বুধবার, ২৭ অক্টোবর ,২০২১

Bangla Version
  
SHARE

শনিবার, ২৮ আগস্ট, ২০২১, ০২:২৩:৩৮

চট্টগ্রাম মেডিকেলে সরকারি দলের নেতার মদদপুষ্ট চক্রের বেশি দামে খাবার সরবরাহ,মামলার সুপারিশ দুদকের

চট্টগ্রাম মেডিকেলে সরকারি দলের নেতার মদদপুষ্ট চক্রের বেশি দামে খাবার সরবরাহ,মামলার সুপারিশ দুদকের

ডেস্ক রির্পোট:- বাজারে প্রতি কেজি ছাগলের (খাসি) মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৮৫০ টাকায়। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে রোগীদের জন্য প্রতি কেজি ৯৩৮ টাকা দরে রাহাদ এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করেছে হাসপাতালটি। অথচ দরপত্রে সর্বনিম্ন ৬৪৫ টাকা দর দিয়েছিল হাসান এন্টারপ্রাইজ নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠান। একই প্রতিষ্ঠান ব্রয়লার মুরগির সর্বনিম্ন দর প্রতি কেজি ২৭০ টাকা এবং প্রতিটি ডিম ৯ টাকা ৬০ পয়সায় দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু রাহাদ এন্টারপ্রাইজের ৩২০ টাকার মুরগি এবং আহসান এন্টারপ্রাইজের ১০ টাকা ৭০ পয়সার ডিমে আস্থা রাখে চমেক হাসপাতাল। অথচ বাজারে ডিমের দাম প্রতিটি সর্বোচ্চ সাড়ে ৮ টাকা। এই হাসপাতালের রোগীদের খাবার (নন এমএসআর ডায়েট) সরবরাহে দীর্ঘদিন ধরে ছয়-সাতটি নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান সিন্ডিকেট করে এভাবে দরপত্র নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। ঘুরেফিরে তারাই ডায়েটের বিভিন্ন পণ্য বেশি দামে কেনার জন্য হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। এই সিন্ডিকেট নগর আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ফয়সল ইকবাল চৌধুরীর মদদপুষ্ট বলে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। তিনিসহ বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে সরবরাহকারী এসব প্রতিষ্ঠানের আন্তব্যাংক লেনদেনের প্রমাণ পেয়েছে দুদক। অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ফয়সল ইকবাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার চৌদ্দগুষ্টির এই সরবরাহের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা নেই। সিন্ডিকেট নিয়ে আমি কিছু জানি না। আমি এখন মেডিকেলে যাই না।’ দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক মো. শরীফ উদ্দিন গত কয়েক বছরের চমেকের খাবার ও জনবল সরবরাহসহ বিভিন্ন বিষয়ে অনুসন্ধান করেন। অনুসন্ধানে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রমাণ মেলে। এরপর তিনি মামলার সুপারিশ করে তাঁর অনুসন্ধান প্রতিবেদন জমা দেন। অনুসন্ধানে দেখা যায়, সিন্ডিকেটের বাইরের কোনো প্রতিষ্ঠান দরপত্রে অংশ নিতে পারে না। হাসান এন্টারপ্রাইজ নামের প্রতিষ্ঠানটি এবার প্রথমবারের মতো দরপত্রে অংশ নেয়। তাদের সব পণ্যের দাম অন্যদের চেয়ে কম। কিন্তু ব্যাংক স্টেটমেন্টের মূল কপি না দেওয়ার অভিযোগে তাদের অযোগ্য ঘোষণা করা হয়। অথচ দরপত্র নীতিমালায় এ জন্য সময় দেওয়ার বিধান রয়েছে। গত ৩০ জুন ২০২১-২২ সালের খাবার সরবরাহকারীদের দরপত্র চূড়ান্ত হয়। দরপত্র শেষে চমেক হাসপাতালের পরিচালক এতে সই করেন। ছয়টি বিভাগে ভাগ করে রোগীদের খাবারের কার্যাদেশ দেওয়া হয়। সিন্ডিকেটভুক্তরাই এবারও কার্যাদেশ পায়। জানতে চাইলে চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম হুমায়ূন কবীর প্রথম আলোকে বলেন, ‘সিন্ডিকেটের বিষয়ে আমি জানি না। মন্ত্রণালয় গঠিত দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি আছে। অধ্যাপকদের দিয়ে এই কমিটি গঠন করে দিয়েছি। তারা সবকিছু যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেয়।’ ১ হাজার ৩১৩ শয্যার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত বৃহস্পতিবার রোগী ভর্তি ছিলেন ২ হাজার ২৬৭ জন। ঘুরেফিরে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান হাসপাতালে রোগীদের খাবারের জন্য ছয়টি বিভাগের মধ্যে এবার শুকনো বা মুদিবাজারের ৩৩টি পণ্য সরবরাহ করার দায়িত্ব পেয়েছে ইয়াহিয়া স্টোর। ২৫টি সবজিজাতীয় পণ্য জিসান এন্টারপ্রাইজ, দুগ্ধজাত আট পণ্য আহসান এন্টারপ্রাইজ, ছয় ধরনের মাছ-মাংস রাহাদ এন্টারপ্রাইজ, ডিম আহসান এন্টারপ্রাইজ ও রুটি-বিস্কুটজাতীয় পণ্য ফেরদৌস ট্রেডার্স সরবরাহ করবে বলে চুক্তি হয়েছে। তারা সব কটি মিলে একটা সিন্ডিকেট। জম জম এন্টারপ্রাইজ, আলী অ্যাসোসিয়েটস, মনিরিয়া ফুড প্রোডাক্টসও এই সিন্ডিকেটের মধ্যে রয়েছে। এরাও অতীতে বিভিন্ন সময়ে পণ্য সরবরাহ করেছে। নিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠানকে কাজ না দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সদস্যসচিব চমেক হাসপাতালের উপপরিচালক আফতাবুল ইসলাম বলেন, ‘হাসান এন্টারপ্রাইজের দাম কম ছিল। সেটা আমরা দেখেছি। কিন্তু তার কী একটা কাগজে সমস্যা ছিল। তাই তাদের দেওয়া যায়নি।’ দুদকের অনুসন্ধানে বলা হয়, প্রতিবছর ঘুরেফিরে এই কয়েকটি প্রতিষ্ঠান দরপত্রে অংশ নেয়। কে কোন গ্রুপের পণ্য সরবরাহ করবে, তা নিজেদের মধ্যে আগে থেকে ঠিক করে নেয়। হাসপাতালের স্টোরকিপার মঈনুদ্দীন আহমদ ও হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. শাহজাহান প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষে দরপত্রের দাপ্তরিক জালিয়াতিগুলো করতেন বলে অভিযোগ। কাকে কাজ দিতে হবে, কাকে বের করে দিতে হবে, তা নিয়ে ফয়সল ইকবালের সঙ্গে মঈনুদ্দীনের এ-সংক্রান্ত একাধিক ফোনের কথোপকথনের রেকর্ড দুদক জব্দ করেছে। ২০১৭ থেকে ২০২০ সালেও ঘুরেফিরে এই প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যাদেশ পেয়েছিল। নন-এমএসআর (ডায়েট) খাতে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ১০ কোটি ১৯ লাখ ৯০ হাজার ৯২ টাকা, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ১১ কোটি ৪৮ লাখ ৮ হাজার ৯৭৯ টাকা, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১০ কোটি ২২ লাখ ৪৯ হাজার ৫৪৬ টাকা চমেক হাসপাতাল পরিশোধ করেছে। রোগীদের জন্য চা, কফি, দুধসহ বিভিন্ন পণ্য কেনা হলেও সবকিছু রোগীরা পায় না বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রসঙ্গত, আ জ ম নাছির উদ্দীন আগে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ছিলেন। এক বছরের বেশি সময় ধরে সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন স্থানীয় সাংসদ শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী। জানতে চাইলে মহিবুল হাসান প্রথম আলোকে বলেন, ‘চমেক হাসপাতালে বিভিন্ন সরবরাহ নিয়ে দুদক যে তদন্ত করছে, তা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর অবগত। দুদক তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে, এটা আমরা বিশ্বাস করি। যদি না নেয়, তাহলে ব্যবস্থাপনা কমিটি হিসেবে আমরা দায়বদ্ধ থাকব।’ নিজের দলের নেতার সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে মহিবুল হাসান বলেন, তিনিও শুনেছেন একজনের নাম এসেছে। যে-ই দুর্নীতিতে জড়িত থাক, অপরাধ করুক, তাদের বিরুদ্ধে দুদক ব্যবস্থা নেবে। দুদকের অনুসন্ধানে বলা হয়, স্থানীয় বাজারদর ও কমিটি প্রদত্ত বাজারদর, দরপত্রে কার্যাদেশপ্রাপ্ত মূল্যতালিকায় বিরাট ফারাক রয়েছে। এতে স্থানীয় বাজারের চলমান দরের চেয়ে অনেক বেশি মূল্যে নন-এমএসআর (ডায়েট) কিনতে সরকার বাধ্য হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় এ কমিটি প্রতিবছর সরকারের কোটি কোটি টাকা লোপাট করার কাজে একটি নির্দিষ্ট সিন্ডিকেটকে দরপত্র পাইয়ে দিতে সহায়তা করেছে। জানতে চাইলে স্থানীয় বাজারদর যাচাই কমিটির সাবেক সভাপতি চক্ষু বিভাগের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা সুব্রত দাশ বলেন, ‘যারা দরপত্রে অংশগ্রহণ করে, আমাদের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। আমরা বাজারে যা প্রকৃত মূল্য পাই, তা দিয়ে থাকি।’ মামলার সুপারিশ খাবার সরবরাহে দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রমাণসংবলিত দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধান প্রতিবেদনটি চট্টগ্রামের উপপরিচালক বরাবর জমা দেওয়া হয়েছে। তাতে মামলার প্রস্তাব করেছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। মামলায় ফয়সল ইকবাল চৌধুরী, হাসপাতালের কর্মকর্তা মঈনুদ্দীন ও শাহজাহান এবং হাসপাতালের উপপরিচালক আফতাবুল ইসলাম, সাবেক উপপরিচালক আখতারুল ইসলাম, বাজারদর কমিটির সভাপতি সুব্রত দাশসহ মোট ২১ জনকে আসামি করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান দুদক কর্মকর্তা শরীফ উদ্দিন। দুদক চট্টগ্রামের উপপরিচালক মো. মাহবুবুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, ‘মেডিকেলের খাবারসহ বিভিন্ন বিষয়ে অনুসন্ধান করা হয়েছে। এখনো চলছে। যতক্ষণ কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত পাব না, ততক্ষণ অনুসন্ধান চলছে বলব আমরা। অনুসন্ধানের বিশদ কিছু বলা যাবে না।’প্রথম আলো

এই বিভাগের আরও খবর

  মন্দিরে হামলা মামলা,আসামি প্রতিবন্ধী,বাদী বলছেন আ.লীগ সভাপতি জোর করে করিয়েছেন

  কুমিল্লার ঘটনায় সেই যুবক কক্সবাজারে গ্রেপ্তার,সামনে ইকবাল পেছনে কে

  দুর্ঘটনায় ১৯ সালে মারা গেছে ৪৩৫৮ আহত ৭২৪০ জন,গত নয় মাসে ক্ষতি ২৯ হাজার ৭৮০ কোটি টাকা

  সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও ভিন্ন ভাষা-ভাষী জাতিসত্তাসমূহের জানামাল রক্ষার্থে সরকার ব্যর্থ-ইউপিডিএফ

  সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার তদন্ত চায় জাতিসংঘ

  এবার রংপুরের জেলে পল্লীতে আগুন, ফেনী ও নোয়াখালীতে নিরাপত্তা জোরদার

  ১০০ কোটি টাকা খরচের পর বাতিল ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে

  ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প বাতিল

  সারাদেশে দুর্গাপূজায় তাণ্ডবের প্রতিবাদে কর্মসূচি ঘোষণা

  দেশে হিন্দু নির্যাতনের পরিস্থিতি পূর্বের সব নির্যাতনের ইতিহাসকে ছাড়িয়েছে

  সড়ক দুর্ঘটনায় ৯ মাসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৬১জন নিহত

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

আজকের প্রশ্ন

বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেছেন, পুলিশের ওপর নির্বাচন কমিশনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?