ডেস্ক রির্পোট:- নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আজ মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ফ্যামিলি কার্ড উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রাজধানীর বনানীস্থ টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে (কড়াইল বস্তিসংলগ্ন) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ কর্মসূচি উপলক্ষে ইতোমধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
সোমবার (৯ মার্চ) সচিবালয়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পাইলটিং পর্যায়ে দেশের ১৩টি জেলার ১৫টি ওয়ার্ডে এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রতিটি ওয়ার্ডের প্রতিটি উপজেলার তথ্য সংগ্রহ, যাচাই-বাছাই ও তালিকা চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন সরকারি দফতরের প্রতিনিধি সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হয়।
পাইলটিং পর্যায়ে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারের প্রক্সি মিনস টেস্ট বা দারিদ্র্য সূচক মান নির্ণয়ের মাধ্যমে পরিবারগুলোকে হতদরিদ্র, দরিদ্র, নিম্ন মধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও উচ্চ বিত্ত শ্রেণীতে বিভক্ত করা হয়েছে। হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্ন মধ্যবিত্ত ৫১৮০৫ টি থানার তথ্য যাচাইয়ে ৪৭৭৭৭ টি খানার তথ্য সঠিক পাওয়া যায়। প্রাপ্ত তথ্য হতে ডাবল ডিপিং (একই ব্যাক্তির একাধিক ভাতা গ্রহণ), সরকারি চাকুরি, পেনশন ইত্যাদি কারণে চূড়ান্তভাবে ৩ হাজার ৭৫৬৭ টি নারী প্রধান পরিবারকে ভাতা প্রদানের জন্য চূড়ান্ত করা হয়েছে।
এচাড়াও ওয়ার্ড কমিটি সরেজমিনে প্রতিটি বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের আর্থ-সামাজিক অবস্থা, সদস্য সংখ্যা, শিক্ষা, বাসস্থান, পরিবারের ব্যবহৃত আসবাব ও গৃহস্থালী সামগ্রী (টিভি, ফ্রিজ, কম্পিউটার, মোবাইল ইত্যাদি), রেমিট্যান্স প্রবাহ ইত্যাদি তথ্য সংগ্রহ করেছে এবং সংগৃহীত তথ্য ইউনিয়ন কমিটি কর্তৃক যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। ইউনিয়ন কমিটি কর্তৃক যাচাই-বাছাইকৃত তালিকা উপজেলা কমিটি কর্তৃক অধিকতর যাচাইপূর্বক উপকারভোগীর তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। পাইলটিং পর্যায়ে সারাদেশে মোট ৬ হাজার ৭৮৫৪ টি নারী প্রধান পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।
কারা পাবেন ফ্যামিলি কার্ড---
উপকারভোগীগণ পাইলটিং পর্যায়ে মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা হারে ভাতা প্রাপ্ত হবেন এবং পরবর্তী সময়ে সমমূল্যের খাদ্যপণ্য সহায়তা প্রদানের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
পাইলটিং পর্যায়ে কোনও পরিবারের কোনো সদস্য সরকারি, স্বায়ত্বশাসিত এবং রাষ্ট্রায়ত্ব প্রতিষ্ঠান থেকে বেতন/ভাতা/অনুদান/পেনশন পেয়ে থাকলে, নারী পরিবার প্রধান এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক/কর্মচারী হিসেবে চাকুরিরত থাকলে উক্ত পরিবার ভাতা প্রাপ্তির যোগ্য বিবেচিত হবে না। এছাড়াও পাইলটিং পর্যায়ে কোন পরিবারের নামে বাণিজ্যিক লাইসেন্স বা বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থাকলে বা বিলাসবহুল সম্পদ (যেমন: গাড়ি, এসি) থাকলে বা ০৫ লক্ষ টাকার সঞ্চয়পত্র থাকলে উক্ত পরিবার ভাতা প্রাপ্তির যোগ্য বিবেচিত হবে না।
সামাজিক নিরাপত্তা খাতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দকৃত অর্থ হতে ফ্যামিলি কার্ড ভাতা জি-টু-পি পদ্ধতিতে সরাসরি সুবিধাভোগী নারীর পছন্দ অনুযায়ী তার মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক একাউন্টে জমা হবে। তথ্য সংগ্রহকালীন সময়েই উপকারভোগীদের মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক একাউন্টের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এতে করে কোন প্রকার বিলম্ব, ভুল একাউন্টে জমা বা কোন প্রকার হস্তক্ষেপ ব্যতীত উপকারভোগীগণ ঘরে বসেই সরাসরি সরকার হতে ভাতা প্রাপ্ত হবেন।
পাইলটিং পর্যায়ে ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আগামী জুন/২০২৬ সময়ের জন্য ৩৮ দশমিক ০৭ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে যার মধ্যে ২৫ দশমিক ১৫ কোটি টাকা৷ কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তথ্য সংগ্রহ, অনলাইন সিস্টেম প্রণয়ন, কার্ড প্রস্তুতি ইত্যাদিতে ব্যবহার করা হবে। ফ্যামিলি কার্ড পাইলটিং বাস্তবায়ন গাইডলাইন, ২০২৬ প্রণয়ন করা হয়েছে যা সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়েছে।
সম্পাদক : এসএম শামসুল আলম।
ফোন:- ০১৫৫০৬০৯৩০৬, ০১৮২৮৯৫২৬২৬ ইমেইল:- smshamsul.cht@gmail.com
© All rights reserved © 2023 Chtnews24.com