জলে গেল ১৫ কোটি টাকা!

রিপোর্টার
  • আপডেট সময় শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪
  • ৬১ দেখা হয়েছে

ডেস্ক রির্পোট:- ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে সিরাজগঞ্জ শহরের ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া কাটাখালি খাল খনন প্রকল্প শহরবাসীর কোনো কাজেই আসছে না। খননের মাত্র কয়েক বছরের মাথায় খালটি আবারও আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। সচেতনতার অভাবে একদিকে স্থানীয়রা খালের মধ্যে ময়লা ফেলার ফেলছেন, অন্যদিকে প্রভাবশালীরা খালের মুখ বন্ধ করে করছেন মাছ ও সবজির চাষ। কিন্তু এগুলো যাদের দেখার কথা, তারা আছেন চোখ বন্ধ করে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পৌরসভার তদারকির অভাব ও অব্যবস্থাপনার কারণে কোটি টাকা ব্যয়ে খননকৃত খালটি আবারও আগের অবস্থার মতো রূপ নিয়েছে। এতে জলে গেছে সরকারের টাকা। যদিও সংকট সমাধানে পৌরবাসীকে আরও সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, সিরাজগঞ্জ শহরের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত বড়াল নদী, যা কাটাখালি খাল নামে পরিচিত। ব্রিটিশ সরকারের আমলে ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারের জন্য এ খালটি খনন করে যমুনা নদীর সঙ্গে সংযোগ করা হয়েছিল। ১৯৬২ সালে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ করার ফলে খালটির সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়। কাটাখালির পানিপ্রবাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হওয়ায় শহরের মধ্য দিয়ে বয়ে চলা কাটাখালি খালটি কয়েক দফায় সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও পরে তা আর বাস্তবায়ন হয়নি। অবশেষে দেশের ছোট নদী, খাল ও জলাশয় পুনঃখনন প্রকল্পের আওতায় ২০১৯ সালে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড কাটাখালি পুনঃখননের কাজ শুরু করে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও পৌরসভার দুটি প্যাকেজে ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ২২ কিলোমিটার এ খালটি পুনঃখনন শুরু হয়। এর কাজ শেষ হয় ২০২০ সালের জুন মাসের শেষদিকে। যমুনা নদীর উৎসমুখ সদর উপজেলার বাঐতারা স্লুইসগেট এলাকা থেকে শহরের মিরপুর, বাজার স্টেশন, রেলওয়ে কলোনি হয়ে সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজের পাশ দিয়ে জানপুর, বাহিরগোলা এবং চন্দ্রকোণা হয়ে কালিঞ্জার ভেতর দিয়ে ইছামতি নদী পর্যন্ত এ খাল খনন করা হয়। এ খালটির খননকাজ সম্পন্ন হওয়ার পর বাঐতারা স্লুইসগেট খুলে দিয়ে যমুনার পানি খালে প্রবেশ করানো হয়। ফলে দীর্ঘ ৫৯ বছর পর স্বস্তি পায় সিরাজগঞ্জবাসী। কিন্তু খননের কয়েক বছর পর অযত্ন-অবহেলায় পৌরসভার সঠিক তদারকি ও সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে ময়লা আবর্জনা ফেলার কারণে খালটি আবারও আগের মতো দূষিত হয়ে গেছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা রাসেল সরকার বলেন, ‘কাটাখালি খাল এক সময় ময়লা আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছিল। মানুষ সেখান দিয়ে দুর্গন্ধে যেতে পারতেন না। কয়েক বছর আগে খালটি খনন করায় মানুষ কিছুদিন স্বস্তি পেয়েছিলেন। কিন্তু খননের কিছুদিন যেতে না যেতেই আবারও খালটি ময়লা আবর্জনায় ভরে গেছে। তা হলে খালটি খনন করে লাভ কী হলো।’

সুমন হাসান নামে আরেকজন বলেন, ‘কাটাখালি খালের দুপাশে অনেক স্থানীয়র বাড়িঘর রয়েছে। তারা খালের মধ্যে যেখানে-সেখানে ময়লা আবর্জনা ফেলছেন। এ ছাড়াও বড় বাজারের অনেক মুরগি ব্যবসায়ী রয়েছেন, যারা সেখানে মুরগির বিষ্ঠা ও বিভিন্ন ময়লা আবর্জনা ফেলছেন। দুর্গন্ধের কারণে ওই এলাকা দিয়ে যাওয়া যায় না।’

ব্যবসায়ী সালাম হোসেন জানান, অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি কাটাখালি খালের মধ্যে বাঁশের লাঠি ও জাল দিয়ে বেড়া বানিয়ে পানিপ্রবাহ বন্ধ করে রেখেছেন। সেখানে করছেন মাছের চাষ। এ ছাড়া ময়লা আবর্জনাও আটকে আছে। এতে পরিবেশদূষণসহ জীববৈচিত্র্য ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

আরেক ব্যবসায়ী রতন সরকার বলেন, ‘খননের পর সঠিক তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণ করলে কাটাখালি খালটি আর এ অবস্থায় পতিত হতো না। এটা খননের নামে সরকারের অর্থ অপচয় ছাড়া আর কিছুই হয়নি। এ জন্য দরকার সঠিক তদারকি ও সঠিক ব্যবস্থাপনা।’

কাটাখালি পাড়ের রাস্তায় কয়েকটি ডাস্টবিন স্থাপন করা হলে মানুষ আর যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলবে না জানিয়ে বড় বাজার এলাকার ব্যবসায়ী ওয়াসিম হোসেন বলেন, এ জন্য পৌরসভাকে এগিয়ে আসতে হবে।

সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজের ছাত্র মাসুদ রানা বলেন, ‘শহরের মাঝখানে কাটাখালির ওপর ১৮৮২ সালে নির্মিত হয় একটি দৃষ্টিনন্দন সেতু। ১৮০ ফুট লম্বা আর ১৬ ফুট চওড়া এ সেতুটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এটির কোনো পিলার নেই। স্টুয়ার্ট হার্টল্যান্ড নামের ব্রিটিশ ইঞ্জিনিয়ারের তৈরি এ পিলারবিহীন সেতুটির নামকরণ করা হয় ইলিয়ট ব্রিজ। তাই ঐতিহ্যবাহী ব্রিজটি রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব।’

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘খনন করা ২২ কিলোমিটার কাটাখালি খালটির ভেতরে বাঐতরা স্লুইসগেট চ্যানেল দিয়ে যমুনা নদীর পানি প্রবেশ করানো হয়েছিল। এখন দেখা যাচ্ছে খালটিতে বিভিন্ন জায়গায় ময়লা আবর্জনা ফেলে দূষণের মতো অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে শহরবাসীকে সচেতন থাকতে হবে, কোনোভাবেই যেন সেখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলা না হয়। কিন্তু খালে আবর্জনা ফেলা রোধ করা যাচ্ছে না। তাই পৌরসভার প্রশাসনকে নিয়ে কীভাবে এ দূষণ রোধ করা যায় সে চেষ্টা করছি।’

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আব্দুর রউফ মুক্তা বলেন, ‘বারবার সতর্ক করার পরও জনগণ কথা শোনে না। যেখানে-সেখানে ময়লা আবর্জনা ফেলছেন।’ পুনরায় সংস্কার করার জন্য আরেকটি নতুন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। খবরের কাগজ

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো
© All rights reserved © 2023 Chtnews24.net
Website Design By Kidarkar It solutions