ডেস্ক রির্পোট:-যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন বিশ্বজুড়ে ভিসা আবেদনকারীদের অ্যাপয়েন্টমেন্ট সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। রিপাবলিকান এই নেতার দ্বিতীয় মেয়াদে চলমান অভিবাসনবিরোধী কঠোর অভিযানের মধ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হলো। মঙ্গলবার মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানান, বিশ্বজুড়ে সব মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে একটি বৈশ্বিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এই প্রশিক্ষণের সময়সূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে ভিসা সংক্রান্ত অ্যাপয়েন্টমেন্ট পুনঃনির্ধারণ করা হবে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান চালিয়ে আসছে। এর আওতায় ভিসা ও গ্রিন কার্ড বাতিল এবং বিভিন্ন কারণে আবেদন প্রত্যাখ্যানের মতো পদক্ষেপও নেয়া হচ্ছে। এসব কারণের মধ্যে আবেদনকারীর রাজনৈতিক মতামত এবং গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভে অংশ নেয়াও রয়েছে। প্রশাসনের দাবি, এসব পদক্ষেপের লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করা। তবে অভিবাসন নীতিতে ট্রাম্প প্রশাসন সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু আইনি বাধার মুখেও পড়েছে। গত শুক্রবার এক মার্কিন বিচারক ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা প্রদান স্থগিত করার ট্রাম্প প্রশাসনের একটি নীতি বাতিল করে দেন। বিচারক বলেন, এই নীতি বাস্তবায়নে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তার আইনগত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন।
নতুন প্রশিক্ষণের বিস্তারিত বিষয় বা কতদিন এটি চলবে, সে বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিছু জানায়নি। তবে মন্ত্রণালয় এটা জানিয়েছে যে, প্রশিক্ষণের লক্ষ্য হলো এমন আবেদনকারীদের শনাক্ত করতে কনস্যুলার কর্মকর্তাদের সক্ষমতা বাড়ানো, যারা ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সামাজিক সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন। একই সঙ্গে সব ভিসা আবেদনকারীকে ‘সামগ্রিক ও ধারাবাহিকভাবে’ মূল্যায়ন নিশ্চিত করাও প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য।রাজনৈতিক আলোচনা
এর আগে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস জানায়, বিভিন্ন মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে সাক্ষাৎকারের তারিখ পাওয়া অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীরা ই-মেইলের মাধ্যমে তাদের অ্যাপয়েন্টমেন্ট পুনঃনির্ধারণের কথা জানতে পেরেছেন। নতুন তারিখ পরে জানানো হবে বলেও তাদের জানানো হয়েছে।
ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী অভিযান নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলো ব্যাপক সমালোচনা করেছে। তাদের অভিযোগ, এসব পদক্ষেপ বৈষম্যমূলক এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। অধিকারকর্মীরা আরও বলছেন, এই অভিযান যুক্তরাষ্ট্রে বিশেষ করে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর জন্য অনিরাপদ পরিবেশ তৈরি করেছে এবং বর্ণভিত্তিক হয়রানির আশঙ্কা বাড়িয়েছে।
২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্প অবৈধ অভিবাসন বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে তার প্রশাসনের পদক্ষেপ শুধু অবৈধ অভিবাসনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বৈধ অভিবাসনও কঠিন হয়ে উঠেছে। নির্দিষ্ট কিছু কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসার আবেদনকারীদের ওপর নতুন ও ব্যয়বহুল ফি আরোপের মতো পদক্ষেপও নেয়া হয়েছে।
সম্পাদক : এসএম শামসুল আলম।
ফোন:- ০১৫৫০৬০৯৩০৬, ০১৮২৮৯৫২৬২৬ ইমেইল:- smshamsul.cht@gmail.com
© All rights reserved © 2023 Chtnews24.com