রবিবার, ১৭ অক্টোবর ,২০২১

Bangla Version
  
SHARE

শুক্রবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ০১:৩১:০৩

বিচারকের এমন কর্মকাণ্ড লজ্জাজনক

বিচারকের এমন কর্মকাণ্ড লজ্জাজনক

ডেস্ক রির্পোট:- ৮০ লাখ টাকাসহ গ্রেপ্তার সাবেক কারা উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজন) পার্থ গোপাল বণিককে গোপনে পেছনের দরজা দিয়ে ঢাকার বিশেষ আদালতের দেওয়া জামিন বাতিলে হাইকোর্টের রায় প্রকাশিত হয়েছে। রায়ে বলা হয়েছে, ‘এটি সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান যে, জামিন দরখাস্তটি শোনার পর বিচারক তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ্য আদালতে কোনো আদেশ প্রদান করেননি, যা সংশ্লিষ্ট আইনজীবীগণ কর্তৃক স্বীকৃত এবং আদেশটি অতিগোপনে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়, যা সংশ্লিষ্ট পক্ষের আইনজীবীরাও জ্ঞাত ছিলেন না। এ ধরনের ঘটনা হতাশা ও লজ্জাজনক এবং আইনের সঙ্গে সঙ্গতিহীন।’ এ জামিনের আদেশ প্রদানের প্রক্রিয়া নানা প্রশ্নের সুযোগ করে দিয়ে বিচার বিভাগকেও বিতর্কিত করেছে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। রায়ে বলা হয়েছে, আমাদের বলতে দ্বিধা নেই যে, জেলা জজ পর্যায়ের একজন বিচারকের কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ ও কর্ম প্রত্যাশিত নয়। তার এ ধরনের আদেশ উচ্চ আদালতের প্রতি অবজ্ঞা এবং যা আদালত অবমাননার শামিল। হাইকোর্ট বিভাগ ইতিপূর্বে আসামির জামিন নাকচ করে দ্রুত মামলার নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছিলেন। বিজ্ঞ বিচারক আসামিকে জামিন প্রদান করে হাইকোর্টের আদেশকে অবজ্ঞা করেছেন। গত ২ সেপ্টেম্বর বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ পার্থ গোপালের জামিন বাতিল করে রায় দেন। রায়ে তাকে ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি জামিন প্রদানকারী ঢাকার বিশেষ জজ মো. ইকবাল হোসেনকে সতর্ক করে দেন হাইকোর্ট। এ ছাড়া মামলাটি ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ আদালত থেকে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ৪-এ স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ৪-কে ২০২২ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে পার্থ গোপালের মামলাটির বিচার সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে। ১২ পৃষ্ঠার এ রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি গতকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হয়েছে। হাইকোর্ট থেকে জামিন আবেদন খারিজ করে মামলার বিচার শেষ করার আদেশের বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়ে রায়ে বলা হয়েছে, বিশেষ জজ ওই আদেশের ও রায়ের মর্ম জেনে এবং বুঝে স্ত্রীর অসুস্থতা ও কথিত সার্বিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আসামিকে জামিন প্রদান করেছেন। ‘সার্বিক বিষয়’ বলতে বিজ্ঞ বিশেষ জজ কী বুঝিয়েছেন তা বোধগম্য নয়। হাইকোর্ট বিভাগের উপরিউক্ত আদেশ ও রায়ের পর মামলার গুণাগুণ বিচার কিংবা কথিত ‘সার্বিক অবস্থা’ বিবেচনা করে জামিন দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। রায়ে বিচারককে সতর্ক করার বিষয়টি তার ডিসিআরে সংরক্ষণ করতে হাইকোর্টের রেজিস্ট্রারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নিম্ন আদালতগুলোর বিচারকের জামিনসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অন্তর্বর্তী আদেশ ও রায় প্রকাশ্য আদালতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগণ বা তাদের আইনজীবীদের উপস্থিতিতে ঘোষণা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ২৮ জুলাই সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত দুদকের সেগুনবাগিচার প্রধান কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় পার্থ গোপাল বণিককে। ঘুষ ও দুর্নীতির কয়েক লাখ নগদ টাকা তার বাসায় রয়েছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে এদিন বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ৮০ লাখ টাকা জব্দ করা হয় এবং তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে দুদক তার বিরুদ্ধে মামলা করেন। ২০১৯ সালের ৩০ জুলাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পার্থ গোপাল বণিককে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করে। গত বছরের ২৪ আগস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পার্থের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন। এত বলা হয়, ২০১৪ সালে তিনি ৩১ হাজার ২৫০ টাকা বেতন স্কেলে কারা উপ-মহাপরিদর্শক পদে পদোন্নতি লাভ করেন। তার এ বেতন স্কেলের সঙ্গে এত টাকা উপার্জন অসামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি তার কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে তা উত্তোলন করেননি বা তিনি কখনো এ অর্থ আয়কর বিবরণীতেও প্রদর্শন করেননি, যা দ-বিধির ১৬১ ধারা, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭ (১) ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫ (২) ধারা এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪ (২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। গত বছরের ৪ নভেম্বর পার্থ গোপাল বণিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। এর পর ১৫ ডিসেম্বর এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। গত বছর ২ নভেম্বর ও গত ২৫ জানুয়ারি হাইকোর্টে দুবার পার্থ গোপাল বণিকের জামিন আবেদন খারিজ করেন হাইকোর্ট। সে সময় হাইকোর্ট পৃথক আদেশে প্রথমে ৬ মাসের মধ্যে ও পরে এক বছরের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি করতে নিম্ন আদালতকে নির্দেশ দেন। এ নির্দেশের পরও নির্ধারিত সময়ে মামলা নিষ্পত্তি হয়নি। এ অবস্থায় পার্থ গোপাল বণিক গত ১৯ জুন জামিন পান। ঢাকার বিশেষ জজ আদালত ৫-এর বিচারক ১০ হাজার টাকা মুচলেকায় তার জামিন মঞ্জুর করেন। জামিন আদেশ নিয়ে তার পরদিনই তিনি জেল থেকে বের হন। তড়িঘড়ি করে পার্থ গোপাল বণিককে জামিন দেওয়ার ও কারামুক্তির বিষয়টি নিয়ে একটি বেসরকারি টেলিভিশনে প্রকাশিত প্রতিবেদন হাইকোর্টের নজরে আনেন আইনজীবী মনিরুজ্জামান লিংকন। এ ছাড়া তার জামিন স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে আপিল করে দুদক। আদালত এ বিষয়ে শুনানি নিয়ে গত ২৮ জুন হাইকোর্ট বিশেষ জজ আদালত ৫-এর বিচারকের কাছে ব্যাখ্যা তলব করেন। সাত কার্যদিবসের মধ্যে কোন যুক্তিতে ওই বিচারক পার্থ গোপালকে জামিন দিয়েছেন তার ব্যাখ্যা চান। এ ছাড়া এ জামিনের বিষয়ে চ্যানেল ২৪-এ প্রচারিত প্রতিবেদনের ভিডিও ক্লিপ দাখিলেরও নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি পার্থ গোপাল বণিকের জামিনের বিরুদ্ধে দুদকের করা আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করা হয়। সে অনুযায়ী ওই জামিনের ব্যাপারে ভুল স্বীকার করে ব্যাখ্যা দাখিল করে ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. ইকবাল হোসেন হাইকোর্টের কাছে ক্ষমা চান। পরে গত ২ সেপ্টেম্বর উপরিউক্ত আদেশ দেন হাইকোর্ট।

এই বিভাগের আরও খবর

  সড়ক দুর্ঘটনায় ৯ মাসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৬১জন নিহত

  দেশে থ্রিজি-ফোরজি ইন্টারনেট সেবা বন্ধ

  কুমিল্লায় পূজামন্ডপ ঘিরে বিভিন্ন জেলায় উত্তেজনা ,আটক ৪৩ নিহত ৪,বিজিবি মোতায়েন ২২ জেলায়

  যৌন হয়রানির মামলায় কাউন্সিলর আওয়ামী লীগ নেতা চিত্তরঞ্জন কারাগারে

  নতুন কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আনিসুল হক

  ১ হাজার ৭ ইউনিয়ন পরিষদে ভোট ২৮ নভেম্বর

  ২২ জেলায় বিজিবি মোতায়েন

  বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা দেবে এসএসএফ

  ২০ লাখ টাকায় কিডনি বিক্রি করে ডোনারকে দিতেন দুই লাখ টাকা

  সনাতন ধর্মাবলম্বী বিধবারা স্বামীর সব সম্পত্তির ভাগ পাবেন: হাইকোর্ট

  মেজর, কর্নেল সেজে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ৫

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

আজকের প্রশ্ন

বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেছেন, পুলিশের ওপর নির্বাচন কমিশনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?