রবিবার, ১৭ অক্টোবর ,২০২১

Bangla Version
  
SHARE

সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ০৩:১৬:১৩

রাঙ্গামাটির সবুজ পাহাড় হাতছানি দিচ্ছে ,ডানা মেলেছে পাহাড়ের নৈসর্গিক প্রকৃতির সৌন্দর্য

রাঙ্গামাটির সবুজ পাহাড় হাতছানি দিচ্ছে ,ডানা মেলেছে পাহাড়ের নৈসর্গিক প্রকৃতির সৌন্দর্য

এসএম শামসুল আলম:- বৈশ্বিক মহামারী করোনার বিপর্যয় মোকাবেলা করে ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে রাঙ্গামাটির পর্যটন খাত। সচল হয়ে উঠছে এ খাতের ব্যবসা-বাণিজ্য। প্রাণ ফিরছে এখানকার পর্যটনে। মৌসুমের শুরুতেই পর্যটকের আগমন ঘটছে উল্লেখযোগ্য হারে। পর্যটকদের আগমন ঘিরে নিরাপদ ভ্রমণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নিয়েছেন পর্যটন ব্যবসায় সংশ্লিষ্টরা। বর্ষার পর শরৎ-হেমন্তের শেষে উঁকি দিচ্ছে শীত। ধীরে ধীরে কমছে উষ্ণতার তেজ। ডানা মেলেছে পাহাড়ের নৈসর্গিক প্রকৃতির সৌন্দর্য। হাতছানি দিচ্ছে সবুজ পাহাড়, কাপ্তাই হ্রদের স্বচ্ছ জল আর পাহাড়ি ঝরনাগুলো। কখনও কখনও দোলা দিয়ে যাচ্ছে মৃদুমন্দ হিমেল হাওয়া। অরণ্য, পাহাড়, ঝরনা আর হ্রদের শহর রাঙ্গামাটি এখন পুরোদমে প্রস্তুত পর্যটকদের বরণে। সাড়া মিলছে প্রকৃতিপ্রেমী আর ভ্রমণপিপাসু মানুষের। এলোমেলো সারিতে সাজানো উঁচু-নিচু আর ছোট-বড় অসংখ্য পাহাড়ের সমাবেশ। যেদিকে চোখ যায় স্বচ্ছ জলরাশি আর বিস্তীর্ণ সবুজের হাতছানি। সবুজ পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে রয়েছে অসংখ্য উচ্ছ্বল ঝর্ণাধারা। নৈসর্গিক লীলাভূমি পাহাড়ি জনপদ রাঙ্গামাটি যেন শিল্পীর হাতে আঁকা নিখাঁদ জীবন্ত ছবি। তার সান্নিধ্য পেতে ছুটে যান প্রকৃতিপ্রেমীরা। এবার করোনা পরিস্থিতিতে সেই সম্পর্কে ছেদ পড়ে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মার্চ থেকে জুলাই পর্যন্ত পর্যটকশূন্য থাকায় মারাত্মক মন্দাভাব দেখা দেয় পর্যটন ব্যবসায়। রাঙ্গামাটি চেম্বার অব কমার্সের মতে, করোনায় জেলায় পর্যটনের পাঁচটি খাতে দিনে গড়ে অন্তত সোয়া দুই কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। খরচ কমাতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে কর্মী ছাঁটাইয়ের মতো কঠিন সিদ্ধান্তও নিতে হয়েছে। কিন্তু সেই ক্ষত এখন শুকোতে শুরু করেছে। চাঙ্গা হতে শুরু করেছে পর্যটন ব্যবসা। রাঙ্গামাটিতে পর্যটকদের মূল আকর্ষণ ৩৩৫ ফুট দৈর্ঘের মনোরম ঝুলন্ত সেতু ঘিরেই। তাই পর্যটকরা প্রথমেই ছুটে যান পর্যটন কমপ্লেক্স এলাকায়। বছরে প্রায় দুই লাখ দেশি ও বিদেশি পর্যটক সেতুটি দেখতে যান। সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড় লেগে থাকে। এছাড়া শহরের পুলিশের ‘পলওয়েল পার্ক’, জেলা প্রশাসনের ‘রাঙ্গামাটি পার্ক’, সেনাবাহিনীর ‘আরণ্যক’, বরকল উপজেলা প্রশাসনের ‘সুবলং ঝর্ণা', জেলা পুলিশের সুখী নীলগঞ্জ এবং রাজবন বিহার এলাকায় প্রতিনিয়ত ভিড় জমান বেড়াতে যাওয়া পর্যটকরা। এছাড়া হালের আকর্ষণ ‘সাজেক ভ্যালি’ পর্যটকদের টানছে আরও অধিক। হোটেল-মোটেল, রেস্টুরেন্ট (খাবারের দোকান), টেক্সটাইল (পাহাড়িদের তৈরি কাপড়), নৌযান এবং বিনোদন কেন্দ্রকে (ঝুলন্ত সেতুসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান) ঘিরেই মূলত রাঙ্গামাটির পর্যটন খাত। রাঙ্গামাটি শহরে বেসরকারি ৫০ হোটেল-মোটেল রয়েছে। প্রতিদিন তিন হাজার অতিথি হোটেল-মোটেলে থাকতে পারেন। পর্যটকদের সেবা দিতে এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন পাঁচ শতাধিক। এছাড়া রাঙ্গামাটির সাজেকে ১০৬টি কটেজ-রিসোর্ট রয়েছে। সেখানে ১২ শতাধিক শ্রমিক-কর্মচারীও আছেন। জেলা প্রশাসক বলেন, সরকারের সিদ্ধান্ত মোতাবেক স্বাস্থ্যবিধি মেনেই জেলার পর্যটন স্পটগুলো খুলে দেয়া হয়েছে। পর্যটকরা অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঘুরতে যাবেন। এটা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট পর্যটন কেন্দ্রের কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে। এছাড়া স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে প্রতিদিনই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। শুক্রবার দুপুরে ঝুলন্ত সেতু ও পলওয়েল পার্কে গিয়ে দেখা গেছে, মাস্ক ছাড়া প্রবেশ নিষেধ সাইনবোর্ড টানিয়ে দেয়া হয়েছে প্রবেশ মুখে। পর্যটকরাও স্বাস্থ্যবিধি মেনেই সেখানে প্রবেশ করছেন। ঝুলন্ত সেতুর টিকিট বিক্রেতা হাসান আহমেদ সোহেল জানান, শুক্র-শনিবারসহ সরকারি ছুটির দিনে গড়ে প্রায় দেড় হাজারের বেশি পর্যটক আসছেন। নরসিংদী সদর থেকে বেড়াতে যাওয়া নাজমুল হাসান ভুইয়া (৩৫) জানান, রাঙ্গামাটিতে এই প্রথম বেড়াতে গেছেন তিনি। সঙ্গী আটজনের বহর। তিনি বলেন, চমৎকার প্রকৃতি রাঙ্গামাটির। আরেক পর্যটক নরসিংদীর ব্রাহ্মণদি কেকেএম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক আল আমিন (৩৪) বলেন, রাঙ্গামাটি শহরের আবাসিক হোটেলগুলোতে লিফট, র্যাম্প দরকার। এছাড়া পর্যটন স্পটগুলো কেন বিখ্যাত তার ইতিহাস এতিহ্য নিয়ে ‘তথ্যফলক’ থাকলে সুবিধা হতো। মৌসুমের শুরুতেই চোখে পড়ার মতো পর্যটকদের আগমন ঘটায় খুশি সংশ্লিষ্টরাও। রাঙ্গামাটি আবাসিক হোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মঈন উদ্দিন সেলিম বলেন, মৌসুমের শুরুতেই পর্যটকদের আগমন ঘটছে চোখে পড়ার মতো। তবে গত বছরের এ সময়ের চেয়ে এখনও কম। আশা করছি, গত পাঁচ মাসের লোকসান কমিয়ে আনতে পারব। রাঙ্গামাটি ট্যুরিস্ট পুলিশের এসআই মো. কামাল উদ্দিন বলেন, পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশ সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে। রাঙ্গামাটি পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক সৃজন বিকাশ বড়ুয়া বলেন, গত কয়েক দিন ধরে পর্যটকের আগমন শুরু হয়েছে। তবে গত বছরের এ সময়ের চেয়ে এখনও কম। বর্তমানে পর্যটন মোটেলের কক্ষগুলো প্রায় ৭০ ভাগ বুকিং আছে। রাঙ্গামাটি জেলার দর্শনীয় স্থান--- পাহাড়ের পরতে পরতে লুকিয়ে থাকা সবুজ রূপ বৈচিত্রের শ্যামলভূমি রাঙ্গামাটি জেলার দর্শনীয় স্থান গুলো দেশী-বিদেশী পর্যটকদের দোলা প্রতিটি মুহূর্তে, যার টানে পর্যটকরা আবারও ফিরে আসে প্রাকৃতিক নৈসর্ঘের লীলাভূমি এ রাঙ্গামাটি জেলায়। কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ প্রকল্প, কর্ণফুলী হ্রদ, পর্যটন মোটেল ও ঝুলন্ত সেতু, সুবলং ঝর্ণা, কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান, উপজাতীয় যাদুঘর, পেদা টিং টিং, টুকটুক ইকো ভিলেজ, যমচুক, রাইংখ্যং পুকুর, নির্বানপুর বন ভাবনা কেন্দ্র, রাজবন বিহার, ঐতিহ্যবাহী চাকমা রাজার রাজবাড়ি, উপজাতীয় টেক্মটাইল মার্কেট, ফুরমোন পাহাড়, নৌ বাহিনীর পিকনিক স্পট, রাজস্থলী ঝুলন্ত সেতু, সাজেক ভ্যালী, আর্যপুর ধর্মোজ্জল বনবিহার, ন-কাবা ছড়া ঝর্ণা, ডলুছড়ি জেতবন বিহার, বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র, কাট্টলী বিল রাঙ্গামাটি জেলার আকর্ষনীয় দর্শনীয় স্থান। হ্যাপি আইল্যান্ড – রাঙ্গামাটি---- রাঙ্গামাটি সেনা রিজিয়নের তত্ত্বাবধানে রাঙ্গামাটি আরণ্যক রির্সোটের পাশে কাপ্তাই হ্রদের কোল ঘেষে ৪৫ শতক জায়গার উপর তৈরী হয়েছে শিশু কিশোরদের বিনোদন কেন্দ্র হ্যাপী আইসল্যান্ড (Happy iland)। এই হ্যাপী আইসল্যান্ডে শিশুদের জন্য রয়েছে অত্যাধুনিক সুইমিং পোল, পানির রাইডার বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলার জিনিস সহ বিনোদনের জন্য অসংখ্য সামগ্রী। একজন শিশু ঢাকার ওয়াটার ল্যান্ডের যে আনন্দ উপভোগ করতো তারই আলোকে রাঙ্গামাটির হ্যাপী আইস ল্যান্ডে শিশুরা বিনোদন পাবে। এ ছাড়াও বিনোদনের ব্যবস্থার পাশাপাশি রয়েছে পিকনিকের ব্যবস্থা। হ্যাপি আইল্যান্ড এর প্রবেশ ফি ৩০০ টাকা । কোথায় থাকবেন – চাইলে সেনাবাহিনী দ্বারা পরিচালিত সম্পূর্ন নিরাপদ আরণ্যক রিসোর্টেই থাকতে পাববেন।আরণ্যক রিসোর্টে থাকতে চাইলে যোগাযোগ করুন- 01769-312021। অথবা শহরের অন্যান্য রিসোর্ট কিংবা হোটেল গুলোর মধ্যে রাঙ্গামাটি শহরে পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্স ছাড়াও রয়েছে বিভিন্ন হোটেল-মোটেল। পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্সে যোগাযোগ ০৩৫১-৬৩১২৬। হোটেলের মধ্যে রয়েছে হোটেল সুফিয়া ইন্টারন্যাশনাল: ০৩৫১-৬২১৪৫/০১৯৩৫১৪৭১৩৮, হোটেল প্রিন্স: ০১৭৭৫১৯৬৬৬৪, মোটেল জজ: ০৩৫১-৬৩৩৪৮/০১৯১২৭৭২৮০১, গ্রিন ক্যাসেল: ০৩৫১-৬১২০০, হোটেল সাংহাই: ০৩৫১৬১৪০২/০১৭৩০১৯৫৭৭৮। কিভাবে যাবেন- ঢাকা থেকে রাঙ্গামাটির সরাসরি বাস রয়েছে। আবার চিটাগং হয়েও যাওয়া যায়। যে পথেই যান না কেন খরচ হবে ৬৫০ টাকার মধ্যে। বাসে উঠতে পারবেন কল্যাণপুর, কলাবাগান, সায়েদাবাদ থেকে। রাঙ্গামাটি পৌছানোর পর যেতে হবে রাঙ্গামাটি সেনানিবাসের আরণ্যক রিসোর্ট। আরণ্যক রিসোর্ট – রাঙ্গামাটি রাঙ্গামাটি শহরের সেনানিবাস এলাকায় অপরুপ সুন্দর ছায়া ঘেড়া প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে তোলা আরণ্যক রিসোর্ট (Aronnak Holiday Resort) যেন শিল্পির তুলিতে আকা নিখুদ একটি ছবি। ছবি মত সুন্দর কাপ্তাই হ্রদে ঘেরা এ রিসোর্টের ছিমছাম পরিবেশ আপনাকে মুগ্ধ করবেই। মন ভোলানো এ রিসোর্টের প্রথান আকর্ষন এর পরিবেশ ও কাপ্তাই লেকের নীল জলরাশিতে পেডেল বোটে মনের আনন্দে ঘুড়ে বেড়ানো। ছোটদের জন্য আরণ্যক রিসোর্ট এ রয়েছে বিভিন্ন রকমের খেলার রাইড। প্রবেশ মূল্য হচ্ছে ৫০ টাকা। শুধু ঘুড়ে বেড়ানোই নয় আরণ্যক রিসোর্টে থাকা–খাওয়ারও ব্যবস্থা রয়েছে। কোথায় থাকবেন – চাইলে সেনাবাহিনী দ্বারা পরিচালিত সম্পূর্ন নিরাপদ আরণ্যক রিসোর্টেই থাকতে পাববেন।আরণ্যক রিসোর্টে থাকতে চাইলে যোগাযোগ করুন- 01769-312021। অথবা শহরের অন্যান্য রিসোর্ট কিংবা হোটেল গুলোর মধ্যে রাঙ্গামাটি শহরে পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্স ছাড়াও রয়েছে বিভিন্ন হোটেল-মোটেল। পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্সে যোগাযোগ ০৩৫১-৬৩১২৬। হোটেলের মধ্যে রয়েছে হোটেল সুফিয়া ইন্টারন্যাশনাল: ০৩৫১-৬২১৪৫/০১৯৩৫১৪৭১৩৮, হোটেল প্রিন্স: ০১৭৭৫১৯৬৬৬৪, মোটেল জজ: ০৩৫১-৬৩৩৪৮/০১৯১২৭৭২৮০১, গ্রিন ক্যাসেল: ০৩৫১-৬১২০০, হোটেল সাংহাই: ০৩৫১৬১৪০২/০১৭৩০১৯৫৭৭৮। কিভাবে যাবেন- ঢাকা থেকে রাঙ্গামাটির সরাসরি বাস রয়েছে। আবার চিটাগং হয়েও যাওয়া যায়। যে পথেই যান না কেন খরচ হবে ৬৫০ টাকার মধ্যে। বাসে উঠতে পারবেন কল্যাণপুর, কলাবাগান, সায়েদাবাদ থেকে। রাঙ্গামাটি পৌছানোর পর যেতে হবে রাঙ্গামাটি সেনানিবাসের আরণ্যক রিসোর্ট। রাইন্যা টুগুন ইকো রিসোর্ট – রাঙ্গামাটি-- ইকো-টুরিজমের ধারণা নিয়ে গড়ে উঠেছে বেসরকারি পর্যটনকেন্দ্র রাইন্যা টুগুন (Rainya Tugun Eco Resort )। প্রায় ২৫ একর জায়গা জুড়ে রাইন্যা টুগুন ইকো রিসোর্টে রয়েছে দেশী বিদেশী অনেক ফুল, ফল এবং ঔষধী গাছের বিশাল সমারোহ। ভোরের আদ্রতায় ভেজা ঘাসের বনে যখন চলে ফড়িংসহ নানা কীট পতঙ্গের মিলনমেলা তখন নিশ্চয় মনে পড়বে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ সংক্রান্ত কারিগরী জ্ঞান কত সুক্ষ ভাবে প্রয়োগ ঘটিয়েছে রাইন্যা টুগুন ইকো রিসোর্ট কতৃৃপক্ষ। পক্ষান্তরে, গোধুলী সন্ধ্যায় রাঙা রবির রক্তিম আভা চিকচিক করে যখন নীল পাহাড় ভেদ করে আধারের সাথে আলিঙ্গনে নেমে পড়ে তখন নাম না জানা হাজারো বুনো পাখির নীড়ে ফেরার আয়োজন সত্যিই রোমাঞ্চকর। আর আপনি যদি নিরালায় বসে একামনে একটু ধ্যান করতে চান তবে এই রাইন্যা টুগুন ইকো রিসোর্ট আপনাকে সে পরিবেশ নিশ্চিত করবে। এই রাইন্যা টুগুন ইকো-ভ্যালি যেন এক টুকরো পার্বত্য চট্টগ্রাম। রাইন্যা টুগুনের মাঝে যে ছোট ছোট টিলা আছে সেগুলির নামের মধ্যে আছে বেশ বৈচিত্র্য- ফুরোমোন, ফালিটাঙ্যা চুগ, কেওক্রাডং, আলুটিলা, সাইচলমোন যেগুলি দেখার জন্য ভ্রমন পিপাসুরা ছুটে আসে বারংবার রাঙ্গামাটি, বান্দরবান এবং খাগড়াছড়ি। ফালিটাঙ্যাচুগ এর খোলা মাঠে আপনি বন্ধুদের সাথে মেতে উঠতে পারেন প্রাণের আড্ডায়। ‘ওপেন ইয়ার্ড’ অণুষ্ঠান করার জন্যে এই ফালিটাঙ্যাচুগ প্রস্তুত করা হয়েছে। অপর দিকে চিম্বুক চুড়ার সন্নিকটে তিনদিক থেকে জল পরিবেষ্টিত ‘নৌগাঙ’ রয়েছে যেখানে দর্শনার্থীদের নৌযান ভিড়ানোর নির্ধারিত জায়গা। এছাড়া কাপ্তাইবাধের ফলে বাস্তচ্যুত কামিলাছড়ি পাহাড়ি গ্রাম, এ গ্রামবাসীর সান্নিধ্যে তাদের জীবন প্রণালী আপনাকে ভাবনার এবং দেখার খোরাক জোগাবে। রাইন্যা টুগুন ইকো রিসোর্টের চারপাশে কাপ্তাই হ্রদের সবুজ জলরাশিতে গোসল বা সাতাঁর কাটার (লাইফ জ্যাকেট দিয়ে) জন্য অপূর্ব সুযোগ আছে এখানে। এগুলোতেই শেষ নয়। প্রকৃতির সানিধ্যে থেকে সবুজের সাথে মানুষের মিতালী তৈরী করার জন্যে ভিলা/কটেজ কটেজ নির্মাণের উদ্যোগ ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। আর যারা নানা অনুষ্ঠান, মিটিং বা সভা করতে চান তাদের জন্য নিমীর্ত হয়েছে কনভেনশন হল। কাম ‘বাওচখানা’ রেস্টুরেন্ট, ভোজনরসিকদের জন্য রয়েছে স্থানীয় খাবারের পাশাপাশি দেশী এবং বিদেশী খাবারের সুব্যবস্থা। ভ্রমন পিপাসুদের থাকার সুব্যবস্থা হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে পাহাড়িদের নির্মাণশৈলী অনুকরনে ভিলা/কটেজ। যোগাযোগ : E-mail: rainyatugun@yahoo.com, মোবাইল : ০১৫৫১৭০৮২৪৪ ওয়েব সাইট – http://www.rainyatugun.com/ যেভাবে যাবেনঃ ঢাকা থেকে রাঙ্গামাটির সরাসরি বাস রয়েছে। আবার চিটাগং হয়েওযাওয়া যায়। যে পথেই যান না কেন খরচ হবে ৬৫০ টাকারমধ্যে। বাসে উঠতে পারবেন কল্যাণপুর, কলাবাগান, সায়েদাবাদ থেকে। তাছাড়া চট্টগ্রাম থেকে যেতে চাইলে নগরের অক্সিজেন মোড় থেকে বেসরকারি পরিবহনের বাস এবং কদমতলী থেকে বিআরটিসির বাস পাওয়া যায়। বাসে ১১০ টাকায় পাহাড়ীকা পরিবহন আর ৯০ টাকায় বিরতিহীন পরিবহনে মাত্র আড়াই ঘন্টায়ই পৌঁছে যাবেন পাহাড়ি শহর রাঙ্গামাটি। পাহাড়ীকা বা বিরতিহীন সকাল ছ’টা থেকে টাকা রাত ৮ টা অব্দি ৪০ মিনিট বিরতিতে ছাড়তেই থাকে রাঙ্গামাটির উদ্দেশ্যে। এখানে যেতে হলে দুই পথে যাওয়া যায় – ১। কাপ্তাই থেকে কাপ্তাই-রাঙ্গামাটি সড়কে মাত্র ৪ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে। রাঙ্গামাটি শহরের যে কোন স্থান থেকে, তবলছড়ি এবং আসামবস্তী থেকে সিএনজি, মাইক্রোবাস, প্রাইভেট কার এবং মোটর সাইকেলে করে খুব সহজে যাওয়া যায়। রাঙামাটি শহর থেকে সড়ক পথে এর দূরত্ব প্রায় ১৮ কি:মি:। ২। বোটে বা লঞ্চেও যাওয়া যায় রাইন্যা টুগুনে খুব সহজে। রাইন্যা টুগুন যাওয়ার জন্য লোকাল বা লাইন বোটের কোন ব্যবস্থা না থাকলেও ভাড়া করা বোট বা লঞ্চ এর সুবিধা নিতে পারেন। আর এ বোট বা লঞ্চ সহজে পাওয়া যাবে রির্জাভ বাজার এবং তবলছড়ি বোট ঘাট থেকে। বোটে যাওয়ার মধ্যে আলাদা প্রাপ্তি হচ্ছে কাপ্তাই হ্রদের ছলাৎ ছলাৎ ঢেউয়ের সাথে বন্ধুত্ব এবং তার চারপাশে বির্স্তীণ বিশাল জলরাশির শীতল স্পর্শে স্বর্গ সুখের হাতছানি। সড়ক পথে গেলেও আপনার প্রাপ্তি কম নয় । সাপের মতো আকাঁবাকাঁ পথ আর রোডের এক পাশে কাপ্তাই হ্রদের নীল জলরাশি অন্যপাশে উচু-নিচু আর ছোট বড় সবুজ পাহাড় আপনাকে পথ দেখিয়ে নিয়ে যাবে আপনার গšতব্যে। আর কাপ্তাই থেকে যেতে চাইলেও খুব সহজে আপনারা যেতে পারেন রাইন্যা টুগুন ইকো রিসোর্ট। কাপ্তাই নতুন বাজার থেকে এর দুরত্ব ৩ কিলোমিটার। মোটর সাইকেল, অটোরিক্সা বা মাইক্রো বাস দিয়ে যাওয়া যায় এই রাইন্যা টুগুন ইকো রিসোর্ট এ। তাছাড়া রাইন্যা টুগুন ইকো রিসোর্ট এর খুব কাছে নেভী ক্যাম্পের পর্যটন স্পটও আপনি ঘুরে আসার বাড়তি সুযোগ নিতে পারেন। সাজেক ভ্যালী – রাঙ্গামাটি--- বর্তমান সময়ে পর্যটকদের কাছে যে কয়টি দর্শনীয় স্থান সবচেয়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে তার মধ্যে রাঙ্গামাটি জেলায় সাজেক ভ্যালী অন্যতম। বাংলাদেশের একটি অন্যতম সুন্দর সাজেক ভ্যালী (Sajek Valley) এমন একটি জায়গা যেখানে ভাগ্য ভাল হলে ২৪ ঘণ্টায় আপনি প্রকৃতির তিনটা রূপই দেখতে পারবেন। কখনো খুবই গরম একটু পরেই হটাৎ বৃষ্টি এবং তার কিছু পরেই হয়তো চারদিকে ঢেকে যাবে কুয়াশার চাদরে । আকবাকা পাহাড়ী পথ বেয়ে মেঘের রাজ্যের ভিতর দিয়ে সাজেক যাওয়া সত্যিই অসাধারন। সাজেক রাঙ্গামাটি জেলার সর্ববৃহৎ ইউনিয়ন। সাজেক যদিও রাঙ্গামাটি জেলায় অবস্থিত তবে যাতায়াতের সহজ পথ খাগড়াছড়ি-দিঘিনালা রোড। রাঙ্গামাটির অনেকটা অংশই দেখা যায় সাজেক ভ্যালি থেকে। খাগড়াছড়ি থেকে ৬৯ কি.মি. এবং বাঘাইছড়ি উপজেলা থেকে ৩০ কি.মি. দুরের সাজেকের পুরোটাই পাহাড়ে মোড়ানো পথ। প্রকৃতির এই রুপ যেন রাঙ্গামাটির ছাদ! নয়নাভিরাম অরণ্যভূমি আর পাহাড়ের বন্ধনে যেখানে মেঘের দল প্রেমে মেতে থাকে। খাগড়াছড়ি থেকে সাজেক যেতে পরবে বেশ কিছু পাহাড়ী বাজার যেখানে সকালের নাস্তা খাওয়া যাবে। এর মধ্যে বাঘাইহাট বাজার, মাছালং বাজার অন্যতম। মাছালং বাজার এলাকা সাজেক ইউনিয়নের প্রধান কেন্দ্রস্থল। এখান থেকে সাজেকের দূরত্ব ১৮ কি.মি.। পাশের সীমান্ত ঘেঁষা ভারত থেকে আসা মাছালং নদীর অববাহিকায় গড়ে উঠেছে এই বাজার। যাওয়ার পথে দেখা যাবে পাহাড়ী লোকালয়, ঝুম চাষ, বিভিন্ন নদী, আর্মি ও পুলিশ ক্যাম্প। এর বাইরে পুরোটা পথ জুড়ে সবুজ পাহাড়, যা নিজেকে আবৃত করে রাখে কুয়াশার নরম চাদরে। কুয়াশার ঘনত্ব ভেদ করে মাঝে মাঝে গাড়ি চালানো বেশ কষ্টকর হয়। যাওয়ার পথে মোট চারটি আর্মি ও পুলিশ ক্যাম্প এ রিপোর্ট করতে হবে। রুইলুই পাড়া সাজেক উপত্যকার মূল কেন্দ্র। সাজেক ভ্যালীর বিজিবি ক্যাম্প থেকে ১ কি.মি. আগে রুইলুই পাড়ায় লুসাই, পাংখোয়া, ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর বসবাস। পাড়ার সবগুলো বাড়ির রং লাল-সবুজ। এছাড়া সাজেক থেকে ২০/২৫ মিনিটের হাঁটা পথ কংলাক পাড়া। পাংখোয়াদের বসবাস এখানে। সব মিলিয়ে ১০ টি পরিবারের ১০০ সদস্যের বসবাস হবে। বিশাল পাথরখণ্ডের পাদদেশেই কংলাক পাড়ার অবস্থান। কংলাকের পাথরচূড়ায় দাঁড়িয়ে পুরো সাজেক উপত্যকা চমৎকারভাবে এক নজরে দেখা যায়। কংলাক পাড়া রাঙ্গামাটি জেলার অন্যতম উচ্চতম স্থান, যার উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২০০০ ফিট উপরে। কংলাক পাড়া থেকে আকাশ পরিষ্কার থাকলে ভারতের লুসাই পাহাড় দেখা যায়। এই লুসাই পাহাড় থেকে বাংলাদেশের কর্ণফুলী নদীর উৎপত্তি হয়েছে যা রাঙ্গামাটি হয়ে চট্টগ্রামের ভিতর দিয়ে এসে বঙ্গোপসাগড়ের সাথে মিলেছে। রাতে এই দুর্গম পাহাড়ের চুড়ায় যখন সোলারের কল্যাণে বাতি জ্বলে উঠে তখন সৃষ্টি হয় অসাধারণ এক পরিস্থিতি । অনেক বাচ্চারা রোড লাইটের নিচে বই নিয়ে বসে পড়ে অথবা ঐ টুকু আলোর ভিতরেই খেলায় মেতে উঠে । সাজেকে ৩টা হ্যালি প্যাড আছে ৩টার সৌন্দর্য তিন রকম । এছাড়া রুইলুই পারা হতে হেটে আপনি কমলং পারা পর্যন্ত যেতে পারেন এই পারাটিও অনেক সুন্দর এবং অনেক উচুতে অবস্থিত । কমলার সিজনে কমলা খেতে ভুলবেন না । সাজেকের কমলা বাংলাদেশের সেরা কমলা । বাংলাদেশ আর্মিদের দারা রুইলুই পারার অধিবাসীদের জন্য একটা ছোট তাত শিল্প গরে তোলা হয়েছে । সুন্দর সুন্দর গামছা ,লুঙ্গী পাওয়া এখানে । কখন যাবেনঃ – শুধুই ঘুরাঘুরির জন্য হলে শীতকাল যাওয়া সবচেয়ে ভালো। আর আপনি যদি এডভেঞ্চার প্রিয় হন আর পাহাড়ের সত্যিকারের সৌন্দর্য দেখতে চান তবে বর্ষাকালে আসুন। কেথায় থাকবেন – সাজেকে থাকার জন্য বেশ কিছু ভালো মানের রিসোর্ট আছে যাতে আপনি নিশ্চিত্রে নিরাপদে পরিবার বা বন্ধুদের নিয়ে থাকতে পারবেন। রুইলুই পাড়া/ সাজেক রিসোর্ট : এটি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পরিচালিত রিসোর্ট। যা সাজেকে অবস্থিত। যার দ্বিতীয় তলায় চারটি কক্ষ আছে। ভি আই পি কক্ষ ১৫,০০০ টাকা। অন্যটি ১২,০০০ টাকা। অপর দুইটি ১০,০০০ টাকা করে প্রতিটি। খাবারের ব্যবস্থা আছে। যোগাযোগ : খাগড়াছড়ি সেনানিবাসের গিরি থেবার মাধ্যমে বুকিং দিতে হবে। যার নম্বর : ০১৮৫৯০২৫৬৯৪। আরেকটি নম্বর : ০১৮৪৭০৭০৩৯৫। সাজেকের সকল রিসোর্টের নাম ও মোবাইল নাম্বার দেখতে এখানে ক্লিক করুন। রুন্ময়ঃ – এটি সাজেকে অবস্থিত। এর নীচ তলায় তিনটি কক্ষ আছে। প্রতিটির ভাড়া ৪৪৫০ টাকা। প্রতিটি কক্ষে ২ জন থাকতে পারবেন। ৬০০ টাকা দিয়ে অতিরিক্ত বেড নিতে পারবেন। উপরের তলায় দুইটি কক্ষ আছে ভাড়া ৪৯৫০ টাকা। প্রতিটি কক্ষে দুই জন থাকতে পারবেন। এটাতেও ৬০০ টাকা দিয়ে অতিরিক্ত বেড নিতে পারবেন। চারটি তাবু আছে প্রতি তাবুতে ২৮৫০ টাকা দিয়ে চার জন থাকতে পারবেন। যোগাযোগ : ০১৮৬২০১১৮৫২। আলো রিসোরঃ – এটি সাজেকের একটু আগে রুইলুই পাড়াতে অবস্থিত। এটিতে মোট ৬ টি রুম আছে। ডাবল রুম ৪ টি ( ২টি খাট করে) । যার প্রতিটির ভাড়া ১০০০ টাকা। সিংগেল রুম ২ টি । প্রতিটির ভাড়া ৭০০ টাকা । যোগাযোগ : পলাশ চাকমা – ০১৮৬৩৬০৬৯০৬। ইমানুয়েল রিসোর্টঃ – এটিতে ৮ টি রুম আছে। সব গুলো কমন বাথ। রুম প্রতি ভাড়া ১৫০০ টাকা ও ৭০০ টাকা। ১৫০০ টাকার রুমে দুইটি ডাবল বেড আছে। ৬ জন থাকতে পারবেন। ৭০০ টাকার রুমে ২ টি বেড আছে। যোগাযোগ: ০১৮৬৫৩৪৯১৩০, ০১৮৬৯৪৯০৮৬৮( বিকাশ) এই রিসোর্টটা একদম সাধারণ একটা রিসোর্ট ,বন্ধু বান্ধব বা যাদের থাকা নিয়ে কোন অভিযোগ নেই তারা এখানে থাকতে পারেন মেয়ে বা পরিবারের জন্য এটা আদর্শ রিসোর্ট নয় । সারা রিসোর্টঃ – এটি রুইলুই পাড়ায় অবস্থিত। এর মালিক রুইলুই পাড়ার কারবারী মনা দাদা। এখাণে ৪ টি রুম আছে। তিনটি এটাচ বাথ। একটি কমন বাথ। প্রতি রুমের ভাড়া ১০০০ টাকা। ৪ টি নিলে ৩৬০০ টাকা। প্রতি রুমে একটি খাট আছে। ২ জন থাকা যাবে। রুম গুলো একটু ছোট। টিনের তৈরী। সোলার আছে। যোগাযোগ: ০১৫৫৪৫৩৪৫০৭। রুইলুই পাড়া ক্লাব হাউজঃ – এটি সাজেকের একটু আগে রুইলুই পাড়াতে অবস্থিত। এখানে ১৫ জনের মত থাকতে পারবেন। ভাড়া জনপ্রতি ১০০ টাকা করে দিতে হবে। নিজেরা রান্না করে খেতে পারবেন। এর কেয়ার টেকার মইয়া লুসাই দাদা সব ব্যবস্থা করে দিবে। লক্ষন নামেও একজন আছে, প্রয়োজনে আপনাদের সহযোগীতা করবে। এখানে দুইটি টয়লেট আছে। একটি ফ্রি ব্যবহার করতে পারবেন। অন্যটির জন্য ২০০ টাকা প্রদান করতে হবে। যোগাযোগ : মইয়া লুসাই – ০১৮৩৮৪৯৭৬১২। লক্ষন – ০১৮৬০১০৩৪০২। সাজেক রিসোর্ট ,রুন্ময় রিসোর্ট আর আলো রিসোর্ট আপনার পরিবার বলেন আর মেয়ে মানুষ বলেন সবার জন্যই পারফেক্ট । আর ইমানুয়েল রুইলুইপাড়া ক্লাব হাউজ এগুলো পরিবার বা মেয়েদের থাকতে অসুবিধা হতে পারে । এগুলো বন্ধু বান্ধব বা যাদের থাকা নিয়ে কোন অভিযোগ নেই যেখানে রাইত সেখানেই কাইত টাইপ তাদের জন্য পারফেক্ট । কোথায় খাবেনঃ সাজেক রিসোর্ট, রিসোর্ট রুনময়,টেন্ট এবং আলো রিসোর্টে থাকলে খাবারের ব্যাবস্থা রিসোর্ট থেকেই হবে।ক্লাব হাউজে থাকলে সেখানকার কেয়ারটেকার কে দিয়ে খাবারের ব্যাবস্থা করতে পারবেন।এছাড়া যারা ক্যাম্পিং করবেন বা বাহিরে থাকবেন তারা মারুতি হোটেলসহ আরো দুএকটা আদিবাসী পরিচালিত হোটেলে খেতে পারবেন,তবে দুই ঘন্টা আগেই খাবার অর্ডার করতে হবে।খরচ হবে প্রতিবেলা ১৫০-২০০টাকা।রিসোর্ট রুনময় এবং আর্মি পরিচালিত ক্যান্টিনে অর্ডার করলেও ওরা খাবার করে দেবে তবে এখানে দাম তুলনামূলক একটু বেশি হবে। খাবার ব্যাবস্থার জন্য পূর্বেই যোগাযোগ করে নিতে পারেন। মানুষ কম হলে ওইখানে গিয়েও করতে পারেন । ভাত + সবজি বললে রিসোর্টের তত্যাবধানে যিনি আছেন তিনি ব্যাবস্থা করতে পারেন মাছ/ মাংস পথে মাচালং বাজার থেকে নিয়ে গেলে ভাল হয়। সব চেয়ে ভাল হয় এক রাত সাজেক থাকলে । কিভাবে যাবনঃ খাগড়াছড়ি থেকে আপনি তিন মাধ্যমে সাজেক পৌছাতে পারবেন । চান্দের গাড়ী,সিএনজি এবং মটরসাইকেলে । সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম হলো খাগড়াছড়ি শহর থেকে জীপগাড়ি (লোকাল নাম চাঁন্দের গাড়ি) রিজার্ভ নিয়ে ঘুরে আসা । ভাড়া নিবে ৪৫০০-৫৫০০ টাকা । এক গাড়িতে ১৫ জন বসতে পারবেন । লোকসংখ্যা বেশি হলে অবশ্যই চান্দের গাড়ী নিয়ে মজা করতে করতে যেতে পারবেন । এক্ষেত্রে কথা হলো ৪-৫ হাজার টাকা নিবে যদি আপনি দিনে গিয়ে দিনে ফিরে আসেন কিন্তু আপনি যদি রাতে থাকেন সেক্ষেত্রে আমি আপনাকে দুইটা রাস্তা দেখিয়ে দিতে পারি ,এক সাজেক গিয়ে গাড়ী ছেড়ে দিবেন কিন্তু ড্রাইভারের নাম্বারটা রেখে দিবেন বলবেন ফোন দিলে যেন চলে আসে । দ্বিতীয় রাস্তাটা হলো সাজেকে রাতে থেকে তারপর যখন চলে আসবেন সেদিন দেখবেন অনেক চান্দের গাড়ী যাত্রী নামিয়ে খালী চলে যাচ্ছে সেগুলোতে কম দামেই্ শহরে চলে আসতে পারবেন । শুভলং ঝর্ণা – রাঙ্গামাটি-- রাঙ্গামাটির সুবলং-এর পাহাড়ি ঝর্ণা(Shuvalong Jhorna) ইতোমধ্যে পর্যটকদের কাছে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছে। এসব ঝর্ণার নির্মল জলধারা পর্যটকদের হৃদয়ে এক ভিন্ন অনুভূতির কাঁপন তোলে। বরকল উপজেলায় ছোট-বড় ৮টি ঝর্ণা রয়েছে। তম্মধ্যে ভরা বর্ষা মৌসুমে মূল ঝর্ণার জলধারা প্রায় ৩০০ ফুট উচু থেকে নীচে আচড়ে পড়ে এবং অপূর্ব সুরের মুর্ছনায় পর্যটকদের সযতনে মুগ্ধ করে। এ অপরূপ দৃশ্য সচক্ষে না দেখলে কল্পনায় সে ছবি অাঁকা কী সম্ভব? বর্তমানে এ এলাকায় উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক কিছু স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। রাংগামাটি সদর হতে সুবলং এর দূরত্ব মাত্র ২৫ কিলোমিটার। রাঙ্গামাটি কিভাবে যাবেনঃ ঢাকা টু রাঙ্গামাটি অনেক গুলো পরিবহন আছে যেমন: সোহাগ, সৌদিয়া, শ্যামলী, হানিফ, ঈগল ইত্যাদি। আপনি কল্যানপুর, কলাবাগান বা সায়দাবাদ থেকে রওনা হতে পারেন। ভাড়া ননএসি ৬০০-৬৫০ টাকা, এসি ৮০০-১০০০ টাকা। রাতে (১০-১১ টা) রওনা হলে আপনি খুব ভোরে (৬-৭ টা) পৌছে যাবেন রাঙ্গামাটি। কোথায় থাকবেনঃ বাস থেকে নেমে এবার থাকার পালা। রাঙ্গামাটিতে পুরাতন বাস স্ট্যন্ড ও রিজার্ভ বাজার এলাকায় বেশকিছু হোটেল আছে। তবে হোটেলে ওঠার আগে যদি একটু বিবেচনা করে নিবেন, যেমন হোটেলটি কাপ্তাই লেকের পাশে কিনা? তাহলে আপনি হোটেল থেকে লেকের মনোরম পরিবেশ ও বাতাস উপভোগ করতে পারবেন। থাকার জন্য রাঙ্গামাটিতে সরকারী বেসরকারী অনেকগুলো হোটেল ও গেষ্ট হাউজ রয়েছে। তাছাড়া আরো কিছু বোডিং পাওয়া যায় থাকার জন্য। বোডিংগুলোতে খরচ কিছুটা কম তবে থাকার জন্য খুব একটা সুবিধার নয়। নিন্মে কয়েকটি হোটেল এর বর্ননা দেয়া হলোঃ (১) পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্সঃ ১২ টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত রুম রয়েছ। প্রেতিটির ভাড়াঃ ১৭২৫ টাকা ৭টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রনহীন রুম রয়েছে প্রতিটির ভাড়াঃ ৮০৫ টাকা যোগযোগ/ফোনঃ ০৩৫১-৬৩১২৬ (অফিস) (২) হোটেল সুফিয়াঃ ২৭ টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত রুম রয়েছ। প্রেতিটির ভাড়াঃ ৯০০ টাকা (একক), ১২৫০ (দ্বৈত) ৩৫টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রনহীন রুম রয়েছে প্রতিটির ভাড়াঃ ৬০০ টাকা যোগাযোগ/ফোনঃ ০৩৫১-৬২১৪৫, ৬১১৭৪, ০১৫৫৩৪০৯১৪৯ (৩) হোটেল গ্রীন ক্যাসেলঃ ৭ টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত রুম রয়েছ। প্রেতিটির ভাড়াঃ ১১৫০ হতে ১৬০০ টাকা পর্যন্ত ১৬টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রনহীন রুম রয়েছে প্রতিটির ভাড়াঃ ৭৫০ হতে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত যোগাযোগ/ফোনঃ ০৩৫১-৭১২১৪, ৬১২০০, ০১৭২৬-৫১১৫৩২, ০১৮১৫-৪৫৯১ শুভলং ঝর্ণায় কীভাবে যাবেন? রাঙ্গামাটি শহর থেকে শুভলং ঝর্ণায় যেতে হলে নৌ পথে যেতে হয়। ইঞ্জিন চালিত ট্রলার রিজার্ভ করাই সবচেয়ে ভালো উপায়। রাঙ্গামাটি রিজার্ভ বাজার এলাকা থেকে অথবা পর্যটন এলাকা থেকে ট্রলার রিজার্ভ করা যায়। এগুলোর ভাড়া আকার অনুযায়ী বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে। তবে ভাড়া সাধারণত ১২০০-৩০০০ টাকার মধ্যে। মূল শহর থেকে শুভলং যেতে সময় লাগবে দেড় ঘণ্টার মত। শুভলং যেতে হয় কাপ্তাই লেকের উপর দিয়ে। কাপ্তাই লেক দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় কৃত্রিম লেক। রাজবন বিহার – রাঙ্গামাটি--- রাজবন বিহার(Rajbhan Bihar) বাংলাদেশে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের বৃহত্তম বিহার রাঙামাটি শহরের অদূরেই অবস্থিত। ১৯৭৭ সালে বনভান্তে লংদু এলাকা থেকে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য রাঙামাটি আসেন। বনভান্ত এবং তাঁর শিষ্যদের বসবাসের জন্য ভক্তকূল এই বিহারটি নির্মান করে দেন। চাকমা রাজা দেবাশিষ রায়ের তত্ত্বাবধানে রাজবন বিহার রক্ষণাবেক্ষনের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠিত হয়।প্রতিবছর পূর্ণিমা তিথিতে রাজবন বিহারে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। রাজবন বিহার বাংলাদেশের অন্যতম পর্যটন স্থল। চিন্তাপ্রচারক ও ধর্ম-দার্শনিক বৌদ্ধধর্মীয় নেতা শ্রদ্ধেয় সাধনানন্দ মহাস্থবির বনভান্তে।তাঁর জন্ম ১৯২০ সালের ০৮ জানুয়ারি। বুদ্ধের বাণী এবং তার দর্শনের স্থায়িত্ব,বিলুপ্তি ও বিকৃতি থেকে সুরক্ষা এবং প্রচার ও প্রসার নিশ্চিত করার প্রত্যয়ে বনভান্তে নিমগ্ন সাধক; একাধারে তিনি জ্ঞানসাধক, অরণ্যচারি,সমাজ-সংস্কারক ও সত্যসন্ধানি। হিংসা-শত্রুভাবাপন্নতা-লোভকে পরিত্যাগ করে, এমনকি,সর্বোপরি প্রায় সকলের আরাধ্য, জাগতিক সংসারসমুদ্র (পারিবারিক সহজ কাঠামো অর্থে) ত্যাগ করে তিনি আধ্যাত্মচিন্তায় নিবিষ্ট হয়েছেন। প্রায় ৬০ বছরের অধ্যয়ন _ বিশেষত বিভিন্ন ধর্মের গ্রন্থ ও বাণী পাঠ, সাধনা আর পদ্ধতি আচারের মধ্য দিয়ে তিনি সৃষ্টি করেছেন অনুকরণীয় পথরেখা। জাতি ও ধর্মগত ভেদাভেদের অতিউধের্্ব স্বীয় অবস্থানস্থল নিশ্চিত করে, সকল সংকীর্ণতার সামাজিক বাধ্যবাধকতা অতিক্রম করে, আপন ভুবন নির্মাণ করতে সমর্থ হয়েছেন এই মহান ঋষি। ব্যক্তিগত সংযম প্রতিষ্ঠা আর পারিবারিক বিবাদসমূহকে দূর করে শান্তির সুবাতাস নিশ্চিত করার প্রত্যয়ে তিনি বয়ে বেড়িয়েছেন মহান বারতা। অবস্থানঃ-- রাঙ্গামাটি শহরের প্রাণকেন্দ্রে বিহারটি অবস্থিত হলেও শহরের যান্ত্রিক কোলাহল এখানে অনুপস্থিত। কাকচক্ষু জলে ঘেরা কাপ্তাই হ্রদ আর সবুজ বনানীর ছায়ায় অবস্থিত রাজবন বিহার। রাঙ্গামাটির রিজার্ভ বাজার লঞ্চ ঘাট থেকে জলপথে এবং স্টেডিয়ামের পাশ্ববর্তী সড়ক পথে পাঁচ মিনিটেই বিহারে পৌঁছানো যায়। পর্যটকদের বিহার চত্ত্বরে টুপি মাথায় প্রবেশ নিষেধ। ঝুলন্ত সেতু – রাঙ্গামাটি-- রাঙ্গামাটি শহরের শেষপ্রান্তে কর্ণফুলী হ্রদের কোল ঘেঁষে ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দে গড়ে উঠেছে ‘পর্যটন হোলিডে কমপ্লেক্স’। এখানে রয়েছে মনোরম ‘পর্যটন মোটেল’। উল্লেখ্য, পর্যটন মোটেল এলাকা ‘ডিয়ার পার্ক’ নামেই সমধিক পরিচিত। মোটেল এলাকা থেকে দৃশ্যমান হ্রদের বিস্তীর্ণ জলরাশি আর দূরের নীল উঁচু-নীচু পাহাড়ের সারি এখানে তৈরি করেছে এক নৈসর্গিক আবহ। আমার মনে হয় বাংলাদেশের এমন কোন ব্যক্তি নাই যিনি এই সেতুর ছবি দেখেন নি। আমি অনেক অনেক বছর আগে একবার এসেছিলাম। আমার মনে হয় সেতুটার মূল আকর্ষণ এর অবস্থান এর জন্য। চারপাশের দৃশ্য আর মনোরম পরিবেশই একে এত আকর্ষণীয় করে রেখেছে।বেশ কিছুটা সময় কাটালাম এখানে, চলল ছবি তোলাও। এখানেই রয়েছে ৩৩৫ ফুট দীর্ঘ মনোহরা ঝুলন্ত সেতু(Jhulonto Setu) – যা কমপ্লেক্সের গুরুত্ব ও আকর্ষণ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এ সেতু ইতোমধ্যে ‘সিম্বল অব রাঙ্গামাটি’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। এছাড়া এখানে রয়েছে অডিটোরিয়াম, পার্ক, পিকনিক স্পট, স্পীড বোট ও দেশীয় নৌ-যান। কিভাবে যাবেনঃ-- রাঙ্গামাটি শহরের তবলছড়ি হয়ে সড়ক পথে সরাসরি ‘পর্যটন কমপ্লেক্সে’ যাওয়া যায়। এখানে গাড়ি পার্কিং-য়ের সুব্যবস্থা রয়েছে। যারা ঢাকা বা চট্টগ্রাম থেকে সার্ভিস বাসে করে আসবেন তাদের তবলছড়িতে নেমে অটোরিক্সাযোগে রিজার্ভ করে (ভাড়ার পরিমাণ আনুমানিক ৮০-১০০/-) যেতে হবে। কাপ্তাই লেক – রাঙ্গামাটি-- কাপ্তাই লেক(Kaptai Lake) বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের রাঙ্গামাটি জেলার একটি কৃত্রিম হ্রদ। কর্ণফুলি পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য ১৯৫৬ সালে কর্ণফুলি নদীর উপর কাপ্তাই বাঁধ নির্মাণ করা হলে রাঙ্গামাটি জেলার ৫৪ হাজার একর কৃষি জমি ডুবে যায় এবং এই অপরুপ সৌন্দর্য্যের হ্রদ সৃষ্টি হয়। কাপ্তাই হ্রদ মূলত কর্ণফুলী হ্রদের আঞ্চলিক নাম। ২৫৬ বর্গমাইল আয়তনের দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহত্ এই কৃত্রিম হ্রদ দেশি-বিদেশি পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ। উঁচু-নিচু পাহাড়-পর্বত, পাহাড়ি ঝরনাধারা, আঁকাবাঁকা পাহাড়ি রাস্তা, অথৈ পানি আর সবুজের সমারোহ, গাঢ়-সবুজ বন, গাছ-গাছালি ফুল-ফল আর উপজাতিদের জীবনধারা কাপ্তাই লেকের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। নানা প্রজাতির মাছ ও জীববৈচিত্র্যের এক সমৃদ্ধ প্রাণভাণ্ডার এই হ্রদ। এখানে আছে পর্যটনের ঝুলন্ত সেতু, কৃষি খামার, শুভলং ঝরনা ও নৈসর্গিক সৌন্দর্য, পেদা টিংটিং রেস্টুরেন্ট, সাংফাং রেস্টুরেন্ট, চাকমা রাজার রাজবাড়ি, রাজ বনবিহার, উপজাতীয় জাদুঘর, জেলা প্রশাসকের বাংলো, বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আবদুর রউফের সমাধি সৌধ এবং উপজাতি পাড়া ও জীবনযাত্রার দৃশ্য। কাপ্তাই লেক (Kaptai Lake) বাংলাদেশে, এমন কি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম মনুষ্যসৃষ্ট স্বাদুপানির হ্রদ। প্রধানত জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য এর সৃষ্টি হলেও, এ জলাধারে প্রচুর পরিমাণে মিঠাপানির মাছ চাষ হয়। নৌবিহার, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও কৃষি আবাদ ইত্যাদিতেও এর অবদান উল্লেখযোগ্য। পার্বত্য চট্টগ্রামের কাপ্তাইয়ে (২২°০৯´ উত্তর অক্ষাংশ ও ৯২°১৭´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ) কর্ণফুলি নদীতে বাঁধ দেওয়ার কারণে জলাধারটি গড়ে ওঠে। মূল লেকের আয়তন প্রায় ১,৭২২ বর্গ কিমি, তবে আশপাশের আরও প্রায় ৭৭৭ বর্গ কিমি এলাকাও প্লাবিত হয়েছে। মূলত রাঙ্গামাটি জেলাতেই জলাধারটি সীমিত যার অন্তর্ভুক্ত উপজেলাসমূহ হচ্ছে রাঙ্গামাটি সদর, কাপ্তাই, নানিয়ারচর, লংগদু, বাঘাইছড়ি, বরকল, জুরাছড়ি ও বিলাইছড়ি। জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে তৈরি হলেও মৎস্য উৎপাদন, দেশি-বিদেশি মুদ্রা উপার্জন, স্থানীয়দের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও জীবন-জীবিকা থেকে শুরু করে দেশের সামগ্রিক মৎস্যক্ষেত্রে কাপ্তাই লেক গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। কিভাবে যাবেনঃ-- রাঙ্গামাটিতে আপনি বিভিন্নভাবে পৌছাতে পারেন। রাঙ্গামাটিতে চলাচলকারী বাসগুলোর মধ্যে রয়েছেঃ হানিফ, ইউনিক, সাউদিয়া, এস আলম, শ্যামলী ইত্যাদি। প্রায় ৬০০/- টাকা ভাড়ায় ৭ ঘণ্টা থেকে ৮ ঘণ্টায় আপনি ঢাকা থেকে রাঙ্গামাটিতে পৌঁছে যাবেন। শ্যামলী পরিবহনের একটিমাত্র এসি বাস ছাড়া রাঙ্গামাটিতে কোন এসি বাস চলাচল করেনা। এছাড়া আপনি ঢাকা থেকে চট্রগ্রামে বাসে যেতে পারেন এবং সেখান থেকে বাসে করে রাঙ্গামাটিতে পৌছাতে পারেন। তবে, ঢাকা থেকে বাসে করে সরাসরি রাঙ্গামাটিতে যাওয়াই সহজতর হবে। হাজাছড়া ঝর্ণা---- হাজাছড়া ঝর্ণা বা শুকনাছড়া ঝর্ণা (Hazachora Waterfalls/Shuknachara Falls) নামে পরিচিত জলপ্রপাতটি পার্বত্য রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের বাঘাইহাট এলাকায় অবস্থিত। আর স্থানীয় আদিবাসীরা ঝর্ণাটিকে চিত জুরানি থাংঝাং ঝর্ণা (মন প্রশান্তি ঝর্ণা) নামে ডাকেন। ঝর্ণাটি রাঙ্গামাটি জেলার অন্তর্গত হলেও খাগড়াছড়ি থেকে সহজেই ঝর্ণাটি দেখতে যাওয়া যায়। খাগড়াছড়ি জেলার দিঘীনালা উপজেলা থেকে হাজাছড়া যাওয়ার পথে প্রকৃতির অপূর্ব ক্যানভাস হৃদয় ছুঁয়ে যায়। মাইনী নদীর জলধারা, রাস্তার দু’পাশে আদিবাসীদের বসবাস, জুম চাষের ক্ষেত এবং সবুজে ঘেরা ঝিরিপথ অভিযাত্রীদের স্বাগতম জানায় হাজাছড়া ঝর্ণার রূপে অভিভূত হতে। বেশিরভাগ পর্যটকেরা সাজেক ভ্যালী ঘুরে ফিরে যাওয়ার পথে হাজাছড়া ঝর্ণা দর্শন করে যান। বাঘাইছড়ি উপজেলার ১০ নম্বর রাস্তা থেকে ১৫ মিনিট ঝিরিপথ ধরে হেঁটে পৌঁছানো যায় হাজাছড়া ঝর্ণার পাদদেশে। অসাধারন এই ঝর্ণার জলে গা ভেজানো থেকে বঞ্চিত হলে হাজাছড়া ঝর্ণা দেখার উদ্দেশ্য নিঃসন্দেহে অপূর্ণই থেকে যাবে। হাজাছড়া ঝর্ণা দেখতে যাওয়ার সময় হাজাছড়া ঝর্ণাতে সারা বছরই কমবেশি পানি থাকে। শীতে জলের প্রবাহ কমে গেলেও বর্ষায় ঝর্ণাটি যেন পূর্ণ যৌবন ফিরে পায়। তাই শীতের আগে ও বর্ষার শেষে হাজাছড়া ঝর্ণা দেখতে গেলে ঝর্ণাটির আসল সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে পারবেন। হাজাছড়া ঝর্ণা দেখতে কিভাবে যাবেন বাংলাদেশের যেকোন প্রান্ত থেকে হাজাছড়া ঝর্ণা দেখতে যেতে চাইলে প্রথমে খাগড়াছড়ি আসতে হবে। রাজধানী ঢাকার সায়েদাবাদ, কমলাপুর, কলাবাগান এবং ফকিরাপুল থেকে সরাসরি খাগড়াছড়ি যাওয়ার বিভিন্ন বাস সার্ভিস রয়েছে। আপনার পছন্দ ও বাজেট অনুযায়ী শান্তি পরিবহন, এস আলম, সৌদিয়া অথবা শ্যামলী পরিবহন হতে যেকোন একটিকে ভ্রমণ সঙ্গী হিসাবে বেছে নিতে পারেন। বাসভেদে এসি/নন-এসি জনপ্রতি টিকেটের ভাড়া ৫২০ টাকা থেকে ৭০০টাকা। ছুটির দিন গুলোতে যেতে চাইলে আগে থেকেই টিকেট কেটে রাখা ভালো নয়তো পরে টিকেট পেতে ঝামেলা হতে পারে। চট্রগ্রামের কদমতলী থেকে সারাদিনে ৪ টি বিআরটিসি এসি বাস খাগড়াছড়ির পথে চলাচল করে, ভাড়া লাগে ২০০ টাকা। আর অক্সিজেন মোড় থেকে ১ ঘণ্টা পর পর শান্তি পরিবহনের (ভাড়া ১৯০টাকা) বাস চলাচল করে। চট্রগ্রাম থেকে বাসে করে খাগড়াছড়ি যেতে সময় লাগবে ৪-৫ ঘন্টা। খাগড়াছড়িতে বাস থেকে নেমে মটর সাইকেল, বাস, চান্দের গাড়িতে চড়ে দিঘীনালা আসতে হবে। অথবা ঢাকা থেকে শান্তি পরিবহনের বাসে সরাসরি দিঘীনালা আসতে পারবেন। দিঘীনালা বাসস্ট্যান্ড থেকে মোটরবাইক বা চাঁদের গাড়িতে চড়ে বাঘাইহাটের আগে ১০ নম্বরে নামতে হবে। ১০ নম্বর হতে ঝিরিপথে ১৫ মিনিট হাটলে হাজাছড়া ঝর্ণায় পৌঁছানো যায়। কোথায় খাবেন হাজাছড়া ঝর্ণার আশেপাশে খাওয়া-দাওয়া করার কোন ব্যবস্থা নেই তাই সবচেয়ে ভাল হয় ঝর্ণায় যাওয়ার সময় শুকনো খাবার ও পর্যাপ্ত পানি নিয়ে যাওয়া। আর খাগড়াছড়ি শহরের কাছে পানখাই পাড়ায় রয়েছে ঐতিহ্যবাহী সিস্টেম রেস্টুরেন্ট। খাগড়াছড়ির ঐতিহ্যবাহী খাবার খেতে চাইলে আপনাকে এখানেই খেতে হবে। যোগাযোগ: 0371-62634, 01556-773493, 01732-906322। আর যদি আপনার হাতে সময় থাকে তবে কাছেই নিউজিল্যান্ড পাড়া থেকে ঘুরে আসতে পারেন। কোথায় থাকবেন হাজাছড়া ঝর্ণা দেখে রাত্রিযাপন করতে চাইলে আপনাকে খাগড়াছড়িতে থাকতে হবে। পর্যটকদের থাকার সুবিধার কথা বিবেচনা করে খাগড়াছড়িতে বেশকিছু আবাসিক হোটেল গড়ে তোলা হয়েছে। এদের মধ্যে পর্যটন মোটেল (0371-62084, 0371-62085), হোটেল শৌল্য সুবর্ণ (0371-61436), জিরান হোটেল (0371-61071), হোটেল লিবয়ত (0371-61220), চৌধুরী বাডিং (0371-61176), থ্রি ষ্টার (0371-62057), ফোর ষ্টার (0371-62240), উপহার (0371-61980), হোটেল নিলয় (01556-772206) ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। পলওয়েল পার্ক--- রাঙ্গামাটি জেলা পুলিশের তত্ত্বাবধানে কাপ্তাই লেকের কোল ঘেঁসে তৈরি পলওয়েল পার্ক (Polwel Park) সৃজনশীলতার ছোঁয়ায় রাঙ্গামাটির অন্যতম সেরা বিনোদন কেন্দ্র হিসাবে স্থান করে নিয়েছে। বৈচিত্রময় ল্যান্ডস্কেপ, অভিনব নির্মাণশৈলী এবং নান্দ্যনিক বসার স্থান পার্কটিকে দিয়েছে ভিন্ন এক মাত্রা। নৈসর্গিক প্রাকৃতিক পরিবেশে সময় কাটাতে ও চিত্তবিনোদনের জন্য প্রতিদিন অসংখ্য দর্শনার্থীর পদচারণার পলওয়েল পার্ক মুখর হয়ে উঠে। মেরি গো রাউন্ড, হানি সুইং, মিনি ট্রেন, প্যাডেল বোট ইত্যাদি বিভিন্ন আকর্ষণীয় রাইড ছাড়াও পলওয়েল পার্কে আছে ভুতুড়ে পাহাড়ের গুহা, পাহাড়ী কৃত্রিম ঝর্ণা ও কলসি ঝর্ণা, ক্রোকোডাইল ব্রিজ, গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকি শিল্প, লেকভিউ পয়েন্ট, হিলভিউ পয়েন্ট, লাভ লক পয়েন্ট, মিনি চিড়িয়াখানা, এক্যুরিয়াম, ফিশিং পিয়ার, ক্যাফেটেরিয়া, সুইমিংপুল, কার পার্কিং এবং পলওয়েল কটেজ। এছাড়া এখানে পিকনিক সহ বিভিন্ন ধরনের সামাজিক অনুষ্ঠান আয়োজনের সুযোগ রয়েছে। প্রবেশ ফি ও অন্যান্য খরচ--- পলওয়েল পার্কে জনপ্রতি প্রবেশ ফি ৩০ টাকা, বিভিন্ন রাইডের ফি ৩০ থেকে ৪০ টাকা এবং সুইমিংপুলের প্রবেশ ফি ২০০ টাকা। পলওয়েল পার্কের কটেজ ভাড়া নিতে ৮০০০ টাকা খরচ করতে হয়। তবে বছরজুড়ে এখানে কটেজ বুকিংয়ে বিভিন্ন হারে ডিসকাউন্ট সুবিধা পাওয়া যায়। আর কটেজ বুকিংয়ের সাথে রয়েছে সকালে নাস্তা, ফ্রি সুইমিংপুল ব্যবহারের সুবিধা, ফ্রি এন্ট্রি, কার পার্কিং, ওয়াইফাই এবং ২৪ ঘন্টা নিরাপত্তা ব্যবস্থা। যোগাযোগ : ডিসি বাংলো রোড, রাঙ্গামাটি মোবাইল: 01837-335595 ফেইসবুক: www.fb.com/PolwelPark কিভাবে যাবেন ঢাকার ফকিরাপুল মোড় ও সায়দাবাদে রাঙ্গামাটিগামী অসংখ্য বাস কাউন্টার রয়েছে। ঢাকা টু রাঙ্গামাটি শ্যামলীর এসি বাসের প্রতি সীটের ভাড়া ৯০০ টাকা, বিআরটিসি এসি বাসের ভাড়া ৭০০ টাকা। আর অন্যান্য নন-এসি বাসের ভাড়া ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা। এছাড়া চট্টগ্রাম শহরের অক্সিজেন মোড় থেকে রাঙ্গামাটিগামী বিভিন্ন পরিবহণের বাস পাওয়া যায়। ১৫০ টাকার মধ্যে চট্টগ্রাম হতে রাঙ্গামাটি ডাইরেক্ট বাস পেয়ে যাবেন। রাঙ্গামাটির রিজার্ভ বাজার থেকে মাত্র ১.৫ কিলোমিটার দূরে ডিসি বাংলো রোডে অবস্থিত পলওয়েল পার্কে যেতে ৫০ টাকা সিএনজি ভাড়া লাগে। আর বনরূপা থেকে যেতে সিএনজি ভাড়া লাগে ১০০ টাকা। রাঙ্গামাটি কোথায় থাকবেন রাত্রিযাপনের জন্য পলওয়েল পার্কে রয়েছে কটেজ সুবিধা। আর যদি অন্য কোথাও থাকতে চান রাঙ্গামাটি শহরের পুরাতন বাসস্ট্যন্ড এবং রিজার্ভ বাজার এলাকায় বেশকিছু বিভিন্ন মানের আবাসিক হোটেল পাবেন। রাঙ্গামাটির আবাসিক হোটেলের মধ্যে হোটেল গ্রিন ক্যাসেল, পর্যটন মোটেল, রংধনু গেস্ট হাউজ, হোটেল সুফিয়া, হোটেল আল-মোবা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। খাওয়া দাওয়া পলওয়েল পার্কে ক্যাফে ও রেস্টুরেন্ট ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া রাঙ্গামাটিতে বিভিন্ন মানের খাবারের হোটেল ও রেস্টুরেন্ট পাবেন। সাধ্যের সাথে মিলিয়ে যেকোন রেস্টুরেন্টে প্রতিবেলার খাবারের সাথে সাথে স্থানীয় বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী খাবারও চেখে দেখতে পারেন। রাঙ্গামাটির আশেপাশে দর্শনীয় স্থান রাঙ্গামাটি জেলায় অবস্থিত অন্য যে সমস্ত দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখতে পারেন: শুভলং ঝর্ণা, কাপ্তাই লেক, শেখ রাসেল এভিয়ারী এন্ড ইকো পার্ক, উপজাতীয় জাদুঘর, ঝুম রেস্তোরা, টুকটুক ইকো ভিলেজ, চিৎমরম গ্রাম ও টাওয়ার, যমচুক, রাইক্ষ্যং পুকুর, নির্বাণপুর বন ভাবনা কেন্দ্র, রাজবন বিহার, ঐতিহ্যবাহী চাকমা রাজবাড়ি, পেদা টিং টিং, উপজাতীয় টেক্সটাইল মার্কেট, নৌ-বাহিনীর পিকনিক স্পট, রাজস্থলী ঝুলন্ত সেতু, ফুরমোন পাহাড়, সাজেক ভ্যালি, আর্যপুর ধর্মোজ্জ্বল বনবিহার, ডলুছড়ি জেতবন বিহার, বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র, কাট্টলী বিল ও ন-কাবা ছড়া ঝর্না ইত্যাদি। বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফের সমাধি-- রাঙ্গামাটি জেলার নানিয়ারচরের বুড়িঘাটে কাপ্তাই লেকের ছোট্ট এক দ্বীপে চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন বাঙ্গালির অন্যতম এক বীর সন্তান বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ (Birsrestha Munshi Abdur Rauf Monument)। অথৈ নীল জল পরিবেষ্টিত সমাধি স্থলে লেখা “তুমি দুর্জয়, নির্ভীক মৃত্যুহীন এক প্রাণ” কথাগুলো যেন তাঁর গৌরবজ্বল বীরত্বের এক অনন্য প্রকাশ। প্রতিবছর স্বাধীনতা ও বিজয় দিবসে দূর দূরান্ত থেকে অনেক দর্শনার্থী মুক্তিযুদ্ধের মহান এই নায়কের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আসেন। এছাড়া সমাধি স্থলে যাওয়ার পথে নানিয়ারচরের আনারস বাগান, কাপ্তাই লেকে দলবেধে চলা ইঞ্জিন চালিত নৌকা এবং চারপাশের অপূর্ব প্রাকৃতিক দৃশ্যও সকলকে মুগ্ধ করে। ১৯৭১ সালের ২০ এপ্রিল অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের একটি অংশ পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙ্গামাটির মহালছড়ি থানার বুড়িঘাট চিংড়ি খাল এলাকার পাকিস্থানী হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধরত ছিল। সেদিন হঠাৎ ভারি অস্ত্র বোঝাই তিনটি লঞ্চ ও দুইটি স্পীড বোট মুক্তিযোদ্ধাদের ঘিরে ফেলে। হানাদার বাহিনীর আকস্মিক আক্রমনে মুন্সি আব্দুর রউফ মেশিনগান নিয়ে একাই শত্রুদের সাথে লড়াই করে তাঁর সহযোদ্ধাদের নিরাপদে সরে যেতে সাহায্য করেন। যুদ্ধে হানাদার বাহিনির দুটো লঞ্চ ও একটি স্পীড বোট পানিতে ডুবে যায়, মারা যায় দুই প্লাটুন সৈন্য। আকস্মিক হানাদার বাহিনীর ছোড়া একটি মর্টারের আঘাতে মুন্সি আব্দুর রউফ শাহদাত বরণ করেন। পরবর্তীতে বুড়িঘাট ভাঙ্গামুড়া এলাকার স্থানীয় দয়াল চাকমা তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে কাপ্তাই লেকের ছোট্ট দ্বীপে সমাহিত করেন। ১৯৯৬ সালের ২৫ এপ্রিল মুন্সি আব্দুর রউফের সহযোদ্ধা ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় সমাধিস্থল চিহ্নিত করা হয়। ২০০৬ সালের ২৫ মার্চ রাইফেলের ভাস্কর্য সংবলিত স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়। কিভাবে যাবেন খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটি হয়ে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফের সমাধিস্থলে যাওয়া যায়। ঢাকা থেকে যাওয়ার ক্ষেত্রে, কমলাপুর, ফকিরাপুর, গাবতলি বা কলাবাগান হতে খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটিগামী বিভিন্ন বাস সার্ভিস রয়েছে। খাগড়াছড়ি পৌঁছে নানিয়ারচর হয়ে ইঞ্জিন চলিত নৌকা নিয়ে সমাধিস্থত যেতে পারবেন। আর রাঙ্গামাটি শহর থেকে গাড়ী রিজার্ভ নিয়ে জেটিঘাট এসে ইঞ্জিন চালিত নৌকায় সমাধিস্থল যাওয়া যায়। চট্টগ্রাম শহরের অক্সিজেন মোড় থেকে রাঙ্গামাটি এসে একই পদ্ধতিতে সমাধিস্থলে যাওয়া যাবে। রাঙ্গামাটি থেকে নানিয়ারচরের দূরত্ব ৩৩ কিলোমিটার। নানিয়ারচরের ঘাট থেকে সমাধিস্থল যেতে সময় লাগে দেড় ঘন্টার মত সময় লাগে। কোথায় থাকবেন রাঙ্গামাটি শহরে রাত্রিযাপনের জন্য হোটেল প্রিন্স, হোটেল মাউন্টেন ভিউ, হোটেল মতি মহল, হোটেল জুম প্যালেস, হোটেল গ্রীন ক্যাসেলের মতো বেশকিছু ভাল মানের হোটেল রয়েছে। কোথায় খাবেন রাঙ্গামাটির স্পাইস রেস্তোরা, পাজন রেস্টুরেন্ট, ইরিশ রেস্টুরেন্ট ও সাবারাং রেস্টুরেন্টের খাবার বেশ জনপ্রিয়। এছাড়া নানিয়ারঘাটে চা নাস্তার খুচরা দোকান রয়েছে। লক্ষ্যনীয় কিছু বিষয় সমাধিস্থলে যাওয়ার সময় শালীন পোশাক পরিধাণ করুন। সমাধিস্থলে উঠার আগে জুতা বা স্যান্ডেল খুলে রাখুন। সমাধিস্থলে নীরবতা বজায় রেখে শ্রদ্ধা জানান। সমাধিস্থলে কোন ধরনের ময়লা আবর্জনা ফেলবেন না। কমলক ঝর্ণা---- কমলক ঝর্ণা (Komlok Waterfalls) দেখতে সাজেক ভ্যালির রুইলুই পাড়া হতে দুই/আড়াই ঘন্টা ট্রেকিং করতে হয়। সাজেক ভ্যালির পাহাড়ের সাথে মেঘের লুকোচুরি খেলা দেখার পর আরো রোমাঞ্চিত হতে চাইলে ঘুরে আসুন কমলক ঝর্ণাটি। তবে এর জন্য অন্তত একদিন সাজেক ভ্যালিতে অবস্থান করা ভাল। কমলক ঝর্ণার স্থানীয় নাম পিদাম তৈসা ঝর্ণা বা সিকাম তৈসা। সুন্দর ঝিরিপথ ধরে চলতে চলতে বিভ্রান্ত হতে পারেন কিংবা অতি বর্ষণে কোথাও কোথাও ঝিরিপথ বন্ধ হয়ে যেতে পারে সুতরাং প্রথমবার ঝর্ণাটি দেখতে গিয়ে থাকলে একজন গাইড সাথে নিয়ে যাওয়া আবশ্যক। বর্ষা মৌসুমে ঝিরিপথ বেশ পিচ্ছিল থাকে আবার মাঝে মাঝে খাড়া পাহাড় বেয়ে উঠতে ও নামতে হয় তাই সতর্ক থাকুন সবসময়। আর গাইড নির্বাচনের ক্ষেত্রে স্থানীয় লোকদের এড়ানোর চেষ্টা করুন। কিছু টাকা দিলেই সাধারণত এরা রাজি হয়ে যায় তবে এদের সবাই বিশ্বস্ত নয়। অনাকাঙ্ক্ষিত জটিলতায় না পড়তে গাইডের জন্য আপনার রিসোর্ট কতৃপক্ষের সাথে আলাপ করে নিতে পারেন। কমলক ঝর্ণা দেখতে কিভাবে যাবেন বাংলাদেশের যেকোন প্রান্ত থেকে কমলক ঝর্ণা দেখতে যেতে চাইলে প্রথমে খাগড়াছড়ি আসতে হবে। রাজধানী ঢাকার সায়েদাবাদ, কমলাপুর, কলাবাগান এবং ফকিরাপুল থেকে সরাসরি খাগড়াছড়ি যাওয়ার বিভিন্ন বাস সার্ভিস রয়েছে। আপনার পছন্দ ও বাজেট অনুযায়ী শান্তি পরিবহন, এস আলম, সৌদিয়া অথবা শ্যামলী পরিবহন হতে যেকোন একটিকে ভ্রমণ সঙ্গী হিসাবে বেছে নিতে পারেন। বাসভেদে এসি/নন-এসি জনপ্রতি টিকেটের ভাড়া ৫২০ টাকা থেকে ৭০০টাকা। চট্রগ্রামের কদমতলী থেকে বিআরটিসি এসি বাস খাগড়াছড়ির পথে চলাচল করে, ভাড়া লাগে ২০০ টাকা। আর অক্সিজেন মোড় থেকে ১ ঘণ্টা পর পর শান্তি পরিবহনের (ভাড়া ১৯০টাকা) বাস চলাচল করে। চট্রগ্রাম থেকে বাসে করে খাগড়াছড়ি যেতে সময় লাগবে ৪-৫ ঘন্টা। খাগড়াছড়ি থেকে চান্দের গাড়িতে (জীপগাড়ি) করে সাজেক যেতে পারবেন। রিজার্ভ নিলে ভাড়া লাগবে ৬৫০০ থেকে ৭৫০০ টাকা। এক গাড়িতে ১৫ জন বসা যায়। সিএনজি নিয়েও সাজেক যাওয়া যায়, ভাড়া লাগে প্রায় ৩০০০ টাকা। সাজেকে যাওয়া আসার আরও বিস্তারিত জানতে পড়ে নিন আমাদের সাজেক ভ্রমণ গাইড। সাজেকে কোথায় খাবেন সাজেকে খাওয়ার জন্যে বেশ কিছু রেস্টুরেন্ট আছে। অনেক রিসোর্টে নিজস্ব খাবার ব্যবস্থাও আছে। তবে বেশিরভাগ রেস্টুরেন্টেই আগেই খাবার অর্ডার করে রাখতে হবে। কতজন খাবেন কি দিয়ে খাবেন তা বলে রাখতে হবে। সাজেক ভ্যালিতে কোথায় থাকবেন সাজেক (Sajek) ভ্যালিতে থাকার জন্যে সুন্দর সুন্দর অনেক রিসোর্ট আছে। রিসোর্টের অবস্থান ও সুযোগ সুবিধা অনুযায়ী সাধারণত কাপল রুপ ১৫০০-৩০০০ টাকা, ৪ জনের শেয়ার করে থাকার জন্যে রুম ২০০০-৩৫০০ টাকায় পাওয়া যাবে। আপনার বাজেট এবং পছন্দ অনুযায়ী রিসোর্টে থাকতে পারবেন। তবে ছুটির দিন কিংবা পিক সময়ে গেলে আগে থেকে রিসোর্ট বুকিং করে যাওয়া ভাল। সাজেকের সকল রিসোর্টের তথ্য জানতে পড়ে নিন আমাদের সাজেক রিসোর্ট গাইড। সতর্কতা ও টিপস সাজেক সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আমাদের সাজেক ভ্রমণ গাইড পড়ুন। ঝর্ণা ভ্রমণের জন্যে ভাল সময় বর্ষাকাল। পাহাড়ি পথে ট্রেকিং এ সতর্ক থাকুন। ট্রেকিং এর জন্যে ভাল মানের গ্রীপ সহ জুতা ব্যবহার করুন। মুপ্পোছড়া ঝর্ণা----- মুপ্পোছড়া ঝর্ণা (Muppochora Jhorna) প্রস্থের দিক থেকে বাংলাদেশের অন্যতম বড় একটি ঝর্ণা। অনিন্দ্য সুন্দর মুপ্পোছড়া ঝর্ণা দেখতে হলে রাঙ্গামাটি জেলার বিলাইছড়ি উপজেলার বাঙ্গালকাটায় যেতে হবে। কাপ্তাই লেক পাড়ের এই উপজেলা সাথে সড়ক পথে কোন সংযোগ নেই। কাপ্তাই উপজেলা হতে শুধুমাত্র নৌ-পথে এই উপজেলায় যাওয়া যায়। দূর্গম পার্বত্য এলাকা হওয়ায় এখানে অসংখ্য ছোট বড় পাহাড়ে আছে প্রচুর ঝর্ণা। চাকমা শব্দ বিলাই অর্থ বিড়াল এবং ছড়ি অর্থ পাহাড় হতে প্রাবাহিত ঝর্ণা। মুপ্পোছড়া ঝর্ণা বিলাইছড়িতে অবস্থিত বৃহত্তম ঝর্ণাগুলোর একটি। বিলাইছড়ি হতে শুধুমাত্র নৌপথে বাঙ্গালকাটাতে যাওয়া গেলেও বাঙ্গালকাটা হতে ট্রেকিং করে মুপ্পোছড়া ঝর্ণায় যেতে হয়। মুপ্পোছড়া ঝর্ণায় যাওয়ার উপায় ঢাকা থেকে বাসে সরাসরি কাপ্তাই পর্যন্ত আসতে পারবেন। কাপ্তাইয়ের লঞ্চঘাট থেকে বিলাইছড়ি যাওয়ার ট্রলার পাওয়া যায়। ট্রলার রিজার্ভ নিলে ১০০০ থেকে ১৫০০ ভাড়া লাগবে। আর লোকালে গেলে জনপ্রতি ৬০ থেকে ৭০ টাকা লাগবে। কাপ্তাই হতে সকাল ৮ টা ৩০ মিনিটে প্রথম ট্রলার এবং পরবর্তীতে দুপুর ১ টা এবং ১ টা ৩০ মিনিটে পর পর দুইটি লোকাল ট্রলার বিলাইছড়ি উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। কাপ্তাই থেকে ট্রলারে বিলাইছড়ি যেতে ২ ঘন্টা ৩০ মিনিটের মত সময় লাগে। পথে বিলাইছড়ি বাজারে প্রয়োজনীয় খাবার খেয়ে আরো কিছু শুকনো খাবার সাথে নিয়ে নিন। বিলাইছড়ির হাসপাতাল ঘাট থেকে অন্য একটি ট্রলার রিজার্ভ নিয়ে বাঙ্গালকাটা যেতে হবে। বিলাইছড়ি হতে বাঙ্গালকাটা পর্যন্ত ৬০০-৮০০ টাকা ভাড়া লাগবে। ৩০ থেকে ৪০ মিনিট পর বাঙ্গালকাটায় নেমে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকায় গাইড ঠিক করে বেড়িয়ে পড়ুন মুপ্পোছড়ার পথে। প্রায় আড়াই থেকে তিন ঘন্টা ট্রেকিং শেষে পৌঁছে যাবেন মনোমুগ্ধ মুপ্পোছড়া ঝর্ণার পাদদেশে। থাকার ব্যবস্থা বিলাইছড়ির হাসপাতাল ঘাটের কাছে নিরিবিলি বোর্ডিং নামে একটি আবাসন ব্যবস্থা রয়েছে। এখানে সিঙ্গেল এবং ডাবল বেডের ভাড়া যথাক্রমে ৩০০ ও ৫০০ টাকা। যোগাযোগ: সঞ্জয় তালুকদার – ০১৫৫৩-১২৮৬৭৩/০১৮২৭-৭২২৯০৫। আর যদি বিলাইছড়িতে থাকার ইচ্ছা না থাকে তবে অবশ্যই কাপ্তাই থেকে সকাল ৬ টার আগে মুপ্পোছড়া ঝর্ণার উদ্দেশ্যে রওনা দিন। কোথায় খাবেন বিলাইছড়িতে বকুলের দোকানে আপনার প্রয়োজনীয় খাবারের চাহিদা মেটাতে পারেন। এছাড়া কাপ্তাইয়ে খাবারের জন্য অসংখ্য হোটেল ও রেস্টুরেন্ট পাবেন। পরামর্শ পার্বত্য অঞ্চল হওয়ায় বাংলাদেশের অন্য স্থানের সবার এখানে প্রবেশের ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র/পাসপোর্টের ফটোকপি/যেকোন পরিচয়পত্র সাথে রাখা বাধ্যতামূলক। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ক্যাম্পে অবশ্যই আপনাকে কোন একটি পরিচয়পত্র দেখাতেই হবে। লেক ভিউ আইল্যান্ড----- ২০১৭ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে রাঙ্গামাটি জেলার কাপ্তাই লেকে গড়ে তোলা হয়েছে লেক ভিউ আইল্যান্ড (Lake View Island) নামক পর্যটন কেন্দ্র। লেক ভিউ আইল্যান্ডে রয়েছে নীলকৌড়ি বজরা, দৃষ্টিনন্দন কটেজ, হিলটপ সুইমিং পুল, অ্যাডভেঞ্চার পার্ক এবং মাছ ধরার সুব্যবস্থা। কাপ্তাই লেকে ঘুরে বেড়ানো এবং রাত্রিযাপনের জন্য তৈরী করা হয়েছে নীলকৌড়ি নামের ৫০ ফুট দৈর্ঘ্যের অভিজাত বজরা নৌকা। কাপ্তাই হ্রদের নিকটের টিলায় নির্মাণ করা হয়েছে ‘হিলটপ রিসোর্ট’। শিশুদের জন্য তৈরী কিডস কর্নারের নাম রাখা হয়েছে ইয়েলো জোন এবং অরেঞ্জ জোন। গাছের উপর তৈরী করা হয়েছে মাচাংঘর বা ট্রি হাউস। আর এক মাচাং থেকে অন্য মাচাংয়ে যাওয়ার জন্য আছে ঝুলন্ত সেতু। খরচ এবং বুকিং এর তথ্য---- দিন ব্যাপী দর্শনার্থীদের জন্য লেক ভিউ আইল্যান্ড ভোর ৬ টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত উন্মুক্ত থাকে এবং এখানে প্রবেশ করতে ১৫০ টাকা প্রবেশ ফি প্রদান করতে হয়। সরকারি ছুটির দিন ব্যতিত যেকোন দিন ৫০ জনের জন্য পিকনিক স্পটের ভাড়া ১০ হাজার টাকা এবং সরকারি ছুটির দিনে ১৫ হাজার টাকা এবং সাউন্ড সিস্টেম ভাড়া করতে ৫০০০ টাকা লাগে। কাঠের তৈরি নীলকৌড়ি বজরার একদিনের ভাড়া ১০ হাজার টাকা। লেক ভিউ রিসোর্টের নন-এসি এবং এসি কক্ষের ভাড়া ২০০০ ও ৪০০০ টাকা। আর হিল টপ রিসোর্টে থাকতে হলে এসি কক্ষের জন্য ৩২০০ টাকা খরচ করতে হবে। এছাড়া লেক ভিউ আইল্যান্ডে তাঁবুতে রাত্রিযাপনের সুযোগ রয়েছে। দুইজনের জন্য একদিনের তাবুর ভাড়া ১০০০ টাকা। বুকিং এর জন্য যোগাযোগ ফেইসবুকে লেক ভিউ আইল্যান্ডের অফিসিয়াল পেইজে থাকা ফোন নাম্বারে যোগাযোগ করে বিস্তারিত তথ্য জানতে এবং বুকিং দিতে পারবেন। মোবাইল: 01769322182, 01769322183, 01847-191421 ফেইসবুক: fb.com/kaptai.island2016 কিভাবে যাবেন চট্টগ্রাম থেকে কাপ্তাইয়ের দূরত্ব ৫৮ কিলোমিটার। চট্টগ্রাম নগরের বহদ্দারহাট বাস টার্মিনাল থেকে বাসে চড়ে কাপ্তাই জেটি ঘাঁট যেতে প্রায় দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা সময় লাগে। চাইলে সিএনজি অটোরিকশা, নিজস্ব পরিবহন, মাইক্রোবাস অথবা কাপ্তাই রুটে চলাচলকারী বাসেও যেতে পারবেন। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম ঢাকা থেকে সড়ক, রেল এবং আকাশপথে চট্টগ্রাম যাওয়া যায়। ঢাকার সায়দাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে সৌদিয়া, গ্রিন লাইন, ইউনিক, টি আর ট্রাভেলস, হানিফ, শ্যামলী, সোহাগ, এস আলম ইত্যাদি বিভিন্ন পরিবহনের বাস চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। শ্রেণী ভেদে বাসগুলোর প্রতি সীটের ভাড়া ৫০০ টাকা থেকে ১২০০ টাকা। ঢাকা থেকে ট্রেনে চট্টগ্রাম ভ্রমণ করতে চাইলে কমলাপুর কিংবা বিমানবন্দর রেলস্টেশান হতে সোনার বাংলা, সুবর্ন এক্সপ্রেস, তূর্ণা-নিশীথা, মহানগর প্রভাতী/গোধূলী, চট্রগ্রাম মেইলে যাত্রা করতে পারেন। এছাড়া ঢাকা থেকে বেশকিছু এয়ারলাইন্স সরাসরি চট্টগ্রামগামী ফ্লাইট পরিচালনা করে থাকে। কোথায় খাবেন লেক ভিউ আইল্যান্ডে সেনা সদস্যদের তৈরী বিভিন্ন খাবার পাওয়া যায়। এর মধ্যে রয়েছে সমুচা, সিঙ্গারা, স্পেশাল মিষ্টি, চটপটি, ফুচকা, ভুনা খিচুড়ি, পেটিস, নুডলস, চিকেন গ্রিল, মোগলাই, চিকেন রোল ইত্যাদি।

এই বিভাগের আরও খবর

  বান্দরবানের রহস্যঘেরা আলীর গুহা

  বান্দরবানে ভ্রমণের ক্লান্তি ভোলায় মুরুং ঝর্ণা

  সম্ভাবনাময় ঝরনা কেন্দ্রিক পর্যটন গড়ে তোলার জন্য প্রাকৃতিক ঝরনা রক্ষা করতে হবে

  করোনার মধ্যেও দেশীয় পর্যটকের সংখ্যা দুই কোটিতে পৌঁছেছে: বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী

  দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার নান্দনিক পর্যটন স্পটের নাম বান্দরবান জেলা

  খাগড়াছড়ির পর্যটন অর্থনীতির বিকাশ,মাসে লেনদেন ১০ কোটি টাকা

  আজ ‘বিশ্ব পর্যটন দিবস’

  প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি রাঙ্গামাটির ন" কাটা ও মোপ্পাছড়া ঝর্ণা

  রাঙ্গামাটি,খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে এখন পর্যন্ত আশানুরূপ পর্যটক আসছেন না

  পার্বত্য চট্টগ্রামের দার্জিলিং খ্যাত সাজেক এখন আলোয় আলোকিত

  রাঙ্গামাটির ঝুলন্ত সেতু এখন পানির নিচে

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

আজকের প্রশ্ন

বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেছেন, পুলিশের ওপর নির্বাচন কমিশনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?