Chtnews24.com
রাঙ্গামাটিতে পাঁচ দিন ধরে হালকা ও মাঝারী বর্ষণ অব্যাহত, ৭টি আশ্রয় কেন্দ্রে লোকজনকে সড়িয়ে আনা হয়েছে
Wednesday, 10 Jul 2019 21:58 pm
Reporter :
Chtnews24.com

Chtnews24.com

রাঙ্গামাটিঃ-পাঁচ দিন ধরে রাঙ্গামাটিতে বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। দিনরাতে থেমে থেমে হালকা থেকে  মাঝারী ধরনের বর্ষণ চলছে। এতে মানুষের জীবন যাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। টানা বর্ষনে বিভিন্ন স্থানে মাটি ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। ভাঙ্গনের ফলে ঘাঘড়া এলাকায় রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম সড়কে ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। বৃষ্টি আর পাহাড়ী ঢল নামতে শুরু করায় কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতাও বাড়তে শুরু করেছে।
এদিকে পাহাড় ধসে প্রানহানি এড়াতে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে শহরের অতি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে শহরে ৭টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রায় ৫শত লোককে সড়িয়ে নিয়ে আসা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের খাবার দেয়া হচ্ছে। আজ সকাল থেকে আবারো ভারী বর্ষণ শুরু হলে মানুষের মাঝে আতংক দেখা দেয়।
৫ দিনের টানা বর্ষণের ফলে রাঙ্গামাটির বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে নিজেদের সহায় সম্বল রক্ষায় এখনো অনেকেই ঝুঁকি নিয়ে পাহাড়ের খাদে বসবাস করছে। আশ্রয় কেন্দ্র গুলোতে খাবার পর্যাপ্ত না থাকায় মানুষ আশ্রয় কেন্দ্র মুখী হতে পারছে না। খাবার দাবারের আশায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঘরে রান্না বান্ন করে খাবার খেয়ে আশ্রয় কেন্দ্রে ফিরে আসছে। দিনের বেলায় আশ্রয় কেন্দ্র গুলোতে লোকজন না থাকলেও রাতের বেলায় আশ্রয় কেন্দ্র গুলোতে লোকজনের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে।
রাঙ্গামাটির সবচেয়ে ঝুকিপূর্ন এলাকা মনোঘর, যুব উন্নয়ন এলাকা, শিমুলতলী, ভেদেভেদী, সনাতন পাড়া, লোকনাথ মন্দিরের পেছন সাইড, রূপনগর, আরশি নগর, টিভি সেন্টার এলাকা, আউলিয়া নগরসহ বেশ কিছু ঝুকিপূর্ণ এলাকা থেকে লোকজনকে সরিয়ে নিতে জেলা প্রশাসনের বেশ কয়েকটি মোবাইল টিম কাজ করছে।
এদিকে রাঙ্গামাটি চট্টগ্রাম সড়কের বিভিন্ন এলাকায় রাস্তার মাটি সরি গিয়ে যানবাহন চলাচলে মারাত্মক ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে। বন্ধ হয়ে রয়েছে রাঙ্গামাটি-খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি-বান্দরবান, রঙ্গামাটি-মারিশ্যা রুটের সকল যানবাহন। এছাড়া ঘাগড়ার কলাবাগান এলাকায় ছড়ার পানির কারণে ভেঙ্গে গেছে রাঙ্গামাটি চট্টগ্রাম সড়কের রাস্তার বিশাল অংশ। গতকাল বিকাল থেকে সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মচারীরা রাস্তা সংস্কারের জন্য দ্রুত কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
রাঙ্গামাটি সদর উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তর্পণ দেওয়ান, জানান, রাঙ্গামাটি পাহাড় বেষ্টিত হওয়ায় রাঙ্গামাটি জেলার সব কয়টি উপজেলার ইউনিয়ন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। মাইকিং করা হচ্ছে সব সময় সব কয়টি ইউনিয়নে বলে জানিয়েছেন তিনি।
রাঙ্গামাটি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা তুজ জোহরা (উপমা) জানান, রাঙ্গামাটি দুর্যোগ মোকাবেলায় রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসন সব সময় প্রস্তুত আছে। উপজেলাগুলোর আশ্রয় কেন্দ্রগুলো খোলা রেখেছি। উপজেলার পক্ষ থেকে আমরা পর্যান্ত পরিমাণ শুকনো খাবার মজুদ করে রেখেছি। যদি কোন ধরনের দূর্যোগের ঘটনা ঘটে তা হলে আমরা সেই শুকনো খাবারগুলো সরবরাহ করবো। আর আমরা সব ইউনিয়নগুলোতে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি আর ঝুঁকিপূর্ণ স্থান থেকে মানুষদের সরে যেতে সার্বক্ষণিক মাইকিং করা হচ্ছে। যাতে করে তারা ঝুঁকিপূর্ণ স্থান ত্যাগ করে আশ্রয় কেন্দ্রে চলে আসে।
রাঙ্গামাটি পৌর এলাকায় ২১ টির মতো আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এছাড়া উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলো খুলে দেয়া হয়েছে ক্ষতিগ্রস্থ মানুষ গুলো আশ্রয় নেয়ার জন্য। বৃষ্টি কমলেরই মানুষের মাঝে স্বস্থি ফিরে আসবে এমনটাই আশা করছেন সচেতন মহল।
উল্লেখ্য, এ মাসে বৃষ্টি শুরু হওয়ার পর গত সোমবার কাপ্তাই কেপিএম এলাকায় এক মহিলা ও এক শিশু পাহাড় ধসে মাটি চাপায় নিহত হয়। আহত হয় আরো ৩জন।