ডেস্ক রির্পোট:- বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ের স্টারমারের ওপর ক্রমশ চাপ বাড়ছে। দলের বিদ্রোহ প্রকাশ্যে আসার পর তা তিনি কিভাবে সামাল দেন, তা দেখার বিষয়। এরই মধ্যে দলের নেতৃত্ব তথা বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী পদে সম্ভাব্য নেতাদের নাম নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। কেউ কেউ আকারে ইঙ্গিতে জানিয়ে দেন, তিনি এই পদের প্রার্থী। তবে প্রকাশ্যে এবার সামনে এসেছেন সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং। মাত্র কয়েকদিন আগেই তিনি পদত্যাগ করেছেন। সে সময় তিনি প্রধানমন্ত্রী স্টারমারকে জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, তার ওপর থেকে তিনি আস্থা হারিয়েছেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।
শনিবার স্ট্রিটিং বলেন, আমাদের একটি প্রকৃত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন দরকার, যেখানে সেরা প্রার্থীরা মাঠে থাকবেন। আর আমি সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব। তিনি আরও বলেন, বৃটেনের ইউরোপীয় ইউনিয়ন ত্যাগ করা ছিল একটি বিপর্যয়কর ভুল এবং ভবিষ্যতে কোনো একদিন বৃটেনের আবারও ওই জোটে ফিরে যাওয়া উচিত।
এদিকে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহাম বিবিসিকে জানিয়েছেন, তিনি মেকারফিল্ড উপনির্বাচনে প্রার্থী হতে চান, যাতে লেবার পার্টিকে বাঁচানো যায়। এই আসনে দলের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়ে উপনির্বাচনে জিততে পারলে বার্নহাম যে স্যার কিয়ের স্টারমারের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার চেষ্টা করবেন- এমনটাই ব্যাপকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এই ভোট হওয়া উচিত এমন একটি মুহূর্ত, যার মাধ্যমে লেবার পার্টিকে পুনরুদ্ধার করা হবে এবং বর্তমান অবস্থা থেকে রক্ষা করা হবে।
মে মাসের শুরুতে তিনটি স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির ভরাডুবির পর পদত্যাগের দাবির মুখে পড়লেও প্রধানমন্ত্রী এখনো সরে দাঁড়াতে রাজি নন। বরং তিনি তার বিদায়ের সময়সূচি নির্ধারণের দাবিও প্রত্যাখ্যান করছেন। ধারণা করা হচ্ছে, বার্নহাম ও স্ট্রিটিংয়ের মতো সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের যেকোনো চ্যালেঞ্জের বিরুদ্ধে তিনি লড়বেন। স্ট্রিটিং বৃহস্পতিবার পদত্যাগ করেন। শনিবার তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়, নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করতে প্রয়োজনীয় ৮১ জন লেবার এমপির সমর্থন তার আছে কি না। জবাবে তিনি বলেন, সংসদীয় দলে আমার সমর্থন আছে, তবে এ সপ্তাহে আমার সামনে একটি সিদ্ধান্তও ছিল।
লেবার-ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সংগঠন প্রোগ্রেস আয়োজিত এক সম্মেলনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, দল চাইলে দ্রুত নেতৃত্ব নির্বাচনে যেতে পারত। তবে বার্নহামকে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ না দিয়ে তড়িঘড়ি নির্বাচন করলে নতুন নেতা বৈধতা হারাতেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। এতে দলের অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা আরও দীর্ঘায়িত হতো বলেও জানান।
স্ট্রিটিং আরও বলেন, ব্রেক্সিট ছিল একটি বিপর্যয়কর ভুল এবং বৃটেনের ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে নতুন বিশেষ সম্পর্ক প্রয়োজন। সাবেক এই স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ব্রেক্সিটের ফলে বৃটেন শিল্পবিপ্লবের আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় কম ধনী, কম শক্তিশালী এবং কম নিয়ন্ত্রণক্ষম হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, এ নিয়ে আমরা আর নীরব থাকতে পারি না। তার ভাষায়, বৃটেনের ভবিষ্যৎ ইউরোপের সঙ্গেই এবং একদিন আবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভেতরেও এই ভবিষ্যত। ওয়েস স্ট্রিটিং বলেন, তিনি কিয়ের স্টারমারের ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনায় যেতে চান না। মতপার্থক্য থাকলেও প্রধানমন্ত্রীকে তিনি অসাধারণ গুণসম্পন্ন এবং অত্যন্ত ভদ্র ও নীতিবান ব্যক্তি হিসেবে বর্ণনা করেন। বার্নহামকে সমর্থন করতে চান কি না জানতে চাইলে স্ট্রিটিং বলেন, বিশেষ করে মেকারফিল্ডে, তাকে ভোট দিন।
শুক্রবার লেবারের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী কমিটি ন্যাশনাল এক্সিকিউটিভ কমিটি বার্নহামকে উপনির্বাচনে অংশ নেয়ার অনুমতি দেয়। বর্তমান এমপি তার আসন ছেড়ে দেয়ার ঘোষণা দেয়ার পর এই পথ তৈরি হয়। এর ফলে বার্নহামের জন্য ওয়েস্টমিনস্টারে এমপি হিসেবে ফেরার পথ খুলে যাবে। লেবার পার্টির নিয়ম অনুযায়ী নেতৃত্ব নির্বাচনে অংশ নিতে হলে প্রার্থীকে এমপি হতে হয়। শনিবার বিবিসিকে তিনি বলেন, লেবারকে আরও ভালো হতে হবে। তিনি বলেন, এটিকে আমাদের এমন একটি মুহূর্ত হিসেবে দেখতে হবে, যখন আমরা লেবার পার্টিকে পুনরুদ্ধার করব এবং বর্তমান অবস্থা থেকে রক্ষা করব। আমরা আর আগের মতো চলতে পারি না। বার্নহাম বলেন, তিনি চান লেবার আবার শ্রমজীবী মানুষের অংশ হয়ে উঠুক।
উপনির্বাচনটি কেবল ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষার প্রকল্প কি না এবং ভোটাররা আরেকটি নির্বাচনে বিরক্ত হবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি মনে করি এটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় নির্বাচন। কারণ এটি রাজনীতিকে ঠিক করার প্রশ্ন, আর রাজনীতি মানুষের জন্য কাজ করছে না। বার্নহাম বলেন, তিনি সবকিছু উজাড় করে প্রচারণা চালাবেন। তিনি বলেন, আমরা এই প্রচারণায় আলাপের ধরনই বদলে দেব। আমরা আবারও লেবারকে এই জনগোষ্ঠীর আরও কাছে নিয়ে যাব।Politics
শনিবার চ্যানেল ফোর নিউজকেও তিনি বলেন, উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জিতলে তিনি সর্বোচ্চ পর্যায়ে লড়াই করবেন। তবে তার প্রথম ও প্রধান মনোযোগ এখন মেকারফিল্ডে। তিনি বলেন, এখন কি সময় হয়নি মানুষ এখানে মনোযোগ দেবে এবং প্রশ্ন করবে- কেন ওয়েস্টমিনস্টার এখানকার মানুষের জীবন বদলাতে পারেনি? তারপর আমরা বলতে শুরু করব, কীভাবে তা পরিবর্তন করা হবে।
বিবিসি জানিয়েছে, উপনির্বাচনটি ১৮ জুন হতে পারে। ৭ মে অনুষ্ঠিত স্থানীয় নির্বাচনে লেবার ইংল্যান্ডে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কাউন্সিলর পদ হারায়। ওয়েলস ও স্কটল্যান্ডের জাতীয় নির্বাচনেও বড় ধাক্কা খায়। এরপর থেকেই কিয়ের স্টারমারের ওপর পদত্যাগের চাপ বাড়ছে। বিবিসির তথ্যমতে, প্রায় ৯০ জন লেবার এমপি ইতিমধ্যে কিয়ের স্টারমারকে পদ ছাড়তে বা পদত্যাগের সময়সূচি ঘোষণা করতে বলেছেন। তবে ১৫০ জনের বেশি এমপি প্রধানমন্ত্রীকে সমর্থন জানিয়েছেন অথবা বলেছেন, নেতৃত্ব নির্বাচন আয়োজনের জন্য এটি সঠিক সময় নয়।
সম্পাদক : এসএম শামসুল আলম।
ফোন:- ০১৫৫০৬০৯৩০৬, ০১৮২৮৯৫২৬২৬ ইমেইল:- smshamsul.cht@gmail.com
© All rights reserved © 2023 Chtnews24.com