রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ,২০২১

Bangla Version
  
SHARE

বৃহস্পতিবার, ০৫ আগস্ট, ২০২১, ০৫:৪৩:৩০

মাঠে মাঠে কৃষকের কান্না

মাঠে মাঠে কৃষকের কান্না

ডেস্ক রির্পোট:- বাঁধ কেটে দেওয়ার পর ঘরবাড়ি থেকে নেমে গেছে পানি। ধীরেধীরে জেগে উঠেছে ফসলের মাঠ। সেই সঙ্গে জেগে উঠেছে কৃষকের বুকের দগদগে প্রাচীন ক্ষত। কিছুদিন আগেই স্বপ্ন বুনেছিলেন মাঠে। কিন্তু প্রকৃতির যেনো ভালো লাগলো না। অতিবর্ষণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় পঁচে গলে শেষ হয়ে গেলো সব। রয়ে গেলো শুধু বুকভরা হাহাকার। আর তাইতো আমনের বীজতলার মাঠের দিকে তাকিয়ে নীরব যন্ত্রণায় ছটফট করছে বাগেরহাটের শরণখোলার ১০ সহস্রাধিক চাষি। উপায় নেই নতুন বীজতলা করার। কেননা শরণখোলার কোনো ডিলারের কাছে নেই বীজ ধান। এলাকার চাহিদা অনুযায়ী ডিলাররা বিএডিসি থেকে যে বীজ ধান উত্তোলন করেন তা শেষ হয়ে গেছে ৩০ জুনের মধ্যেই। এমন অবস্থায় নষ্ট বীজতলা আর পোড়া কপাল নিয়ে বিপাকে পড়েছেন চাষিরা। এদিকে, কৃষি অধিদপ্তর খুলনার উপপরিচালক (ডিডি) জি এম এ গফুর বৃহস্পতিবার (৫ আগস্ট) শরণখোলা পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তিনি বীজতলার ক্ষেত ঘুরে ঘুরে দেখেন এবং ক্ষতিগ্রস্থ চাষিদের সঙ্গে কথা বলেন। যেভাবেই হোক তিনি জরুরি ভিত্তিতে অন্য এলাকা থেকে বীজধান সংগ্রহ করে এই সংকট সমাধান করবেন বলে চাষিদের আশ্বাস দেন। সম্প্রতি অতিবর্ষণের জলাবদ্ধতায় ৫০ ভাগ বীজতলা পঁচে নষ্ট হওয়ার কথা জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। তবে মাঠের বাস্তব চিত্র এবং কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় ৮০ ভাগ বীজতলাই নষ্ট হয়ে গেছে। উপজেলার খোন্তাকাটা ইউনিয়নের পশ্চিম রাজৈর গ্রামের চাষি মো. সাইয়েদ আলী জানান, তার ১০ কাঠা জমির বীজতলা সব নষ্ট হয়ে গেছে। নতুন করে বীজতলা করার জন্য বীজধান কিনতে গিয়ে না পেয়ে খালি হাতে ফিরে আসতে হয় তাকে। এখন তার কী উপায় হবে তা তিনি বুঝতে পারছেন না। এদিকে সাউথখালী ইউনিয়নের চালিতাবুনিয়া গ্রামের চাষি মো. জহির খলিফা চার বিঘা জমিতে আমনের বীজতলা করেছিলেন। কিন্তু শেষ হয়ে গেছে তার সবই। পঁচা বীজতলা হাতে নিয়ে কথা বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। শরণখোলা উপজেলা সদর রায়েন্দা বাজারের ডিলার মেসার্স শহিদুল এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. শহিদুল ইসলাম জানান, মৌসুমের শুরুতে তারা ৪ জন ডিলার মোট ৪৫ টন বীজ বিএডিসি থেকে উত্তোলন করেছিলেন। কিন্তু জুনের ৩০ তারিখের মধ্যেই তার সব বিক্রি হয়ে গেছে। তাদের কারো কাছেই এখন কোন বীজধান নেই। সরকারিভাবে ছাড়া এই সংকট সমাধানের আর কোনো উপায় নেই। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ওয়াসিম উদ্দিন বলেন, কৃষি অধিদপ্তর খুলনার উপপরিচালক ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন করে চাষিদেরকে সংকট সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। তবে, এই মুহূর্তে বীজধান সংগ্রহ করা সম্ভব নয়। আমরা বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করে দেখছি। দ্রুত বীজধান পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। তাছাড়া, ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকের তালিকা করে সরকারিভাবে তাদেরকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

আজকের প্রশ্ন

বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেছেন, পুলিশের ওপর নির্বাচন কমিশনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?