বুধবার, ২৭ অক্টোবর ,২০২১

Bangla Version
  
SHARE

সোমবার, ২৩ আগস্ট, ২০২১, ০৩:৪০:১৫

গুমাই বিলে ‘সবুজ গালিচা’দেশের আড়াই দিনের খাদ্য উৎপাদন হয় এই বিলে

গুমাই বিলে ‘সবুজ গালিচা’দেশের আড়াই দিনের খাদ্য উৎপাদন হয় এই বিলে

ডেস্ক রির্পোট:- চট্টগ্রামের শস্যভান্ডার খ্যাত রাঙ্গুনিয়ার গুমাই বিল। এ বিলের সোয়া তিন হাজার হেক্টর জমিতে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার প্রায় ১৫ হাজার কৃষক চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। চলতি আমন মৌসুমে গুমাই বিল জুড়ে এখন সবুজ আর সবুজ। যেদিকে চোখ যায় সেদিকেই চোখ জুড়ানো সবুজের সমারোহ। এই বিলের কৃষকের বুকে এখন ফসলের বাম্পার ফলনের স্বপ্ন। এই বিলে লাগানো ধান ক’দিনেই পরিপুষ্ট হয়ে সবুজ আকার ধারণ করেছে। কাপ্তাই সড়ক ধরে রাঙ্গুনিয়ার মরিয়মনগর চৌমুহনী এলাকা পেরুলেই চোখে পড়বে সবুজ গুমাই বিলের দৃশ্য। ফসলের মাঠ যেন সবুজ গালিচায় ঢেকে দেওয়া হয়েছে। অপূর্ব এই দৃশ্যে যে কারোর চোখ আটকে যাবে। জানা যায়, দেশের আড়াই দিনের খাদ্য উৎপাদন হয় এই বিলে। চলন বিলের পর দ্বিতীয় বৃহত্তম চট্টগ্রামের এই শস্যভান্ডারে গত মৌসুমে খাদ্য শস্য উৎপাদিত হয়েছে প্রায় ১৫ হাজার মেট্রিক টন, যা লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। এভাবে খাদ্য উৎপাদন করে প্রতি বছর জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে এই বিল। রাঙ্গুনিয়ার কৃতী পুরুষ আব্দুল বারী তালুকদার ১৯৪৫ সালে গুমাই বিল সংস্কার করে প্রথমবারের মতো আধুনিক চাষাবাদ শুরু করেন। গুমাই ঝিল থেকে বিলে পরিণত করার কৃতিত্বের অধিকারী তিনি। ১৯৮০-৮১ সাল থেকে বিলের জমি শুষ্ক মৌসুমে সেচের আওতায় আনা হয়। উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা লোকন বিশ্বাস বলেন, উপজেলার চন্দ্রঘোনা-কদমতলি, মরিয়মনগর, হোসনাবাদ, স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়া ইউনিয়ন ও পৌরসভার ৭, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে গুমাই বিল। প্রতি বছরের মতো এ বছরও গুমাই বিলে ৩ হাজার ২৯০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমিতে উচ্চ ফলনশীল (উফশী) ব্রি ৯৫, বীণা ১৭, স্বর্ণা ৫, ব্রি ৭১, ব্রি ৭৫, ব্রি ৪৯, ব্রি ৫০, ব্রি ৫২, ব্রি ৭২, ব্রি ৮১ জাতের আমন বীজ রোপণ করা হয়েছে। ১শ হেক্টর জমিতে স্থানীয় কালিজিরা ও বিন্নি ধান ও বাকি ৯০ হেক্টর জমিতে চাষ করা হচ্ছে হাইব্রিড জাতের আমন ধান। তিনি বলেন, সরকার হাউব্রিড জাতের ধান উৎপাদনে কৃষকদের উৎসাহিত করছে। এ বছর উপজেলার ৫০ কৃষককে ২ কেজি করে হাইব্রিড জাতের ধানের বীজ ও ৩০ কেজি করে ডিএপি ও এমএপি সার প্রণোদনা দিয়েছে। এছাড়া ৩৮০ জনকে দিয়েছে ৫ কেজি করে উচ্চ ফলনশীল (উফশী) ধানের বীজ ও ২০ কেজি করে সার। এর বাইরেও আরো অর্ধশতাধিক কৃষক জেলা অফিস থেকে নিজ উদ্যোগে এ প্রণোদনা গ্রহণ করেছেন। তিনি বলেন, চলতি মৌসুমে গুমাই বিল থেকে প্রতি হেক্টরে সাড়ে ৫ টন হিসেবে ১৮ হাজার ৯৫ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কারিমা আক্তার বলেন, কৃষি অফিসের মাঠ পর্যায়ে তদারকি, সময়মত কীটনাশক প্রয়োগ ও কীট দমনে প্রাকৃতিক পদ্ধতির ব্যবহার, কৃষকদের অক্লান্ত পরিশ্রম, সর্বোপরি আবহাওয়া ভালো থাকলে এবার আমন ফলন প্রত্যাশার চেয়েও ভালো হবে। কৃষকদের প্রতিনিয়ত পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। উপজেলা চেয়ারম্যান স্বজন কুমার তালুকদার বলেন, গুমাই বিলের উৎপাদিত ফসল জাতীয় অর্থনীতিতে ব্যাপক ভূমিকা রেখে চলেছে। কৃষকদের যাতে কোনো সমস্যায় পড়তে না হয় সেজন্য তাদের প্রয়োজনীয় সহয়তা দেওয়া হচ্ছে।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

আজকের প্রশ্ন

বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেছেন, পুলিশের ওপর নির্বাচন কমিশনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?