ডেস্ক রির্পোট:- ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রচারণার আটদিন শেষ। প্রায় অর্ধেক সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পক্ষ থেকে গণভোটের প্রচারের ক্ষেত্রে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হলো। অর্থাৎ সরকারি কর্মচারীরা গণভোটের ‘হ্যাঁ’ কিংবা ‘না’ এর পক্ষে কোনো অবস্থান নিতে পারবেন না। অথচ গত একমাস ধরে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে অবস্থান নিয়ে প্রচার চালাচ্ছেন। এমনকি প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের দেয়ালে ব্যানার সাঁটিয়ে বলা হচ্ছে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিন। পাশাপাশি মুঠোফোন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমেও সরকারের তরফে বার্তা দিয়ে একাধিকবার গ্রাহকদের বলা হচ্ছে ‘পরিবর্তনের জন্য হ্যাঁ ভোট দিন’, ‘দেশের সম্পদ পাচার ঠেকাতে গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিন। প্রশ্ন উঠেছে সরকারি কর্মচারীদের হ্যাঁ প্রচার আইন সম্মত না হলে এতোদিন কমিশন ঘুমিয়ে ছিল কেন? এ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের দেরিতে ঘুম ভাঙার কারণ কী?
এদিকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গণভোটে হ্যাঁ কিংবা না এর পক্ষে অবস্থান নিতে পারবেন না এমনকি এটি স্পষ্ট আইন লঙ্ঘন জানিয়ে বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ বরাবর চিঠি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন ইসি। সংস্থাটির কমিশনার বেগম তাহমিদা আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা হ্যাঁ, না ভোটের পক্ষে প্রচার চালাতে পারবেন না। তবে উপদেষ্টারা পারবেন তা আইনেই বলা আছে।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ইতিমধ্যে জাতির উদ্দেশ্যে ভিডিও বার্তা দিয়ে আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সরকারের উপদেষ্টারাও হ্যাঁ ভোটের প্রচারাভিযান করছেন। পাশাপাশি সরকার গণভোটের বিষয়ে ভোটারদের বোঝাতে ব্যাপক প্রচার চালাচ্ছে। তবে সুনির্দিষ্ট করে বললে, এ প্রচার হচ্ছে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে, যা নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
ভোটের তফসিল ঘোষণার পর থেকে ৬৯ জন রিটার্নিং অফিসার, ৬০০ সহকারী রিটার্নিং অফিসার, সহস্রাধিক নির্বাহী ও বিচারিক হাকিম নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করছেন। ভোটের কাজে যুক্ত হবেন আট লাখেরও বেশি ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা এবং ৯ লাখের বেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য।
নির্বাচন কমিশন বলছে, রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারসহ ভোটের কাজে থাকা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গণভোটের বিষয়ে প্রচারে বাধা নেই। তবে কোনো পক্ষে (হ্যাঁ বা না) অবস্থান জানাতে পারবেন না।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, এ বিষয়ে যথাযথ বিভাগ ব্যবস্থা নেবে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী যে কেউ গণভোট বিষয়ে সচেতন করতে পারবে বা প্রচার করতে পারবে। হ্যাঁ বা না এর পক্ষে ভোট দেওয়ার জন্য বলতে পারবেন না। তিনি বলেন, উপদেষ্টারা কোনো সরকারি কর্মকর্তা নন, তাদের গণভোটের পক্ষালম্বনে কোনো বাধা নেই।
অধ্যাদেশে যা আছে: আইন অনুযায়ী, প্রজাতন্ত্রের কাজে যুক্ত থাকা কোনো কর্মচারী কোনো প্রার্থীর পক্ষে-বিপক্ষে ভোট চাইলে তা দণ্ডনীয় অপরাধ। গণভোটে অধ্যাদেশ ২০২৫ এর ২১ ধারা ও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ১৯৭২ এর ৮৬ অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রে কর্মে নিয়োজিত কোনো ব্যক্তি গণভোটের বিষয়ে জনগণকে অবহিত বা সচেতন করতে পারবেন। অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, তবে তিনি গণভোটের পক্ষে হ্যাঁ বা বিপক্ষে না ভোট প্রদানের জন্য জনগণকে কোনোভাবে আহ্বান জানাতে পারবেন না। কেননা, এ ধরনের কার্যক্রম গণভোটের ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে। গণভোট অধ্যাদেশের ধারা ২১ এবং আরপিও’র ৮৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এটি একটি দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
গণভোট অধ্যাদেশের ২১ ধরায় অপরাধ, দণ্ড ও বিচার পদ্ধতি বিষয়ে বলা হয়েছে- ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ ও সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান মোতাবেক যেসব কার্য অপরাধ ও নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য, একই ধরনের কার্য গণভোটের ক্ষেত্রেও যতদূর প্রযোজ্য, অপরাধ ও আচরণবিধির লঙ্ঘন বলিয়া গণ্য হইবে, এবং এরূপ ক্ষেত্রে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ ও সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান প্রয়োগ করিয়া এখতিয়ারসম্পন্ন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক উক্ত অপরাধের বিচার এবং আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাইবে।
আরপিও ৮৬ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে- যদি প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত কোনো ব্যক্তি কোনোভাবে নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করিবার উদ্দেশ্যে তাহার সরকারি পদমর্যাদার অপব্যবহার করেন, তাহা হইলে তিনি অনধিক পাঁচ বৎসর এবং অন্যূন এক বৎসরের কারাদণ্ড, এবং অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় কোনো অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হইবেন।
এদিকে নির্বাচনী প্রচারের মাঝে হঠাৎ ইসি’র চিঠি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, মাঝপথে কেন ইসি চিঠি দিয়েছে বা উদ্যোগ নিয়েছে তা নিয়ে সরকারকে প্রশ্ন করা উচিত। এখানে আলোচনা করার দরকার দুইপক্ষের। এ ধরনের চিঠি তো সাংঘর্ষিক। একদিকে প্রচার চলছে অন্যদিকে চিঠি দিয়ে বলবে আইন অনুযায়ী পারবেন না। এটা তো সাংঘর্ষিক।
ইসি’র চিঠির বিষয়ে জানতে চাইলে গতকাল রাতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব ড. শেখ আব্দুর রশিদ মানবজমিনকে বলেন, আমাদের কাছে এ বিষয়ে কোনো চিঠি আসেনি। আমি সারাদিন ক্যাবিনেট মিটিংয়ে ছিলাম। তাই জানতে পারিনি।
চিঠি না পাওয়ার কথা বললেন প্রধান উপদেষ্টার সিনিয়র সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহম্মদও। তিনি বলেন, এ ধরনের চিঠি এখনো পাইনি। তবে চিঠি পাওয়ার পর ইসি’র সঙ্গে সরকারের তরফে আলোচনা হতে পারে।মানবজমিন
সম্পাদক : এসএম শামসুল আলম।
ফোন:- ০১৫৫০৬০৯৩০৬, ০১৮২৮৯৫২৬২৬ ইমেইল:- smshamsul.cht@gmail.com
© All rights reserved © 2023 Chtnews24.com