ডেস্ক রির্পোট:- ভারত সীমান্ত দুমদুম্যাসহ পাহাড়ের বিভিন্ন জায়গায় একটা সময় বসবাস করতো ১১০ পাংখোয়া পরিবার। যাযাবরের মতো এখানে–সেখানে তাদের বসবাস। ১৯৮১ সালে পাংখোয়াদের কয়েক যুবক দেখা করেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সাথে। আর সেই দেখাতেই তাদের শত বছরের যাযাবরের জীবনের অবসান ঘটে। জিয়াউর রহমানের ‘গিভ দেম গুড ল্যান্ড’ একটি নোটেই পাংখোয়া ১১০ পরিবারের ভাগ্য বদলে যায়। তাদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় জায়গা। আর জায়গাটি মৌজায় উন্নীত করে প্রথম হেডম্যানও নিয়োগ দেওয়া হয়। যেটি পাংখোয়াপাড়া নামে পরিচিত। পাড়াটি রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার ১২০ তিনকোনিয়া মৌজায়।
রাঙ্গামাটি শহর থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরত্বে বিলাইছড়ি উপজেলা। এই পথে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় যেতে সময় লাগে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা। সেখান থেকে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় আরো ৪০–৫০ মিনিটের দূরত্বে পাংখোয়া পাড়া। যেটি তিনকোনিয়া মৌজায় অবস্থিত।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, মূলত ভারত–বাংলাদেশের সীমান্তে বেশিরভাগ পাংখোয়াদের অবস্থান। খ্রিষ্টধর্ম পালনকারী এই জনগোষ্ঠীর বেশিরভাগ মানুষ শিক্ষিত। ১১০ পরিবার নিয়ে যাত্রা করা এই পাড়ায় বর্তমানে ১২০ পরিবারের বসবাস রয়েছে। জনসংখ্যা প্রায় ৬০০ জনের। রাইংক্ষ্যং নদীর তীর ঘেঁষে সুউচ্চ পাহাড়টি প্রায় শতাধিক সিঁড়ি ভাঙিয়ে উঠতে হয়। পাহাড়েই মূলত তাদের গ্রাম। পুরো গ্রামটি পরিচ্ছন্ন। একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও রয়েছে। প্রার্থনার জন্য রয়েছে গির্জা। গ্রামের বেশিরভাগ ঘরবাড়ি মাচাং পদ্ধতিতে তৈরি। এই গ্রামের অধিকাংশ ছেলেমেয়ে উচ্চ শিক্ষিত।

বিলাইছড়ির ১২০ তিনকোনিয়া মৌজার হেডম্যান লাল এ্যাংলিয়ানা পাংখোয়া বলেন, ১৯৮১ সালে আমি কুমিল্লা বিভাগীয় সম্মেলনে বক্তব্য দিয়েছিলাম। সেখানে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সাহেব আমাদের বললেন ১৬ জানুয়ারি বান্দরবান যাবো। সেখানে বড় প্রজেক্ট নিয়ে দেখা করার জন্য। আমাদের যেহেতু নির্ধারিত জায়গা ছিল না, তাই আমরা উনার কাছে জায়গা চাইলাম। এবং তিনি সেখানে ডিসিকে নোট লিখে দিলেন আমাদেরকে জায়গা প্রদানের লক্ষ্যে। সেই থেকে আমরা বিলাইছড়ির তিনকোনিয়া মৌজার পাংখোয়াপাড়ায় বসবাস করছি। তিনি আমাদের এলাকাটি মৌজায় উন্নীত করে হেডম্যানও নিয়োগ দিয়েছিলেন। এভাবে তিনি আমাদের বসবাসের জায়গা ও মর্যাদা প্রদান করেছিলেন। এজন্য আমরা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও রাষ্ট্রপতির উপদেষ্টা দীপেন দেওয়ানের পিতা সুবিমল দেওয়ানকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি।
গত মঙ্গলবার পাংখোয়াপাড়ায় নির্বাচনী প্রচারণায় যান রাঙ্গামাটি ২৯৯ আসনের সংসদীয় প্রার্থী এডভোকেট দীপেন দেওয়ান। সেখানে এক নির্বাচনী সভায় তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান পার্বত্য চট্টগ্রামে যে ১৩টি নৃ গোষ্ঠী রয়েছে তাদের মধ্যে পাংখোয়া জনগোষ্ঠীকে তিনি বেশি ভালোবাসতেন। কারণ তিনি তাদেরকে বসবাসের জন্য জমি দিয়েছেন, উক্ত এলাকাটি মৌজায় উন্নীত করেছিলেন এবং পাংখোয়া জনগোষ্ঠী থেকে হেডম্যান নিয়োগ দিয়েছিলেন। তিনি পাংখোয়া জনগোষ্ঠীদের মর্যাদা দিয়েছিলেন। এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণা করতে এসে তাই ভালো লাগছে। এলাকার বাসিন্দাদের কাছে তাই আমাদের চাওয়াও বেশি। আর নির্বাচিত হতে পারলে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতিধন্য এই এলাকায় বিদ্যুৎ, রাস্তাসহ নানা উন্নয়নে উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। পাহাড় ২৪
সম্পাদক : এসএম শামসুল আলম।
ফোন:- ০১৫৫০৬০৯৩০৬, ০১৮২৮৯৫২৬২৬ ইমেইল:- smshamsul.cht@gmail.com
© All rights reserved © 2023 Chtnews24.com