রবিবার, ১৭ অক্টোবর ,২০২১

Bangla Version
  
SHARE

শনিবার, ৩১ জুলাই, ২০২১, ০৫:২৬:১৫

উপজেলা পরিক্রমা: জুরাছড়ি

উপজেলা পরিক্রমা: জুরাছড়ি

মো: মামুন:-(এক)আয়তনে বাংলাদেশের বৃহত্তম জেলা রাঙ্গামাটি, আর রাঙ্গামাটি জেলায় জনসংখ্যার বিচারে ছোট উপজেলা জুরাছড়ি। আক্ষরিক অর্থে চাকমা ভাষায় যার অর্থ দাঁড়ায় ঠান্ডাছড়ি। চাকমা ভাষায় 'জুর' মানে ঠান্ডা আর 'ছড়ি' অর্থ পাহাড়ি ছড়া। জুরাছড়ি উপজেলার দুহাতছড়া গ্রামের কিনারা ঘেঁষে বয়ে যাওয়া শলক নদীর উজানে বয়ে গেছে একটি পাহাড়ি ছড়া যার নাম জুরাছড়ি। এ ছড়ির পানি খুবই ঠান্ডা। যার পানি খেলে তৃষ্ণায় কাতর মানুষের প্রাণ জুড়িয়ে যায়। ধারণা করা হয়, এ ছড়া থেকেই উপজেলার নাম হয়েছে জুরাছড়ি। (দুই) জুরাছড়ি ছিল একসময় বরকল থানার অধীন একটি ইউনিয়ন। পরবর্তীতে প্রশাসনিক সুবিধার্থে ১৯৮০ সালে মানোন্নীত জুরাছড়ি থানা প্রতিষ্ঠিত হলে জুরাছড়ি ইউনিয়নকে চারটি ইউনিয়নে ভাগ করে জুরাছড়ি থানার অধীনে আলাদা প্রশাসনিক ইউনিট হিসেবে রূপ দেয়া হয়। যা এরশাদ আমলে ১৯৮৩ সালে উপজেলায় রূপান্তরিত হয়। জুরাছড়ি উপজেলার প্রথম ইউএনও ছিলেন জয়নাল আবেদীন। জুরাছড়ি উপজেলার চারটি ইউনিয়নের নাম জুরাছড়ি, বনযোগীছড়া, মৈদং ও দুমদুম্যা। চারটি ইউনিয়নের মাঝে মৈদং ও দুমদুম্যা অত্যন্ত দুর্গম। হাঁটাপথে উপজেলা সদর থেকে দুমদুম্যা যেতে চার থেকে ছয়দিন লেগে যায়। (তিন) ভৌগোলিক অবস্থানের দিক থেকে জুরাছড়ির পূর্ব সীমান্ত জুড়ে ভারতের মিজোরাম, উত্তরে বরকল, পশ্চিমে রাঙ্গামাটি সদর, পশ্চিমের বড় অংশ ও দক্ষিণে বিলাইছড়ি। এ উপজেলায় জনমিতি সংখ্যার বিচারে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মাঝে যথাক্রমে চাকমা,তঞ্চঙ্গ্যা, পাংখোয়া, মারমা ও রাখাইন। আর আছে হাজার খানেক বাঙ্গালী। ৬০৫ বর্গ কিলোমিটারের বেশি আয়তন বিশিষ্ট এ উপজেলায় সবমিলিয়ে মানুষ আছে সিকি লাখের কম। মানুষ মূলতঃ দুটি পেশায় নিয়োজিত। কৃষিজীবী ও মৎস্যজীবী। কিছু আছে ব্যবসা ও অন্যান্য পেশায় নিয়োজিত। এখানে প্রচুর কলা, ধান, হলুদ, মরিচ ও অন্যান্য প্রচলিত-অপ্রচলিত শাকসবজির চাষ হয়। কিন্তু বাজারজাত করার অসুবিধার কারনে এর সুফল থেকে প্রান্তিক চাষিরা কাঙ্ক্ষিত লাভবান হতে পারে না। (চার) ‘আশ্রয়ণের অধিকার, শেখ হাসিনার উপহার’।-শ্লোগানকে সামনে রেখে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে শেখ হাসিনা মডেল’ আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় গৃহহীন পরিবারগুলোকে মাথাগোঁজার ঠাই করে দিতে স্থানীয় প্রশাসনের সরাসরি তত্ত্বাবধানে সারাদেশের মতো রাঙ্গামাটি জেলার জুরাছড়ি উপজেলায় ভূমিহীনদের জন্য দশটি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। দুই শতাংশ খাস জমিসহ উপহার হিসেবে প্রদান করা দুই কক্ষবিশিষ্ট আধাপাকা ঘর নির্মাণে বরাদ্দ ছিল এক লক্ষ একাত্তর হাজার টাকা। জুরাছড়ির মতো যোগাযোগ দুর্গম উপজেলায় ঘরের মালামাল আনা, মিস্ত্রি যোগার করা, নিয়মিত মনিটরিং করা অত্যন্ত কঠিন। কিন্তু কঠিনেরে ভালবেসে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নেতৃত্বে জুরাছড়ি উপজেলা টাস্কফোর্স ভূমিহীনদের জন্য ঘর নির্মাণ করেছে। আর সে ঘরের কাজ দেখার জন্যই ছুটির দিনে জেলাপ্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান স্যারের সাথে সঙ্গী হিসেবে ঘরের কাজ দেখলাম। নিঃসন্দেহে ইউএনও জিতেন্দ্র এবং তাঁর সহকর্মীগণ প্রশংসা পেতেই পারে। (পাঁচ) সকাল সাড়ে আটটায় উন্নয়ন বোর্ডের পর্যটন অবতরণ ঘাট থেকে স্পীড বোটে আমাদের যাত্রা শুরু হয়। ঘন্টা খানেক পর কর্ণফুলী হ্রদ থেকে শলক নদীতে স্পীড বোট প্রবেশ করে। এরপর কেংড়াছড়ি রাস্তার মাথার ঘাটে একান্নটা সিঁড়ি বেয়ে আমাদের বাজারে উঠে কিছুটা সিএনজিতে করে, খানিকটা হেঁটে ঘর দেখতে হয়েছে। এ' সময় জেলাপ্রশাসক স্যার উপকারভোগী ধনেশ্বর চাকমা ও মল্লিকা চাকমা, পুরেন্দ্র চাকমা ও লক্ষী দেবি চাকমা, শেফালী চাকমা ও অরুন কুমার চাকমা, নমিতা চাকমা ও হেমরঞ্জন চাকমা দম্পতির খোঁজ-খবর নেন। (ছয়) উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অফিস কক্ষে আলাপচারিতায় চেয়ারম্যান, উপজেলা পরিষদ জনাব সুরেশ কুমার চাকমা বলেন, জুরাছড়ি-তে প্রায় পনের বছর একাউন্টস অফিসার নাই। রাউজানের একাউন্টস অফিসার একই সাথে রাঙ্গামাটি সদর ও জুরাছড়ি উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বে। দীর্ঘদিন পিআইও নাই। রাঙ্গামাটি সদরের পিআইও এখানে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করে। প্রায় তিন বছর ধরে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার নাই। নাই...নাই...নাই...! ফলে দুর্গম এ উপজেলায় কাজ করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়। এতোসব প্রতিকূলতার মাঝেও জাইকা কর্তৃক উপজেলা পরিষদের পারফরম্যান্স মূল্যায়নে জুরাছড়ি সারাদেশে পঞ্চম শুনে মুগ্ধ হলাম। জানলাম স্কুল পর্যায়ে কাবাডিতে এ'উপজেলার মেয়েরা সারাদেশে চ্যাম্পিয়ন! ইম্প্রেসিভ! (সাত) আমার কাছে খুব ভাল লেগেছে সাবেক ইউএনও মোঃ মাহফুজুর রহমান (৩১ ব্যাচ)-এর প্রচেষ্ঠায় প্রতিষ্ঠিত জুরাছড়ি শিশুপার্ক, পিবির পিবির হলা (ঠান্ডা ঠান্ডা বাতাস), ইউএনও অফিসে উঠার পথে ছবির প্রদর্শনী। এত দুর্গম এলাকায় পদচিহ্ন রেখে যাওয়া সহজ নয়, সেক্ষেত্রে তাঁর প্রচেষ্টা আমাকে মুগ্ধ করেছে। (আট) জুরাছড়ি নিঃসন্দেহে অত্যন্ত দুর্গম। কিন্তু ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বৈচিত্র্যময় খাবার (মাছ হেবাং,বাঁশ কোড়াল, মেনগুনী, বেগল বিচির ভর্তা/তরকারি), সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, ভাষা, খাদ্যাভ্যাস, কৌমার্য ধরে রাখা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভ্রমণ পিপাসু যে কেউ মুগ্ধ হবেই। এখানকার রদংকাবা ঝরনা,শিলছড়ি ঝরনা,পানছড়িমুখ ঝরনা, তাগলকবাগ ঝরনা, বানাতাইংগাচুগ পাহাড় ও আরও অসংখ্য জিরি প্রকৃতিপ্রেমিদের জন্য অহর্নিশ রূপের পসরা সাজিয়ে রেখেছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হলে এসব স্থান অসংখ্য মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে সহায়ক হত। মো: মামুন, অতিরিক্ত জেলঅ প্রশাসক সার্বিক রাঙ্গামাটি। পেইজবুক থেকে নেয়া। ৩১ জুলাই ২০২১

এই বিভাগের আরও খবর

  রাঙ্গামাটির জুরাছড়ির পাহাড়ে এখন পাকা ধানের সুবাস

  রাঙ্গামাটির ৪১টি মন্ডপ প্রস্তুত, বাজবে পূজোঁর ঢোল

  রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ে ইউপি নির্বাচন ঘিরে আওয়ামী লীগে উচ্ছ্বাস

  রাঙ্গামাটির লংগদুতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যুবকের মৃত্যু

  রাঙ্গামাটিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে সেলাই মেশিন বিতরণ

  রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে নিখোঁজের ৪দিন পর স্কুল ছাত্রী প্রেমিকসহ উদ্ধার

  রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে ৪ দিন থেকে নিখোঁজ স্কুলছাত্রী পূর্ণিমা দেবী চাকমা

  রাঙ্গামাটির লংগদুতে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র আছে,নেই চিকিৎসক ভোগান্তিতে ৮৫ হাজার মানুষ

  রাঙ্গামাটিতে বর্ণিল আয়োজনে নিউজবাংলার প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

  এমপি ফজলে করিম চৌধুরীর সাথে রাঙ্গামাটি প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের সাক্ষাত

  দুর্গম পার্বত্য এলাকা সোলার বিদ্যুতের মাধ্যমে আলোকিত করা হবে-নিখিল কুমার চাকমা

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

আজকের প্রশ্ন

বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেছেন, পুলিশের ওপর নির্বাচন কমিশনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?