শনিবার, ৩১ জুলাই ,২০২১

Bangla Version
  
SHARE

বুধবার, ২৬ মে, ২০২১, ১১:২৮:২০

ইয়াসের আঘাতে লন্ডভন্ড ওড়িশা-পশ্চিমবঙ্গের উপকূল, দেশে ৬ জনের প্রাণহানি

ইয়াসের আঘাতে লন্ডভন্ড ওড়িশা-পশ্চিমবঙ্গের উপকূল, দেশে ৬ জনের প্রাণহানি

ঢাকা: অত্যন্ত প্রবল ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের আঘাতে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে ভারতের ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গের উপকূল। বুধবার সকালে ১৫৫ কিলোমিটার গতিতে ওড়িশার উপকূলে এটি আছড়ে পড়ে। ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের তাণ্ডবে ভারতে দু’জন এবং বাংলাদেশে ৬ জন মারা গেছেন। বাংলাদেশের উপকূলীয় ১৪ জেলার বাঁধ ভেঙে গ্রামের পর গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ক্ষতি হয়েছে ফসলের। ভারতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

বিশাল আকারের এই ঘূর্ণিঝড় সরাসরি আঘাত না করলেও এর প্রভাবে বাংলাদেশের উপকূলীয় জেলাগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের পাশাপাশি পূর্ণিমা ও পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ ছিল। ফলে ভরাকটালের সঙ্গে বায়ুতাড়িত জোয়ার জলোচ্ছ্বাস তৈরি করে। এই জলোচ্ছ্বাসের ধাক্কায় খুলনা থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত উপকূলীয় বিভিন্ন জেলার নিম্নাঞ্চল ভেসে যায়। এতে বেড়িবাঁধগুলো ভেঙে তছনছ হয়ে গেছে।  শত শত গ্রাম তলিয়ে যায়। ভেসে গেছে কয়েক হাজার ঘেরের মাছ। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে হাজার হাজার মানুষ। নষ্ট হয়েছে উঠতি ফসল। জোয়ারের পানিতে ডুবে ও বিভিন্ন স্থানে গাছ উপড়ে পড়ে ৬ জনের প্রাণহানি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে খুলনার কয়রা ও বাগেরহাটের মোংলা। মোট কত ফুট পানিতে তলিয়ে গেছে বিভিন্ন অঞ্চল সেই তথ্য এখন পর্যন্ত জানা যায়নি।

তবে প্রত্যক্ষদশীরা জানিয়েছেন, সুন্দরবনে গত বছরের ঘূর্ণিঝড় আম্পানের চেয়েও এক ফুট বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস ছিল। আর আবহাওয়া দফতর থেকে পূর্বাভাস ছিল ৩-৬ ফুট উঁচু জোয়ারে ভাসতে পারে উপকূলীয় ১৪ জেলার নিম্নাঞ্চল। বিভিন্ন স্থানে আম-লিচুসহ মৌসুমি ফল ঝরে পড়েছে। ঝড়ের তাণ্ডবে দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনের জেটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলের অন্তত ২৪টি নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে। রাতে এ রিপোর্ট লেখাকালে দেশের চারটি সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ঘূর্ণিঝড় ইয়াস বাংলাদেশে আঘাত করেনি। এটি ভারতের ওড়িশা উপকূল অতিক্রম করেছে। বাংলাদেশ এখন সম্পূর্ণরূপে এর প্রভাবমুক্ত। তবে পূর্ণিমার কারণে জোয়ারের পানি বেশি ছিল। এ কারণে অতি জোয়ার বা জলোচ্ছ্বাসে উপকূলীয় ৯ জেলার ২৭ উপজেলার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভোলার লালমোহনে গাছচাপায় একজন মারা গেছেন। উপকূলীয় ২৭ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে।

বুয়েটের পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. একেএম সাইফুল ইসলাম বলেন, দুর্ভাগ্য হচ্ছে সকাল সাড়ে ৮টার পরে ইয়াসের অগ্রভাগ উপকূল স্পর্শ করলেও ভূ-ভাগে উঠতে এটি আরও ৩-৪ ঘণ্টা লেগে যায়। সমস্যাটা হয়েছে সেখানেই। মূল আঘাতের সময়ে পূর্ণিমার ভরাকটালও ঘটে। আবার সন্ধ্যায় চন্দ্রগ্রহণের সময়ে সাগর থেকে রাতের ফিরতি জোয়ারের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। এসব কারণে দুর্ভোগ বেড়ে যায় উপকূলের বাসিন্দাদের। উপকূলে ৪০-৪৫ স্থানে বাঁধ নানানভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কালকে (বৃহস্পতিবার) ক্ষয়ক্ষতির চিত্র আরও বের হবে।

তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতি হতে পারে তা আগে থেকে জানার পরও যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। বালুর বস্তা থাকলেও ফেলা হয়নি বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। এছাড়া বাসিন্দাদের আশ্রয় কেন্দ্রে পাঠানো হয়নি। তবে এবারের এই অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে বিশেষ করে পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ, বাতাসের গতি, বাঁধের অবস্থা ইত্যাদি আমলে নিয়ে ভবিষ্যতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি কম হবে। আর জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঘন ঘন ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির বাস্তবতা আমলে নিয়ে উপকূলের বাঁধ অবশ্যই ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলার মতো উপযোগী করতে হবে।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর (বিএমডি) জানিয়েছে, দুপুর ১২টা নাগাদ ইয়াস ভারতের ডামরার (ধরমা) উত্তর এবং বালাসোরের দক্ষিণ দিক দিয়ে ভারতের উত্তর ওড়িশা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূল অতিক্রম শুরু করে। বিকাল ৩টা নাগাদ একই এলাকা অতিক্রম শেষ হয়। পরে আরও দুর্বল হয়ে ‘অতি প্রবল’ ঘূর্ণিঝড়টি ‘প্রবল’ ঘূর্ণিঝড় আকারে উত্তর ওড়িশা ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছিল। উপকূল অতিক্রমকালে অতিপ্রবল এই ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৮৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৩০ কিলোমিটার দমকা বা ঝড়ো হাওয়া আকারে ১৫৫ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছিল। আর প্রবল ঘূর্ণিঝড়টির ৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা গতিবেগ ছিল ৮৯ কিলোমিটার, যা ১১৭ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।

বিএমডির আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, ইয়াস অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় হিসাবে ভারতের উত্তর ওড়িশায় আঘাত হানে। সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড় আকারে অবস্থান করছিল একই এলাকায়। এটি পরবর্তীতে গভীর নিুচাপে পরিণত হওয়ার কথা। এরপর তা স্থল নিন্মচাপ, লঘুচাপের পর্যায় পেরিয়ে গুরুত্বহীন হয়ে যাবে। গোটা প্রক্রিয়ায় প্রচুর বৃষ্টি ঝরাবে।

এই আবহাওয়াবিজ্ঞানী বলেন, ঘূর্ণিঝড়ে বাতাসের প্রধান আক্রমণ থাকে অগ্রভাগ পৌঁছার আগে ও স্থলভাগে উঠে যাওয়ার পরে। ইয়াসের কারণে বাংলাদেশে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ রেকর্ড করা হয় মঙ্গলবার মোংলায় ৫৯ কিলোমিটার। বিশেষজ্ঞরা জানান, পূর্ণিমার প্রভাবে বুধবার সকাল বাংলাদেশ সময় পৌনে ১০টায় শুরু হয় জোয়ার। আর ১২টার পর এটি সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছায়। সাধারণত ভরাকটালে জোয়ার চলাকালীন ২-৪ ফুট উচ্চতায় পানি থাকে। ঘূর্ণিঝড়ের কারণে তা ৩-৬ ফুট উঁচু ছিল। অন্য দিকে বুধবার বিকাল ৫টা ৭ মিনিটে বাংলাদেশ থেকে পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ হওয়ার কথা, যা চলে রাত প্রায় ৮টা পর্যন্ত। ২০২১ সালে এটিই প্রথম ও শেষ ‘ব্লাড মুন’ ছিল।

ডা. এনামুর রহমান বলেন, অতি  জোয়ার বা জলোচ্ছ্বাসে সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জেলার ২৭টি উপজেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপজেলাগুলো হলো- শ্যামনগর, আশাশুনি, কয়রা, দাকোপ, পাইকগাছা, শরণখোলা, মোংলা, মোরেলগঞ্জ, মঠবাড়িয়া, বরগুনা সদর, পাথরঘাটা, আমতলী, পটুয়াখালী সদর, গলাচিপা, রাঙ্গাবালী, দশমিনা, মির্জাগঞ্জ, কলাপাড়া, চরফ্যাশন, মনপুরা, তজুমদ্দিন, দৌলতখান, বোরহানউদ্দিন,  ভোলা সদর, হাতিয়া, রামগতি ও কমলনগর।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, যেকোনো দুর্যোগ মোকাবিলায় মানবিক সহায়তা প্রদানের জন্য জেলা প্রশাসকদের অনকূলে পর্যাপ্ত খাদ্যসামগ্রী ও অর্থ বরাদ্দ দেওয়া আছে। এছাড়াও ‘ইয়াস’র প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ২৭ উপজেলায় মানবিক সহায়তা দিতে ১৬ হজার ৫০০ শুকনা ও অন্যান্য খাবারের প্যাকেট সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় হলেই বাঁধ ভেঙে যায়। এ বিষয়ে কি কোনো স্থায়ী সমাধান নেই- এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অনেকগুলো জায়গায় বাঁধ ভেঙে গেছে। সেগুলো পুনর্র্নির্মাণের কাজ চলছে। বাঁধগুলো অনেক পুরোনো। এ জন্য ডেল্টা প্ল্যানের আওতায় টেকসই বাঁধ করার পরিকল্পনা নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সেটার জন্য ৩৭ বিলিয়ন ডলার বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ২০৩১ সালের মধ্যে সব উপকূলীয় অঞ্চলে টেকসই দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার আওতায় আনার কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।

খুলনা : জলোচ্ছ্বাস এবং পূর্ণিমার জোয়ারে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় খুলনার কয়রা উপজেলার দুর্বল বেড়িবাঁধগুলো একের পর এক ভেঙে পড়ে। উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের দশহালীয়া, পূর্ব মটবাড়িয়া, পবনা ও দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের আংটিহারা এলাকার বেড়িবাঁধ ভেঙে ইউনিয়নের ৩০ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পুঁটিমারি, জোড়শিং, ৫নং কয়রা, পবনা ও মঠবাড়ির বেড়িবাঁধ উপচে পানি ঢুকেছে লোকালয়ে।

কয়রা সদর ইউপি চেয়ারম্যান মো. হুমায়ুন কবির জানান, বুধবার দুপুরে দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের আংটিহারা গ্রামের শ্রীপদ মন্ডলের বাড়ির সামনে ও মহারাজপুর ইউনিয়নের শাকবাড়িয়া নদীর জোয়ারের পানির তোড়ে পবনা বেড়িবাঁধ ভেঙে এবং বাঁধ উপচে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করে। স্থানীয় জনগণ স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে বাঁধের ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা চালাচ্ছে।

বাগেরহাট, মোংলা, মোরেলগঞ্জ, চিতলমারী : মোংলাসহ সুন্দরবন উপকুলের নদনদীর পানি প্রায় ৪ ফুট বৃদ্ধি পেয়েছে। বুধবার দুপুরে পশুর নদীর জোয়ারের পানিতে মোংলার কানাইনগর, চিলা, কেয়াবুনিয়া, সুন্দরতলা কাইনমারীসহ অন্তত ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়। এছাড়া সুন্দরবনসহ আশপাশের নিুাঞ্চল ডুবে গেছে। এদিন সকাল থেকে বৃষ্টি ও থেমে থেমে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যায়। নিম্নাঞ্চলের পাশাপাশি পৌর শহরের অধিকাংশ এলাকায় জোয়ারের ও বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার সহস্রাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। প্লাবিত হয়েছে সুন্দরবনও। হারবাড়িয়া, করমজলসহ বনের অভ্যন্তরের পর্যটন স্পটগুলো ডুবে গেছে।

পূর্ব সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাওলাদার আবুল কালাম আজাদ জানান, বুধবার দুপুরে পশুর নদীর জোয়ার পানি ফুঁসে ওঠে স্বাভাবিকের চেয়ে ৪ ফুট পানি বৃদ্ধি পায়। এতে প্রজনন কেন্দ্রে পল্টন ঘাট, কুমির, কচ্ছপ ও হরিণ লালনপালন প্রজনন কেন্দ্র প্লাবিত হয়। তবে বন্যপ্রাণীরা নিরাপদে রয়েছে। সুন্দরবনে জীববৈচিত্র্যের ক্ষয়ক্ষতির বিষয় নিশ্চিত করতে পারেনি বন বিভাগ। বন্দরের সব পণ্যবাহী জাহাজ ও জেটির কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। বন্ধ রাখা হয় ছোট-বড় জাহাজ ও নৌযান চলাচল।

মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কমলেশ মজুমদার জানান, পশুর নদীর তীরবর্তী বেশ কয়েকটি গ্রাম বুধবার দুপুরে জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়। বিকাল নাগাদ পানি নেমে যায়। পানির কারণে রান্না করতে পারেনি এমন ৬৫০টি পরিবারের মাঝে সকাল ও দুপুরে শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। রাতে এসব পরিবারের মাঝে ও রান্না খিচুড়ি বিতরণ করা হবে।

মোরেলগঞ্জ পৌর সদরসহ উপজেলার নিুাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। শহর রক্ষাবাঁধ উপচে এবং উপজেলার বহরবুনিয়াসহ বিভিন্ন এলাকার কাঁচা-পাকা রাস্তা ও বেড়িবাঁধ ভেঙে তলিয়ে গেছে ফসলি জমি, মৎস্যঘের ও নিম্নাঞ্চল। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে হাজার হাজার পরিবার।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নদীর তীরবর্তী মোরেলগঞ্জ পৌর সদর, বারইখালী, খাউলিয়া, বহরবুনিয়া, পুঁটিখালী, বলইবুনিয়া ইউনিয়ন। এসব এলাকার অধিকাংশ রাস্তা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ডুবে গেছে শত শত মৎস্যঘের। তলিয়ে গেছে ফসলি জমি।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিনয় কুমার রায় জানান, উপজেলার প্রায় ৩৫০ ঘের সম্পূর্ণ ডুবে গেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে নদীর তীরবর্তী বহরবুনিয়া ইউনিয়নের। তবে স্থানীয় কয়েকজন জানান, কয়েক হাজার ঘের ডুবে গেছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সিফাত আল মারুফ জানান, লবণাক্ত জোয়ারের পানি দীর্ঘস্থায়ী হলে ফসলি জমির ক্ষতি হতে পারে। চিতলমারীতে চিত্রা নদীর পাশ দিয়ে নির্মিত রিং বেড়িবাঁধ ভেঙে খড়িয়া, আড়ুলিয়া, ডুমুরিয়া, রায়াগ্রামসহ নিচু এলাকার শতাধিক ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে। বেশকিছু চিংড়িঘের তলিয়ে গেছে।

সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরার সুন্দরবন সংলগ্ন শ্যামনগর ও আশাশুনি উপজেলার শতাধিক গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব গ্রামের অসংখ্য কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। পানিতে ভেসে গেছে কয়েকশ চিংড়িঘের। পানির তোড়ে শ্যামনগর উপজেলায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

বুধবার সকালে শ্যামনগর উপজেলার পদ্মপুকুর ইউনিয়নের ঝাপা গ্রামে বেড়িবাঁধের চারটি পয়েন্ট, পাতাখালির দুটি পয়েন্ট, রমজাননগরের দুটি পয়েন্ট, গাবুরার তিনটি পয়েন্ট, কৈখালির দুটি পয়েন্ট, বুড়িগোয়ালিনীর তিনটি পয়েন্ট ও নূরনগর ইউনিয়নের একটি পয়েন্টসহ অন্তত ১৬টি স্থানে বেড়িবাঁধ ভেঙে ও উপচে পানি গ্রামে ঢুকে পড়ে। কালীগঞ্জের পূর্ব নারায়ণপুর গ্রামে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধ ভেঙে উপজেলা হাসপাতালসহ বেশ কয়েকটি গ্রাম তলিয়ে গেছে। আশাশুনির দয়ারঘাট ও প্রতাপনগরের কুড়ি কাহনিয়া লঞ্চঘাট এলাকা ভেঙে নোনা পানিতে আটকে পড়েছে গ্রামবাসী। গাবুরার জেলেখালি, নেবুবুনিয়াম চাঁদনীমুখাসহ বিভিন্ন এলাকা এখন পানিতে ভাসছে। গ্রামবাসী ও জনপ্রতিনিধিরা বালির বস্তা এবং মাটি ফেলে বাঁধ সংস্কারের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।

শ্যামনগর উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউল হক দোলন বলেন, ৩০ ভাগ চিংড়িঘের পানির তলে তলিয়ে গেছে। এতে বিপুল টাকার মাছের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু জার গিফারী জানান, এখন পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণ করা যায়নি। তবে ক্ষতির অঙ্ক হবে অনেক বড়।

ঝালকাঠি, কাঁঠালিয়া, রাজাপুর : ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ায় বিষখালী নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে ৮/১০ ফুট বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীর বাঁধ ভেঙে এবং পানি উপচে পড়ে উপজেলা পরিষদের অফিসপাড়া, আবাসিক এলাকা, হাসপাতাল ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ ২০টির অধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি আছে কয়েক হাজার পরিবার। উপজেলা পরিষদ চত্বর ও সদরের বিভিন্ন রাস্তাঘাট ৩-৪ ফুট পানির নিচে নিমজ্জিত। উপজেলা হিসাবরক্ষণ কার্যালয়, প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, বিআরডিবি, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস, ভূমি অফিস, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক ও মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কক্ষে পানি ঢুকে গুরুত্বপূর্ণ ফাইল ও নথিপত্র নষ্ট হয়ে গেছে। এদিকে উপজেলার শত শত পুকুর ও ঘেরের মাছ পানিতে ভেসে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পানের বরজ, কলাবাগানসহ রবি শস্যখেত। পানিবন্দি অনেক পরিবার অনাহার-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে।

রাজাপুরের বিষখালী নদীতে বেড়িবাঁধ না থাকায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ডুবে গেছে ফসলি জমি, রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পুকুরের মাছ। উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মোজ্জামেল হক জানান, দুই শতাধিক পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। এতে অন্তত ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

পটুয়াখালী, রাঙ্গাবালী, দুমকি, গলাচিপা, মির্জাগঞ্জ, কুয়াকাটা, দশমিনা : রাঙ্গাবালী উপজেলার ১৫টি গ্রামসহ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। তলিয়েছে বসত ঘরবাড়ি, প্রতিষ্ঠান। ভেসে গেছে পুকুর ও মাছের ঘের। বুধবার সকাল ৮টা থেকে ১২টা পর্যন্ত একটানা জোয়ারের পানিতে এই ক্ষতি হয়। দুইদিনের জোয়ারে যেসব বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অনেক আগ থেকে যেসব বাঁধ ভাঙা, তা দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন এলাকার মানুষ। তারা বলছেন, ‘ত্রাণ চাই না, বাঁধ (বেড়িবাঁধ) চাই।’

পায়রা ও লোহালিয়া নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জোয়ারের পানি ঢুকে দুমকি উপজেলার পাংগাশিয়া, মুরাদিয়ার সন্তোষদি ও দক্ষিণ মুরাদিয়ার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। তলিয়ে গেছে লেবুখালী ফেরিঘাটের গ্যাংওয়ে। পানির চাপে মুরাদিয়া নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতুর অবকাঠামো ভেঙে পড়েছে।

গলাচিপায় বেড়িবাঁধ ভেঙে ১৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ভেসে গেছে ৫ শতাধিক পুকুরের মাছ। চরকাজল, চরবিশ্বাস, কলাগাছিয়া, চিকনিকান্দি, পানপট্টি, গলাচিপা ইউনিয়নের ২ হাজার মিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

মির্জাগঞ্জ উপজেলায় পায়রা নদীপারের নবনির্মিত বেড়িবাঁধ ভেঙে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করেছে। এতে উপজেলার দেউলী সুবিদখালী ইউনিয়নের চরখালী, মেন্দিয়াবাদ ও রানীপুর গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তলিয়ে গেছে প্রায় ১০০ একর জমির রোপা আউশ ধান।

কুয়াকাটার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এ কারণে অসংখ্য মাছের ঘের ও পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। বাঁধ ভেঙে মঙ্গলবার সকাল থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত তিন দফা জোয়ারের পানি প্রবেশ করে। এসব এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

দশমিনা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বাঁধ ভাঙায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি পরিবারগুলো এখন চরম ঝুঁকিতে রয়েছেন। তীব্র নদীভাঙনে বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়িসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। তলিয়ে গেছে শত শত মাছের ঘের।

পিরোজপুর, ভাণ্ডারিয়া, ইন্দুরকানী, কাউখালী : পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় কঁচা ও পোনা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে হাজারও মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। উপজেলা সদরের লঞ্চঘাট সংলগ্ন সড়ক, হাইস্কুল সড়ক, ভাণ্ডারিয়া বাজারের বিভিন্ন সড়কসহ তেলিখালী, জুনিয়া, সিংহখালী, ইকড়ি, হেতালিয়া, চরখালী নদমূলা, ভিটাবাড়িয়া এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে আছেন। রান্নাঘরে পানি প্রবেশ করায় বুধবার বহু পরিবারের রান্নাবান্না হয়নি। তারা শুকনো খাবার খেয়ে কোনোমতে দিন পার করেন। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বেশ কয়েকটি মাছের ঘের তলিয়ে গেছে।

ইন্দুরকানীতে বেড়িবাঁধ না থাকায় বাজারসহ নদীর তীরবর্তী এলাকার গ্রামগুলোর অধিকাংশ প্লাবিত হয়েছে। এতে কাঁচা ঘরবাড়ি, রবিশস্য, ধানের বীজতলার চরম ক্ষতি হয়েছে। মৎস্য খামারগুলো তলিয়ে মাছ বের হয়ে গেছে।

কাউখালীতে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৪/৫ ফুট পানি বেড়ে যাওয়ায় ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে। সন্ধ্যা ও কঁচা নদী রক্ষার বেড়িবাঁধ ভেঙে মাছের ঘের ও ফসলি জমি তলিয়ে গেছে।

বরিশাল : জোয়ারের পানিতে নগরীর নিুাঞ্চলসহ কয়েকটি ব্যস্ততম সড়ক প্লাবিত হয়েছে। বুধবার দুপুরের পরপরই জোয়ারের সঙ্গে সঙ্গে কীর্তনখোলা নদীর পানি স্বাভাবিকের তুলনায় কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়ে নগরীতে প্রবেশ করে। এতে চরম ভোগান্তি পড়ে কয়েক হাজার পরিবার। নগরীর পলাশপুর, রসুলপুর, বেলতলা, বৌবাজার, মোহাম্মাদপুরসহ বেশ কয়েকটি এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

ইয়াসের প্রভাব পড়েছে সবচেয়ে বেশি মেঘনাঘেরা মেহেন্দীগঞ্জ ও হিজলায়। সেখানকার বেড়িবাঁধ ভেঙে পানি এলাকায় ঢুকে পড়ছে। ডুবে গেছে অসংখ্য মাছের ঘের, ফসল। রাস্তাঘাটের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

উজিরপুর উপজেলায় জোয়ারের পানিতে ৪-৫টি ইউনিয়নের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পৌরসভার তিনটি ওয়ার্ডে জোয়ারের পানি উঠে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে অসংখ্য মানুষ।

বাকেরগঞ্জ উপজেলার বেশির ভাগ নিম্নাঞ্চল জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে। ওইসব এলকার লোকজন উঁচু স্থানে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছেন। বাকেরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকতা আবু সাঈদ জানান, নিম্নাঞ্চল জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গিয়ে মৌসুমি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বানারীপাড়া পৌর শহরসহ উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে অসংখ্য পুকুর ও ঘেরের মাছ ভেসে গেছে। মুলাদী উপজেলার নিুাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ভেসে গেছে কাজীরচর ইউনিয়নের ফাইভ স্টার মৎস্য খামারসহ ৬টি মাছের খামার। আগৈলঝাড়া উপজেলার নিম্ন এলাকা তলিয়ে গেছে। দমকা বাতাসে উপজেলার কিছু এলাকায় কাঁচা ঘরবাড়ি ধসে পড়েছে।

ভোলা : ভোলার দৌলতখানে কয়েকটি চরসহ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে পাঁচটি ইউনিয়নের চরাঞ্চল ও বেড়িবাঁধের বাইরে থাকা অন্তত ২৫ গ্রাম তলিয়ে গেছে। ভেসে গেছে পুকুর ও ঘেরের মাছ। অনেকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধে আশ্রয় নিয়েছেন। মনপুরায় পানিবন্দি ৫ শতাধিক পরিবারকে নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়া হয়েছে।

বরগুনা : সাগর ও নদীতে জোয়ারে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তলিয়ে গেছে বরগুনার শত শত গ্রাম, বাড়িঘর, নিুাঞ্চলের আবাসন প্রকল্প, ফসলি জমি, পুকুর ও মাছের ঘের। প্লাবিত হয়েছে বাড়িঘর। দুটি ফেরির (আমতলী-পুরাকাটা ও বাইনচটকী-বড়ইতলা) পন্টুন তলিয়ে যাওয়ায় জেলা শহরের সঙ্গে অন্য এলাকার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপকূলীয় নদনদীতে জোয়ার শুরু হয়, যা চলে একটানা রাত ১১টা পর্যন্ত।  বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে আমতলীর নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে। পানিবন্দি হয়ে পরেছে ৫০ হাজার মানুষ। এতে বিপাকে পড়েছেন নিু আয়ের মানুষ। তাদের মাঝে বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা গিয়েছে।

বেতাগী পৌরশহরসহ এই উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। উপজেলার ঝোপখালী, মোকামিয়া, বদনীখালী, হোসনাবাদ, কালীকাবাড়ি গ্রামের বিষখালী নদীর তীরবর্তী ৬টি স্থানে বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে।

মুন্সীগঞ্জ ও শিবচর (মাদারীপুর) : পদ্মার প্রবল ঢেউয়ে ভেঙে গেছে শিমুলিয়া ২নং ফেরিঘাটের পল্টুন। বুধবার বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নদী উত্তাল থাকায় শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌরুটে লঞ্চ-ফেরিসহ সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে বিআইডব্লিউটিসি ও বিআইডব্লিউটিএ। এতে ঘাটে আটকা পড়ে ছোট-বড় মিলিয়ে ৫ শতাধিক যানবাহন।

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) : দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে পদ্মা-যমুনা নদী উত্তাল থাকায় এ রুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে সীমিত আকারে ফেরি চলাচল করছে।
চট্টগ্রাম : ইয়াসের প্রভাবে বুধবার ভোর থেকে চট্টগ্রামে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হয়। পাশাপাশি নগরী ও জেলার উপকূলীয় এলাকায় সাগরে পানির উচ্চতা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। ঢেউ আছড়ে পড়ে উপকূলের বেড়িবাঁধে। কোথাও কোথাও বেড়িবাঁধ ভেঙে পানি প্রবেশ করে উপকূলবর্তী এলাকায়। তলিয়ে যায় নিুাঞ্চল। দুপুরে জোয়ারের সময় হাঁটুপানি জমে চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন কনটেইনার ইয়ার্ডে।

সমুদ্রের প্রবল ঢেউয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নগরীর পতেঙ্গা বেড়িবাঁধ। ভেঙে পড়া বেড়িবাঁধ দিয়ে পানি ঢুকে পড়ে লোকালয়ে। অনেকের বাসা ও দোকানে পানি প্রবেশ করেছে। লোকজন তাদের শেষ সম্বলটুকু নিয়ে নিরাপদ স্থানের দিকে ছুটেন। নগরীর আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকা, বেপারিপাড়া, মহুরিপাড়া, চান্দগাঁও মোহরা ও বাকলিয়ার নিুাঞ্চলে পানি উঠেছে।বুধবার দুপুরে বন্দরের ইয়ার্ডগুলোয় হাঁটুপানি জমে। বন্দরের সিসিটি রেফার ইউনিট, এনসিটি, আইসিডি ইউনিট, ওভার ফ্লো ইয়ার্ডসহ ৪ নম্বর গেটের সড়কে পানি উঠে। তবে এতে তেমন কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

চট্টগ্রাম বন্দর সচিব ওমর ফারুক জানান, মহেশখাল থেকে জোয়ারের পানি ইয়ার্ডে প্রবেশ করে। তবে এতে কনটেইনারভর্তি পণ্য নষ্ট হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই। ভাটায় পানি নেমে গেছে।

কক্সবাজার : পানির উচ্চতা অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় কক্সবাজার জেলার নিুাঞ্চল প্লাবিত হয়। উপচে পড়ে গাছপালা। প্লাবিত হয়েছে কয়েক হাজার ঘরবাড়ি। ব্রিজ, কালভার্ট ও রাস্তাঘাট ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে জেলার বিভিন্ন এলাকা। কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়া, পেকুয়, চকরিয়, মহেশখালী, টেকনাফ ও সেন্টমার্টিন দ্বীপের শতাধিক গ্রামে ঢুকে পড়ে। উপকূলে বেড়িবাঁধ ভেঙে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। বেড়িবাঁধ উপচে কক্সবাজার শহরের কয়েকটি এলাকায় পানি প্রবেশ করেছে। এতে সহস্রাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। জলোচ্ছ্বাসে সেন্টমার্টিন জেটি ও শাহপরীর দ্বীপ এলাকায় বসতবাড়ির ক্ষতি হয়েছে।  

হাতিয়া ও রামগতি : নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ হাতিয়ার উপজেলার উপকূলের গ্রামগুলো জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। বুধবার বিকাল ৩টা নাগাদ নলচিরা, তমরদ্দি, নিঝুমদ্বীপ, সোনাদিয়া, সুখচর, চরকিং, চরঈশ্বর ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রাম পানিতে ডুবে যায়। রাস্তার উপর দিয়ে জোয়ারের পানি প্রবেশ করে বাড়িঘর, পুকুর, মৎস্য খামার, কৃষিজমিতে। অস্বাভাবিক জোয়ারে রামগতি ও কমলনগরের চরাঞ্চালসহ বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়।

 

আজকের প্রশ্ন

বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেছেন, পুলিশের ওপর নির্বাচন কমিশনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?