ডেস্ক রির্পোট:- আওয়ামী লীগের গুম, খুন ও নির্যাতনের বিচার নিশ্চিত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগের পলাতক আসামি ও দুর্বৃত্তদের বিচারের আওতায় আনতে সরকার কাজ করছে। এ প্রশ্নে কাউকে দায়ী না করে সবাইকে সরকারের সঙ্গে এক হয়ে কাজ করতে হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সরকারি দল, বিরোধী দল সবাই মিলে আমাদের একটাই অঙ্গীকার হবে, প্রতিশ্রুতি হবে—আমরা এখানেই বিতর্ক করব, তর্ক করব, দ্বিমত হব, সংখ্যাগরিষ্ঠ হব। কিন্তু ফ্যাসিবাদী, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের প্রশ্ন যেখানেই আসবে, তার প্রতিরোধের জন্য আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকব।’
তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের যে প্রত্যাশা, গণতন্ত্রের পক্ষে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে যে সুদৃঢ় ঐক্য গড়ে উঠেছিল, সেই ঐক্যকে শক্তিতে পরিণত করে গণতন্ত্রের ঝান্ডাকে আমরা ঊর্ধ্বে তুলে ধরব, এই প্রত্যাশা সবার কাছে করি।’
বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ফ্যাসিবাদের দোসরদের ফিরিয়ে আনতে ও বিচার করতে আমাদের নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। এই প্রক্রিয়ায় আমাদের দায়ী না করে আপনারা সহযোগিতা করলে আমরা খুশি হব।’
এ সময় আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুম, খুন ও নির্যাতনের বিভিন্ন পরিসংখ্যান তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত হেফাজতে মৃত্যুর সংখ্যা ১ হাজার ৪৮। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নির্যাতনে মৃত্যুর ঘটনা ১৩৩টি এবং জোরপূর্বক গুমের সরকারি হিসাবে ৬৮৪টি ঘটনা রয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের হিসাবে জোরপূর্বক গুমের সংখ্যা ৭০৯। এর মধ্যে ১৫৫ জন এখনো ফিরে আসেননি। এছাড়া জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে জাতিসংঘের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিংয়ের হিসাবে ১ হাজার ৪০০ জন নিহত হওয়ার তথ্য রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমদকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া নিয়েও সংসদে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, বেনজীর আহমদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ কার্যকর রয়েছে এবং তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে প্রত্যাপন প্রক্রিয়া চলছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বেনজীর আহমদকে দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রত্যাপন অনুরোধ পাঠিয়েছে। পরে দেশটির চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত তথ্য ও নথিও দেওয়া হয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশের পক্ষে প্রত্যাপন কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় আইনগত সহায়তার জন্য একটি ল ফার্ম নিয়োগ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। ল ফার্মটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ এবং প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
বেনজীর আহমদ সংযুক্ত আরব আমিরাত ছেড়ে সেন্ট লুসিয়ায় গেছেন বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্র বা বিদেশি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, বেনজীর আহমদসহ বিদেশে অবস্থানরত কোনো পলাতক আসামিকে আইনের আওতায় আনার ক্ষেত্রে সরকার কোনো ধরনের শিথিলতা দেখাবে না। তাদের শনাক্ত, গ্রেপ্তার ও দেশে ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোল, বিদেশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ মিশনগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
সম্পাদক : এসএম শামসুল আলম।
ফোন:- ০১৫৫০৬০৯৩০৬, ০১৮২৮৯৫২৬২৬ ইমেইল:- smshamsul.cht@gmail.com
© All rights reserved © 2023 Chtnews24.com