শনিবার, ১৭ নভেম্বর ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮, ১২:১৭:৩৪

পাথরের ভাজে শীতল জল যেন জানান দেয় স্বচ্ছ জলের ধারায় ‘দামতুয়া জলপ্রপাত’

পাথরের ভাজে শীতল জল যেন জানান দেয় স্বচ্ছ জলের ধারায় ‘দামতুয়া জলপ্রপাত’

বান্দরবানঃ-পাহাড়ের গহিনের স্বচ্ছজলের উত্তাল কলতান। সেই স্বচ্চতায় প্রতিনিয়ত মুখরিত হচ্ছে পার্বত্য জেলা বান্দরবানের আলীকদমের অপরূপ ‘দামতুয়া জলপ্রপাত’।
পর্যটনের অপার সম্ভাবনাময় এ জলপ্রপাতে দিন দিন বাড়ছে ভিড়। ভ্রমণ পিপাসুদের হৃদয়ে স্থান করে নিচ্ছে জলপ্রপাতটি। আলীকদমে অসংখ্য ঝর্ণা ও জলপ্রপাতের মধ্যে দামতুয়াই সবচেয়ে বড়। শুধু এই উপজেলায় নয়, বাংলাদেশের বড় জলপ্রপাতের মধ্যে এটি অন্যতম। এছাড়াও এখানে রয়েছে ওয়াংপা ঝর্ণা, পোয়ামুহুরী (রূপমুহুরী ঝর্ণা) মেরাংতং ঝর্ণা ও নুনার ঝিরি ঝর্ণা।
তবে এই ভরা বর্ষায় উচ্ছ্বল কলরবে লাফিয়ে চলছে ‘দামতুয়া জলপ্র্রপাত’ স্বচ্ছ পানির ধারা। ইতিমধ্যে দেশের ভ্রমন পিপাসুদের কাছে এই জলপ্রপাতের খবর পৌঁছে গেছে। তাই প্রতিদিনই দেশের কোনো না কোনো স্থান থেকে পর্যটকরা ছুটে আসছেন দামতুয়া ঝর্ণার হিমশীতল জলে সিক্ত হতে।  
উপজেলা সদর থেকে প্রায় ২১ কিলোমিটার দূর্গম গহিনে এই জলপ্রপাতের অবস্থান। এর চারদিকের পাহাড় চূড়ায় রয়েছে ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠি মুরুং (ম্রো) সম্প্রদায়ের বসাবাস। ওই (মুরুং) এলাকাবাসীদের পথ অনুসরণ করেই পর্যটকদের এই জলপ্রপাতে যেতে হয়। পাহাড় ঝিরি-খাল ডিঙিয়ে পায়ে হেঁটে যেতে হয় সেখানে। শুধু জলপ্রপাতটিই নয়, যাওয়ার সময় পাহাড়ের অপরূপ দৃশ্য ভ্রমণপ্রেমিদের দৃষ্টি আকর্ষিত করে।
সম্ভাবনাময় জলপ্রপাত নিয়ে কথা হলে আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজিমুল হায়দার বলেন, আমি দেশের অনেক স্থানেই ভ্রমনে গিয়েছি। সর্বশেষ এই ঈদের পর গেলাম আলীকদমের দূর্গমের এই দামতুয়া জলপ্রপাতে। পর্যটকদেরকে ধন্যবাদ দিতে হয় এত কষ্টকরে পাহাড়-ঝিরি-কাল ডিঙিয়ে পায়ে হেঁটে এই জলপ্রপাত দর্শণে আসে। স্থানটি অনেক সুন্দর, সু-উচ্চ পাহাড় থেকে উচ্ছ্বল কলরবে লাফিয়ে পড়ছে জ্বলধারা। চারদিকের পরিবেশও অনেক মনোরম। যাতায়ত ব্যবস্থা সহজ করা গেলে এখানে প্রতিদিনই হাজার হাজার ভ্রমন পিপাসুদের ভিড় জমবে, এটা আমি হলফ করে বলতে পারি।
নাজিমুল হায়দার আরো বলেন, উপজেলা প্রশাসন থেকে যতটুকু সম্ভব যাতায়াত ব্যবস্থাটি স্বাভাবিক করে দেয়ার উদ্যোগ নিব। একই সঙ্গে এখানে এসে যাতে পর্যটকরা বিশ্রাম নিতে পারেন এবং তাদের নিরাপত্তার কি করা যায় সেটিও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ করবো।
ওই জলপ্রপাতে দেখা হয় আলীকদম উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালামের সঙ্গে। তিনি বলেন, এই জলপ্রপাতে প্রায় সময় ছুটে আসি। দেশের অনেক পর্যটনস্পট ও জলপ্রপাত ভ্রমন করেছি। তবে এই দামতুয়া জলপ্রপাতের মতো দ্বিমুখী ও সু-উচ্চ জলপ্রপাত দেখেছি মনে হচ্ছে না। তাই সময় পেলেই দেখার জন্য চলে আসি। আসতে কষ্ট হয়, তার পরেও জলপ্রপাতের আকর্ষনে এখানে বারবার চলে আসি।
ওই জলপ্রপাত ভ্রমনে আসা চট্টগ্রামের বেসরকারি একটি স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষক মামুনুর রশিদ পারভেজ বলেন, সত্যিই এই জলপ্রপাত দেশের আর কোথাও নেই। কারণ এটি দ্বিমুখী। পাশাপাশি দু‘পাহাড় থেকে একই স্থানে এমনভাবে পানির উচ্ছস ছড়ানোর জলপ্রপাত কোথাও আছে বলে মনে হচ্ছে না। পাহাড়গুলোও দেখার মতো। জলপ্রপাতের চার দিকের ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পাহাড়ের চূড়ায় ক্ষুদ্র-নৃ গোষ্ঠি মুরুংদের ঘরগুলো দেখতে যেমন সুন্দরও তেমনি তাদের জীবিকা অন্বেষণের দৃশ্যটিও ভাবিয়ে তোলার মতো। এখানে শুধু দেখা নয়, আমাদের জন্য অনেক শিক্ষাও আছে।
প্রকৃতির অপরূপ নিদর্শন এ ঝর্ণা ও জলপ্রপাতের উপচেপড়া ঝর্ণা ধারা দেখার মোক্ষম সময় এই বর্ষায়। বর্ষা শুরু থেকেই পাহাড় থেকে উপচে পড়ে যৌবন স্রোত। সবুজ পাহাড়ের নিস্তব্ধতা মাঝে ঝর্ণা রাণীরা যেন আঁচল বিছিয়ে দিয়েছে পর্যটকদের অভ্যার্থনা জানাতে। তাই সবুজের টানে প্রাণের উচ্ছ্বাসে দেশের নানাপ্রান্ত থেকে প্রতিনিয়ত এমন দৃশ্য দেখতে ছুটে আসছেন পর্যটকরা।
‘দামতুয়া ঝর্ণা’য় দু’দিকের খাড়া পাহাড়ি দেয়াল বেয়ে কলকল, ঝম্ঝম রবে সুরের অনুরণন তুলে উন্মাতাল স্রোত গড়িয়ে পড়ছে নিচের গভীর জলাশয়ে। উঁচু থেকে পড়া পানির কিছু অংশ আবার জলীয় বাষ্প হয়ে বাতাসে মিশে সেখানে এক ধোঁয়াশাপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। এ যেন পাহাড়ের গভীরে মেঘমালা।
‘দামতুয়া ঝর্ণা’য় নামতে হলে খাড়া পাহাড়ের কিছুটা পথ ডিঙ্গিয়ে নীচে নামতে হয়। তবে দামতুয়া জলপ্রপাতে নামার পথ পাথুরে মাটি। সেখানে নামতে তেমন সমস্যা হয় না। ঝর্ণা ও জলপ্রপাতের নীচে মাঝারী ধরণের জলাশয় রয়েছে। এ জলশয়ে সাঁতার কাটতে ও গোসল করতে বেশ ভালো লাগে।
‘দামতুয়া ঝর্ণা ও জলপ্রপাতে’  পৌঁছার অন্তত একঘন্টা আগে দেখা মিলবে ‘ওয়াংপা ঝর্ণা’। মূল ‘ওয়াংপা ঝর্ণা’ দেখতে হলে খাড়া পাহাড় বেয়ে নীচে নামতে হবে। চলাচল পথের মাঝে অসংখ্য ছোট বড় পাথরের ভাজে শীতল জল যেন জানান দেয়, ওয়াংপা ঝর্ণা জল স্রোত কেমন হবে। ওপর থেকে ‘ওয়াংপা ঝর্ণা’র পানি গড়িয়ে পড়ার দৃশ্য আরো মনোহর লাগে।
প্রকৃতির নান্দনিক তুলিতে আঁকা সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হচ্ছে ভ্রমণপিয়াসী মানুষ। রাতে যদিও সেখানে অবস্থান করা নিরাপদ নয়। তবে তাঁবু খাটিয়ে অবস্থান করলে বোঝা যাবে রাতের বেলায় চাঁদের আলোয় ঝর্ণার অপরূপ সৌন্দর্য ও কলতান।
প্রকৃতির অপরূপ সৃষ্টি ওয়াংপা ঝর্ণা, দামতুয়া ঝর্ণা ও জলপ্রপাত। যেখানে প্রকৃতি খেলা করে আপন মনে। রুমুঝুম্ ঝুম্ ঝুম্ শব্দে বয়ে চলা ঝর্ণাধারায় গা ভিজিয়ে মানুষ যান্ত্রিক জীবনের অবসাদ থেকে নিজেকে ধুয়ে মুছে সজীব করে তুলতে পারে এর হিমশীতল জলে।
ধারণা করা হচ্ছে, শতবর্ষ পূর্ব হতেই পবাহিত রয়েছে এসব ঝর্ণা ও জলপ্রপাত। এতদিন সড়ক যোগাযোগ না থাকা, বিচ্ছিন্ন পাহাড়ি জনপদ হওয়ায় তা ছিল লোকচক্ষুর অন্তরালে। ফলে তা অনাবিস্কৃতই থেকে যায়। উদ্যমী তরুন-যুবকরা পাহাড়ের কন্দরে লুকিয়ে থাকা এসব ঝর্ণা রাণী ও জলপ্রপাতকে খুঁজে খুঁজে বের করে আনছে। ফলে পাল্টে যাচ্ছে আলীকদম উপজেলার পর্যটন পরিবেশ। নতুনত্বের ছোঁয়া লাগছে পর্যটনখাতে। সরকারি আনুকুল্য পেলে এসব পর্যটন স্পট হয়ে উঠবে পর্যটক বান্ধব।
যেভাবে যাবেন দামতুয়া জলপ্রভাতেঃ বান্দরানের আলীকদম-থানচি সড়কের ১৭ কিলোমিটার পয়েন্টের আদু মুরুং পাড়া থেকে ৪ কিলোমিটার দূরে দামতুয়া ঝর্ণা ও জলপ্রপাতের অবস্থান। ১৭ কিলোমিটার পথ জীপ অথবা মোটরবাইকে যাওয়ার পর বাকি পথ যেতে হয় পায়ে হেঁটে।

এই বিভাগের আরও খবর

  ঘুরে আসুন ঝরনার গ্রাম দীঘিনালা

  পাথরের ভাজে শীতল জল যেন জানান দেয় স্বচ্ছ জলের ধারায় ‘দামতুয়া জলপ্রপাত’

  লামার অসংখ্য ঝর্ণা-পাহাড়-নদী ও বিনোদন স্পট হাতছানি দিচ্ছে

  পর্যটনের অপার সম্ভাবনাময় পানছড়ির লেক ‘মায়াবিনী’

  খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় ভ্রমন পিপাসুদের নতুন মাত্রা ভগবান টিলা

  প্রতিদিনই পর্যটকদের ভ্রমনের নিরাপত্তা, আবাসনসহ বিভিন্ন বিষয়ে জেলা প্রশাসনের নজরদারি রয়েছে-দিলীপ কুমার বণিক

  বান্দরবানে জেলা প্রশাসন কর্তৃক পরিচালিত মেঘলা ও নীলাচলে পর্যটক অবস্থানের সময় বাড়লো

  চার মাস পর পর্যটকদের জন্য খুলে দেয়া হলো রাঙ্গামাটির ঝুলন্ত সেতু

  পর্যটন নিয়ে স্বপ্ন দেখেন বান্দরবানের থানচি উপজেলার দূর্গম রেমাক্রীর মানুষ

  কাপ্তাই লেকশোর রিজোর্টে আকর্ষনীয় সুইমিং পুল উদ্বোধন

  বান্দরবানের ওয়াংপা ঝরনা ও দামতুয়া জলপ্রপাতের সন্ধান

 

 

 

 

 

 

 

 

আজকের প্রশ্ন

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, নির্বাচন না পেছালেও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ভোটে আসত। আপনি কি তা মনে করেন?