রাঙ্গামাটি:- দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা, সেচ সংকট ও নৌ-যোগাযোগের সমস্যা দূর করতে রাঙ্গামাটি সদর উপজেলায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ খাল পুনঃখনন প্রকল্পের আওতায় ৪টি ইউনিয়নের ৪টি খালে মোট ৩৩ কিলোমিটার পুনঃখনন কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটির কাজ শুরু হয় গত ২২ এপ্রিল ২০২৬ এবং মাত্র ৪৩ কর্মদিবসে কাজ শেষ করা হয়। প্রকল্পের জন্য মোট ৮ কোটি ৪৯ লাখ ৬৯ হাজার ৯৬৭ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও সুষ্ঠু ব্যয় ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ৭ কোটি ৯৮ লাখ টাকা ব্যয় করে কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। অবশিষ্ট ৫১ লাখ ৬৯ হাজার ৯৬৭ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।


প্রকল্পের আওতায় খনন করা হয়েছে—
সাপছড়ি ইউনিয়নের মানিকছড়ি খাল – ৭ কিলোমিটার
কুতুকছড়ি ইউনিয়নের কুতুকছড়ি খাল – ৭ কিলোমিটার
বন্দুকভাঙ্গা ইউনিয়নের শৈলেশ্বরী খাল – ১০ কিলোমিটার
বালুখালী ইউনিয়নের কাইন্দা খাল – ৯ কিলোমিটার
সব মিলিয়ে ৪টি খালে ৩৩ কিলোমিটার পুনঃখনন করা হয়েছে।
প্রকল্পে প্রায় ১ হাজার ৯৬৩ জন শ্রমিক কাজ করেন। পাশাপাশি এক্সকাভেটরের মাধ্যমে ব্যাপক খনন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ায় বর্ষা মৌসুমেই স্থানীয় মানুষ এর সুফল পেতে শুরু করেছেন।
স্থানীয়দের দাবি, খালগুলো দীর্ঘদিন পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতো, কৃষিজমি তলিয়ে যেত এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচ ও নৌ-চলাচলে চরম দুর্ভোগ দেখা দিত। পুনঃখননের ফলে এখন পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত হয়েছে, জলাবদ্ধতা কমেছে, কৃষিকাজ ও মৎস্য আহরণে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।
প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তারা জানান, কাজের মান অক্ষুণ্ন রেখে সরকারি অর্থ সাশ্রয় করে ৫১ লাখ ৬৯ হাজার ৯৬৭ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে, যা উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার একটি ব্যতিক্রমী উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সম্পাদক : এসএম শামসুল আলম।
ফোন:- ০১৫৫০৬০৯৩০৬, ০১৮২৮৯৫২৬২৬ ইমেইল:- smshamsul.cht@gmail.com
© All rights reserved © 2023 Chtnews24.com