Chtnews24.com
ভারী বৃষ্টিতে কর্ণফুলী নদীতে পানি বৃদ্ধি পেলে বন্ধ হয় লিচুবাগান ফেরী পারাপার, দূর্ভোগে পড়ে হাজারো মানুষ
Monday, 15 Jul 2019 21:38 pm
Reporter :
Chtnews24.com

Chtnews24.com

কাজী মোশাররফ হোসেন, কাপ্তাইঃ-ভারী বৃষ্টি হলেই কর্ণফুলী নদীতে পানি বৃদ্ধি পায়। আর পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে লিচুবাগানে ফেরী পারাপার বন্ধ হয়ে যায়। গত কয়েক দিনের টানা বর্ষনের ফলে দফায় ফেরী পারাপার বন্ধ হয় বলে জানা গেছে। আর ফেরী পারপার বন্ধ হলে যাতায়াতে হাজার হাজার মানুষকে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়।
কাপ্তাই উপজেলার রাইখালীতে অবস্থিত পাহাড়ী কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোঃ আলতাফ হোসেন বলেন, কর্ণফুলী নদীর লিচুবাগানে অবস্থিত ফেরীটি যাতায়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, কাপ্তাই, রাজস্থলী উপজেলায় যাতায়াতে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী এই ফেরী দিয়ে যাতায়াত করেন। সাধারণ জনগণের যানবাহন ছাড়াও চন্দ্রঘোনা থানা পুলিশ, সেনাবাহিনী এবং বাংলাদেশ বর্ডার গার্ডেরও বিপুল সংখ্যক গাড়ি প্রতিদিন এই ফেরী দিয়ে যাতায়াত করে। কিন্তু ফেরীর পন্টুন পানিতে ডুবে থাকায় ফেরী চলাচল বন্ধ থাকে। আর ফেরী চলাচল বন্ধ থাকায় রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, কাপ্তাই, রাজস্থলী উপজেলার সাথে সড়ক যোগাযোগও বন্ধ হয়ে যায়। প্রত্যেক বর্ষায় মানুষকে এভাবে চরম দূর্ভোগ পোহাতে হয়।
রাইখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ এনামুল হক বলেন গত ৭ জুলাই থেকে ১৩ জুলাই পর্যন্ত কাপ্তাই উপজেলায় লাগাতার বৃষ্টি হয়। বৃষ্টি হলেই কর্ণফুলী নদীতে পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পায় এবং নদীতে পানির স্রোতও বেড়ে যায়। আর তখন ফেরীর পন্টুন পানিতে ডুবে যায়। ঐ অবস্থায় ফেরীর উপর কোন যানবাহন উঠতে পারেনা। ফলে ফেরী চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এই পরিস্থিতিতে অসংখ্য মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা অজয় সেন জানান গত ১৩ জুলাই সকালে পাহাড় ধসে রাইখালী ইউনিয়নের কারিগর পাড়ায় ২ ব্যক্তি মাটি চাপা পড়েন। তাদের উদ্ধার করার জন্য কাপ্তাই দমকল বাহিনীকে খবর দেওয়া হয়। খবর পাবার সাথে সাথে দমকল বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। কিন্তু লিচুবাগান ফেরী ঘাটে এসে দমকল বাহিনীকে থমকে যেতে হয়। ফেরীর পন্টুনে পানি উঠায় ফেরী চলাচল বন্ধ থাকে। যার ফলে দমকল বাহিনীর সদস্যরা মাটি চাপা পড়া লোকজনদের উদ্ধার করতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছতে পারেনি। এরকম দূর্বিসহ পরিস্থিতিতে সব সময় পড়তে হয় বলেও তিনি জানান।
স্থানীয় জনগণ আরো জানান, বর্তমান সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের গ্রামের বাড়ী যেতে হলে এই ফেরী পারাপার হতে হয়। মন্ত্রী দূর্ভোগ মাড়িয়ে ফেরীর উপর দিয়ে প্রায় সময় গ্রামের বাড়ী যাতায়াত করেন। কিন্তু লিচুবাগান ফেরীঘাটে একটি সেতু করার বিষয়ে মন্ত্রীর বলিষ্ঠ ভূমিকা গত ১০ বছরেও স্থানীয়রা দেখতে পায়নি। সরকার হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যায়ে পদ্মা সেতু করছে। অল্প সময়ের মধ্যে লিচুবাগান ফেরীঘাটে সেতু হবে বলে স্থানীয় জনগণ প্রত্যাশা করছেন।