আন্তর্জাতিক ডেস্ক:- ইসরায়েল কর্তৃক ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানি এবং বাসিজ বাহিনীর প্রধানকে হত্যার দাবির পর ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের শাসনকাঠামো এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যা এই ধরনের বড় ধাক্কা সামলে নিতে সক্ষম।
রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের সিনিয়র অ্যাসোসিয়েট ফেলো এইচ এ হেলিয়ার সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ইরানের নেতৃত্ব দীর্ঘকাল ধরে যেকোনো হত্যাকাণ্ডের পর শূন্যস্থান পূরণের জন্য অত্যন্ত কার্যকর বিকল্প পরিকল্পনা বা ‘কন্টিনজেন্সি প্ল্যান’ তৈরি করে রেখেছে। তার মতে, ইসরায়েলি অভিযানে বড় নেতাদের পতন হলেও সামগ্রিক ব্যবস্থায় ধস নামার সম্ভাবনা কম, কারণ এই শাসনব্যবস্থাটি টিকে থাকার বা ‘রেজিলিয়েন্স’ ক্ষমতার ওপর ভিত্তি করেই গড়ে তোলা হয়েছে।
হেলিয়ার আরও উল্লেখ করেন যে, ইরানের কমান্ড কাঠামোতে উত্তরাধিকার নির্ধারণের পরিকল্পনা অনেক গভীর পর্যন্ত বিস্তৃত। কয়েক মাস আগের কিছু রিপোর্টের সূত্র ধরে তিনি জানান, শীর্ষ কমান্ডার থেকে শুরু করে চার স্তর নিচের কর্মকর্তাদের পর্যন্ত নির্দেশ দেওয়া ছিল যেন তারা নিজেদের অবর্তমানে উত্তরসূরি আগে থেকেই মনোনীত করে রাখেন। এমনকি খামেনির মতো শীর্ষ নেতৃত্বের ক্ষেত্রেও ইরান অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে তাদের পূর্বপরিকল্পিত প্রক্রিয়া শুরু করে দেয়। ফলে আলী লারিজানি বা গোলামরেজা সোলাইমানির মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মৃত্যু হলেও ইরানের সামরিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল রাখতে নিচের সারির কর্মকর্তারা দ্রুত দায়িত্ব বুঝে নেবেন।
ইসরায়েলি দাবির মুখে তেহরান এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য না করলেও, বিশ্লেষকরা মনে করছেন ইরানের এই ‘সাকসেশন প্ল্যানিং’ বা উত্তরাধিকার পরিকল্পনা দেশটিকে বড় ধরনের অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা থেকে রক্ষা করতে পারে।
সূত্র: সিএনএন
সম্পাদক : এসএম শামসুল আলম।
ফোন:- ০১৫৫০৬০৯৩০৬, ০১৮২৮৯৫২৬২৬ ইমেইল:- smshamsul.cht@gmail.com
© All rights reserved © 2023 Chtnews24.com