
ডেস্ক রির্পোট:- দেশের প্রচলিত মাদকের মধ্যে ফেনসিডিলের আলাদা কদর রয়েছে সেবনকারীদের মধ্যে। ফেনসিডিল নামটি বেশি পরিচিত হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃষ্টি এড়াতে কৌশল পাল্টেছে কারবারিরা। ব্যাপক চাহিদার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ভারত সীমান্তে গড়ে ওঠা বিভিন্ন ল্যাব ও কারখানায় তৈরি হচ্ছে ভিন্ন নামের ফেনসিডিল। পরে সেগুলো কারবারিদের মাধ্যমে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। ফেনসিডিলের চেয়ে দাম অনেক কম হওয়ায় মাদকাসক্তরাও ঝুঁকছে এসব সিরাপ সেবনে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভিন্ন ভিন্ন নামে ফেনসিডিল প্রবেশ করতে শুরু করে দেশে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকরী বাহিনীর নজরে পড়লে নাম বদল করা হয়। বর্তমানে সীমান্তে চার নামে (ফেয়ারডিল, উইন কোরেক্স, ব্রনোকফ সি ও চকো প্লাস) ঢুকছে কোডিনযুক্ত এসব মাদক। এসব সিরাপের ঢল ঠেকাতে না পারলে দ্রুতই মাদকের বাজারে জায়গা করে নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব মাদক নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে দেশে মাদকাসক্তদের সংখ্যা আরও বাড়বে। সেই সঙ্গে মাদক নিয়ন্ত্রণ করাও কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। সব সংস্থার (ডিএনসি, পুলিশ, বিজিবি, র্যাব ও কোস্ট গার্ড) পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪ সালে সারা দেশে ৫ লাখ ৭২ হাজার ৮৬৫ বোতল ও ৪১ লিটার ফেনসিডিল জব্দ করা হয়। গত বছরের ১১ মাসে উদ্ধার হয় ৩ লাখ ১২ হাজার ৫৫৫ বোতল ও ৮২ লিটার। ডিএনসির কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, প্রচলিত ফেনসিডিলের সরবরাহ কমতে থাকায় উদ্ধারের পরিমাণও কমছে। তবে নতুন নামের ফেনসিডিলের চালান উদ্ধার ক্রমেই বাড়ছে।
গোয়েন্দা তথ্য বলছে, ভারতের সীমান্তবর্তী ১০টি জেলায় কমপক্ষে ৬২টি কারখানায় এসব নতুন নামের ফেনসিডিল তৈরি হচ্ছে। পরে ভারতের মাদক কারবারিদের মাধ্যমে এসব মাদক ঢুকছে সীমান্ত জেলা সাতক্ষীরা, যশোর, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া দিয়ে। গোয়েন্দা তথ্যমতে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা, নদীয়া, মালদা, মুর্শিদাবাদ, ত্রিপুরার পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চল, সিপাহীজলা, বিলোনিয়া, শান্তিরবাজার ও মেঘালয় রাজ্যের একটি জেলায় ফেনসিডিলের কারখানাগুলো বেশ কয়েক বছর ধরেই সক্রিয় রয়েছে। কুমিল্লার বিবিরবাজার সীমান্ত থেকে মাত্র ৪০০ মিটারের মধ্যে ভারতের ত্রিপুরা সোনামুড়া বাজার এলাকায় প্রবাল শাহার কারখানা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্ত থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে আগরতলার জাগাহরি এলাকায় অশিত সাহা, মানিক সাহা, উত্তম পাল ও প্রদ্বীপ দেবনাথের কারখানা, শান্তিপাড়ায় অমর সাহার, দক্ষিণ ত্রিপুরার শ্রীরামপুরে দুলাল মিয়ার, কসবা সীমান্তের ২০০ মিটার দূরত্বে পশ্চিম ত্রিপুরার রাজনগরে ও মধুপুর হিল এলাকায় রাকিবুলের, গান্ধিগ্রামে নির্মল শিলের, নারায়ণপুরে তপন দাসের, তাপারিয়ায় কৃষ্ণার, নরসিংগডে জাভেদ দাসের, বিশ্রামগঞ্জে বিজয় ঘোষ, সোনামুড়ায় মেহির আলী ও শাহালিম মিয়া, মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর বাজারে সুখচাঁদ চন্দ্র, ডাকবাংলো বাজারে বাদল, দুলিয়ান বাজারে অনুমদি, মালদাহর শোভাপুর বাজারে কৃষ্ণা সামান্ত, গোলাপগঞ্জ বাজার এলাকায় চাতু, শ্মশানী বাজারে শ্যামল ঘোষ, মাহাদিপুর বাজার এলাকায় রাজ ঘোষ, বালুঘাট সদর এলাকায় মাহেন্দ্র, হিলিতে গাগন বর্মণেরসহ বিভিন্ন কারখানায় তৈরি হচ্ছে এসব সিরাপ। এ বিষয়ে ডিএনসির পরিচালক (অপারেশনস) মো. বশির আহমেদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, প্রতিনিয়ত বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ফেনসিডিলের বিকল্প সিরাপগুলোর চালান আসছে। এর প্রধান কারণ হচ্ছে, ফেনসিডিলের ওপর কড়াকড়ি নজরদারিতে সরবরাহ কমে যাওয়া এবং নতুন সিরাপগুলোর দাম কম হওয়া। কারবারিরা এই সিরাপগুলোর বাজার সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তবে আমরা সতর্ক রয়েছি। সময়ের সঙ্গে মাদকের ধরন পরিবর্তন হবেই। আমরা নিত্যনতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের পাশাপাশি বিজিবিও এসব মাদক সম্পর্কে খবর রাখছে। মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এ বিষয়গুলো ভারত সরকারকেও জানানো হয়েছে। সুতরাং সবাই সতর্ক থাকলে বিস্তার ঠেকানো সম্ভব। বাংলাদেশ প্রতিদিন
সম্পাদক : এসএম শামসুল আলম।
ফোন:- ০১৫৫০৬০৯৩০৬, ০১৮২৮৯৫২৬২৬ ইমেইল:- smshamsul.cht@gmail.com
© All rights reserved © 2023 Chtnews24.com