ডেস্ক রির্পোট:- নির্বাচন সামনে। সব ঠিকঠাক থাকলে ১২ই ফেব্রুয়ারি ভোট হতে যাচ্ছে। যদিও অনেকেই এখন পর্যন্ত নিশ্চিত নন নির্ধারিত তারিখে নির্বাচন হবে কিনা। নির্বাচন নিয়ে আগেও সংশয় ছিল, এখনও আছে। এর মধ্যেই হয়তো নির্বাচন হয়ে যাবে। কেমন নির্বাচন হবে এ নিয়েই যত জল্পনা। অনেকেই বলছেন, নির্বাচনটি হবে ঘটনাবহুল। সরকারপ্রধান প্রফেসর ইউনূস অবশ্য বলেছেন- নির্বাচন হবে ঐতিহাসিক, সেরা নির্বাচন। যদিও বাস্তবে এর কোনও আলামত নেই। বরং চারদিকে অন্য আলোচনা— নির্বাচনটি হয়তো মেকানাইজড হতে পারে। লাগতে পারে ‘কলঙ্কের’ দাগ।

পর্যবেক্ষকরা প্রফেসর ইউনূসের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। বলছেন, তিনি মোটেই নিরপেক্ষ নন। তার উপদেষ্টা পরিষদ রাজনীতির খেলায় লিপ্ত। তারা প্রকাশ্যে সরকারি কর্মচারীদের কোনো একপক্ষে ঝুঁকে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। যেটা কাম্য ছিল না। একদা যে দলটি ক্ষমতায় ছিল এখনও তারা আছে ভিন্ন কৌশলে। প্রফেসর ইউনূস একজন ঝানু খেলোয়াড়। তাকে বোঝা বড় কঠিন। কেউ কেউ অবশ্য বলেন, শেখ হাসিনাই তাকে চিনেছিলেন। তিনি নিজেকে সবপাত্রেই রাখতে পারেন। তিনি কখনও বিএনপির, কখনও জামায়াতের। আসলে তিনি কার। জনতার, নাকি ক্ষমতার? তিনি অবশ্য ক্ষমতা খুবই ভালোবাসেন। ক্ষমতা ছাড়তেও চান না। গ্রামীণে তাই দেখা গেছে। যাইহোক, এটা আলোচ্য বিষয় নয়। নির্বাচন কমিশন অতীত থেকে শিক্ষা নিতে পারেনি। সাহসী হতে গিয়েও বারবার হোঁচট খাচ্ছে। এখানে বাধা কে। সরকার নাকি রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব? প্রধান নির্বাচন কমিশনার নাসির উদ্দিন নেহায়েত ভদ্রলোক। ইচ্ছা আছে কিছু করার।

এর আগে খবর বেরিয়েছিল ভোটকেন্দ্রের সামনে বোরকার কাফেলা দেখা যেতে পারে। যারা ভোটের গতি শ্লথ করে দেবে।
কিন্তু তার টিম এক্ষেত্রে অন্তরায়। পক্ষপাতদুষ্টু কমিশনের অন্য সদস্যরা তাকে পেছনে টানছেন প্রতিনিয়ত। ফলে অতীতের কমিশনগুলো যেভাবে গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে সেদিকেই পা বাড়িয়েছে এই কমিশন। অথচ অভ্যুত্থান পরবর্তী কমিশন হবে সাহসী এবং স্বাধীন- এটাই ছিল জনগণের প্রত্যাশা। এই মুহূর্তে কমিশনের সাবেক দুই প্রধান জেলখানায়। তারা অতীত নিয়ে ভাবছেন আর বলছেন, দেখি না নাসির কমিশন কী করে! সরকারি কর্মচারীদের মাঠে নামিয়ে হঠাৎ করে বলা হলো- তারা হ্যাঁ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাতে পারবেন না। এটা নীতি-নৈতিকতার বিরুদ্ধে এক সিদ্ধান্ত। কারণ তাদেরকে কেনই বা নামানো হলো আবার কেনই বা প্রত্যাহার করা হলো- তা সরকারই ভালো বলতে পারবে। এখানে নির্বাচন কমিশন অসহায়। বৃহৎ রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে যেসব অভিযোগ করা হচ্ছে তা নির্বাচন কমিশন আমলেই নিচ্ছে না। এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনও পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। দুর্বল ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত এই কমিশন প্রতিনিয়ত নিজেদেরকে ক্ষমতাহীন করে তুলছে। ঋণখেলাপি এবং দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়টি সুরাহা করতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। এদিকে কমিশন থেকে বলা হলো, ভোটের দিন কেন্দ্রের সামনে জটলা করা যাবে না। এর আগে খবর বেরিয়েছিল ভোটকেন্দ্রের সামনে বোরকার কাফেলা দেখা যেতে পারে। যারা ভোটের গতি শ্লথ করে দেবে।

‘ঘোলাপানিতে মাছ শিকারে যারা অপেক্ষমাণ তারা নানা খেলায় লিপ্ত’
তবে বিলম্বিত সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এটা প্রশংসিত হয়েছে। কিন্তু তফসিলের আগে বা পরে যে সব সরকারি কর্মকর্তাদেরকে পোস্টিং দেয়া হয়েছে তা নিয়েই এখন এলাকায় এলাকায় ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। এখানেই রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠছে। বেআইনি অস্ত্র উদ্ধার হয়নি। কে না জানে ফের অস্ত্রের রমরমা ব্যবসা চলছে। ভোটের পারসেন্টেজ কম রাখার জন্য আরেকটা প্রয়াস চলছে। হিসাব নিকাশ করা হচ্ছে ভোটের গতিপ্রকৃতি নিয়েও। দেশি-বিদেশি নানা মহল এই ভোট থেকে ফায়দা তুলতে চায়। ভূ-রাজনীতির ছকে এই নির্বাচনের ভবিষ্যৎ ক্ষণে ক্ষণে বদলাচ্ছে। বৈঠকের পর বৈঠক হচ্ছে। এখানে পরাশক্তি এবং আঞ্চলিক শক্তির মধ্যে বিভক্তি স্পষ্ট। শেষ পর্যন্ত কী দাঁড়ায় সেটাই দেখার বিষয়। ঘোলাপানিতে মাছ শিকারে যারা অপেক্ষমাণ তারা নানা খেলায় লিপ্ত। এই নির্বাচনে ধর্মের অপব্যবহার লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যেটা এর আগের কোনো নির্বাচনে দেখা যায়নি। নির্বাচনী আচরণবিধির পরিবর্তন ছিল সুনির্দিষ্ট খেলার অংশ। টাকার খেলা তো আছেই। আর এআই তো থেমে নেই। নানা কারণেই এই ভোট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো কারণে যদি নির্বাচনী ট্রেন আবার লাইনচ্যুত হয়, তাহলে বাংলাদেশ নিশ্চিত অস্তিত্ব সংকটে পড়বে এতে কোনো সন্দেহ নেই। — ম. চৌ। মানবজমিন
সম্পাদক : এসএম শামসুল আলম।
ফোন:- ০১৫৫০৬০৯৩০৬, ০১৮২৮৯৫২৬২৬ ইমেইল:- smshamsul.cht@gmail.com
© All rights reserved © 2023 Chtnews24.com