Chtnews24.com
খাগড়াছড়ির রামগড়ে এক রাতে ৩ বাড়িতে ডাকাতি, দায়ের কোপে আহত-৪
Sunday, 04 Aug 2019 21:12 pm
Reporter :
Chtnews24.com

Chtnews24.com

রামগড়ঃ--রামগড় পৌরসভার পাশাপাশি দুই এলাকা পূর্ব চৌধুরিপাড়া ও কালাডেবায় শনিবার (৩ আগস্ট) গভীর রাতে দুই বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ওই রাতে একই এলাকায় আরেকটি বাড়িতে ডাকাতির চেষ্টা করে ব্যর্থ হয় ডাকাত দল। ডাকাতরা দুটি বাড়ি থেকে নগদ এক লাখ ৬৫ হাজার টাকা ও প্রায় ৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে গেছে। এ সময় ডাকাতদের দায়ের কোপে একই পরিবারের চারজন আহত হয়েছেন।
পুলিশ ও ডাকাতির শিকার পরিবারের সদস্যরা জানান, শনিবার রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে পূর্ব চৌধুরিপাড়া এলাকার বাসিন্দা মফিজুর রহমানের বাড়িতে হানা দেয় ডাকাত দল। তারা ঘরের টিনের বেড়া খুলে ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় গৃহকর্তার দুই ছেলে বেলাল হোসেন (৩০) ও ইমাম হোসেন (১৭) ডাকাতদের দেখে চিৎকার শুরু করলে পাশের রুম থেকে বাবা ও মা ছুটে আসেন। এ সময় গৃহকর্তা মফিজ ও বড় ছেলে বেলাল একজন ডাকাতকে ধরে ফেললে অন্যরা এসে ধারালো দা, লোহার রড ইত্যাদি দিয়ে ঘরের সবাইকে এলোপাথারিভাবে আঘাত করতে থাকে। এক পর্যায়ে ডাকাতরা টাকা পয়সা নিয়ে পালিয়ে যায়।
পরে তাদের চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে ডাকাতদের দায়ের কোপে আহত মফিজুর রহমান (৫০), স্ত্রী হোসনে আরা বেগম (৪৮), ছেলে বেলাল হোসেন (৩০) ও ইমাম হোসেনকে (১৭) রাতেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় গৃহকর্তা মফিজুর রহমানকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। হাসপাতালের চিকিৎসক জানান, তার অবস্থা আশংকাজনক।
আহত বেলাল জানান, ছয়জন ডাকাতের মুখ গামছা দিয়ে বাধা ছিল। তারা ঘরে ঢুকেই বিদ্যুতের মেইন সুইচ বন্ধ করে দেয়। কয়দিন আগে তারা এক লাখ ৩০ হাজার টাকায় দুটি গরু বিক্রি করেন। ডাকাতরা সব গুলো টাকা নিয়ে বৈদ্য টিলা এলাকার দিকে পালিয়ে যায়।
এদিকে, একই রাতে পূর্ব চৌধুরিপাড়ার অদূরে কালাডেবায় সিরাজ কোম্পানির বাড়িতে ডাকাতি ঘটনা ঘটে। গৃহকত্রী রহিমা বেগম (৪৫) জানান, শনিবার রাতে তারা কেউ ঘরে ছিলেন না। ডাকাতরা ঘরের দরজার ছিটকিনি ভেঙ্গে ভেতরে ঢোকে। তারা একাধিক রুমের আলমিরা, শোকেস, অয়্যারড্রপের তালা ভেঙ্গে ৩৫ হাজার টাকা, প্রায় ৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, জমিজমার দলিলপত্র প্রভৃতি লুট করে নিয়ে যায়।
এদিকে, সিরাজ কোম্পানির বাড়ি হতে কয়েক গজ দুরের নুরুল আমিন মেম্বারের বাড়িতেই হানা দেয় ডাকাতরা। কিন্তু ঘরের দরজা ভাঙ্গতে না পেরে তারা ব্যর্থ হয়। গৃহকর্তা নুরুল আমিন মেম্বার জানান, ডাকাতরা দরজা ভাঙ্গার চেষ্টা করলে তাদের ঘুম ভাঙ্গে। এ সময় ডাকাতরা নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে দরজা খুলতে বলে। গৃহকর্তা জানালা খুলে তাদের দেখে ডাকাত ডাকাত বলে চিৎকার শুরু করেন। পরে ডাকাতরা পালিয়ে যায়।
রামগড় থানার অফিসার ইনচার্জ তারেক মো. আব্দুল হান্নান জানান, ডাকাতদের ধরতে রাত থেকেই পুলিশ অভিযান শুরু করেছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ছয়জনকে আটক করা হয়েছে।