ডেস্ক রির্পোট:- পার্বত্য চট্টগ্রামে সন্ত্রাস ও বিচ্ছিন্নতাবাদ দমন, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং বিদ্যমান আইন, চুক্তির শর্ত ও বিধি-বিধান পর্যালোচনা করে জাতীয় কর্মকৌশল নির্ধারণে তিনটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন করেছে সরকার।আদিবাসী শিল্প আবিষ্কার
প্রধানমন্ত্রীকে সভাপতি করে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক জাতীয় কমিটি, স্বরাষ্ট্রসচিবকে সভাপতি করে নির্বাহী কমিটি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ কমিটির চেয়ারম্যানকে সভাপতি করে পরামর্শক কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে এ-সংক্রান্ত পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
নতুন কমিটি
(১) প্রধানমন্ত্রী, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার — সভাপতি
(২) মন্ত্রী, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় — সদস্য
(৩) মন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় — সদস্য
(৪) মন্ত্রী, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় — সদস্য
(৫) মন্ত্রী, ভূমি মন্ত্রণালয় — সদস্য
(৬) মন্ত্রী, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় — সদস্য
(৭) মন্ত্রী, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় — সদস্য
(৮) উপদেষ্টা, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় — সদস্য
(৯) প্রতিমন্ত্রী-১, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় — সদস্য
(১০) প্রতিমন্ত্রী, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় — সদস্য
(১১) উপদেষ্টা, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ — প্রধান সমন্বয়ক
(১২) মন্ত্রিপরিষদ সচিব — সদস্য
(১৩) প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব — সদস্য
(১৪-১৬) তিন পার্বত্য জেলা হতে নির্বাচিত সংসদ সদস্যগণ — সদস্য
(১৭) প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ (এএফডি) — সদস্য
(১৮) মহাপরিচালক, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) — সদস্য
(১৯) মহাপরিচালক, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই) — সদস্য সচিবডিজিটাল ম্যাপ দেখুন
এই কমিটিতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের উপদেষ্টা প্রধান সমন্বয়ক এবং প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) মহাপরিচালক সদস্যসচিবের দায়িত্ব পালন করবেন।
কমিটিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং আন্তসংস্থা বাস্তবায়ন তদারকি করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রাম সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে নিরাপত্তা বাহিনী, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংস্থাগুলোর কার্যপরিধি ও ক্ষেত্র নির্ধারণ এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক জাতীয় কর্মকৌশল চূড়ান্তকরণ ও বাস্তবায়নের ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে এই কমিটিকে।
কমিটি প্রয়োজন অনুযায়ী ও ক্ষেত্র বিবেচনায় সশস্ত্র বাহিনী, নিরাপত্তা বাহিনী ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী/সংস্থার প্রধান বা অন্য কোনো কর্মকর্তা, প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে যে কোনো ব্যক্তিকে কমিটিতে সদস্য/সহায়তাদানকারী কর্মকর্তা হিসেবে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কো-অপ্ট করতে পারবে।
প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই) কর্তৃক কমিটির সচিবালয় সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় জনবল ও অবকাঠামোগত সুবিধা প্রদান করা হবে। তবে কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সভাপতির নির্দেশক্রমে পরবর্তী সময়ে অন্য যে কোনো গোয়েন্দা সংস্থা/নিরাপত্তা বাহিনী/আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী/সংস্থা নির্ধারিত মেয়াদে কমিটির সচিবালয়ের দায়িত্ব পালন করতে পারবে।সরকারি নীতি পড়ুন
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক জাতীয় কমিটি গঠন সরকারের একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত উল্লেখ করে সিএইচটি রিসার্চ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও পার্বত্যনিউজের সম্পাদক এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক গবেষক মেহেদী হাসান পলাশ বলেছেন, এই কমিটি বর্তমান সরকারের একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত অতীতে কোন সরকার পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যা সমাধানে এত উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করেনি।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার এবং বর্তমান বিরোধীদল উভয় পার্বত্য শান্তিচুক্তি পুনঃমূল্যায়নের অঙ্গীকার করেছিলো তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে।
এই কমিটি পার্বত্য চট্টগ্রামের অনেক জটিল সমস্যা সমাধান করতে পারবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, এই কমিটির মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির পুনঃমূল্যায়নের ব্যাপারে তারা একটি ইতিবাচক পরিকল্পনা গ্রহণ করবে।
সম্পাদক : এসএম শামসুল আলম।
ফোন:- ০১৫৫০৬০৯৩০৬, ০১৮২৮৯৫২৬২৬ ইমেইল:- smshamsul.cht@gmail.com
© All rights reserved © 2023 Chtnews24.com