শুক্রবার, ০৩ ডিসেম্বর ,২০২১

Bangla Version
  
SHARE

মঙ্গলবার, ১২ অক্টোবর, ২০২১, ০৩:১৬:০৩

মেজর, কর্নেল সেজে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ৫

মেজর, কর্নেল সেজে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ৫

ডেস্ক রির্পোট:- নিজেদের সেনাবাহিনীর কর্নেল, মেজরের মতো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ সেনাবাহিনীর বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেওয়ার কথা বলে মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছিল একটি প্রতারক চক্র। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ জানিয়েছে, প্রায় ১০ বছর ধরে মানুষের সঙ্গে এভাবে প্রতারণা করছে চক্রটি। এই চক্রের প্রধান মো. শাহাদাৎ হোসেনসহ পাঁচজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে বলে আজ সোমবার রাজধানীর মালিবাগে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন শাহাদাৎ হোসেন (৫৫), মো. আবদুস সাত্তার (৫২), মো. আলী হোসেন (৪০), মো. মোস্তফা (৬২) ও মো. জামাল হোসেন (৫০)। সোমবার সকালে মালিবাগের সিআইডি কার্যালয়ের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক মো. ইমাম হোসেন বলেন, এরই মধ্যে এ চক্রের দুজনকে আদালতের মাধ্যমে জেলে পাঠানো হয়েছে। প্রতারক চক্রের দ্বারা প্রতারণার শিকার মো. ফরহাদ আলী জানান, তাঁর চার ভাতিজাকে সেনাবাহিনীতে চাকরি দেওয়ার কথা বলে শাহাদাৎ হোসেন তাঁর কাছ থেকে ২৮ লাখ টাকা নেন। তিনি বলেন, ‘তিনজনকে সৈনিক ও একজনকে সিভিলে চাকরি দেওয়ার কথা বলে টাকা নেয়। ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে নিয়ে গেছে, মেডিকেল (পরীক্ষা) করিয়েছে। বলেছে, টাকা পয়সা ছাড়া চাকরি হয় না। শাহাদাৎ আমাকে মেজর বলে একজনের সঙ্গে পরিচয় করিয়েছে। এখন দেখছি সেই মেজরও বানোয়াট।’ মো. ইমাম হোসেন বলেন, সেনাবাহিনীতে সৈনিক ও অফিস সহকারী পদে এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে চাকরি দেওয়ার কথা বলে বিপুল পরিমাণ টাকা নিয়ে তাদের ভুয়া নিয়োগপত্র দেওয়া হয়। সেই নিয়োগপত্র নিয়ে প্রার্থীরা কর্মস্থলে যোগ দিতে গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানান—নিয়োগপত্রগুলো ভুয়া। এর মধ্যে প্রতারক চক্র আত্মগোপন করে। এভাবেই প্রায় ১০ বছর ধরে প্রতারণা করে আসছে চক্রটি। ইমাম হোসেন বলেন, গ্রেপ্তার শাহাদাৎ মেজর, কর্নেল সেজে আর্মি, আনসার, স্কুলের পিয়ন, দপ্তরি হিসেবে চাকরি দেওয়ার কথা বলে টাকা নেয়। কয়েক দিন আগে সেনাবাহিনীর ভুয়া নিয়োগপত্র নিয়ে চাকরি নিতে গেলে ধরা পড়ে। সেই সূত্র ধরেই এই চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হয়। সিআইডিতেও কিছুদিন আগে ভুয়া নিয়োগপত্র নিয়ে জয়েন করতে আসা কয়েকজনকে আটক করা হয়েছিল। সিআইডির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘চক্রটির সদস্যরা নিজেদের বড় রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা আছে বলে টাকা নেয়। শাহাদাৎ প্রায় ১০ বছর ধরে এ কাজ করছে, মোস্তফা আরও আগে থেকে করছে। কিন্তু তাদের নিয়োগপত্র দিয়ে কখনো কারও চাকরি হয়নি।’ তারা প্রায় ১০ কোটি টাকা প্রতারণা করে মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছেন বলে ধারণা করছে সিআইডি। আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে ইমাম হোসেন বলেন, ‘তাঁরা বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে নিয়োগের জন্য তদবির বাণিজ্য করেন। সরকারি দপ্তরের নিয়োগপত্র জাল করে নিয়োগপত্র দিয়ে ৮-১০ লাখ টাকা করে নেন। বিভিন্ন গার্মেন্টস ও সেনানিবাসে তারা কনস্ট্রাকশনের কাজ করেছে। ভুয়া নিয়োগপত্র ছাড়াও ভুয়া জমির দালালি, বিটকয়েন কেনাবেচার নামেও প্রতারণা করে আসছে।’ গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে সেনাবাহিনীর বিভিন্ন পদের চারটি ভুয়া নিয়োগপত্র, নিয়োগপত্রের চারটি ভুয়া টোকেন স্লিপ, পাঁচটি মোবাইল ও কয়েকজন শিক্ষকের চাকরি এমপিওভুক্তির আবেদনসহ বিভিন্ন চাকরিপ্রার্থীর সিভি ও ছবি জব্দ করা হয়।

এই বিভাগের আরও খবর

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

আজকের প্রশ্ন

বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেছেন, পুলিশের ওপর নির্বাচন কমিশনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?