আত্মগোপন থেকে বেরিয়ে আসছেন বিএনপি নেতারা

রিপোর্টার
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪
  • ৭৩ দেখা হয়েছে

ডেস্ক রিরোট:- মামলা ও গ্রেপ্তার আতঙ্ক থেকে বেরিয়ে ধীরে ধীরে মাঠের রাজনীতিতে ফিরে আসার চেষ্টা করছেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। এরই মধ্যে আড়াল থেকে প্রকাশ্যে এসে কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন অনেকে। তবে ৩০ জানুয়ারি সারা দেশে কালো পতাকা মিছিল কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে শতাধিক নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় দলটির মধ্যে আবার কিছুটা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এ কারণে পরবর্তী কর্মসূচি প্রণয়নে বিএনপি কিছুটা সময় নেবে।

যদিও ২৮ অক্টোবরের মহাসমাবেশের তিন মাস পর গত ২৬ ও ২৭ জানুয়ারি রাজধানী ঢাকা ও জেলায় জেলায় কালো পতাকা মিছিলে অংশগ্রহণ করতে দেখা যায় অনেককেই। তাদের এ উপস্থিতি জানান দিচ্ছে, আবারও রাজপথে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে সরকারবিরোধী দলগুলো।

গত শনিবার নয়াপল্টনে কালো পতাকা মিছিলের উদ্বোধন করেন দলের স্থায়ী কমিটির প্রভাবশালী সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। জামিনে মুক্তি পেয়ে আন্দোলনের মাঠে নেমেছেন দলীয় ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু। ২৮ অক্টোবরের পর বিভিন্ন সময়ে আত্মগোপন থেকে বের হয়ে নির্বাচনের আগ পর্যন্ত হঠাৎ হঠাৎ ঝটিকা মিছিল ও লিফলেট বিতরণ করেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। কিন্তু এখন তিনিও প্রায় প্রতিদিনই নয়াপল্টন কার্যালয়ে আসছেন। তার সঙ্গে দলের কিছু নেতা-কর্মী নয়াপল্টন কার্যালয়ে হাজির হচ্ছেন। সবকিছু মিলে কেন্দ্রীয় কার্যালয় এখন আবার সরগরম।

বিএনপির মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে সহিংস ঘটনার পর থেকে আড়ালে ছিলেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। গত ২৭ জানুয়ারি মাঠের কর্মসূচিতে অংশ নেন তিনি। ওই দিনই আন্দোলন চালিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে বেশ জোরালো বক্তব্য রাখেন বিএনপির অন্যতম এই নীতিনির্ধারক।

জানতে চাইলে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমি তো দেশের বাইরে ছিলাম না, ঢাকাতেই ছিলাম। বিএনপির এত কর্মসূচি হলো কীভাবে? বিগত কর্মসূচিতে এত লোকজন কোথা থেকে এল। কৌশলের অংশ হিসেবে আড়ালে থেকে নেতা-কর্মীদের সর্বোচ্চ সাপোর্ট দিয়েছি।’

গয়েশ্বর বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ কারা কারা করেছেন, কোথা থেকে করেছেন, এটা কতজন মানুষ দেখেছেন? যুদ্ধের কৌশলের অংশ হিসেবে অনেকেই সে সময়ে আড়ালে থেকেছেন। যুদ্ধের ময়দানে কোনো পক্ষই জানে না বা অনুমান করতে পারে না, সামনে কতজন আছে, দুই দিক থেকে ঘিরে ফেলেছে কি না। গুলি ফোটার পরই বোঝা যায় সামনে কতজন আছে। বিএনপি এগিয়ে যাবেই।’

২৮ অক্টোবরের পর শীর্ষ নেতাদের মধ্যে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে আটক করার পর বিভিন্ন মামলায় তাদের জেলে পাঠানো হয়। এখনো মুক্তি মেলেনি তাদের। এর বাইরে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করতে দেখা যায় তুলনামূলক কম মামলার জালে থাকা স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান ও সেলিমা রহমানকে। প্রবীণ এই নেতারা দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

হরতাল-অবরোধের সময় গ্রেপ্তারের ভয়ে আত্মগোপনে চলে যান কেন্দ্রীয় কমিটির পদধারী বেশির ভাগ নেতা। তবে তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি অনেকেরই। পুলিশের চিরুনি অভিযানে কারাবরণ করতে হয়েছে দলের ভাইস চেয়ারম্যান, যুগ্ম মহাসচিব, সাংগঠনিক সম্পাদক থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ের অসংখ্য নেতা-কর্মীকে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য দলের ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরী, শামসুজ্জামান দুদু, যুগ্ম মহাসচিব মজিবুর রহমান সরোয়ার, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব ও আতাউর রহমান ঢালী, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক সালাহ উদ্দিন আহমেদ, সমাজ কল্যাণবিষয়ক সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্যসচিব আমিনুল হক, মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন স্বপন, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু সাঈদ চাঁদ, সাইয়েদুল আলম বাবুল, শেখ রবিউল আলম রবি, আবুল হোসেন খান ও ফজলুর রহমান খোকন অন্যতম।

তবে ২৮ অক্টোবরের আগে থেকেই কারাগারে আছেন ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম পিন্টু, যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরী, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমান, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, দক্ষিণের সদস্যসচিব রফিকুল ইসলাম মজনু, সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া নুরুদ্দীন অপু, যুবদলের সাবেক সভাপতি সাইফুল আলম নীরব, যুবদল সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোনায়েম মুন্নাসহ অনেক নেতা।

বিএনপির তথ্য অনুযায়ী, ২৮ অক্টোবরের কয়েক দিন আগে-পরে থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত প্রায় ‘৮০০ মামলায় বিএনপির ২৬ হাজার নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’ সম্প্রতি মাঠের কর্মসূচিতে দেখা গেছে আড়ালে থাকা দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টুকে। এ বিষয়ে তার মন্তব্য জানতে ফোন করা হলেও রিসিভ করেননি তিনি। ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও পাওয়া যায়নি ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদকে।

বিএনপি নেতাদের মধ্যে কয়েকজন জামিনে মুক্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সাবেক সংসদ সদস্য ও বরিশাল দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবুল হোসেন খান, সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, সহ-স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিন। কারামুক্ত হয়েই আবার রাজপথে সক্রিয় হচ্ছেন তারা। স্বতঃস্ফূর্তভাবে আন্দোলনের কর্মসূচিতে হাজির হচ্ছেন অনেকে। তারা বলছেন, রাজপথ আর কারাগারই তাদের আসল ঠিকানা। দাবি আদায়ে শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকবেন বলে জানান তারা। এদিকে পুলিশ বলেছে, ওয়ারেন্টভুক্তদের পেলেই গ্রেপ্তার করা হবে। তবুও ঝুঁকি নিয়ে মাঠে নামছেন কেন্দ্রীয় ও তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। তারা বলছেন, ২৮ অক্টোবরের পর বিএনপিকে মাঠে দাঁড়াতে কোনো স্পেস দেয়নি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। যাকে যেখানে পাওয়া গেছে, তাকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। খবরের কাগজ

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো
© All rights reserved © 2023 Chtnews24.net
Website Design By Kidarkar It solutions