাও দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতা বলছে, ঘুষের সংস্কৃতি এখনো বহাল। ভূমি অফিস থেকে পুলিশ, বিআরটিএ, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে হাসপাতাল, বিদ্যুৎ সংযোগ থেকে কর অফিস-অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেবা পেতে অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সরকারি ফি ১ হাজার টাকা হলেও ঘুষ দাবি করা হচ্ছে ৫০ থেকে ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত।</p>
<p>রাষ্ট্রপতি হওয়ার কয়েক দিন আগে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সম্প্রতি ঘুষ ও দুর্নীতি নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন। মির্জা ফখরুল বলেছেন, ‘ঘুষ ও দুর্নীতি কিছুই বদলায়নি, সব আগের মতোই চলছে।’ স্পিকার বলেছেন, ‘সরকারি অধিকাংশ কর্মকর্তাই চোর।’ রাষ্ট্রের দুই শীর্ষ সাংবিধানিক অভিভাবকের মুখ থেকে এই অকাট্য মন্তব্যের পর আর কারও কিছু বলার থাকে না।</p>
<p>বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে দুর্নীতি অনেক ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছে। ব্যক্তিনির্ভর ব্যবস্থা যত দিন থাকবে, তত দিন ঘুষের সুযোগও থাকবে। তাঁদের মতে মাঝে মাঝে দুদকের অভিযানে কিছু কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ধরা পড়লেও ঘুষ-দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। রাষ্ট্রপতি ও স্পিকারের মুখে তারই প্রতিধ্বনি শোনা গেল।</p>
<p>তিনটি খ চিত্র : ১৮ সেপ্টেম্বর শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালে ঘুষ লেনদেনের একটি ভিডিও সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়। এ ভিডিওতে নিরাপত্তাকর্মী, পিয়ন এমনকি রেজিস্ট্রারকেও প্রকাশ্যে ঘুষ নিতে দেখা যায়।</p>
<p>১৬ সেপ্টেম্বর পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে ১ হাজার ১৫০ টাকা সরকারি খরচের একটি নামজারির জন্য ৭০ হাজার টাকা দাবি করার অভিযোগ ওঠে এক তহশিলদারের বিরুদ্ধে। এ-সংক্রান্ত একটি ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।</p>
<p>একই দিনে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা খবিরুল আলমের ঘুষ নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, নতুন ভোটার হওয়ার কাজ করে দেওয়ার জন্য তিনি ৫ হাজার টাকা দাবি করেন। পরে ২ হাজার টাকা দেওয়ার দৃশ্য ভিডিও করেন সেবাপ্রার্থী।</p>
<p>শুধু উল্লিখিত তিনটি ঘটনাই নয়, সরকারি অফিস বিশেষ করে সেবা সংস্থাগুলোয় এ চিত্র নিত্যদিনের; যা ‘বৈধ’ বা ‘স্বাভাবিক’ বিষয় হিসেবে সবাই মেনে নিয়েছে।</p>
<p>ঘুষ.সাইটের চিত্র : নাগরিকের ঘুষের অভিজ্ঞতা প্রকাশের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘ঘুষ.সাইট’-এ জমা হওয়া অভিযোগগুলো সেই বাস্তবতারই প্রতিচ্ছবি। ওয়েবসাইটটির তথ্যানুযায়ী, প্রতিষ্ঠার পর থেকে গতকাল পর্যন্ত ৩৩ দিনে ১৯ হাজার ১২৮টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এসব অভিযোগে দাবীকৃত ঘুষের পরিমাণ ৫৫২ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। তথ্যানুযায়ী, আট বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঘুষ দাবি করা হয়েছে ঢাকা বিভাগে। সর্বোচ্চ ঘুষ চাওয়ার পরিমাণ ১০ কোটি টাকা এবং গড় ঘুষ চাওয়ার পরিমাণ ২ লাখ ৮৯ হাজার টাকা। তথ্যানুযায়ী, ঢাকা বিভাগে এক মাসে ৭ হাজার ৫০১, চট্টগ্রামে ৪ হাজার ৭০, রাজশাহীতে ১ হাজার ৬৫১, খুলনায় ১ হাজার ৫০৩, রংপুরে ১ হাজার ৩৪৩, ময়মনসিংহে ১ হাজার ২০৮, বরিশালে ৯৯৪ এবং সিলেট বিভাগে ৮৫৮টি অভিযোগ জমা পড়েছে ঘুষ.সাইটে।</p>
<p>টিআইবির জরিপের ফল : ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) ‘সেবা খাতে দুর্নীতি : জাতীয় খানা জরিপ ২০২৫’ শীর্ষক জরিপের ফলাফলে ঘুষের ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। টিআইবির তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালে জাতীয় পর্যায়ে প্রাক্কলিত মোট ঘুষ লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি ২০ লাখ টাকা, যা ২০২৩ সালের তুলনায় ১৫ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। এ অর্থ ২০২৪-২৫ অর্থবছরের সংশোধিত জাতীয় বাজেটের ১ দশমিক ৫৮ শতাংশ ও জিডিপির শূন্য দশমিক ২৩ শতাংশ। গত জুনে টিআইবি এ জরিপের ফলাফল প্রকাশ করে। দেশের আট বিভাগের গ্রাম ও শহর এলাকার ১৫ হাজার ৭১৫ পরিবারের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে দুই ধাপের স্তরায়িত গুচ্ছ নমুনা পদ্ধতিতে এ জরিপ করেছে টিআইবি।</p>
<p>পেনশনের টাকা পেতে ঘুষ দিয়ে ঘুষের সাইট : সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, সরকারি প্রাপ্য অর্থ তুলতেও ঘুষের অভিযোগ উঠছে। ময়মনসিংহের একটি পরিবারের এক সদস্যের মৃত্যুর পর তাঁর প্রভিডেন্ট ফান্ডের প্রায় ৭ লাখ টাকা তুলতে ট্রেজারি অফিস, জেলা শিক্ষা অফিস এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে মোট ৩৮ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে। পরিবারটির অভিযোগ, পরে কল্যাণ তহবিলের ২ লাখ এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্য আরও ৮ লাখ টাকা তুলতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কার্যালয়ের ব্যক্তিরা ১ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। টাকা না দিলে ফাইল এগোবে না বলেও জানানো হয় বলে অভিযোগ পরিবারের। এসব অভিজ্ঞতা থেকেই ১৭ বছর বয়সি শাহেদ শরীফ আহমেদ ‘ঘুষ.সাইট’ নামে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করেন। এ ওয়েবসাইটে এখন নানা ধরনের ঘুষ দেওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরছে সাধারণ মানুষ।</p>
<p>সময়ে সময়ে বদলে যায় ঘুষ নেওয়ার কৌশল : দুর্নীতিবিরোধী অভিযান, ডিজিটাল সেবা ও নজরদারি বাড়লেও ঘুষ নেওয়ার কৌশলও সময়ের সঙ্গে বদলে যাচ্ছে। আগে সরাসরি কর্মকর্তা বা কর্মচারীর হাতে টাকা দেওয়ার অভিযোগ বেশি থাকলেও এখন অনেক ক্ষেত্রে দালাল, মধ্যস্থতাকারী, মোবাইল ব্যাংকিং, আত্মীয়স্বজনের অ্যাকাউন্ট কিংবা বিভিন্ন ‘সার্ভিস চার্জ’-এর আড়ালে ঘুষ আদায়ের অভিযোগ উঠছে। কোথাও ফাইল আটকে রেখে, কোথাও অযথা কাগজপত্রের ঘাটতি দেখিয়ে, আবার কোথাও সেবা প্রদানে বিলম্ব ঘটিয়ে ঘুষ দিতে বাধ্য করা হচ্ছে সেবাপ্রার্থীদের। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরাসরি লেনদেনের ঝুঁকি এড়াতে দুর্নীতিবাজ চক্রগুলো নতুন নতুন পদ্ধতি গ্রহণ করছে। ফলে ঘুষের ধরন পরিবর্তিত হলেও মূল সমস্যা একই রয়ে গেছে।</p>
<p>বড় চেয়ারের কর্মকর্তাকে সৎ ও সাহসী হতে হবে : জানতে চাইলে সাবেক সচিব এ কে এম আবদুল আউয়াল মজুমদার বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘সচিব ও সংস্থাপ্রধানদের প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের মানসিকতা থাকতে হবে। এ পদে সৎ ও সাহসী কর্মকর্তা নিয়োগ দিলে ঘুষগ্রহণের প্রবণতা ভয়ে অর্ধেক কমে যাবে।’ তিনি বলেন, ‘কিছু কাজ করতে হবে দৃশ্যমান, যেমন ঘুষ নেওয়া কিছু কর্মকর্তাকে বড় শাস্তি দিতে হবে। এখন এ শাস্তি দিতে হলে বড় চেয়ারের কর্মকর্তাকেও সৎ ও সাহসী হতে হবে।’</p>
<p>দৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রয়োজন : দুদকের প্যানেল আইনজীবী, সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট শাহীন আহমেদ বলেন, ‘দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে শুধু দুদকের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়; এর জন্য রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে “জিরো টলারেন্স” বার্তা এবং দৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রয়োজন। এতে দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রম আরও কার্যকর হতে পারে।’ সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বেতন বাড়ালেই দুর্নীতি কমে যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। দুর্নীতি দমন করতে হলে আইনের যথাযথ প্রয়োগ, জবাবদিহি ও শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।’</p>
<p>শাহীন আহমেদ আরও বলেন, ‘দুদকের ক্ষমতা ও দায়িত্ব আইন দ্বারা নির্ধারিত। দুদকের কাজ হলো অভিযোগের অনুসন্ধান ও তদন্ত করে প্রমাণ সংগ্রহ এবং তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করা। কোনো ব্যক্তিকে শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতা দুদকের নেই। তদন্ত শেষে মামলা আদালতে গেলে বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালতই দোষী বা নির্দোষ নির্ধারণ করেন। এ ক্ষেত্রে দুদকের প্রসিকিউশন টিম আদালতে সাক্ষ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করে। তাই দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা একটি সমন্বিত প্রক্রিয়া, যেখানে দুদক, প্রসিকিউশন, বিচার বিভাগ-সব পক্ষের ভূমিকা রয়েছে।’</p>
<p>ঘুষ ও অবৈধ লেনদেনের নিয়ন্ত্রণকারীরাও ভাগ পান কি না, সে প্রশ্নও আসে : টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, ‘যেসব প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার ওপর ঘুষ ও অবৈধ লেনদেন নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব রয়েছে, তারা কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারছে না। এমনকি অনেক সময় প্রশ্ন ওঠে-নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরাও কোনোভাবে এর ভাগ পান কি না?’</p>
<p>ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘ঘুষ ও অবৈধ লেনদেন বন্ধ না হওয়ার অন্যতম কারণ শাস্তির অভাব। কোনো অপরাধের বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে তা ধীরে ধীরে সমাজে স্বাভাবিক চর্চায় পরিণত হয়। সমাজমাধ্যম, গণমাধ্যম এবং সম্প্রতি চালু হওয়া ঘুষ.সাইটে প্রকাশিত তথ্যও দেখাচ্ছে, ঘুষ এখন উদ্বেগজনকভাবে বিস্তার লাভ করছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘টিআইবির জাতীয় খানা জরিপ ২০২৫ অনুযায়ী, ঘুষ দিতে বাধ্য হওয়া ৮৫ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, ঘুষ না দিলে তাঁরা প্রয়োজনীয় সেবা পেতেন না। অর্থাৎ মানুষকে কার্যত জিম্মি করে ঘুষ আদায় করা হচ্ছে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর এর বোঝা সবচেয়ে বেশি পড়ছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা বাড়ছে এবং ঘুষ যেন সেবা পাওয়ার অনিবার্য শর্তে পরিণত হয়েছে।’</p>
<p>টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জনবল, দক্ষতা ও নানান সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে। তবে অতীতে ফাঁদ মামলার মতো কার্যক্রমের মাধ্যমে কিছু ইতিবাচক প্রভাব তৈরি হয়েছিল। বর্তমানে সে ধরনের কার্যক্রম খুব একটা দেখা যায় না। পাশাপাশি সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকেও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নজির খুব কম। ফলে দুর্নীতিবাজদের মধ্যে শাস্তির ভয় কমে গেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘শুধু বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করলেই দুর্নীতি কমবে-এমন ধারণা বাস্তবসম্মত নয়। বরং যারা ঘুষ গ্রহণে অভ্যস্ত, তারা অনেক সময় বেতন বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ঘুষের পরিমাণও বাড়িয়ে দিতে পারে। এ কারণে টিআইবি প্রস্তাব করেছিল, সরকারি কর্মচারীদের সম্পদ বিবরণী নিয়মিত ও প্রকাশ্যভাবে দাখিল করাকে বাধ্যতামূলক করা হোক এবং বর্ধিত বেতন-ভাতা পাওয়ার সঙ্গে এ শর্ত যুক্ত করা হোক।’ তাঁর মতে সম্পদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা গেলে দুর্নীতি প্রতিরোধে কার্যকর ভূুমিকা রাখা সম্ভব। তবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের যেসব সুযোগ ও উপায় রয়েছে, সেগুলোর অনেকটিই এখনো যথাযথভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে না।বাংলাদেশ প্রতিদিন</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://chtnews24.com/2026/09/24/%e0%a6%a8%e0%a7%80%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a7%87-%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8b%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be-%e0%a6%98%e0%a7%81%e0%a6%b7/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
	</channel>
</rss>
