রবিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ,২০১৯

Bangla Version
  
SHARE

মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট, ২০১৯, ০৩:৪১:০০

পর্যটকদের পদচারণায় মুখর রাঙ্গামাটি ঘাগড়া কলা বাগানে অবস্থিত ঘাগড়া ঝর্ণা

পর্যটকদের পদচারণায় মুখর রাঙ্গামাটি ঘাগড়া কলা বাগানে অবস্থিত ঘাগড়া ঝর্ণা

শেখ ইমতিয়াজ কামাল ইমন, রাঙ্গামাটিঃ-পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটির বুকজুড়ে কাপ্তাই হ্রদ। বৃহৎ এ হ্রদের কারণে  রয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় ঝরনা। সবার কাছে পরিচিত একটি ঝরনার নাম ‘সুবলং ঝর্ণা’। কিন্তু শহরের কাছেই আরও একটি ঝর্ণা (স্থানীয় ভাবে ঘাগড়া ঝর্ণা) জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। আর এই ঘাগড়া ঝর্ণার রূপ দেখতে প্রতিদিনই ভিড় জমাচ্ছে স্থানীয়রাসহ বাইরে থেকে আসা নানান বয়সের দর্শনার্থীরা।
রাঙ্গামাটির চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি মহাসড়কের কাউখালী উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নে ঝর্ণাটি অবস্থিত। এলাকাটি কলাবাগান নামেও পরিচিত। তাই স্থানীয়ভাবে এটি ‘কলাবাগান ঝর্ণা বা ঘাগড়া ঝর্ণা হিসেবে পরিচিত। এখানে পাহাড়ি ছড়ার মধ্য দিয়ে প্রায় দুই থেকে আড়াই কিলোমিটার হেঁটে যেতে হয় মূল ঝর্ণায়। তবে যাওয়ার পথে দেখা মেলে আরও ৩-৪ টি ছোট-বড় ঝর্ণার।
রাঙ্গামাটি শহর থেকে সিএনজি ভাড়া করে যাওয়া যায় ঝরনাটিতে। ভাড়া নিতে পারে জন প্রতি ৫০-৬০ টাকা। মূল সড়ক থেকে হাতের বামে প্রবাহমান একটি ছোট্ট পাহাড়ি ছড়া রয়েছে। ছড়াটির উপর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা অসংখ্য নুড়ি পাথরের উপর দিয়ে হেঁটে দুই পাশের অসংখ্য পাহাড় আর সবুজে ঢাকা গাছ-পালার সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে এগিয়ে যেতে হয় মূল ঝর্ণার দিকে।
চলার পথে অসংখ্য ছোট ছোট ঝর্ণা পর্যটকদের নজর কাড়তে শুরু করবে। মাত্র পনেরো থেকে বিশ মিনিট হেঁটে গেলেই দৃষ্টিনন্দন বড় ঝর্ণাটি স্বাগত জানাবে। এরপর হালকা পিচ্ছিল অথচ মসৃণ পথ বেয়ে উপরের দিকে উঠতে হয়। এ পথে পাড়ি জমাতে গিয়ে দুরন্ত কৈশোরের দুষ্টুমির কথাও মাথায় ভর করতে পারে। আবার স্বচ্ছ পানি দেখে জলরঙ্গ খেলার লোভও জাগতে পারে।
প্রথম ঝর্ণা থেকে কিছুটা উঁচুতে উঠলে অপর ঝর্ণাটি পর্যটকদের ক্লান্তি দূর করে বিমোহিত করবে। এভাবে একেকটা ঝর্ণাধারা পেরিয়ে একের পর এক যত উঁচুতে উঠবেন; ততই আপনি মুগ্ধ হতে থাকবেন। মূল ঝর্ণায় যাওয়ার পথ ও পথের ধারে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা নুড়ি পাথার ও সবুজে ঢাকা অরণ্য মুগ্ধ করবে। আপনাকে আনন্দের অন্য এক রাজ্যে নিয়ে যাবে মুহূর্তেই।
এ পথের সর্বশেষ অংশে দেখা মিলবে আকাশচুম্বী সবচেয়ে বড় ঝর্ণাটির। ঝর্ণাটি এতই উঁচু যে, তার কাছে ঘেঁষতে ভয় পেয়ে যাবে যে কেউ। তবে জলপ্রপাতের একেবারে কাছে এসে তার সৌন্দর্য-সুধা পান করবে না, তা কি হয়? মনোরম এ প্রাকৃতিক ঝরনাগুলোর মূল বৈশিষ্ট্য হচ্ছে- সমতল থেকে স্তরে স্তরে অন্তত দেড় থেকে দু’শ ফুট উঁচু থেকে জল গড়িয়ে পড়ে। প্রতিটি ঝরনারই রয়েছে স্বতন্ত্র কিছু বৈশিষ্ট্য, যা না দেখলে কারো বিশ্বাস হবে না। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা অসংখ্য পর্যটকের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে অপরূপ এই ঘাগড়া ঝর্ণাটি।
আর এই ঝর্ণায় ঘুরতে আসা মোঃ ইরফান বলেন, ‘রাঙ্গামাটিতে ছোট বড় অসংখ্য ঝর্ণা আছে। ঈদ উপলক্ষ্যে আমরা সবসময় বন্ধুরা বিভিন্ন স্থানে ঘুরতে যায়। এর আগেও আমরা  বেশ কয়েকবার সুবলং ঝর্ণায় ঘুরতে গিয়েছি। আর এ ঝর্ণায় আমার তৃতীয়বার আসা। আমরা  সুযোগ পেলেই এই ঘাগড়া ঝর্ণায় চলে আসি।
পর্যটক ইমরানুল ইসলাম জাহিদ বলেন, ‘ঈদ উপলক্ষে কিছু বন্ধু মিলে হঠাৎ ঘাগড়া ঝর্ণায় বেড়াতে এসেছি। আসার কষ্ট ও ভয় মুহূর্তেই হারিয়ে গেছে এত সুন্দর ঝর্ণা দেখে। প্রকৃতির এ অপরূপ সাজ যে কোন ভ্রমণ পিপাসুকে মুগ্ধ করবে বলে আমি মনে করি।
রাঙ্গামাটি কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোঃ তারেক বলেন, এই ঘাগড়া ঝর্ণাটি আমাদের রাঙ্গামাটির জন্য পর্যটক স্পট। বাইরে থেকে আসা অনেক পর্যটকরা এখানে যে একটি এতো সুন্দর ঝর্ণা আছে তা জানে না। তাই এই ঘাগড়া ঝর্ণাকে যদি পর্যটন স্পট হিসেবে প্রচার করা হয় তবে এখানে আরো পর্যটকদের পদচারণা বারবে। আর এখানে সর্বপরি যেটি প্রয়োজন সেটি  হলো ঝর্ণায় আসার পথ অনেকটা ঝুঁকিপূর্ণ। যে কোন সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এখানে নিরাপত্তারও ঝুঁকি রয়েছে। তাই পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য প্রশাসন থেকে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

এই বিভাগের আরও খবর

  বান্দরবানের মেঘলা পর্যটন কেন্দ্রে দখিনা চত্বরের উদ্বোধন করলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো: আব্দুল মান্নান

  আলীকদম পর্যটন স্পট গুলিতে দর্শনার্থীদের ভিড়ঃ ভরা বর্ষায় উন্মাতাল দামতুয়া ঝর্ণা

  পর্যটকদের পদচারণায় মুখর রাঙ্গামাটি ঘাগড়া কলা বাগানে অবস্থিত ঘাগড়া ঝর্ণা

  টানা ছুটিতে আশানুরূপ পর্যটক নেইঃ অর্থনৈতিক ভাবে বিপর্যয়ে পড়বে পর্যটন শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা

  ঈদের ছুটিতে কাপ্তাই লেকে নৌ ভ্রমণে পর্যটকদের ছিল উপচেপড়া ভীড়

  পাহাড় ধসের শঙ্কায় পর্যটকদের সাজেক ভ্রমণ না করার আহবান

  পর্যটকের পদচারণায় মুখরিত বান্দরবান

  বান্দরবানের পর্যটন স্পট রুমা উপজেলার বগালেক দেখতে প্রতিদিনই ভিড় জমাচ্ছে পর্যটকেরা

  খাগড়াছড়িতে পর্যটন কন্যা ভাইবোনছড়া মায়াবী লেকে পর্যটকদের ভিড়

  আলাউদ্দিন-লিমা দম্পতির জীবনে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক ঘটনার বর্ননা লাভ পয়েন্টের কোথাও নেই

  বান্দরবানের আকাশে মেঘ,পর্যটকেরা বিমোহিত

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

আজকের প্রশ্ন

ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তির প্রেক্ষাপটে আইইডিসিআরের সাবেক পরিচালক মাহমুদুর রহমান বলছেন, মৃত্যুর ঘটনাগুলো ‘রিভিউ’ করার কোনো প্রয়োজন নেই, চিকিৎসকদের কথাই যথেষ্ট। আপনি কি তাকে সমর্থন করেন?