সোমবার, ০৬ ডিসেম্বর ,২০২১

Bangla Version
  
SHARE

বুধবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২১, ১১:১৯:০৭

১২ কোটি টাকার খাগড়াছড়ি মিনি মৎস্য হ্যাচারি মুখ থুবড়ে পড়ছে

১২ কোটি টাকার খাগড়াছড়ি মিনি মৎস্য হ্যাচারি মুখ থুবড়ে পড়ছে

খাগড়াছড়ি:- খাগড়াছড়িতে মিনি মৎস্য হ্যাচারি স্থাপনের তিন বছরেও জনবল নিয়োগের প্রশাসনিক আদেশ জারি হয়নি। এতে হ্যাচারিতে মুখ থুবড়ে পড়ছে রেণু ও পোনা উৎপাদন। অস্থায়ী শ্রমিক দিয়ে মিনি হ্যাচারিতে রেণু উৎপাদন চললেও ভবিষ্যতে ব্যাহত হতে পারে কার্যক্রম। জেলা মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, পার্বত্য চট্টগ্রামে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি, প্রাণিজ আমিষের পুষ্টি জোগান, পাহাড়ি জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে খাগড়াছড়ি সদরে মিনি মৎস্য হ্যাচারি স্থাপন করা হয়। পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে মৎস্যচাষ উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় ২০১২ সালে হ্যাচারি স্থাপনের কাজ শুরু হয়। ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১৮ সালে জুন মাসে নির্মাণকাজ শেষ হয়। এদিকে পদ অনুযায়ী হ্যাচারি ব্যবস্থাপক, টেকনিশিয়ান, অফিস সহায়ক ও হ্যাচারি পাহারায় নাইট গার্ডসহ ৮ জন লোকবল নিয়োগের কথা। এর পর তিন বছর পার হলেও জনবল নিয়োগ দেয়নি মৎস্য অধিদপ্তর। বর্তমানে উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা হ্যাচারি ‘খামার ব্যবস্থাপক’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অস্থায়ী ভিত্তিতে শ্রমিক নিয়োগ দিয়ে হ্যাচারির রেণু ও পোনা উৎপাদন করছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে স্থায়ী জনবল নিয়োগ না হওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে উৎপাদন কাজ। জেলার মৎস্য চাষি রবীন্দ্র কার্বারি বলেন, ‘এক সময় আমাদের চট্টগ্রাম থেকে মাছের পোনা ও রেণু সংগ্রহ করতে হতো। বর্তমানে মিনি হ্যাচারি থেকে পোনা সংগ্রহ করতে পারছি। এখানে উৎপাদিত পোনার গুণগত মান ভালো। তবে তাদের জনবল কম থাকায় উৎপাদন কম হয়। অনেকে জেলার বাইরে থেকে পোনা আনছে। এখানে উৎপাদন বাড়ালে জেলার মৎস্য চাষিদের চাহিদা মেটানো যাবে।’ হ্যাচারিতে অস্থায়ী ভিত্তিতে কাজ করছেন ৬ শ্রমিক। মা মাছ ধরা, রেণু ও পোনা উৎপাদন করেন তাঁরা। চাকরি স্থায়ী করার দাবি জানিয়েছে তাঁরা। শ্রমিকেরা জানান, অস্থায়ী ভিত্তিতে কাজে মাসে ৫ হাজার টাকা বেতন পান তাঁরা। এখানে তাঁদের জাল টানা, রেণু উৎপাদন, ডিম সংগ্রহ, এমনকি রাতের বেলায় পাহারা দেওয়ার কাজও করতে হয়। তাঁদের চাকরি সরকারিকরণ দরকার। তা ছাড়া হ্যাচারি স্থাপনের পর জনবল নিয়োগের কথা থাকলে ৩ বছর পরও কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বিষয়টি মৎস্য অধিদপ্তরকেও অবহিত করা হয়েছে। খাগড়াছড়ির মিনি মৎস্য হ্যাচারির খামার ব্যবস্থাপক শরৎ কুমার ত্রিপুরা বলেন, ‘জনবল সংকটে চলেছে মিনি হ্যাচারিটি। এখানে কোনো স্থায়ী জনবল নেই। হ্যাচারি ব্যবস্থাপক, টেকনিশিয়ানসহ অন্তত ৮ জন জনবল নিয়োগের কথা। অথচ এই বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। দুজন অস্থায়ী ভিত্তিতে কাজ করে। এখানে পুকুর আছে। এসব পুকুর পাহারা দেওয়া, মাছ ধরা, রেণু সংগ্রহ, বিপণন করার জন্য কোনো জনবল নেই। জনবল সংকট থাকায় আমাকেও পুকুরে নেমে প্রজননের জন্য মা মাছ ধরতে হয়।’ শরৎ কুমার ত্রিপুরা জানান, ২০২১ সালে খাগড়াছড়ি মিনি মৎস্য হ্যাচারি থেকে ৯৬ লাখ মাছের রেণু ও ১ লাখ মাছের পোনা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এভাবে চললে হ্যাচারির উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। বিষয়টি জেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে অবহিত করা হলেও এ পর্যন্ত কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। খাগড়াছড়ি জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. মঈন উদ্দিন আহমেদ বলে ‘পার্বত্য জেলায় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে হ্যাচারি স্থাপন করা হয়। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বর্তমানে হ্যাচারি ব্যবস্থাপনা করছে। হ্যাচারি পরিচালনার জন্য জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’ ইপেপারে দেখুন

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

আজকের প্রশ্ন

বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেছেন, পুলিশের ওপর নির্বাচন কমিশনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?