ডেস্ক রির্পোট:- আলোচনার টেবিল থেকে আইনি কাঠামোয় যায় গণভোট ইস্যু। শুরু থেকে ছিল বিতর্ক। বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে ছিল প্রশ্ন। আইনি কাঠামো পেরিয়ে গণভোট ইস্যু এখন সংসদে। সংসদীয় বিশেষ কমিটির টেবিলে গিয়ে আটকে গেছে বহুল আলোচিত এই গণভোট। এমপিদের টেবিল পর্যন্ত যাচ্ছে না এ নিয়ে জারি করা অধ্যাদেশ। তার আগেই সমাধি হচ্ছে। বহুমুখী বিতর্ক দিয়ে শুরু হওয়া গণভোট ইস্যুটি এখন জন্ম দিয়েছে নয়া বিতর্কের।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারদলীয় জোট ও জামায়াতের নেতৃত্বে পরিচালিত বিরোধীদলীয় জোট এখন বিয়য়টি নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে। বিদ্যমান সংবিধানের দোহাই দিয়ে ১৮ মাসের অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা গণভোট অধ্যাদেশটি বিশেষ কমিটি থেকেই বাতিল করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকারি দল। তাদের যুক্তি, যে রাষ্ট্রপতির আদেশের ভিত্তিতে এ অধ্যাদেশ জারি হয়েছিল, তার কোনো সাংবিধানিক ভিত্তি নেই। অন্যদিকে প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী এ প্রস্তাবের কঠোর বিরোধিতা করছে। তাদের দাবি, গণভোটের মাধ্যমেই জনগণ তাদের রায় দিয়েছে, তাই এ অধ্যাদেশ বাতিল করা জনগণের ম্যান্ডেটের অপমান। বিষয়টি নিয়ে জামায়াত প্রতিবাদে সোচ্চার। সরকারি দলের এ উদ্যোগকে সন্দেহের চোখে দেখা হচ্ছে বলে মন্তব্য তাদের। শিগগিরই ইস্যুটি নিয়ে রাজপথে নামার ঘোষণা দিয়েছে তারা।
গণভোট অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপন করা হবে না বলে জানিয়েছে বিএনপি। ফলে অধ্যাদেশটি আগামী ১২ এপ্রিল স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে। বিএনপি বলছে, অধ্যাদেশ ব্যবহার করে গণভোট হয়ে যাওয়ায় ভবিষ্যতে ব্যবহার না থাকায় অধ্যাদেশটি পাসের প্রয়োজন নেই। এতে ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোট অবৈধ হবে না। সরকারি দলের এই সিদ্ধান্তে নোট অব ডিসেন্ট (ভিন্নমত) দিয়েছে জামায়াত। গণভোট অধ্যাদেশ ছাড়াও অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩ অধ্যাদেশের অন্তত ১৫টি নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দল একমত হয়নি। সরকারি দল মানবাধিকার কমিশন, বিচারপতি নিয়োগ, গুম প্রতিরোধ, দুর্নীতি দমন কমিশন অধ্যাদেশে পরিবর্তন আনতে চায়। এতে আপত্তি করে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে জামায়াত। রবিবার রাতে জাতীয় সংসদে বিশেষ কমিটির সভায় এ নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে বাদানুবাদ হয়। তারা যুক্তি-পাল্টা যুক্তি দেখান। আগামী ২ এপ্রিল কমিটি প্রতিবেদন দেবে সংসদকে। সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশগুলো ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনে উত্থাপন করা হয়। পরবর্তী ৩০ দিন, অর্থাৎ আগামী ১২ এপ্রিলের মধ্যে অধ্যাদেশগুলো সংসদে অনুমোদিত না হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে যাবে। যুক্তি দেখিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, গণভোট হয়ে গেছে। অধ্যাদেশটির আর সামনে কোনো ব্যবহার নেই। গণভোট অধ্যাদেশ সংবিধানের অংশ নয়। সংবিধানে না থাকলে গণভোট হবে না, সংবিধানে এমন বিধান নেই। গণভোট আয়োজনে একটি অধ্যাদেশ করা হয়েছিল। গণভোট হয়েছে। এই অধ্যাদেশের ব্যবহার হয়েছে। এর কোনো বিরোধিতা নেই। এই অধ্যাদেশকে সংসদে ধারণ করে ভবিষ্যতে ব্যবহার করার আর কিছু নেই। পাল্টা যুক্তি দেখিয়ে কমিটির সদস্য জামায়াত এমপি রফিকুল ইসলাম খান বলেন, গণভোট, মানবাধিকার কমিশন ও বিচার বিভাগ পৃথক্্করণের মতো ১৫টি অধ্যাদেশ বাতিল বা সংশোধনে তারা নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছেন। সরকারি দল সংখ্যার জোরে কিছু বিষয় পাস করার চেষ্টা করছে। পুরো জাতি গণভোটে অংশ নিয়েছে। সরকারি দল এটি বাতিলের কথা বলছে, যা প্রত্যাখ্যান করেছি। যদি গণভোট সংবিধানবহির্ভূত হয়, তবে একই দিনে হওয়া জাতীয় সংসদ নির্বাচন কীভাবে বৈধ হয়? জনগণ ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করেছে। সুতরাং গণভোটের রায় কার্যকর করতে হবে এটাই মূল দাবি। এর আগে দলটির পক্ষ থেকে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোট ইস্যু নিয়ে রাজনীতির মাঠে নামার ঘোষণা দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, গণভোট অত্যন্ত শক্তিশালী একটি জনসম্মতি। বাংলাদেশে এ পর্যন্ত চারবার গণভোট হয়েছে (১৯৭৭, ১৯৮৫, ১৯৯১, ২০২৬)। এর মধ্যে দুবার প্রশাসনিক এবং দুবার সাংবিধানিক।বাংলাদেশ প্রতিদিন
সম্পাদক : এসএম শামসুল আলম।
ফোন:- ০১৫৫০৬০৯৩০৬, ০১৮২৮৯৫২৬২৬ ইমেইল:- smshamsul.cht@gmail.com
© All rights reserved © 2023 Chtnews24.com