Chtnews24.com
টানা বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলে বাঘাইছড়ির নিম্নাঞ্চল প্লাবিত
Thursday, 11 Jul 2019 14:17 pm
Reporter :
Chtnews24.com

Chtnews24.com

রাঙ্গামাটিঃ-গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলে রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন বাঘাইছড়ির ৬টি গ্রামের এক হাজার মানুষ। বারিবিন্দু ঘাটের বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধের আংশিক ক্ষতি হয়েছে।
এ দিকে টানা ছয়দিনের মত হালকা থেকে মাঝারী বৃষ্টি অব্যাহত আছে। বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা বেড়েছে ৮৩ এম এস এল (মীনস সী লেভেল) অবস্থান করছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় প্রতিনিয়ত পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বাঘাইছড়ি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৪টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। পাহাড়ী ঢলে কাচালং নদীর পানি বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ায় আশংকা রয়েছে বলে জানিয়েচেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আহসান হাবিব জিতু।
তিনি জানান, তুলাবান, বারিবিন্দুঘাট, মধ্যম ডেবার পাড়া, মুসলিম ব্লক, পুরান মারিশ্যা, মাষ্টার পাড়া বটতলী এলাকার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এলাকাগুলোতে খাবার পানির সংকট দেখা দিয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ হতে আশ্রয়কেন্দ্র খোলার পর প্রায় তিনশ মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। অনেকেই আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।
বাঘাইছড়ি পৌরসভার মেয়র জাফল আলী খান জানান, পৌরসভার অনেক এলাকায় মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। টিউবওয়েলগুলো ডুবে যাওয়ায় খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। যারা আশ্রয়কেন্দ্রে আসবেন তাদের খাবারের ব্যবস্থা করা হবে।
বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আহসান হাবিব জিতু জানান,  টানা বর্ষণে পাহাড়ী ঢলের কারণে দ্রুতগতিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। বৃষ্টি না কমলে আরও অনেক এলাকা প্লাবিত হতে পারে। নদীতে স্রোতের কারণে ত্রাণ সামগ্রী এখনও পৌঁছেনি। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা নিজ নিজ আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে খাবারের ব্যবস্থা করছেন। পৌর এলাকায় আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে বাজার থেকে খাবার কিনে সরবরাহ করা হচ্ছে।
এদিকে ছয়দিন ধরে রাঙ্গামাটিতে বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। দিনরাতে থেমে থেমে হালকা থেকে মাঝারী ধরনের বর্ষণ চলছে। এতে মানুষের জীবন যাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। টানা বর্ষনে বিভিন্ন স্থানে মাটি ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। ভাঙ্গনের ফলে ঘাঘড়া এলাকায় রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম সড়কে ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে।
পাহাড় ধসে প্রানহানি এড়াতে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে শহরের অতি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে শহরে ৭টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রায় ৫শত লোককে সড়িয়ে নিয়ে আসা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের খাবার দেয়া হচ্ছে।
ছয়দিনের টানা বর্ষণের ফলে রাঙ্গামাটির বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, নিজেদের সহায় সম্বল রক্ষায় এখনো অনেকেই ঝুঁকি নিয়ে পাহাড়ের খাদে বসবাস করছে। আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে খাবার পর্যাপ্ত না থাকায় মানুষ আশ্রয়কেন্দ্র যেতে অনিহা প্রকাশ করছেন। খাবার দাবারের আশায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঘরে রান্না বান্ন করে খাবার খেয়ে আশ্রয় কেন্দ্রে ফিরে আসছে। দিনের বেলায় আশ্রয় কেন্দ্র গুলোতে লোকজন না থাকলেও রাতের বেলায় আশ্রয় কেন্দ্র গুলোতে লোকজনের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে।
রাঙ্গামাটির সবচেয়ে ঝুকিপূর্ন এলাকা মনোঘর, যুব উন্নয়ন এলাকা, শিমুলতলী, ভেদেভেদী, সনাতন পাড়া, লোকনাথ মন্দিরের পেছন সাইড, রূপনগর, আরশি নগর, টিভি সেন্টার এলাকা, আউলিয়া নগরসহ বেশ কিছু ঝুকিপূর্ণ এলাকা থেকে লোকজনকে সরিয়ে নিতে জেলা প্রশাসনের বেশ কয়েকটি মোবাইল টিম কাজ করছে।
রাঙ্গামাটি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা তুজ জোহরা (উপমা) জানান, রাঙ্গামাটি দুর্যোগ মোকাবেলায় রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসন সব সময় প্রস্তুত আছে। উপজেলাগুলোর আশ্রয় কেন্দ্রগুলো খোলা রেখেছি। উপজেলার পক্ষ থেকে আমরা পর্যান্ত পরিমাণ শুকনো খাবার মজুদ করে রেখেছি। যদি কোন ধরনের দূর্যোগের ঘটনা ঘটে তা হলে আমরা সেই শুকনো খাবারগুলো সরবরাহ করবো। আর আমরা সব ইউনিয়নগুলোতে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি আর ঝুঁকিপূর্ণ স্থান থেকে মানুষদের সরে যেতে সার্বক্ষণিক মাইকিং করা হচ্ছে। যাতে করে তারা ঝুঁকিপূর্ণ স্থান ত্যাগ করে আশ্রয় কেন্দ্রে চলে আসে।