বুধবার, ২৭ অক্টোবর ,২০২১

Bangla Version
  
SHARE

শুক্রবার, ১৩ আগস্ট, ২০২১, ০২:৪৪:২০

চন্দনাইশের পেয়ারা বদলে দিয়েছে হাজারও চাষির ভাগ্য

চন্দনাইশের পেয়ারা বদলে দিয়েছে হাজারও চাষির ভাগ্য

ডেস্ক রির্পোট:- লাল কাপড়ে বাঁধা পেয়ারার সারি সারি ভার নিয়ে বাগান থেকে বাজারের পথে চাষিরা। কোথা থেকে আসছে এই ফল, জিজ্ঞেস করলেই মিলছে উত্তর-চন্দনাইশের বাগান থেকে। পেয়ারা চাষ করে বদলে গেছে এখানকার হাজারও চাষির ভাগ্য। উপজেলার কাঞ্চননগর থেকে দোহাজারী এলাকার কাঞ্চননগর, হাসিমপুর ও জামিজুরী ইউনিয়নের প্রায় ৬০ থেকে ৭০ ভাগ মানুষ পেয়ারা বাগানের মালিক। পেয়ারাই তাদের আয়ের প্রধান উৎস। স্থানীয়ভাবে পেয়ারাকে কেউ ‘গয়াম’, কেউবা ‘গোয়াছি’ বলেন। বাংলাদেশের আপেল হিসেবে খ্যাত ভিটামিন সি সমৃদ্ধ সুস্বাদু পেয়ারার একটি উন্নত জাত কাজি পেয়ারা। খেতে মিষ্টি ও দেখতে সুন্দর বলে এই পেয়ারার চাহিদাও বেশি, যা চন্দনাইশের পাহাড়ি উর্বর জমিতে প্রচুর উৎপন্ন হচ্ছে। কাঞ্চননগরের পেয়ারা চাষি শামশুল আলম জানান, চন্দনাইশে পাহাড়ের কোল ঘেঁষে প্রায় পাঁচ হাজারের অধিক পেয়ারা বাগান রয়েছে। পাহাড়ের অধিকাংশ জমি অনাবাদী ছিল, কিছু জমিতে হতো জুমচাষ। গত ১৫ বছর ধরে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে চন্দনাইশের পেয়ারা চাষ। ফলন ও চারা রোপণের পর তেমন খরচ না থাকা এবং লাভজনক হওয়ায় অনেকেই এখন এ চাষের দিকে ঝুঁকে পড়েছে। মূলত বন বিভাগের মালিকানাধীন পাহাড়ি জমি এক বছরের জন্য লিজ নিয়ে পেয়ারা চাষ করা হচ্ছে। চাষিরা জানান, যে বাগান মালিক পাহাড় একবার লিজ পেয়েছে সে প্রতিবছর ওই পাহাড়ের লিজ নবায়ন করে পেয়ারার চাষ করে আসছে। বার্ষিক খাজনা, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা, রক্ষণাবেক্ষণ করার সব দায়িত্ব চাষিদের হাতেই। তাই তারা পেয়ারার অধিক ফলনে সচেষ্ট থাকে এবং প্রতিবছর চাহিদামতো ফলনও পাচ্ছে। জানা গেছে, চৈত্র-বৈশাখ মাসে গাছে ফুল আসে। জ্যৈষ্ঠ, আষাঢ়, শ্রাবণ ও ভাদ্র মাস পর্যন্ত বাগান থেকে পেয়ারা সংগ্রহ করা হয়। চন্দনাইশের কাঞ্চন পেয়ারা সর্বোচ্চ ওজনে ১ কেজি ও সর্বনিম্ন ২৫ গ্রাম পর্যন্ত হয়ে থাকে। প্রাকৃতিকভাবেই এই পেয়ারা দেখতে খুব সুন্দর। একেকটি গাছ থেকে ৫০০ থেকে ৭০০ পেয়ারা পাওয়া যায়। এক ভার পেয়ারা বিক্রি করা হয় দেড় হাজার থেকে দুই হাজার টাকায়। স্থানীয় বাগান মালিক মো. আকবর বলেন, পেয়ারা চাষ করে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার পাশাপাশি এখানে কর্মসংস্থান হয়েছে হাজারও মানুষের। তবে দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল থেকে প্রতিদিন পেয়ারা সংগ্রহ করে বাজারজাতকরণে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। পেয়ারা সংরক্ষণের জন্য এ অঞ্চলে কোনো হিমাগার নেই। হিমাগার থাকলে লাখ লাখ টাকার পেয়ারা নষ্ট হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পেতো। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়া থেকে চন্দনাইশের সাত-আট জায়গায় প্রতিদিন ভোর থেকে বসছে পেয়ারার হাট। দক্ষিণ চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড় পেয়ারার হাট বসে চন্দনাইশের রৌশন হাটে। মহাসড়কের দুইপাশে লাল কাপড় বাঁধা পেয়ারার সারি সারি ভার নিয়ে বসে থাকেন বিক্রেতারা। ব্যবসায়ীদের হিসাবে, প্রতিদিন ৫শ ভার পেয়ারা বিক্রি হয় এ বাজারে। এখানকার পেয়ারা চট্টগ্রাম নগর, কক্সবাজার, পেকুয়া, চকরিয়া, টেকনাফ, হাটহাজারী, বাঁশখালী, লোহাগাড়া, নোয়াখালী, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় নিয়ে যান ব্যবসায়ীরা। মিষ্টি বেশি, বিচির সংখ্যা তুলনামূলক কম থাকায় এই পেয়ারার কদরও বেশি। পাকলে ভেতরে কোনোটি সাদা, কোনোটি লালচে দেখায়। পেয়ারা বিক্রি চলে অক্টোবর মাস পর্যন্ত। চারা রোপণ থেকে শুরু করে ফল আহরণ পর্যন্ত তেমন একটা রাসায়নিক সার কিংবা কীটনাশক ব্যবহার করা হয় না বলে জানান চাষিরা। হাশিমপুরের বাগান মালিক মোহাম্মদ আলী জানান, চন্দনাইশের পাহাড়ে প্রায় সাড়ে ১২শ’ একর জমিতে পেয়ারার চাষ করা হয়। যেসব বাগানের গাছ থেকে ১৪-১৫ বার পেয়ারা পাওয়া যায় সেসব বাগান বছরে দুইবার পরিষ্কার করাসহ শ্রমিক ও ওষুধ বাবদ খরচ হয় ৩০-৩৫ হাজার টাকা। খরচ বাদ দিয়ে বাগান থেকে প্রতিবছর আয় হয় ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা। তিনি জানান, এখানকার অনেক বাগান আবার শহরের আড়তদাররা বার্ষিক একলাখ থেকে আড়াই লাখ টাকা দরে কিনে নেয় চাষিদের কাছ থেকে। তখন চাষিরাই বাগানের সবকিছু দেখাশোনা করে। করোনার কারণে এখনও বিকিকিনি তেমন জমে উঠেনি। বাংলানিউজ

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

আজকের প্রশ্ন

বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেছেন, পুলিশের ওপর নির্বাচন কমিশনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?