Chtnews24.com
রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম সড়কের ধ্বস ঠেকাতে কাজ করছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ, এলাকা পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক
Thursday, 11 Jul 2019 21:24 pm
Reporter :
Chtnews24.com

Chtnews24.com

রাঙ্গামাটিঃ-টানা বৃষ্টিতে রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম সড়কের কলাবাগান এলাকায় সড়কের এক পাশ ধসে ছড়ায় বিলীন হয়ে গেছে। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে গাড়ি চলাচল। সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) ধ্বস ঠেকানোর চেষ্টা করছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত শনিবার থেকে টানা বৃষ্টি হচ্ছে রাঙ্গামাটিতে। রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম সড়কের কাউখালী উপজেলা ঘাগড়া ইউনিয়নের কলাবাগান এলাকায় কয়েক দফা পাহাড় ধ্বস হয়। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রথমে ওই এলাকায় পাহাড় ধ্বস হয়। এরপর বুধবারও কয়েক দফা পাহাড় ধ্বস হলে সড়কের একাংশ ঘাগড়াছড়ায় বিলীন হয়ে গেছে। ইতিমধ্যে সড়কের পাশে থাকা দুটি বিদ্যুতের খুঁটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ধ্বস ঠেকানো না গেলে যেকোনো সময় রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে।
এদিকে বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) ঘাগড়া কলাবাগান এলাকার ক্ষতিগ্রস্থ রাস্তা পরিদর্শন করেছেন রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক এ কে এম মামুনুর রশিদসহ উর্ধতন কর্মকর্তারা। এসময় তারা ঘাগড়া কলাবাগান এলাকার বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করেন এবং রাস্তা মেরামতের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান। তবে টানা বর্ষণের কারণে ছড়ায় পানি স্রোত বেশী থাকার কারণে কাজে ব্যঘাত সৃষ্টি হচ্ছে বলে জানান সড়ক ও জনপথ বিভাগ কর্তৃপক্ষ।
২০১৭ সালে রাঙ্গামাটিতে ভয়াবহ পাহাড় ধসে রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম সড়কে শালবন যৌথ খামার এলাকায় ১০০ ফুট সড়ক বিলীন হয়ে যায়। এ ছাড়া অন্তত ১০ থেকে ১৫টি স্থানে বড় আকারে পাহাড় ধ্বস হয়। এ কারণে সারা দেশের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। পাহাড় ধ্বসের ঘটনার ৯ দিন পর যৌথ খামার এলাকা অস্থায়ী পাটাতনের সেতু নির্মাণের পর যান চলাচল চালু করা হয়। একই সঙ্গে রাঙ্গামাটি-খাগড়াছড়ি, আসামবস্তি-কাপ্তাই ও ঘাগড়া বড়ইছড়ি সড়কেও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্র জানায়, রাঙ্গামাটি শহর থেকে ১৬ কিলোমিটার দূরত্বে কলাবাগান এলাকা। সেখানে সড়কের পাশের ৪০ থেকে ৫০ ফুটের মতো অংশ ধসে পড়েছে পাশের ছড়ায়। কলাবাগান এলাকার এক কিলোমিটার আগেও পাহাড়ধস হয়েছে। এ ছাড়া সড়কের মানিকছড়ি ও যৌথ খামার এলাকায় কয়েকটি স্থানে পাহাড় ধ্বস হয়েছে।
এদিকে, রাঙ্গামাটি-খাগড়াছড়ি ও আসামবস্তী-কাপ্তাই সড়কেরও বেশ কয়েক স্থানে পাহাড় ধ্বস হয়। তবে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো ধসে পড়া মাটি সরিয়ে নেওয়ায় যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কলাবাগান এলাকায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে গাড়ি। পাকা সড়কের পাড় ইতিমধ্যে ছড়ায় বিলীন হয়ে গেছে। আর সামান্য ভাঙলেই সড়ক বিলীন হয়ে যাবে। সড়ক থেকে পাশে ঘাগড়া ছড়া অন্তত ৫০ ফুট গভীর। সওজের কর্মীরা ধ্বস ঠেকানোর চেষ্টা করছেন।
রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম সড়কের যাত্রীবাহী বাস চালক মো. ইব্রাহিম খলিল বলেন, ২০১৭ সালে পাহাড় ধ্বসের পর বেশ কিছু স্থান চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যে কলাবাগান এলাকায় পাহাড় ধসে আরও ঝুঁকি বেড়েছে। পাকা সড়ক থেকে মাত্র দেড় থেকে দুই হাতে ভাঙন। একটু অসাবধান হলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
কলাবাগান এলাকার বাসিন্দা মো. আবদুল মতিন বলেন, কয়েক দফায় পাহাড় ধসে সড়কের একাংশ ৫০ ফুট নিচে ঘাগড়া ছড়ায় বিলীন হয়ে গেছে। দ্রুত ধস ঠেকানোর ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো সময় পাহাড় ধ্বসে সড়কটি বিলীন হয়ে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাবে। আমার বাড়িটিও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। কোথাও যাওয়ার ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে থাকতে হচ্ছে।
পাহাড় ধ্বস ঠেকানোর কাজে নিয়োজিত শ্রমিক মো. তাজুল ইসলাম বলেন, আমরা শুধু অস্থায়ীভাবে পাহাড় ধ্বস ও ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করছি। যেকোনো মুহূর্তে আবার পাহাড় ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
রাঙ্গামাটি সওজের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. ইউনুছ বলেন, টানা বৃষ্টিতে রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম সড়কে বেশ কয়েকটি স্থানে পাহাড় ধ্বস হয়েছে। এর মধ্যে রাঙ্গামাটি শহর থেকে ১৬ কিলোমিটার দূরত্বের কলাবাগানে মাঝারি ধরনের ধ্বস হয়েছে। আমরা অস্থায়ীভাবে ধ্বস ঠেকানোর করাজ করছি।