ডেস্ক রির্পোট:- ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে রিমান্ডে থাকা দুই লে. জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী, শেখ মামুন খালেদ এবং বরখাস্তকৃত লে. কর্নেল আফজাল নাসেরের জবানিতে উঠে আসছে গুম-খুনের রোমহর্ষক সব ঘটনা। আরও বেরিয়ে এসেছে ওয়ান-ইলেভেনের সব অজানা কাহিনি। কারা সেদিন বঙ্গভবনে জোর করে ঢুকে পড়েছিল, ২০০৯ সালের জাতীয় নির্বাচনে অতিরিক্ত ব্যালট পেপার ছাপানোর নেপথ্যে কারা ছিল-ফাঁস হচ্ছে সেসব ব্যক্তির নাম। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এরা রয়েছেন গোয়েন্দা নজরদারিতে। গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে সূত্র জানায়, ওয়ান- ইলেভেনের আগে তৎকালীন সেনাপ্রধান মইন উ আহমেদসহ তিন বাহিনীর প্রধান বঙ্গভবনে প্রবেশ করতে চাইলেও তাদের প্রথমে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। কিন্তু তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টার সামরিক সচিব আমিনুল করিম ছিলেন সেনাপ্রধান মইন উ আহমেদের অনুগত। তার হস্তক্ষেপে তিন বাহিনীর প্রধান বঙ্গভবনে প্রবেশ করেন। সে সময় বঙ্গভবনে আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন ব্রিগেডিয়ার বারী এবং লে. জেনারেল জাহাঙ্গীরসহ আরও অন্য কর্মকর্তারা। সেনাপ্রধান মইন উ আহমেদ প্রধান উপদেষ্টার জন্য বক্তৃতা লিখে নিয়ে আসেন।
এরপর বঙ্গভবনে উপস্থিত হন লে. জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। তারা রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টাকে জরুরি অবস্থা জারির জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। দীর্ঘ ৬ ঘণ্টা প্রবল চাপ প্রয়োগের পর জরুরি অবস্থা জারি করতে বাধ্য হন রাষ্ট্রপতি। সূত্র জানায়, সাবেক ডিজিএফআই মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদকে গ্রেপ্তারের পর বেরিয়ে আসে গুম-খুনের নানান তথ্য। বিএনপির অসংখ্য নেতা-কর্মী গুম-খুনের সঙ্গে একটি বিশেষ স্কোয়াড কাজ করত বলে খালেদের কাছ থেকে তথ্য পেয়েছেন গোয়েন্দারা। তার কাছ থেকেই বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াস আলী গুম নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে। তার তথ্য যাচাইবাছাই করা হচ্ছে। শেখ মামুন খালেদ গোয়েন্দাদের জানিয়েছেন, গুম করার সংকেত আগেই দেওয়া হয়েছিল। ইলিয়াস আলী টিপাইমুখ বাঁধ এবং পার্শ্ববর্তী একটি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ট্রানজিট ও ট্রান্সশিপমেন্ট চুক্তির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন। এই বাঁধ ও চুক্তি ওই দেশটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ইলিয়াস আলী এর বিরুদ্ধে গিয়ে আন্দোলনও করেছিলেন। এরপরই সরকারের রোষানলে পড়েন। তাই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে ইলিয়াস আলীকে সরিয়ে দেওয়া হয়। শেখ হাসিনা তৎকালীন ডিজিএফআই প্রধান ও র্যাবের মহাপরিচালককে গুমের মিশন বাস্তবায়ন করার নির্দেশনা দেন। গুমের পুরো প্রক্রিয়া রেকি ও বাস্তবায়ন করে র্যাব-১। আর র্যাবকে সহযোগিতা করেন ডিজিএফআইয়ের কিছু কর্মকর্তা। সবচেয়ে বড় ভূমিকা ও ইলিয়াস আলী গুম মিশনের নেতৃত্ব দেন মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান।
শেখ হাসিনা ঘটনার আগে-পরে জিয়াউলের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেন। সব প্রস্তুতি শেষ হওয়ার পর ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল ইলিয়াস আলী ও তার ব্যক্তিগত গাড়িচালককে বনানী থেকে গুম করে নেওয়া হয় র্যাব-১ সদর দপ্তরে। সেখানে ইলিয়াসকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করে মারধর করা হয়। গোয়েন্দাদের সূত্র জানিয়েছে, তুলে নেওয়ার পর ১৭ থেকে ২০ এপ্রিলের কোনো এক রাতে ইলিয়াস আলীকে হত্যা করে ধলেশ্বরী নদীতে লাশ ফেলে দেওয়া হতে পারে। জিজ্ঞাসাবাদে মামুন খালেদ জানান, ইলিয়াস আলীকে গুম করার জন্য কাজ করে ডিজিএফআই ও র্যাবের একটি বিশেষ টিম। তাদের আগে থেকেই ব্রিফ করে তৈরি করা হয়েছিল। সার্বিকভাবে দিকনির্দেশনা মামুন খালেদ নিজেই দিয়েছিলেন। ইতোমধ্যে আলোচিত এই গুম নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়ার পর গুমের সঙ্গে জড়িত র্যাব ও ডিজিএফআইয়ের সব সদস্যকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। তাদের অনেককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। আরও কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। যদিও তাদের কেউ কেউ দেশত্যাগ করেছেন। কেউ আগেই গা-ঢাকা দিয়েছেন। কেউ অবসরে গেছেন। অনেকেই এখনো চাকরিতে বহাল তবিয়তে আছেন। মামুন খালেদ জানিয়েছেন, ইলিয়াস আলী গুম মিশনে ডিজিএফআইতে কর্মরত দুজন মেজর প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়েছিলেন। আর ইলিয়াস গুমের বিষয়ে অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ পদধারীরা অবগত ছিলেন।বাংলাদেশ প্রতিদিন
সম্পাদক : এসএম শামসুল আলম।
ফোন:- ০১৫৫০৬০৯৩০৬, ০১৮২৮৯৫২৬২৬ ইমেইল:- smshamsul.cht@gmail.com
© All rights reserved © 2023 Chtnews24.com